| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাইফুলসাইফসাই
আমি স্বাধীন বাংলা মা এর ছেলে। মা আমার বাংলায় কথা বলে। কিন্তু মা আমার আদৌ বর্ণমালা জানে না। তাই তো আমরা বাংলা ভাল ভাবে বলতে, লেখতে পারি না।
উৎসবের দিন ছিল না
সাইফুল ইসলাম সাঈফ
উৎসবের দিন ছিল না, তবু আমরা ভাই-বোন ও তাদের ছেলে-মেয়ে ছাড়াও আরো অনেকে একসাথে গ্রামে গেলাম মাকে সাথে নিয়ে। এভাবে কবে সবাই একসাথে হয়েছি খেয়ালে আসছে না। ঈদের দিনও সবার দেখাসাক্ষাৎ হয় না! দিনটা ছিল গত শুক্রবার বা জুম্মাবার (২৪.০৪.২০২৬)। বৃহস্পতিবার রাতে মেজো ভাইকে কল দেই প্রয়োজনে। সে জানায় মা খুব অসুস্থ তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে! আমাকে বাসার কাছে আসতে বলে। মা সেজো ভাইয়ের বাসায় থাকে। তাদের সাথে আমার মনোমালিন্য তাই তাদের বাসায় যাওয়া হয় না। মেজো ভাইও বলেনি মাকে দেখে আয় আমিও আগ্রহ দেখাইনি। এর আগে কতোবার যে বলেছি মেজো ভাইকে মাকে দেখতে যাবো সে ঘুরিয়েছে নিয়ে যায়নি। সেজন্য আমি আর কিছুই বলিনি। আমি আমার মেসে চলে আসি। সকাল ৯টায় মেজো ভাইয়ের কল আসে এবং বলে মা আর নেই! স্তব্ধ হয়ে যাই! ভাই বলে চলে আসতে। ফ্রেশ হয়ে দ্রুত চলে যাই মাকে দেখতে। পৌঁছে দেখি নিথর দেহ পড়ে আছে খাটে, "গুমরে কেঁদে ওঠে"। মায়ের শিথানে বুবু দোয়া পড়ছে আর কাঁদছে। অনেকে এসে দেখে যাচ্ছে।
সকাল ১১টার দিকে কাছের মসজিদে লাশের গোসল করানো হয়। যারা যারা এসেছে তারা ভেবেছে এই মসজিদেই জানাজার নামাজ হবে জুম্মার নামাজের পর কিছু হলো না! কারণ আমার সেজো ভাই এক পীরের ভক্ত তাই তার তরিকতে ভাইদের সাথে নিয়ে অন্য এলাকায় একটি মসজিদে জানাজার নামাজ আদায় করে। আমি যাইনি সেখানে। আমি বাধা দেই কিন্তু কোনো লাভ হয়নি কারণ সে মাকে সেবা যত্ন করেছে। তাই সবাই তার ইচ্ছে পূরণ করেছে। বড় বোন আর বড় ভাই গ্রামে থাকে। বড় ভাইয়ের ইচ্ছে মাকে গ্রামে কবর দেওয়া হোক। তাই তার ইচ্ছে পূরণের জন্য আমরা সবাই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এশার আগে আমরা নোয়াখালী পৌঁছে যাই ও নামাজ শেষে দ্বিতীয় বার জানাজার নামাজ হয় এবং আদায় করি এবং দাফন সম্পন্ন করি। বাবাকে তো মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় হারাই তার কোনো স্মৃতি নেই, নেই কোনো অনুভূতি।
আত্মীয় স্বজন আমাদের জন্য রাতে খাবারে ব্যবস্থা করে সবাই রাতের খাবার খাই। এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুমাতে যাই। রাতে আর ঘুম আসেনি কারণ মার স্মৃতিগুলো খেয়ালে আসছে আর খুব গরম হাত পাখার বাতাস খেলাম। আমি মায়ের ছোট ছেলে কাজ=কর্মে আমি সফল নই তাই সবার কাছে অবহেলিত ভীষণ। তাই সবার চোখে বোঝা ও সবার সাথে দূরত্ব বেড়ে গেছে। খুব আফসোস মা’র জন্য কিছুই করতে পারিনি বরং রাগারাগি করেছি । বুঝাতে না পেরে আমার হৃদয় জ্বালা ও হৃদয় ভাষা। সবক ভাই-বোনদের সঠিক সময়ে বিয়ে দিয়েছে ও করিয়েছে কিন্তু আমি আড়ালে পড়ে রইলাম। সবাই দায়সারা পাত্রী দেখিয়েছে কিন্তু এগোয়নি। যাইহোক সকালে ঘুম থেকে ওঠে নামাজ পড়লাম। সবার সাথে উঠানে বসে নাস্তা করলাম সে সময় একটি মুরগি ও দুটি ছানা পাশে আসে রুটি খুটে খুটে দিলাম সাথে সাথে খেয়ে নিচ্ছে ও বাচ্চাদের মুখে তুলে দিচ্ছে বেশ ভালো লাগছিল। রাস্তায় বের হলাম যাদের চিনি তাদের সাথে কথা বিনিময় হলো এটা সেটা জিজ্ঞাসা করছে। দুপুর বেলা বড় ভাইয়ের শ্বশুর বাড়িতে খাবার খাওয়ার দাওয়াত দিলো তাদের বাড়ির উঠানে বিভিন্ন রকমের গাছ। সেখানে একটি গাছে প্রচুর জামরুল ধরে আছে দেখে লোভ সামলাতে না পেরে খাবার খেয়ে জামরুল পারা আরম্ব করি। অনেকগুলো পেরে খাই একে ওকে দেই খুব আনন্দ পাই! সে মুহূর্তে ভুলে যাই দুখের কথা। তারপর বিকালে ঢাকা ফিরে আসি। মাকে আর জীবিত শেষ দেখা হলো না। তিনিও আমার প্রিয়সীকে দেখে যেতে পারলেন না! কারণ আমার তো সঙ্গিনী মিলেনি বা জুটেনি।
২৮.০৪.২০২৬
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার মাকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা জান্নাতবাসী করুন, আমিন। আপনার পরিবারের সকলকে শোক সহ্য করার শক্তি দিন।