| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যখন খুব ছোট ছিলাম তখন গুরুজনরা বলত, শিক্ষককে কখনও কষ্ট দিও না, কারণ শিক্ষককে কষ্ট দিলে তা নাকি নিজের উপর অভিশাপ হিসেবে লাগে। বাস্তবে এটাই আমাদের সঠিক শিক্ষাই ছিল। ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনও কোনো শিক্ষককে কষ্ট দেইনি বলেই মনে পড়ে। যাক সেসব কথা এখন আর শিক্ষককে কষ্ট দিতে হয়না, যদি কখনও কারো খারাপ লাগে তখন সে তার সেই শিক্ষককে সরাসরি বিদায় দিয়ে ফেলে। রাজশাহী পড়ালেখার সময় জেনেছিলাম কোনো একটা সরকারী স্কুলের ছাত্ররা তাদের গণিতের শিক্ষকের হাত কেটে নিয়েছিল, পরে সেই শিক্ষক মারা যায়। রংপুরের একটা ঘটনা পত্রিকায় পড়েছিলাম, সেই শিক্ষকও গণিতের ছিল, তাকে সরাসরি গলায় ছুরি চালানো হয়েছিল, তা করেছিল তার গুণধর ছাত্ররা।
এসব ঘটনা মিডিয়ায় খুব বেশী প্রচার হয়নি। কিন্তু যে ঘটনাগুলো আমাদের জাতীয় জীবনকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলেছে তা হচ্ছে।
১। ড তাহের হত্যা
২। শফিঊল হত্যা
৩। রেজাউল স্যার হত্যা
উনারা তিনজনই ছিলেন প্রাচ্যের কেম্ব্রিজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক। তাহের স্যার হত্যার ঘটনা নিজের স্মৃতিতে খুব বেশী নিয়ে আসতে পারি না, কারণ সেসময় খুব ছোট ছিলাম। পরবর্তীতে তা নিয়ে জানার চেষ্টা করেছিলাম। তা থেকে এতটুকু জানতে পেরেছিলাম তার মামলায় কিছু দুষ্কৃতিকারী সাজা হয়েছিল। আমি আইনকে সবসময় শ্রদ্ধার চোখে দেখি, তাই প্রচলিত আইনে শফিউল স্যার হত্যায় দ্রুত বিচার হবে এই আশা করেছিলাম। কিন্তু ঘটনা ২০১৪ তে সংঘটিত ঘটনায় অগ্রগতির পাল্লা খুবই মন্থর। অন্যদিকে রেজাউল স্যার হত্যায় এখন পর্যন্ত সঠিক খুনীদের বের করা পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। বিচারের দিকে আসতে মনে হয় আরো কিছুদিন কালক্ষেপন হবে।
উপরোক্ত ঘটনাগুলো কী সত্যি আমাদের জন্য কল্যাণকর, কখনই না। এক বাক্যে বলা যাবে জাতিকে ধ্বংসের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা চাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা তার ছাত্রদের সঠিক শিক্ষা দেবে এবং আমাদের শিক্ষকেরা হবে তা বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর। কিন্তু এই মানুষগুলোকে যারা প্রতিনিয়ত হত্যা করে যাচ্ছে তারা আর যাই হোক সুস্থ মানুষ হতে পারে না।
তাই আসুন আমরা আমাদের এই পিতৃতুল্য সমাজটাকে শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ করে রাখি।

©somewhere in net ltd.