| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বজ্র মানে তুফান, অশনি, বাজ। তবে বৈদিক যুগে বজ্র শব্দটি দিয়ে এক প্রকার অস্ত্র বোঝাতো।
মধ্যযুগের বাংলায় পদ্যে ও প্রাকৃত ভাষায় 'বজ্জ' বা 'বজর' শব্দটি পাওয়া যায় (পিয়াস লাগিয়া জলদ সেবিনু বজর পড়িয়া গেল - চণ্ডীদাস)।
বৈষ্ণব সাহিত্যে বা প্রাচীন বাংলায় বজ্রের সমতুল শব্দ হচ্ছে 'বজ্জর' বা 'বজ্জ'। শব্দটি মধ্যযুগের বাংলায়ও ব্যবহৃত হয়েছে (বজ্জর পড়ূক চতুর্মুখের মাথায় - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর)।
অভিধানে বজ্র শব্দের অন্যান্য অর্থে বলা হয়েছে হীরক, শূন্যতা, প্রচণ্ড, নিদারুণ, অসহ্য (বুকে পৃষ্ঠে মারে দেবী প্রচণ্ড চাপড় - বিজয় গুপ্ত; করিয়া কৌতুকে ফুড়ে বজ্জ নখে - শূন্যপুরাণ, রামাই পণ্ডিত)।
দারুণ আঘাত, অবর্ণনীয় মর্মপীড়া ও হৃদয়ভেদী শোক বোঝাতেও বাংলায় বজ্র শব্দটি ব্যবহৃত হয় (তবু বৎস, যে হৃদয় মুগ্ধ মোহমদে, কোমল সে ফুলসম, এ বজ্র আঘাতে কত যে কাতর সে, তা জানেন সে জন, অন্তর্যামী যিনি, আমি কহিতে অক্ষম - মেঘনাদবধ কাব্য)।
বজ্র শব্দের মূলে রয়েছে সংস্কৃত 'বজ্' ধাতু। শব্দটির গঠন হচ্ছে (বজ্ +র্ (রন্)।
বৈদিক যুগে খড়গাকার অস্ত্রের নাম ছিল বজ্র। হিন্দু পুরাণে রয়েছে ইন্দ্র নানা প্রকার বজ্র দিয়ে বৃত্রকে ও অসুরদিগকে হত্যা করেছিলেন। আর ইন্দ্রের প্রধান অস্ত্রের নাম বজ্রাস্ত্র।
সংস্কৃত অভিধান অমরকোষে বজ্রের প্রতিশব্দ হিসেবে পাওয়া যায় কুলিশ, ভিদুর, পবি, শতকোট, স্বরু, হ্রাদিনী, শম্ব, দম্ভোলি ও অশনি।
অন্যদিকে যজুর্বেদে বজ্রের নাম হচ্ছে বজ্র, স্বধিতি, শতঘ্নী, কুলিশ, অশনি, পবি, শর্ম্মা।
বেদে বলা হয়েছে, ইন্দ্রের বজ্র লোহার তৈরি। ধারণা করা হয়, ইন্দ্রের বজ্র আধুনিক যুগের কামান বা তোপের মতই কার্যকর মারণাস্ত্র ছিল।
জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস মতে, বেদের কর্ণকাবতী, ধনুর্বেদের শতঘ্নী, শনুর কর্ণী, লাতিন canna, ফ্রেঞ্চ canon আর ইংরেজি cannon হচ্ছে বজ্রের তুলনীয় অস্ত্র।
বজ্র বলতে আট প্রকার পৌরাণিক অস্ত্রও বোঝায়। এ আট প্রকার অস্ত্র হচ্ছে বিষ্ণুর চক্র, শিবের ত্রিশূল, বরুণের পাশ, ব্রহ্মার অক্ষ, যমের দণ্ড, ইন্দ্রের কুলিশ, কার্তিকের শক্তি ও কালীর খড়গ।
আবার বজ্রাঘাত শব্দের মূলানুগ অর্থ 'মেঘ থেকে বিদ্যুৎছটার ভূতলে নামা বা অবতরণ'। তবে শব্দটি এখন লক্ষ্যার্থেই বেশি প্রচলিত। আর লক্ষ্যার্থে বজ্রাঘাত মানে 'আকস্মিক সাংঘাতিক বিপদের উৎপাত' (তার মৃত্যুর সংবাদ বন্ধুমহলে বজ্রাঘাত হিসেবে দেখা দিল)।
অন্যদিকে সংস্কৃতে বজ্রাহত মানে 'বজ্রের আঘাতে আহত'। আলঙ্কারিক প্রয়োগে বজ্রাহত মানে অপ্রত্যাশিত প্রচণ্ড শোক বা আঘাতে বিমূঢ় বা ব্যাকুল (কথাটা শুনে তিনি বজ্রাহতের মত দাঁড়িয়ে রইলেন)।
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪৪
সাইমুম বলেছেন: এটা আমার মন্তব্য নয়, অভিধানকার জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের। তার নামে জাতিসংঘে মামলা করা যায় কি না দেখেন
২|
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪৪
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: সাংঘাতিক বিশ্লেষণ ! দারুন লাগলো। প্লাস।
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪৮
সাইমুম বলেছেন: 'সাংঘাতিক বিশ্লেষণ' দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে বুঝলাম আপনি 'বিস্তারিত ও দারুণ' অর্থে এটা লিখে থাকতে পারেন। ধন্যবাদ কবি। এখন 'শের' দেখছি না যে!!!
৩|
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪৮
অগ্নিবীনা বলেছেন: ভালো হয়েছে।
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৫১
সাইমুম বলেছেন: শুকরিয়া।
৪|
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৫৮
করবি বলেছেন: শব্দের উপর এমন করেই বজ্র ফেলতে থাকুন, আর শব্দ গুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে নানা রূপে আমাদের সামনে হাজির হোক।
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:০৩
সাইমুম বলেছেন: আপনি বেশ গোছানো ও বুদ্ধিবৃত্তিক মন্তব্য করলেন। অভিনন্দন।
৫|
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৫:৩৬
ময়নামতি বলেছেন: বিনা মেঘে বজ্রপাত , বজ্র দিয়ে অসুর নিধন
এযুগের অসুর দের কি দিয়ে নিধন করা হবে।
দাজ্জালরাই কি আসলে অসুর ,
অভিধানে বজ্র শব্দের অন্যান্য অর্থে বলা হয়েছে হীরক, শূন্যতা, প্রচণ্ড, নিদারুণ, এটা কি ভাল থাকবেন।
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৫:৪১
সাইমুম বলেছেন: ও যুগের অসুরদের নিধন করতে হবে জ্ঞান দিয়ে।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪১
শিপু ভাই বলেছেন: ইন্দ্রের বজ্র আধুনিক যুগের কামান বা তোপের মতই কার্যকর মারণাস্ত্র ছিল।