নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অমর একুশে বইমেলা ২০১১

গল্প লিখতে ভালোবাসি

আনোয়ার সাদী

পেশা সাংবাদিকতা। ভালোবাসি গল্প লিখতে। আইনের ছাত্র ছিলাম । সুতরাং কপি রাইট সংরক্ষিত..

আনোয়ার সাদী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সম্প্রচার সাংবাদিকতাই সাধারণের সাংবাদিকতা

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:০৪

সালমান খানের শেষ মন্তব্যটুকু পর্যন্ত জানে মোনা। সাংবাদিকতার এই ছাত্রী টুইটারে তার প্রিয় তারকার সঙ্গে যোগাযোগও রাখেন। তাই তারকার মন্তব্য জানা তার জন্য সহজ বিষয়। এমনি অনেক সেলিব্রিটির খবর জানা এখন অনেক সহজ, টুইটারের বদৌলতে। এখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে প্রতিবেশী দেশের আমির খান পর্যন্ত প্রিয় অনেককেই পাওয়া যায়। তাদের বিষয়ে জানতে প্রয়োজন ইন্টারনেট সংযোগ আর ইংরেজি জানা।

একই যোগ্যতায় এখন অবশ্য অনেক গোপন তথ্যই মানুষের হাতের নাগালে চলে এসেছে উইকিলিকসের কারণে। মার্কিন গোপন নথিতে কী কী প্রকাশ করা হলো, তা বিভিন্ন দেশে পত্রিকার পাতায় আসায় জেনেছে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অনেকেই। জানতে পারছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বর্তমান অবস্থা। আর ইন্টারনেট সংযোগ ও ইংরেজি জানার যোগ্যতা দিয়ে সরাসরি উইকিলিকস থেকেই অনেক কিছু জানতে পারছেন পাঠক।



ইন্টারনেটের চমকে দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। বেশ কয়েক বছর আগে প্রতিবেশী ভারতের তেহেলকা ডট কমের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। দুর্নীতির প্রতিবেদন দিয়ে চমকে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।



সংবাদ জানার আগ্রহ কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষের কাছাকাছি আসার আরও উদাহরণ আছে। একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষের জানার আগ্রহ কাজে লাগিয়েছে জনপ্রিয় ফেসবুক। নিউজ ফিড নামে, বন্ধু তালিকায় থাকা অন্যদের খুঁটিনাটি খুনসুটি বা তার শেষ অবস্থা জানতে অনেকেই এখন আগ্রহী। প্রিয় বন্ধুটির ভালো কোনো খবর, কিংবা নিতান্তই ঘুমিয়ে কাটছে ডে অফের দিন-জাতীয় খুদে বার্তা এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুকে। তাতে প্রকাশিত ছবিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।



যদিও ফেসবুকের এসব নিউজ ফিড জাতীয় বিবেচনায় সংবাদ নয়। কিন্তু একজন ব্যক্তির কাছে এসব টুকরো টুকরো বার্তার গুরুত্ব একেবারেই কম নয়। প্রিয় বন্ধুটির যে অজানা কথাটি হৃদয়ে ঢেউ তোলে, পত্রিকায় বা সম্প্রচার মাধ্যমে তা না-ই বা প্রকাশিত হলো, তাই বলে কি তার জানার আগ্রহ কমে অপর বন্ধুটির?





আগ্রহ ও প্রয়োজন পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে চলে। এই আগ্রহ ও প্রয়োজন সংবাদমূল্য নির্ধারণ করে অবশ্যই। আর এ জন্যই নির্বাচনের ফলাফল জানতে রাতভর সম্প্রচার গণমাধ্যমের সঙ্গে জেগে থাকেন এ দেশের অসংখ্য মানুষ। তাহলে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মানুষের আগ্রহ খুব গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। আর একজন ব্যক্তির আগ্রহ মোটেও সংবাদ নয়, যদি তিনি সাধারণ কেউ হন। আবার একই ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট আছে এমন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যেমনÑশেখ হাসিনা বা বেগম খালেদা জিয়া কোনো বার্তা দিলে তা অবশ্যই হয়ে উঠবে জাতীয় সংবাদ। এ ক্ষেত্রে সে সংবাদ জানতে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ফেসবুক ব্যবহার একটি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ব্লগ বা উন্নত বিশ্বে পরিচিত সিটিজেন জার্নালিজমের বর্ণিল তথ্যের ভুবনে ভেসে যেতেও লাগছে ইন্টারনেট।



সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬০ লাখ। যারা প্রতিদিন অন্তত একবার ইন্টারনেট ভিজিট করেন। এই সংখ্যা গত কয়েক মাসে অবশ্যই আরও বেড়েছে। এদের অধিকাংশই মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। দেশে প্রায় ছয় কোটি মানুষের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। তাদের সবাইকে ইন্টারনেট-বান্ধব করা গেলে, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদগ্রাহকের সংখ্যা বাড়বে, এটা বলাই বাহুল্য।



যা হোক, নির্বাচনের আগে গ্রাম মফস্বলের চায়ের দোকানগুলোতে ঢুঁ মারতে আগ্রহী করা হয় সাংবাদিকদের। তাতে কোনো দল বা কোনো প্রার্থী বা প্রচারণার কোনো কৌশলের প্রতি আগ্রহী হয়েছেন জনতা, তা জানা যায়। সেসব দোকানে এখনো সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলা সার্ভিসের রেডিও অনুষ্ঠান ভিড় করে শোনার প্রবণতা দেখা যায়। যদিও মফস্বলের সামর্থ্য আছে এমন দোকানগুলোতে ক্যাবল কানেকশনের বদৌলতে স্যাটেলাইট চ্যানেলের সংবাদ এখন জনপ্রিয়। তার পরও পাঠকের জানার চাহিদা মেটায় দৈনিক পত্রিকাগুলো। মফস্বলে দৈনিক পত্রিকা রাখে এমন দোকানগুলো বেশ মর্যাদা পায় শিক্ষিত মানুষের কাছে। পরদিন সংবাদপত্রে সংবাদের বিস্তারিত বর্ণনা, অনুসন্ধান, থেমে থেমে বুঝে জেনে নেওয়াসহ নানা কারণেই সংবাদপত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ চমৎকার। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, জনবহুল এই দেশে মাত্র ১৩ লাখ মানুষ প্রতিদিন সংবাদপত্র ক্রয় করেন বলে জানা যায়। যদি একটি পত্রিকা



প্রতি পাঠকসংখ্যা ৫ জন হয়, তবু এই সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। এ ক্ষেত্রে কেবল পড়তে জানাই সংবাদপত্রের পাঠক হওয়ার একমাত্র যোগ্যতা নয়। সংবাদপত্র ক্রয় করার সামর্থ্য ও পাঠের আগ্রহও পাঠক হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তাই মানুষের জানার আগ্রহ মেটাতে এখন বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে সম্মিলিতভাবে রেডিও, টেলিভিশন অর্থাৎ সম্প্রচার গণমাধ্যম। আর তাই সাংবাদিকতার অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক যথার্থই বলেছেন, ক্রয় ও শিক্ষার অভাব ঘুচিয়ে সম্প্রচার গণমাধ্যম হয় উঠেছে সাধারণের গণমাধ্যম। এ ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন জেলার, বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন বয়সী মানুষ তথ্যের চাহিদা মেটাতে বড় আকারে নির্ভর করছে সম্প্রচার গণমাধ্যমের ওপর। অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মনে করেন, সাধারণ মানুষের তথ্যের চাহিদা বিষয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। এতে সম্প্রচার মাধ্যম আরও বেশি মানুষের কাছে যেতে পারবে।



আগেই বলা হয়েছে, ব্যক্তিভেদে ও পরিবেশভেদে মানুষের তথ্যের চাহিদাও বদলায়। ফলে, শিক্ষা ও সামর্থ্যবঞ্চিত সাধারণ মানুষের সাধারণ কিছু চাহিদা গবেষণায় উঠে আসতে পারে, যা হয়তো বদলে দিতে পারে সম্প্রচার গণমাধ্যমের বর্তমান প্রচারসূচি।



লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, বাংলাভিশন

@আনোয়ার সাদী, মিডিয়াওয়াচে প্রকাশতি।



মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:৩১

আরিফ বল্গ বলেছেন: ভালো হয়েছে । http://twitter.com/arifnezami :D

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৭

আনোয়ার সাদী বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:৩৫

জসিম বলেছেন: সম্প্রচার সাংবাদিকতা আসলেই সাধারণরে কিনা এ নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। টিভি-রেডিও সাংবাদিকতার প্রসার এদেশে তেমন বেশি দিনের নয়। তবে এটা বাড়ছে। কিন্তু সাধারণের কাছে কতটুকু যাচ্ছে সেটা কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ। এজন্য অনুষ্ঠানের মাণ, কন্টেন্ট এবং সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের জন্য- এমন কিছু এখনো সেভাবে হচ্ছে না। দু'একটা অনুষ্ঠান আর প্রতিযোগিতা আয়োজন করে সাধারণের কাছে পৌঁছার আহ্লাদ মনে নিলে হবে না। সম্প্রচার সাংবাদিকদের সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য নিজেদের পরিকল্পনাকে ঢেলে সাজানো উচিত। নিত্যদিনের অনুষ্ঠান ও বক্তৃতা নির্ভর অনুষ্ঠান ছাড়া টিভিগুলোতে যা থাকে সেগুলো সাধারণের জন্য একেবারেই নগন্য। টিভিতে মানুষের জীবন ও মানুষকে তথ্য আরো বেশি করে জানানোর অনুসন্ধান অত্যন্ত কম। টিভি চ্যানেলের মালিকেরাও সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উৎসাহ দেন না বলে শোনা যায়। আজকাল এই সামু ব্লগ বা ফেসবুক, টুইটার ,,, সিটিজেন জার্নালিজম অবশ্যই তথ্য জানার বড় মাধ্যম। মানুষ নিজের থেকে এমন অনেক তথ্য এই ভুবনে শেয়ার করছে যা অনেক সংবাদের উৎস হচ্ছে। মানুষের শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়লে এগুলো সামনে যে আরো বাড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেক ক্ষেত্রে টিভি বা পত্রিকার চেয়েও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে এসব ব্লগ ও মুক্ত কথার মুক্ত মাধ্যম বা সিটিজেন কন্ঠস্বর।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৭

আনোয়ার সাদী বলেছেন: লেখক বলেছেন: এখন পর্যন্ত বেশী সংখ্যক দর্শক শ্রোতার কাছে সম্প্রচার মাধ্যমই পৌছাতে পেরেছে। এ বিষয়ে আমার কোন তর্ক নাই। শুরুতে শুধু ইটিভির সন্ধ্যার সংবাদের দর্শক ছিল ৮ কোটি চোখ।প্রতিদিন। ৪কোটি মানুষ কম কথা নয়। এখন সব কটি টিভি ও রেডিও মিলে দর্শক শ্রোতা তারচেয়ে বেশী বলেই মনে করি।

তবে কী প্রচার করা যায়, সে বিষয়ে গবেষনা হওয়া উচিত-এতে আমি একমত। প্রবন্ধে সেটি বলেছি।
ব্লগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৬ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহককে এই মাধ্যমে সংযুক্ত করা গেলে তা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সেটিও বলেছি প্রবন্ধে।
পড়া ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

মুছে ফেলুন

৩| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:৪৭

ছোটমির্জা বলেছেন: জসিম ভাইয়ের সাথে ১ মত।
পোস্টে +।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৭

আনোয়ার সাদী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.