নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তোমার আর আমার দূরত্ব রাস্তার এপার ওপার।তুমি দাড়িয়ে আছো আমার আশায়আমি অপেক্ষায় আছি যাবো কখন!waiting for a loyal heart!

মেঘ প্রিয় বালক

একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ।

মেঘ প্রিয় বালক › বিস্তারিত পোস্টঃ

ওহে মেঠো পথের দুর্গেশনন্দিনী

১৭ ই মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৩

চিরকুট:১৩
তারিখ: পহেলা জোষ্ঠ ১৪২৬ বাংলা
প্রিয় অনুশ্রী
পত্রের প্রারম্ভে জানাই জোষ্ঠের অলস বিকেলে পুষ্পরথে মধুমক্ষিকার দিক-বিদিক শহরশে ছুটোছুটির ব্যস্ততম শুভেচ্ছা।
বঙ্গোপসাগরের পশ্চিমে অবস্হিত মাদ্রাজ নাভেল বেস স্টেশনে আমার জাহাজ নোঙর ফেলেছে কয়েকদিনের জন্য। মাদ্রাজের এই
কোলাহলপূর্ণ নগরের মোড়ে ছোট্ট একটি টেবিলে বসে তোমায় লিখছি। জানি খুব ভালো আছো। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। পর্যুদস্ত মেঘের ক্যানভাসে অনুপস্হিতি বিকেলের পড়ন্ত সোনালী রোদ্দুর আর পাখির আলাপণ বেশ জমে উঠেছে এ নগরে খোলা আকাশে। আমি এখন তেইশের কোঠায় দাঁড়ানো তোমার অচেনা মায়াময় রূপের বাঁধনে আবদ্ধ বুক ভাঙা এক উম্মাদ যুবক। রঙ রূপ গন্ধ সজ্ঞ্যানে বা অজ্ঞানে আমি অনুভব করেছি তোমায়। আমি তোমার সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত বিমোহিত। শুনেছি ভালবাসা নাকি সবকিছুরই দাবীদার,সে দাবীর দোহাই রেখেই বলছি,আমার চিঠির জবাব দাও। তোমার ঐ অবয়ব রূপ বৈশাখ মাসের পাকা ধান ক্ষেতে তপ্ত গরমে হা করা ফাটা মাটিতে এক পশলা বৃষ্টির প্রথম পরশ। তুমি ফোটা হয়ে বর্ষিত হও আমার হৃদয় হৃৎপিণ্ডের চাইতেও অনেক গভীরে। সমুদ্রে ভাসমান আমার কিস্তি,কুল কিনারাহীন, ঠিকানা বিহীন,সঠিক সময়ে যদি কিনারায় না পৌছায় তাহলে ডুবে বিনাশ হওয়ার আশংকায় আমি আতংকিত,কবে কেথায় কোন কিনারায় আমার কিস্তি ভিড়বে কেউ জানেনা ওই উপরওয়ালা মনিব ছাড়া। তোমার হৃদয়পটের দ্বীপপুঞ্জে আহবানের অপেক্ষায় আমার কিস্তি। সেথায় নোঙর ফেলতে চায়। তুমি সাড়া দাও,আমি উদ্ধার হই। গোধূলির ধুয়াশার কক্ষপথে কল্পনার সত্যে অবলোকনে তুমিময় একটি সন্ধ্যের অবসান। ভয় মানুষের চোখে নয়,ভাবনায় আর মনে। মেয়েদের সন্দেহ প্রবণতা যেন জন্মগত,তাই তোমাকে বোঝাতে পারিনি তোমাকে ভুলতে পারবোনা। মেঠো পথের দুর্গেশনন্দিনী আমার প্রাণে অপলক চেয়ে মনের মাঝে সন্দেহের ঘুড়ির এলোমেলো উড়োউড়ি। বৃষ্টি আসলে মনে হয় আমি তোমার শূন্যতায় মৌনতা। এই জীবনের নবগঙ্গায় কাগজের নৌকোসম জীবন কিছুদূর গিয়েই ডুবে যায় স্রোতের ঘায়ে। এই শহরের নীলা আকাশে কত দৃশ্যের অবতারণা,সকালে একরকম বিকেলে আরেকরকম। তুমি স্বপ্নের মতো ইচ্ছে ছাড়াই দেখা দাও,ইচ্ছে হলেই চলে যাও।
প্রিয় সুপ্তিতা সন্ধ্যে হলে বড্ড একা হয়ে পড়ি রোজ, তোমার খুনঁশুটিতে আমি খুন হই প্রতিনিয়ত। জলকলস্কে ভেঙে যায় আমার স্বপ্নের দেয়াল, তোমার জন্য হাজারো রঙে গড়া আমার সব কাল্পনিক রোমান্টিক ছবিতা। তোমার আকাশ সমান মনের ঘরে আমার অনুভূতির আলো পৌছায় আর,সে আলো বড্ড ম্লান তোমার মনের মন্দিরে। পাজর পোঁড়া ঘ্রাণে তুমি আনন্দ পাও, আমারও ভালো লাগে বুঝি??
আঘাতের কষাঘাতে জন্মায় ভালবাসা। তোমাকে ভুলে থাকা যায় না এ শহরে। অধরা সুখ হাতড়ে বেড়ায় এই নগরের মোড়ে মোড়ে তুমি ধরা দিয়েও দাও না ধরা। মৃত্যশয্যায় ঘুমিয়ে থাকার অভ্যেস আমার আছে,যদি এই চিঠিটাই তোমায় লেখা শেষ চিঠি হয়। আমি কাছে এলেই হারায় আকর্ষণ,আর দূরে গেলে তুমিও রেখেছিলে আমার খোজখবর। দেখো ছেলেটা অনেকখানি বদলে গেছে,সেই আগের মত নেই। তোমায় ভালবাসি বিক্ষিপ্ত আত্মার ছলনাময় প্রলাপে দুর্বোধ্য তুমি,দুর্বোধ্যই থেকে যাবে। আমার মনে হয় তোমার অভিশাপের চেয়ে আমার দুরত্বটাই শ্রেয়। অতি যত্নে চোখের নিচে একটা জলের নদী বানিয়েছি,আমি সে জলে রোজ ভেসে যাই নৌকো হয়ে। ভালবাসা সে আলো লেগেছিলো তোমার চোখের আকর্ষণে। অনুভূতিগুলো শিশিরের মত ঝরে পড়ে আমার পুরনো টিনের চালে, ক্লান্ত নিমের গাঁ বেয়ে বেয়ে। অন্ধকারাগার শিবিরে বন্দি যত আমার অভিমান,তোমার অভিমান আমার আকাশ সমান। আমার শূন্যতা হয়ত তোমাকেও কাঁদাবে,সে আমার মিথ্যে ভাবনা হলেও মোটেই যে সত্যি নয় তা হয়ত নয়। তোমার মন জয়ের যুদ্ধে আমি হয়ত পরাজিত নাবিক ,জয়ের স্বাদ পেয়েছিলাম সামান্য। তোমার মায়াভরা রূপ ফাঁদে আমি পা দেয়ার অপেক্ষায়।
সে অপেক্ষার প্রহর যেন গভীর সমুদ্রে আরো গভীরে প্রবেশ করছে। না পাওয়ার যন্ত্রণা আমার হৃদয়ের মারাত্মক ফাঁদ মনে হয়। হয়তো তুমি বলবে এসব নিছক পাগলামি। তবে আমি জানি, তোমার নীরবতা আমার জন্য কেবল বিভ্রান্তিই হবে।
তোমার অভিযোগ লিখতে লিখতে আমি চিঠির শেষ প্রান্তে,মস্তিষ্কের আটক করা শব্দগুলো হারিয়ে যাচ্ছে,চোখে ঘুমের ছাপ নিয়ে এখানেই আজ সমাপ্তি দিব ইচ্ছার বিরুদ্ধে ,ভালো থেকো কল্পনার দুর্গেশনন্দিনী।
ইতি:
নিখোঁজ হয়ে যাওয়া চিরকুট লেখক।
ছবি :মাদ্রাজ ভ্রমণে তোলা।

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ৮:৫২

মা.হাসান বলেছেন: যে সমস্ত উপমা আর বিশেষন ব্যবহার করেছেন তাতে বর্তমান প্রজন্মের মেয়ে ভয় পেয়ে যেতে পারে।
লেখা ভালো লেগেছে। চলতে থাক।

১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ১১:২১

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ মা.হাসান আপনার মন্তব্যের জন্য। বর্তমান প্রজন্মের মেয়েরা চিরকুট পড়েনা,তার টিকটক চালায়।

২| ১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ৯:০৬

মনিরা সুলতানা বলেছেন: চমৎকার !

১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ১১:২২

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ বুবু মনিরা সুলতানা।

৩| ১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ৯:৪৬

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: অসাধারণ চিত্ররূপময় লেখা.....

লেখাটা পড়ে মনটা আলো হয়ে গেল !

চিরকুটের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা :)

১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ১১:২৪

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: কলিজার ভিতর থেকে ধন্যবাদ গ্রহন করবেন প্রিয় ব্লগার আর্কিওপটেরিক্স। ভালবাসা রেখে গেলাম আপনার জন্য।

৪| ১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ১১:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: আজকালকার ছেলে মেয়েরা এই চিঠির মর্ম বুঝবে না।

১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ১১:২৮

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব ভাই,জেনে খুশি হবেন আমার চিরকুট পড়ে এখন পর্যন্ত কোন বালিকা আমার চিরকুটের প্রেমে পড়েনি। ভালবাসা জানিবেন।

৫| ১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ১১:৪১

সোনারবাংলা২০১৯ বলেছেন: চমতকার লেখা । ভালো লাগলো ।

১৮ ই মে, ২০১৯ রাত ১২:০০

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ সোনার বাংলা ২০১৯ ব্লগার।

৬| ১৭ ই মে, ২০১৯ রাত ১১:৫৬

বলেছেন: অসাধারণ

১৮ ই মে, ২০১৯ রাত ১২:০৩

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার ল,জোষ্ট মাস মধুর মাসের শুভেচ্ছা জানিবেন।

৭| ১৮ ই মে, ২০১৯ ভোর ৪:৫৩

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: মনোমুগ্ধকর আবেগীয় লিখা।
শুভকামনা রইলো।

১৮ ই মে, ২০১৯ ভোর ৬:৪৮

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: মধুর মাস জোষ্ঠ মাসের মাসের শুভেচ্ছা জানিবেন মাহমুদর রহমান ভাই।

৮| ১৮ ই মে, ২০১৯ রাত ৮:০১

মুক্তা নীল বলেছেন: খুবই সুন্দর অর্থবহ চমৎকার চিঠি। কিন্তু একটা জিনিস বুঝলাম না, অনুশ্রী কে আলহামদুলিল্লাহ বলে শুকরিয়া জানালেন। শ্রী-
এর সাথে আলহামদুলিল্লাহ ব্যাখ্যাটা করলে প্রীত হতাম।+++

১৮ ই মে, ২০১৯ রাত ১১:০৯

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: প্রিয় ব্লগার মুক্তা নীল, আপনার প্রথম মন্তব্যে আমার ব্লগে,সে জন্য ধন্যবাদ গ্রহণ করবেন।।শ্রী” শব্দটি সংস্কৃত ভাষার সবচেয়ে ছোট শ্লোক । “শ্রী” শব্দে তিনটি অক্ষরের সন্নিবেশ হয়েছে । সুতরাং এটি একটি অক্ষর নয়, শব্দ । শ্রী অর্থে - ঐশ্বর্য, সেীভাগ্য, সৌন্দর্য, লাবণ্য, শোভা প্রভূতি । নামের পুর্বে শ্রী লেখার অর্থ আপনি উপরোক্ত বিশেষনে ভুষিত । অন্যার্থে আপনি উপরোক্ত অর্থে শ্রীযুক্ত হোন বলে আর্শীবাদ। শ্রদ্ধা ভক্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে গ্রন্থ বা ব্যক্তির নামের পুর্বে অতিরিক্ত শ্রী যুক্ত করে প্রকাশ করা হয় । আর আমার চিঠিতে অনুশ্রী বলতে আমি কোন সুন্দরী রমণীকে বুঝিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ এর সাথে যদি এর ব্যবহার করি,তাহলে অর্থ এমন দাঁড়ায়, প্রিয় অনুশ্রী (সুন্দরী),(আলহামদুলিল্লাহ ) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর আমি ভালো আছি। একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা আপনার জানা দরকার,ভাষার কোন ধর্ম নেই। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। তারপরেও যদি কোন প্রশ্ন থাকে, জানাবেন মন্তব্যের মাধমে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.