নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লিখি, ফিল্ম বানাই, ছবি তুলি। বই প্রকাশিত হয়েছে ৫ টি। উপন্যাস, ছোট গল্প আর (অ)কবিতার বই। প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নাম \'বোধ\'। ২০১৩ তে জিতেছে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড। স্বপ্নের সবটা জুড়ে গল্প। সেই গল্প বলতে চাই লেখায়, চলচ্চিত্রে, ছবি

সাদাত হোসাইন

লিখি, ফিল্ম বানাই, ছবি তুলি। বই প্রকাশিত হয়েছে ৫ টি। উপন্যাস, ছোট গল্প আর (অ)কবিতার বই। প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নাম 'বোধ'। ২০১৩ তে জিতেছে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড। স্বপ্নের সবটা জুড়ে গল্প। সেই গল্প বলতে চাই লেখায়, চলচ্চিত্রে, ছবিতে...

সাদাত হোসাইন › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছেলেটা অদ্ভুত! মেয়েটা কেমন?

২০ শে মে, ২০১৪ দুপুর ১:০৭

ছেলেটা পাগল কিংবা অদ্ভুত।

মেয়েটা কেমন, জানা নেই।

ছেলেটা বৃষ্টি হলে ঘরে বসে থাকে, জোছনায় জানালাগুলো বন্ধই থাকে। চোখ বন্ধ করে কখনও ফুলের সুবাস নেয়া হয় না। ছেলেবেলার খুব কাছের বন্ধুটাকেও বলা হয় না, ‘তুই কি জানিস, তোকে কি ভীষণ মিস করি!’ ফোনগুলো কি বিষণ্ণ অবহেলায় পড়ে থাকে বিছানায়। ছেলেটা রাত জেগে কেবল অন্ধকার দেখে। কি আছে অন্ধকারে! শুধু ছেলেটাই জানে। ফেসবুকে টুপ করে নক করে কেউ কেউ, ‘কেমন আছেন?’

ছেলেটা জবাব দেয়, ‘ভালো’

সেই কেউ কেউ বলে, ‘তারপর?’ কিংবা বলে, ‘আর কি খবর?’ কিংবা বলে ‘আপনি এমন কেন?’

ছেলেটা লেখে : ‘:)'

আর কিছু না। শ্রেফ ওইটুক। ওইটুক হাসি। এই হাসির অর্থ কি, কে জানে!!

কেউ কেউ তারপরও বলে, ‘ আপনি এমন কেন? এমন অভব্য! আপনি এটুকুও জানেন না, কেউ যদি কাউকে জিজ্ঞেস করে, কেমন আছেন, জবাবে শুধু ‘ভালো’ কিংবা ‘ভালো আছি’ বলতে হয় না, তাকেও জিজ্ঞেস করতে হয়, কেমন আছেন, তাই না? কিন্তু আপনি তা কখনোই করেন না। আপনি এমন কেন?’

ছেলেটা আবারও লেখে, ‘:)’। শ্রেফ ওইটুক। এই হাসি। এই হাসির অর্থ কি? ছেলেটা জানে?

ছেলেটা ফুল ভালোবাসে, ছেলেটা জোছনা ভালোবাসে, ছেলেটা বৃষ্টি ভালোবাসে, ছেলেটা শৈশবের প্রিয় মুখ, চেনা জগতের প্রিয় মানুষ, রিকশায় এলোচুলে ঝলমলে মেয়ে, ধুলোমখা ছোট্ট শিশু আর ফুটপাতের শ্রান্ত মাকে ভালোবাসে। কিন্তু থই থই জোছনায় তার জানালা বন্ধই থাকে, ঝরঝর বরষায় তার বৃষ্টি ছোঁয়া হয় না, ছোঁয়া হয় না, কত মমতার প্লাবন, অদ্ভুত প্রেম, প্রিয়তম মন কিংবা মানুষ।

মেয়েটা কেমন? ছেলেটা জানে না। কেউ কি জানে?

মেয়েটা হঠাৎ ছেলেটাকে বলে, ‘আপনাকে খুব দেখার ইচ্ছে’।

ছেলেটা বলে ‘দেখে কি হবে?’

মেয়েটা বলে, ‘মুগ্ধতাটা ঝেটিয়ে বিদেয় হবে’।

ছেলেটা বলে, ‘আমিতো মুগ্ধ করার মতন মানুষ নই’।

মেয়েটা বলে, ‘সে আমি জানি’।

ছেলেটা হাসে, সেই হাসি।

মেয়েটা বলে, ‘কোথায় দেখা হবে? ঠিকানাটা চাই’।

ছেলেটা আবার হাসে, সেই হাসি।

মেয়েটা আবার বলে, ‘ইউ মেড মি ম্যাড?’

ছেলেটা হাসে, সেই হাসি।

মেয়েটা বলে, ‘ইউ মেড মি ক্রেজি’।

ছেলেটা চুপ। হাতের ঘড়িটাতে শব্দ হয়, টিক টিক টিক।

মেয়েটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ছেলেটা শুনতে পায় না। মেয়েটা দীর্ঘশ্বাস শেষে বলে, ‘ঠিকানাটা প্লিজ’

এবারো দীর্ঘশ্বাস ফেলে, এবার ছেলেটা।

তারপর কেমন কেমন করে ছেলেটার সাথে মেয়েটার দেখা হয়ে যায়। শান্ত নদীর মতন মেয়ে। কিন্তু ছেলেটা জানে না সে কেমন! তারপর কত দিন চলে যায়, মেয়েটা আবার লেখে, ‘আপনার সাথে এভাবে দেখা হয়ে যাবে, ভাবিনি’।

ছেলেটা বলে, ‘তাহলে মুগ্ধতা নিশ্চয়ই কেটেছে?’

মেয়েটা বলে, কেটেছে মানে?’

ছেলেটা বলে, ‘কেটেছে মানে কেটে গেছে। যতটা মুগ্ধ ছিলেন, আমি যে ততটা মুগ্ধ করবার মতন মানুষ নই, সেটা বুঝেছেন নিশ্চয়ই। সেক্ষেত্রে মুগ্ধতা কেটে যাওয়ারই কথা।

মেয়েটা বলে, ‘না। কাটেনি। বরং বেড়েছে’।

ছেলেটা বলে, ‘কিভাবে?’

মেয়েটা বলে, ‘জানি না’।

ছেলেটা বলে, ‘আমারতো ধারণা, আমি সামনাসামনি খুবই বিরক্তিকর এক মানুষ, আর যথারীতি বাস্তবের চেয়ে ফেসবুকের মানুষেরা অনেক বেশি সুন্দর হয়!’

মেয়েটা বলল, ‘না, আমার এর কোনটাই মনে হয় নি’।

ছেলেটা বলে, ‘তাহলে দুইক্ষেত্রেই কি দাঁড়ালো? আপনার মুগ্ধতা এখনও আছে?’

মেয়েটা বলে, ‘হুম’।

ছেলেটা বলে, ‘তাহলে এখন?’

মেয়েটা বলে, ‘জানি না’

ছেলেটা বলে, ‘আপনার মুগ্ধতার ধরণ টা আপনি জানেন? মানে যদি সেটা আপনার কাছে স্পষ্ট থেকে থাকে। এটা জানা খুব জরুরী। মানুষের মুগ্ধতার অনেক ধরণ থাকে। অনেক সময় সেটা আমরা নিজেরাই বুঝতে ভুল করি’।

মেয়েটা বলে, ‘আপনার জানা কি খুব জরুরী?’

ছেলেটা বলে, ‘না, আমার আগে আপনার নিজের জানা খুব জরুরী। আপনার জানাটা স্পষ্ট হলে পরে আমার জন্য জানাটা ভালো

’।

মেয়েটা বলে, ‘হু, ভাবছি’।

ছেলেটা বলে, ‘আচ্ছা’।

মেয়েটা বার বলে, ‘আমার মুগ্ধতার ধরণটা ভালোভাবে জানা হলে, আপনাকে জানাবো’।

ছেলেটা হাসে, । সেই হাসি।

জানালার বাইরে অদ্ভুত জোছনা নামে, ঝুমঝুম বৃষ্টি হয়, হিজলেরা ভেসে যায় জলের ভেতর। ছেলেটা তাকিয়ে থাকে অন্ধকারে।

কি আছে অন্ধকারে! শুধু ছেলেটাই জানে। সে কি কিছু খোঁজে? জোছনা কিংবা বৃষ্টিতে নয়, প্রেম কিংবা মমতায় নয়, ফুল কিংবা জলের ভেতর নয়। সে খোঁজে অন্ধকারে? কি খোঁজে? নিজেকে?



মেয়েটা যেমন মুগ্ধতার ধরন খুঁজছে। আসলে মেয়েটাও কি নিজেকেই খুঁজছে না? কোন এক বিষণ্ণ সন্ধ্যায়, মন খারাপের নিঃসঙ্গ রাতে, কিংবা ঘুমের মতন নির্জন দুপুরে মেয়েটা হয়তো তার মুগ্ধতা খুঁজে পাবে। তারপর এসে ফিসফিস করে ছেলেটাকে বলবে। তার হয়তো বলার কেউ আছে। কিন্তু যে অন্ধকারে ছেলেটা তাকিয়ে থাকে, থেকে থেকে খুঁজে বেড়ায় এক অদ্ভুত ‘নিজে’ কে। কে সে? কখনও কি সেই নিজেকে খুঁজে পাবে? তারপর জোছনায় ছুটে যাবে উদাম মাঠে, ঝুমঝুম বরষায় ছুঁয়ে দেবে জলের হৃদয়, প্রেমে আর মমতায় ভেসে যাবে অযুত দহন। যাবে? যদি হঠাৎ একদিন, ছেলেটা খুঁজে পায় নিজেকে আবার।



কি থাকবে তখন?



ছেলেটা জানে না। কিন্তু একদিন ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ইচ্ছে হয় তার, থইথই জোছনায় ভেসে যেতে ইচ্ছে হয়, চিৎকার করে বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা সেই বন্ধু আর শৈশবটাকে বলতে ইচ্ছে করে, 'কী ভীষণ ভালোবাসি! ভালোবাসি!!', ফিরে পেতে ইচ্ছে হয় নিজেকে আবার।



কিন্তু ছেলেটা পাগল কিংবা অদ্ভুত।

মেয়েটা কেমন, জানা নেই।

---------------------------------------------------------------

ছেলেটা অদ্ভুত! মেয়েটা কেমন?/ সাদাত হোসাইন

১৫/০৫/২০১৪

মন্তব্য ১ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে মে, ২০১৪ রাত ৩:৪৮

প্রোফেসর শঙ্কু বলেছেন: একটা 'এমনি রকম লাগা' গল্প। আর বিশেষণ মাথায় আসছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.