নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রিকশাও তেল খায়...আর মানুষ তো মানুষই

চাঁপাডাঙার চান্দু

অ আ ক খ গ

চাঁপাডাঙার চান্দু › বিস্তারিত পোস্টঃ

আদি ইসলামিক রাজনীতি এবং দ্বন্দ্বের অজানা অধ্যায়

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:০৭

শেষ পোস্ট দেওয়ার প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই পুরানোরা অনেকেই নেই, যে ক’জন আছেন তাদেরও হয়তো এই চান্দুকে মনে করতে কষ্ট হবে। মূলত ইতিহাস নিয়ে লেখালেখি করতাম আর টুকটাক রাজনীতি করতাম, এই ছিল ব্লগিং।
অনেকদিন পর সেই পুরানো ইতিহাস নিয়েই একটু বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা হলো। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) পরবর্তী ইসলামের রাজনীতি-দ্বন্দ্ব এবং আরও কিছু জানা-অজানা বিষয় যথাসম্ভব ইতিহাসবিদ, গবেষকদের দৃষ্টিকোন থেকেই কিছু নির্মোহ ইতিহাস তুলে ধরার প্রচেষ্টা।

পুরোটা পড়তে কষ্ট হবে জানি, ধীরে ধীরে পড়বেন। কোন প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞাসা করবেন।



ঘাদির ডোবা রহস্য


চিত্রঃ ঘাদির খুম

ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে এক অমীমাংসিত, সাংঘর্ষিক একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ৬৩২ সালের হজ্ব পরবর্তী এই ঘাদির খুম তথা ঘাদির কুয়ার ঘটনাবলী। মূলত এ সম্পর্কিত যতো গৌরবোজ্জ্বল ব্যাখ্যা তা শিয়া সাহিত্যেই পাওয়া যায়। সুন্নি অধিকাংশ ইতিহাসে এই ঘটনা কোন বিশেষ গুরুত্ব ছাড়াই উল্লেখ করা করা হয়েছে মূলত শিয়া মতবাদের পাল্টা ইতিহাস হিসেবে,।

ঘটনাটি অনেকটি ছিল এরকম, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) উনার বিদায় হজ্জ্ব শেষে মক্কা-মদীনার মাঝামাঝি 'ঘাদির খুম' নামক পুকুরের পাশে তাঁবু খাঁটিয়ে দূর দূরান্ত থেকে আসা হাজীদের বিদায় দিচ্ছিলেন। এমন সময় হযরত আলী (রাঃ) কে নিয়ে একটি বিবাদ শুরু হয়, সেসময় নবীজী বিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'সেই ব্যক্তি যে আমাকে মওলা হিসেবে মেনেছে, সে আলীকেও তার মওলা হিসেবে পেয়েছে'- সহীহঃ আল-আলবানী

ঘাদির খুমের ঘটনাটির এতোটুকু সত্যতা উভয় পক্ষই মেনে নেয়। এখন দেখি শিয়াদের দাবীতে কি বলে? তাদের মতে বিদায় হজ্জ্বের পর নবীজীর উত্তরসূরি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) উপরের ঘিদার খুম সমনের মাধ্যমে হযরত আলীকে উনার পরবর্তীে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করে করে যান।

প্রথমত শিয়ারা তাদের মতবাদের ন্যায্যতা দাবী করে ঘটনার সময়কাল বিবেচনা করে। সে সময় মক্কা-মদীনার বাহিরেও অনেক শক্তিশালী নেতা, গোত্র ইসলাম গ্রহণ করেছিল। নবীজী নিজেই শেষ হজ্ব ঘোষণা করায় উনার পরবর্তীতে ইসলামের নেতৃত্ব নিতে যেসব সাহাবীরা বিবেচিত ছিলেন তাদের মাঝে একটা কলহ সৃষ্টি হওয়াই ছিল স্বাভাবিক।
দ্বিতীয়ত হযরত আলী ৬৫৮ সালে কুফায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার সময় তার দাবীর সমর্থনে নবীজীর এই ঘিদার খুমের উক্তিকে উল্লেখ করেই হযরত মুয়াবিয়ার উপর নিজের অধিকার দাবী করেন।
শিয়াদের আরেকটি প্রচারমতে ঘিদার খুম ঘটনার পরেই কোরআনের সর্বশেষ আয়াত সূরা আল মায়িদার তৃতীয় আয়াত নাজিল হয় “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম”। তাদের দাবীমতে এই আয়াত দ্বারা হযরত আলী’র খিলাফত মনোয়ন সম্পন্ন হওয়াকেই বুঝানো হয়েছে। এজন্য তারা ঈদ উল আজহার ৮ দিন পর ‘ঈদ উল ঘাদির’ নামে বছরে তাদের তৃতীয় ঈদ উদযাপন করে।


চিত্রঃ শিয়াদের দৃষ্টিতে ঘাদির খুম


অপরদিকে সুন্নি মতবাদের ইতিহাসবিদদের অনেকেই ঘটনাটি হয় উল্লেখই করেননি না হয় একেকজন একেকভাবে করে ঘটনাসমূহ পরস্পর থেকে অনেক ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর মাঝে ইবনে কাথিরের বর্ণনা থেকে অন্তত একটা ভিন্নধর্মী স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। ‘হযরত আলীর প্রবল ন্যায় নিষ্ঠতা উনার নেতৃত্বে থাকা অনেক মুসলিম যোদ্ধার পছন্দ ছিল না। গণিমতের মালামাল দেদারছে নিজ সম্পত্তি হিসেবে ভোগ দখলে উনি বাঁধা দিতেন। এই যোদ্ধারাই হজ্ব শেষে নবীজীকে নালিশ জানালে উনি এই বক্তব্য দেন, যা শিয়ারা অতিরঞ্জিত করেছে’।


এই ঘটনার কোন চূড়ান্ত সমাধান ইতিহাস থেকে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু দুই পক্ষে প্রচলিত অজস্র ধর্মীয় মতবাদের কোনটিই দুই পক্ষের জন্যই মেনে নেওয়ার মতো কিছু নয়, প্রায় সবগুলোই সাংঘর্ষিক এবং বিভক্তির উন্মোচন করে।



হযরত ফাতিমা রাঃ এর ঘরে হামলা

অনেকের ধারণা নবীজীর মৃত্যুর পর খিলাফত নিয়ে হযরত আবু বকর এবং হযরত আলী’র মাঝে প্রথম দ্বন্দ্ব হয়েছিল; সেই সাথে নবীজীর মৃত্যুর পর যেমন একটি শোক বিহ্বল মদীনা আমরা জেনে এসেছি, বাস্তবে ঠিক সেরকমটা ছিল না।

হযরত আয়েশার ঘরে নবীজীর মৃত্যুর পর শত শত সাহাবী এসে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যান প্রিয় নবীর উদ্দেশ্যে। এরপরই মদীনার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পক্ষের সাহাবীরা জড়ো হতে থাকেন, আলোচনার বিষয়বস্তু পরবর্তী নেতা নির্বাচন। শুরু থেকেই মদীনায় অবস্থানরত মুসলমানদের দুটি পরিচয় ছিল মুহাজির এবং আনসার। সময়ের সাথে তাদের যেমন একাত্মতা হয়েছে আবার নেতৃত্বের প্রশ্নে দূরত্বও হয়েছে।

মদীনার আনসারদের নেতা সাদ ইবনে উবাদা এমন সময় তাদের গোত্রের সাকিফা/আদালতে আনসারদের নিয়ে জড়ো হন এবং নিজেকে খলিফা হিসেবে মনোয়নের জন্য জনমত সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। খবর পেয়ে হযরত আবু বকর, উমর, আবু উবাইদা সেখানে হাজির হয়ে প্রতিবাদ জানান এবং আনসার নেতা উবাদা ও হযরত উমরের মাঝে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায় বলেও কোন বর্ণনায় পাওয়া যায়। এরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মাঝেই নবীজীর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং সর্বজন সম্মানিত আবু বকর খলিফা হিসেবে মনোনীত হন। সাদ ইবনে উবাদা তখন মেনে নিলেও উমরের সাথে তার শত্রুতা কখনো অবসান হয়নি। পরে হযরত উমর খলিফা হলে পিছন থেকে ছোঁড়া তীরের আঘাতে উবাদার মৃত্যু হয়। বিষাক্ত তীরের কারণে উবাদার শরীর সবুজ হয়ে যায়; সেসময় গুজব রটানো হয় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব কারণে জ্বীন তাকে হত্যা করেছে, এজন্য সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে।


চিত্রঃ মদিনার 'খাজরাজ' গোত্রের আদালত বা সাকিফার বর্তমান দৃশ্য


এদিকে সাকিফায় যখন হযরত আবু বকর খলিফা মনোনীত হচ্ছিলেন তখন নবীজীর নিকটাত্মীয় হিসেবে হযরত আলী এবং হযরত আব্বাস মৃতদেহের গোসল করাচ্ছিলেন। যখন সাকিফার খবর তাদের নিকট পৌঁছায় তখন তারা নিজেদের বঞ্চিত, প্রতারিত ভেবে রুষ্ট হন। এসময় হযরত আলী উল্লেখ করেন, ‘যদি নবীজী’র কুরাইশ গোত্রের হবার কারণে মদীনার আনসারদের উপর আবু বকর রাঃ খলিফা মনোনীত হতে পারেন, তবে একই সূত্রে আহলে বাইত’ও বাকি কুরাইশদের উপর কর্তৃত্ব করার অধিকার রাখে’। নবীজীর দাফন শেষে আলীর অনুসারীরা তার সাথে হযরত ফাতেমার ঘরের সামনে অবস্থান নেয়, তখনো তারা আবু বকরকে খলিফা হিসেবে মেনে নেয়নি। এই অবস্থায় আবু বকর হযরত উমর এবং খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করেন আলীর সাথে বোঝাপড়া করার জন্য।

এরপরের ঘটনাবলী সুন্নি বর্ণনাতেই অনেকগুলো পাওয়া যায়। দুই একজন বাদে সবারই মতে আলীর সহচরেরা সেখানে হযরত উমরের দলের হাতে হামলার শিকার হন এমনকি ফাতেমা রাঃ এর বাড়ির ভিতরেও চড়াও হয় আক্রমণকারীরা। অবশ্য এরপরের কাহিনীতে শিয়া এবং সুন্নি বর্ণনায় যোজন যোজন দূরত্ব পাওয়া যায়। সেই সময় হযরত ফাতেমা রাঃ গর্ভবতী ছিলেন। শিয়াদের মতে কেউ একজন তার পেটে লাথি চালালে শিশুপুত্র মোহসীন গর্ভপাত হয়ে মারা যায়। অপরদিকে সুন্নি ভিত্তিক ইতিহাস মতে এরকম কিছু হয়নি, শিশু মোহসীন স্বাভাবিক অবস্থায় জন্ম নিয়ে বছর খানেক পরে শিশু অবস্থাতেই মারা যায়।



ফাদাকের জমি

জমি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা, মারামারি তো প্রতিদিনই দেখেন সংবাদপত্রে। কেউ কি কখনো ভাবতে পারেন এরকম একটি জমি পাল্টে দিয়েছিল গোটা মুসলিম সভ্যতার ইতিহাস? লজ্জাস্কর বলেই এড়িয়ে যাওয়া। অথচ বিষয়টি এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে খলিফায়ে রাশিদুনের পরবর্তী তিন খিলাফতেরই পূর্বসূরীরা প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িত হয় এই জমিকে কেন্দ্র করেই।


চিত্রঃ ফাদাকের সেই জমি, যা একসময় আরও সবুজ, উর্বর ছিল


তো কি হয়েছিল এই ফাদাকে? ঘটনার শুরু নবীজী মদীনায় হিজরতে থাকাকালীন; মক্কার কুরাইশদের পাশাপাশি খায়বারের ধনী ইহুদী গোষ্ঠীর সাথেও মুসলমদের শত্রুতা শুরু হয়। মদীনা হতে ১৫২ কিলোমিটার উত্তরে খায়বারের অন্তর্গত উর্বর, পানি সমৃদ্ধ এক মরুদ্যানের নাম ফাদাক/ফিদাক। সেখানে স্থানীয় কিছু ইহুদী গোত্র বাস করতো, তাদের সাথে তখনো মুসলিমদের কোন ঝামেলা হয়নি। কিন্তু তারাও খায়বারের বড় গোত্রগুলোর সাথে যোগ দিতে যাচ্ছে খবর পেয়ে নবীজী হযরত আলীর নেতৃত্বে ১৫০০ যোদ্ধা পাঠালেন সেখানের ইহুদীদের নিরস্ত্র করতে। তারা ভয় পেয়ে শান্তিচুক্তি স্থাপন করে এবং বিনিময়ে ফাদাক মরুদ্যান নবীজীকে উপহার প্রদান করে। এর অল্পকিছু দিন পরেই কামুস দুর্গে হযরত আলীর সেই বিখ্যাত দরোজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নেতৃত্ব দেওয়া যুদ্ধে খায়বারে ইহুদীদের চূড়ান্ত পতন হয়। এই যুদ্ধটা এই কারণে অধিক গুরুত্বপূর্ণ যে এর মাস দুয়েক আগে হওয়া হুদায়বিয়ার সন্ধিকে এই যুদ্ধের ফলাফলের কারণেই মক্কার কুরাইশরা সম্মান করতে বাধ্য হয়, ফলে মক্কা বিজয়কালীন বড় কোন ক্ষতি ছাড়াই কোরাইশ গোত্রকে অক্ষত রাখতে হযরত মুহাম্মদ সাঃ সফল হয়েছিলেন।


তো সেই ফাদাকের জমি নবী নিজ পারিবারিক কার্যে এবং উনার ব্যক্তিগত দান-সদকার উৎস হিসেবেই খরচ করতেন। যেহেতু হযরত ফাতিমার বড় দুই বোন মৃত্যুজনিত কারণে পর্যায়ক্রমে সম্পদশালী হযরত উসমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন, এবং পাশাপাশি আলীর উত্তরে অসাধারণ বীরত্বের জন্য ফাদাকের উপর হযরত ফাতিমার দাবীটা বেশীই ছিল। এবং সম্ভবত! জীবিত অবস্থায় উনার পিতার থেকে এই জমির মালিকানাও বুঝে নেন।


সমস্যা দেখা দেয় নবীজীর মৃত্যুর পর, যখন হযরত আবু বকর খলিফা হবার পর ফাদাকে বসবাসরত এবং নবী পরিবারের আশ্রিতদের সেখান থেকে উৎখাত করেন। ফাদাকের জমিকে ইসলামী খিলাফতের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। এই বাকি অংশের বর্ণনাও শিয়া-সুন্নি সূত্র থেকে প্রায় একই রকম পাওয়া যায়; নিজ গৃহে আক্রমণে ক্ষুব্ধ ফাতিমা রাঃ সম্পূর্ণ হতাশ এবং ভেঙ্গে পড়েন ফাদাকের জমি দখলে। নবী পরবর্তী সময়ে নারীদের মসজিদে যাওয়া আসা ছিল না, ফাতিমা রাঃ অতি সন্তর্পণে সহচরীদের সাথে ঘোমটা টেনে আমিরুল মুমেনিনের দরবারে পর্দার আড়ালে উপস্থিত হন। ক্রন্দনরত অবস্থায় ফাতিমা তার আর্জি পেশ করেন, আবু বকর রাঃ শান্ত ভাষায় জানান নবীজীর কোন উত্তরাধিকার নেই।


এসময় তিনি স্বীয় কন্যা হযরত আয়েশা রাঃ বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেন, ‘আমাদের (রাসুলদের) কোন উত্তরাধিকার নেই, আমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি সদকা হয়ে যাবে- সহীহ মুসলিম’। সেসময় হযরত উমরও খলিফাকে সমর্থন জানান। কিন্তু হযরত ফাতিমা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান, প্রথমে তিনি সাক্ষী হিসেবে হযরত আলী, এবং সন্তান হাসান-হোসেনের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু আবু বকর রাঃ তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন নিজ আত্মীয়ের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। তখন ফাতিমা রাঃ হযরত আয়েশার হাদীস অস্বীকার করে বলেন নবীজী এমন কোন বিধান দিলে তা সর্বাগ্রে উনার কন্যাকেই জানাতেন। পাশাপাশি তিনি পূর্ববর্তী নবী রাসূল যেমন হযরত দাউদ আঃ, সোলেমান আঃ, ইয়াকুব আঃ প্রমুখদের উদাহরণ দেন যারা উত্তরাধিকার সূত্রে রাজত্ব এবং সম্পত্তি অর্জন করেছিলেন।

কিন্তু হযরত আবু বকর এবং উমর তা কিছুতেই মানলেন না। রাগে, দুঃখে হযরত ফাতিমা নিজ গৃহে ফিরে যান এবং কিছু সূত্র হতে জানা যায় তিনি মৃত্যুর পূর্বে আর হযরত আবু বকরের সাথে কথা বলেননি। এই ঘটনার মাস কয়েকের মাঝেই হযরত ফাতিমা রাঃ মারা যান এবং শিয়া তথ্যমতে ফাতিমা রাঃ চাননি উনার জানাজায় আবু বকর বা অন্যরা অংশ নিক। এজন্যই রাতের বেলা গোপন স্থানে দাফন করা হয়। ধারণা করা হয় অসংখ্য সাহাবী এবং নবী পরিবারের অন্যদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থান মদীনার জান্নাতুল বাকিরই কোন এক স্থানে গোপনে উনাকে সমাহিত করা হয়, যা প্রথমবার ওহাবী/প্রথম সৌদ স্টেট আমলে মাজার পুজা দূর করার উদ্দেশ্য হিসেবে অনেকাংশে ধ্বংস করা হয় এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় সৌদ স্টেট তথা বর্তমান রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা সৌদ ১৯২৫ সালে শুধুমাত্র হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর কবর বাদে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন।


চিত্রঃ ১৯২৫ সালে ধ্বংসের পূর্বে 'জান্নাতুল বাকী' কবরস্থান


উপরের ঘটনাগুলোকে ধরা যায় পরবর্তী শত-সহস্র বছরের বিভাজনের প্রথম অঙ্কুর। ইতিহাসের সেই সময়গুলোতে আলোকপাত করতে আমরা এখন সরাসরি দ্বন্দ্বের ইতিহাসগুলো দেখবো যা ইতিহাসে প্রথম ফিতনা, দ্বিতীয় ফিতনা নামে অভিহিত করা হয়েছে। আর এই ঘটনাবলীর মূল নায়ক হিসেবে আমার কাছে বিবেচ্য এবং অধিকতর আলোচনার দাবী রাখেন তারা হচ্ছেন হযরত আলী রাঃ, হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এবং আল-মারওয়ান ইবনে আল হাকাম।

প্রথম দুজনের সর্ব পরিচিতির তুলনায় তৃতীয়জনের পরিচিতি অনেক কম, বয়সেও অনেক ছোট। কিন্তু তার অন্তর্নিহিত ভূমিকা ব্যাপক, তাই তাকে বাদ দিয়ে ইতিহাস সম্পূর্ণ হবে না। মক্কার কুরাইশদের বংশ তালিকা দেখলে জানবেন নবীজীর ৫ প্রজন্ম আগের পূর্ব পুরুষ আবু মান্নাফের সন্তান আবু হাশেম এবং অপর সন্তান আবু শামসের ছেলে উমাইয়ার থেকেই প্রধান দুটি গোত্র বনু হাশেমি এবং বনু উমাইয়া’র সৃষ্টি হয়। তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক দুই দিকেই উমাইয়ারাই অগ্রসর ছিল। এই গোত্র থেকে যেমন হযরত উসমান রাঃ এর মতো শুরুর দিকের মুসলমানেরা ছিলেন, তেমনি মূলত মক্কায় কুরাইশদের শেষ প্রতিরোধ উমাইয়ারাই ধরে রেখেছিল।


চিত্রঃ বনু হাশিম এবং উমাইয়া বংশ তালিকা


মক্কায় সেই রয়ে যাওয়া উমাইয়াদের মাঝে আবু সুফিয়ানের মতোই আরেক ইসলাম বিরোধী, কাফের ছিল হযরত উসমানের চাচা আল হাকাম। আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করলেও আল হাকাম নবীজীর ক্ষমা পায়নি, সে তার পরিবারসহ তায়েফে নির্বাসিত হয়। আর সেই আল হাকামের সন্তানের নামই হচ্ছে আল-মারওয়ান। পরবর্তীতে হযরত আবু বকর এবং হযরত উমরের আমলে আল হাকাম আর তার সন্তান আল মারওয়ান ফেরার আর্জি জানায়, কিন্তু সেই অনুরোধ দুজনেই বাতিল করে দেন। কিন্তু হযরত উসমান ৬৪৪ সালে খিলাফতে আসীন হবার পর তাদের পূর্ণ মর্যাদায় দেশে ফেরার অনুমতি দেন। চাচাতো ভাই আল মারওয়ান অল্প দিনেই উনার খুব প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেন। এরপর থেকে ৬৮৬ সালে উমাইয়া খলিফা হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসের প্রতিটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায় তার আলোচিত, সমালোচিত এবং কখনো রহস্যজনক ভূমিকা পাওয়া যায়।



প্রথম ফিতনা

৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ তথা হিজরি ৩৫ সালের ১৮ই জিলহজ্জ্ব মাসে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান রাঃ এর নৃশংস হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে মুসলিম ইতিহাসের প্রথম ফিতনা শুরু হয়। মূলত এই ফিতনার কারণ বিশ্লেষণের জন্যই হযরত উসমান রাঃ এবং তার আমল সম্পর্কে কিছু জানা জরুরী।

একজন ধার্মিক, দয়ালু, সৎ, কোরআনের সংকলক এবং একজন উল্লেখযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে হযরত উসমান রাঃ ইতিহাসে চিরস্মরণীয় থাকবেন। ৬৪৪ সালে হযরত উমরের মৃত্যুর পর উনার মনোনীত প্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে হযরত উসমান খলিফা হিসেবে মনোনীত হন। উমরের ইসলামী সাম্রাজ্য সম্প্রসারনের নীতি তার আমলেও অব্যাহত থাকে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়, এতো বিশাল সাম্রাজ্য শাসনে উমর রাঃ যেমন কঠোরতা এবং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তার তীব্র অভাব ছিল হযরত উসমানের রাঃ এর ব্যক্তিত্বে। উনার মূল ভরসা ছিল নিজের উমাইয়া বংশের সদস্যরা, মূলত উমাইয়া বংশ এবং নিজের ঘনিষ্ঠ জনদের মাঝে থেকেই তিনি কুফা, বসরা, সিরিয়া, মিশর প্রভৃতি স্থানের গভর্নর নিযুক্ত করেন। কিন্তু এরা সবাই সমান সপ্রভিত ছিলেন না, তাদের দুর্বল-অনুপযুক্ত শাসনে কুফা, বসরা এবং বিশেষ করে মিশরে অসন্তোষ দেখা দেয়। এক খলিফা উমর নিযুক্ত মুয়াবিয়া রাঃ ছাড়া সর্বত্রই উমাইয়া প্রশাসকরা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। ধীরে ধীরে হযরত উসমান রাঃ এর প্রধান উপদেষ্টা হয়ে উঠা মারওয়ান বিন হাকামের হস্তক্ষেপের কারণে খলিফা উসমান উমাইয়া প্রশাসকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন।

হিজরি ৩৫ সালের হজ্বের সময় কুফার বিদ্রোহীরা হযরত যুবায়ের রাঃ এর পক্ষে, বসরা থেকে হযরত তালহা রাঃ এর পক্ষে এবং মিশর থেকে হযরত আলী রাঃ এর পক্ষের বিদ্রোহীরা দলে দলে মদীনায় এসে হাজির হয়। এই অবস্থায় হযরত উসমান সাহায্য চান হযরত আলীর কাছে। হযরত আলী এবং আনসার নেতা হযরত মাসলামা রাঃ এর মধ্যস্ততায় বিদ্রোহীদের দাবী মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা একপর্যায়ে মদীনা ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু মিশরের বিদ্রোহীরা যখন ফেরার রাস্তায় ছিল ঠিক সেসময় মদীনা থেকে আগত একজন বার্তাবাহক তাদের হাতে ধরা পড়ে যায়। তার কাছে থাকা হযরত উসমানের সীলমোহর যুক্ত চিঠি খুলে দেখতে পায় যেখানে বিদ্রোহীদের মিশর ফেরা মাত্রই কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য গভর্নরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেখা মাত্রই বিদ্রোহীরা আবার মদীনায় ফিরে হযরত উসমানের বাড়ি অবরোধ করে। হযরত উসমান এই চিঠির বিষয়ে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন, ধারণা করা হয় মারওয়ান বিন হাকাম স্ব-প্রণোদিত হয়ে এই চিঠি পাঠান।

এবার আর হযরত আলীর পক্ষে কিছু করা সম্ভব হয়নি। না পারলেন বিদ্রোহীদের শান্ত করতে, না পারলেন হযরত উসমান’কে মারওয়ানের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে বুঝাতে; বিদ্রোহীরা খলিফার বাড়ির ভিতর খাবার পানির সরবরাহ বন্ধ করে দিলে উনি শেষবার চেষ্টা করেছিলেন মীমাংসার, কিন্তু ব্যর্থ হন। হযরত হাসান, হযরত হোসেন, ইবনে জুবায়ের, মারওয়ানসহ কয়েকজন হযরত উসমানের বাড়িতে পাহারায় থাকেন, টানা কয়েকদিন ধরে অবরোধ চলতে থাকে। মদীনার অনেকেই বিদ্রোহীদের সাথে যুক্ত হয়, এক পর্যায়ে তারা প্রহরীদের পেরিয়ে হযরত উসমানের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পাশের বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে হযরত উসমানের ঘরে প্রবেশ করে। তিনি তখন রোজারত অবস্থায় কোরআন শরীফ পড়ছিলেন; সেই অবস্থাতেই বিদ্রোহীরা হত্যা করে উনাকে।

মুসলিম জাতির ভবিষ্যত চিরদিনের জন্য বদলে যায় এই ঘটনার পর। কারবালাসহ আরও শত শত করুণ ঘটনার বীজ রোপিত হয় এই অন্যায় হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে। হত্যাকারীদের মাঝে মিশরীয় নেতা আল-গাফিকি, ইয়োমেনী সুদান ইবনে হামরান, হুকাম ইবনে জাবালা, আবদুল্লাহ ইবনে সাবা প্রমুখ উল্লেখ্য।



আবদুল্লাহ ইবনে সাবা এবং আদি শিয়া রহস্য

শিয়াদের কাছে খোদা এবং নবীর পর হযরত আলীই সর্বেসর্বা, তাই নবীর আমল থেকে খলিফায়ে রাশিদিনের যুগে যারা আলীকে সমর্থন যুগিয়েছে তারাও বিশেষভাবে সম্মানীয় শিয়াদের কাছে। এদের মাঝে সর্বাগ্রে থাকে ফোর কম্প্যানিয়ন খ্যাত চার সাহাবা আবু জহ্‌র আল গিফারী রাঃ, সালমান বিন ফারসী, আমর ইবনে ইয়াসির, আল মিকদাদ। তো হযরত আলীর এই সহচরদের ‘শিয়ায়ে আলী’ বা আলীর কমরেড নামে অভিহিত করা হতো। এটা হতেই শিয়া নামের উৎপত্তি। কিন্তু শিয়াদের এই অতিরিক্ত আলী বিশ্বাসের উৎসটা কি?

এখানেই নাম আসে আবদুল্লাহ ইবনে সাবা নামক ইহুদী হতে ধর্মান্তরিত রহস্যময় ব্যক্তির কথা। যাকে প্রথমত সুন্নিরা অভিযুক্ত করেছে হযরত উসমানের হত্যাকারী এবং শিয়ারা আলীকে নবীজীর উপর বিশ্বাস করে এই তত্ত্বের প্রবর্তক হিসেবে।
দ্বিতীয়ত শিয়ারা একে অভিযুক্ত করে ‘প্রথম গুলাত’ অথবা ধর্মের অতিরঞ্জনকারী বা অপব্যাখ্যাকারী হিসেবে, যে হযরত আলীকে খোদা (আস্তাগফিরুল্লাহ) এবং নিজেকে তার নবী ঘোষণা করে। এই অপরাধে হযরত আলী তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। পরবর্তী শিয়া ইমামগণও একে অভিশাপ দিয়ে গেছে।

আর তৃতীয়ত, অধিকাংশ আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে ইবনে সাবা সম্পূর্ণ কাল্পণিক একটি চরিত্র। হযরত মুয়াবিয়া বিশেষ প্রয়োজনে ইবনে সাবা চরিত্রের জন্ম দেন, কারণ হযরত উসমান রাঃ এর হত্যায় মদীনার অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিরা ইন্ধন যুগিয়েছিল যাদের সাথে উমাইয়াদের সর্বোপরি ভালো সম্পর্ক ছিল। তাই তাদের আড়াল করতেই ইহুদী খল চরিত্র ইবনে সাবার জন্ম দেওয়া হয়। আর উমাইয়া খিলাফতের যুগে এটা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে শিয়ারাও একে তাদের ধারায় আলীর ধর্মভীরুতা হিসেবে বর্ণনা করেছে।উপরোক্ত ঘটনাগুলো ছাড়া আগে পরে কোন যুদ্ধ বা ঐতিহাসিক ঘটনায় ইবনে সাবার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।



উটের যুদ্ধ

একটা ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই হযরত আলী রাঃ নীরব থাকলেও কিংবা ইমাম হাসান হযরত উসমানের বাড়ি পাহারা দেওয়া অবস্থায় আহত হলেও উনার সমর্থকরাই বেশী ভূমিকা রেখেছিল ঘটনায়। মিশরের বিদ্রোহীরা পুনরায় ফিরে আসলে উনি হযরত উসমান এবং বিদ্রোহীদল দুই পক্ষের সাথেই বসেন, কিন্তু মারওয়ানের বাঁধার কারণে তিনি আশি ছুঁই ছুঁই বয়োবৃদ্ধ খলিফাকে বুঝাতে ব্যর্থ হন এবং নীরবে মঞ্চ ত্যাগ করেন। যাই হোক, শুধু আলীর খিলাফত মান্যকারী মিশরীয় বা ইয়েমেনীরা না, মদীনা-কুফা-বসরার অনেক বড় গোত্র বা পরিবারের ইন্ধনও ছিল তাতে। তাই হযরত আয়েশা যখন হযরত আলীর কাছে খলিফার হত্যাকারীদের শাস্তি দাবী করলো আলী সেটা দুর্বলতা বা অপারঙ্গমতার কারণেই হোক পালন করতে ব্যর্থ হন। তার পরিণামে বসরার প্রান্তরে মুখোমুখি হয় হযরত আলী এবং হযরত আয়েশার বাহিনী। হযরত উসমান রাঃ এর বিরোধী হলেও হযরত আয়েশা এসময় পাশে পান হযরত তালহা, হযরত যুবায়ের এবং উমাইয়া বংশকে। তার পক্ষে আরও উপস্থিত ছিল মারওয়ান বিন হাকাম। মারওয়ানের কর্মকান্ড এই যুদ্ধকে এমন কিছু ঘটনার জন্ম দিয়েছে যার বর্ণনা করা দুঃসাধ্য।


চিত্রঃ উটের যুদ্ধে হযরত আয়েশা রাঃ এর উট। এই উটের নামেই যুদ্ধের নামকরণ হয় কারণ আলীর বাহিনীর মূল টার্গেট ছিল এই উটটি। কথিত আছে একে রক্ষা করতে গিয়ে আয়েশার অনুসারীদের লাশের পাহাড় জমে যায়।


অপরদিকে আলীর সাথেও অনেক সাহাবা, বিভিন্ন প্রদেশের সৈন্যসহ নবীজীর নিজ হাশেমি বংশ হযরত আলীর পক্ষে ছিলেন; হযরত আবু বকরের দুই ছেলে হযরত আব্দুর রহমান এবং মুহাম্মদ বিন বকরও নিজেদের বোনের বিপক্ষে হযরত আলীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নেন।
এসময় একদল লোকের কথা না বললেই নয়। প্রচলিত ধারার মাঝেই হঠাৎ যেমন কিছু উগ্রপন্থী গজিয়ে উঠে; যেমনটা ছিল আইএস বা হলি আর্টিজানের জঙ্গিরা। ঠিক তেমনি আলীর বাহিনীতে একদল যুদ্ধবাজ উগ্রপন্থীর আবির্ভাব ঘটে। কোরআনের কট্টর অনুসারী বলে ‘কোরা’ নামে অভিহিত করা হতো। অনেক সাহাবীর হাদীসের বর্ণনায় নবীজী এদের সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, মদীনার পূর্ব দিক হতে একদল লোকের আগমন হবে যাদের মুখে সবসময় কোরআনের কথা থাকবে কিন্তু অন্তরে কোরআনের বাণী পৌঁছাবে না। যেমন; সূরা হুজুরাতের ৯ নং আয়াতে বলা আছে, “যদি বিশ্বাসীদের দুই পক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত হয় তবে তাদের মাঝে শান্তি স্থাপন করো, যদি এদের মাঝে এক পক্ষ বিদ্রোহী হয় তবে খোদার শাসনে না আসা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর”। এখানে স্পষ্টতই বিদ্রোহী বলতে খোদাদ্রোহী বুঝানো হয়েছে, কিন্তু তারা যেকোন বিদ্রোহীকেই এই পরিণতির যোগ্য বিবেচনা করে এবং শান্তিচুক্তি বলে কোন কিছু অস্বীকার করে। সেই সাথে কোরআনে বলা হয়েছে 'তোমরা আখিরাতের জন্য দুনিয়ার জীবন ত্যাগ করো'। এটাকেও তারা আক্ষরিকভাবেই জীবন দান করা বুঝে থাকে।

তো উটের যুদ্ধের শুরুতেই বিভিন্ন সাহাবা এবং গোত্রগুলোর মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হয়ে যায় এবং একটা শান্তিচুক্তির দিকে এগুতে থাকে। এই অবস্থা দেখে সেই কোরা’রা এবং যারা হযরত উসমান হত্যায় জড়িত ছিল তারা শাস্তির এড়ানোর জন্য নির্দেশ অমান্য করেই যুদ্ধে এগিয়ে যায়। একটা বিশৃঙ্খল দ্বিধাময় যুদ্ধের মাঝেই হযরত আলীর বাহিনীর হাতে হযরত আয়েশা এবং উমাইয়া বাহিনীর পরাজয় ঘটে। সবাইকে ইসলামী আইন অনুযায়ীই বিচার করা হয় এবং হযরত আয়েশাকে তাঁর ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে মদীনায় ফেরত পাঠানো হয়, যেখানে বাকি জীবন তিনি হাদীস সংকলন এবং ধর্ম চর্চায় ব্যয় করেন।


তো যে কারণে মারওয়ানের কথা শুরুতে বলেছিলাম। মধ্যস্ততার মাঝে যখন কোরা’রা আক্রমণ করলো, তখন হযরত তালহার মন যুদ্ধ থেকে উঠে গেছে, তিনি যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করছেন, এটা দেখে নিজ পক্ষেরই মারওয়ান ছুটে এসে বিষাক্ত তীর দিয়ে বিদ্ধ করে তাকে এবং সে আঘাতেই পরে রক্তক্ষরণে মারা যান নবীজীর এই প্রিয় সাহাবী।



সিফফিনের চূড়ান্ত যুদ্ধ এবং খারিজী’র জন্ম

উটের যুদ্ধ হযরত আলীর বাহিনীর জন্য ছিল রিহার্সাল মাত্র। হযরত আলীর খলিফা হওয়ার পথে প্রধান বাঁধা হযরত মুয়াবিয়া তখনো সিরিয়ায় উমাইয়া বংশের নিশান উড়িয়ে চলছেন।

ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এবং উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুয়াবিয়া রাঃ সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক। ৬৩০ সালে মুসলিমদের মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত আবু সুফিয়ান এবং তার সন্তান মুয়াবিয়া এবং ইয়াজিদ ছিল ইসলামের ঘোরতর শত্রু। মক্কা বিজয়ের পর পরই তারা ইসলাম গ্রহণ করে। পূর্বে উহুদ, খন্দকে কুরাইশ বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া মুয়াবিয়াকে হযরত আবু বকর তার বড় ভাই ইয়াজিদের অধীনে হযরত আবু উবাইদার বাহিনীতে যুদ্ধ করার জন্য সিরিয়ায় প্রেরণ করেন। কিন্তু মুয়াবিয়ার প্রকৃত বিকাশ এবং উত্থান দুইই ঘটে হযরত উমরের আমলে। কিছু কিছু বর্ণনা থেকে জানা যায় মুয়াবিয়াকে নিজের সন্তানের মতোই দেখতেন হযরত উমর। সিরিয়া অভিযানকালীন প্লেগে পরপর গভর্নর আবু উবাইদা এবং মুয়াবিয়ার বড় ভাই হযরত ইয়াজিদ মারা যান। এবং তাদের স্থালাভিষিক্ত হন মুয়াবিয়া রাঃ অসাধারণ কূটনৈতিক প্রজ্ঞার অধিকারী মুয়াবিয়া সমগ্র শ্যাম (সিরিয়া, জর্দান, ফিলিস্তিন) ইসলামী খিলাফতের অধীনে নিয়ে আসেন। শক্তিশালী নৌবাহিনী বানিয়ে বাইজেন্টাইনদের সাগর থেকে বিতাড়িত করে সিসিলি পর্যন্ত দখল করেন। উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার অনেক দেশও তাঁর সিরিয়ান বাহিনী বিজয় করে হযরত উমর এবং হযরত উসমানের খিলাফতকালীন।


উমাইয়া গোত্রীয় ভাই হযরত উসমানের মৃত্যু এবং উটের যুদ্ধে আয়েশার রাঃ এর পরাজয় মুয়াবিয়াকে আলীর মুখোমুখি অবস্থানে ঠেলে দেয়। হযরত উসমানের রক্তমাখা জামা এবং হত্যাকারীদের হাতে খন্ডিত হওয়া উনার স্ত্রীর কাটা আঙ্গুল প্রদর্শন করে সিরিয়ানদের মাঝে প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। এদিকে হযরত আলী মক্কা-মদীনা-কুফা-মিশরীয়দের বিশাল বাহিনী নিয়ে ফোরাত নদী পেরিয়ে সিরিয়ায় উপস্থিত হলেন। অবশেষে জ্বিলহজ্ব মাসে দুই বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি হয়। ইসলামী ইতিহাসবিদদের মতে হযরত আলীর সৈন্যসংখ্যা ছিল ৮০ হাজার, অপরপক্ষে হযরত মুয়াবিয়ার সিরিয়ান বাহিনীতে ছিল প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্য।

এবারও দুই পক্ষ যুদ্ধ শুরুর আগে শান্তি আলোচনা চলাকালীন আলী’র বাহিনীর কোরা’রা হামলা চালিয়ে বসে। তিনদিন ব্যাপী সেই যুদ্ধে আলীর সামরিক কৌশলের কাছে মার খেয়ে সিরিয়ান বাহিনী অধিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তার পরেও উভয় পক্ষেরই মূল বাহিনী অক্ষত ছিল। আরও অধিক ক্ষতি এবং ইসলামকে বদনামের হাত থেকে রক্ষা করতে দুই বিচক্ষণ নেতাই যুদ্ধ থামিয়ে শান্তিচুক্তিতে সম্মত হলেন। চুক্তি অনুযায়ী সকল বিবাদ মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করা হলো। হযরত মুয়াবিয়া হযরত আলী জীবিত অবস্থায় নিজেকে খলিফা দাবী না করলেও সমর্থকদের মাঝে এটা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিলই। মধ্যস্থতাকারীরা একবার এই বিরোধ নিরসনে ভোটের প্রস্তাব দিলেও আলী তা মানতে রাজি হননি।

দুই পক্ষের মাঝে যখন এরকম আলোচনা, সমাঝোতা চলমান তখন আর কোরা’রা নিজেদের ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারলো না। তারা আলীর পক্ষ ত্যাগ করলো এবং মহানবীর হাদীস অনুযায়ী তারা কোরআনের অপব্যাখ্যাকারী ‘খারিজী’ নামে অভিহিত হলো। হযরত আলী তাদের এই পক্ষ ত্যাগ মেনে নিতে পারলেন না, নাহরাওনের যুদ্ধে তিনি খারিজীদের বাহিনীকে পরাজিত করলেন। প্রচুর সংখ্যক খারিজী নিহত হয় সেই যুদ্ধে, বাকিরা দেশ ত্যাগ করে বা আত্মগোপনে চলে যায়। ৬৬১ খ্রিস্টাব্দের রমজান মাসের ফজরের ওয়াক্তে খারিজী গুপ্তঘাতকরা একই সাথে সাথে কুফায় এবং দামেস্কে হযরত আলী এবং হযরত মুয়াবিয়ার উপর হামলা চালায়। মুয়াবিয়া সামান্য আঘাত পেয়ে জীবনে বাঁচলেও হযরত আলী বিষাক্ত তলোয়ারের আঘাতে মৃত্যবরণ করেন।
শুধুমাত্র খারিজীদের ইবাদী ব্রাঞ্চটিই ওমানে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়। ওমানের মুসলিম জনসংখ্যার ৭০% ইবাদী ইসলামের অনুসারী।


চিত্রঃ খারিজীদের বর্তমান চিত্র



পরিণতি

হযরত আলী স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুর আগে প্রতিনিধি নির্বাচন করে যেতে পারেননি, কিন্তু তিনি আহলে বাইত’কে গুরুত্ব দিতেন সবসময়। তাই তার মৃত্যুর পর ভক্তরা হযরত হাসান রাঃ’কে খলিফা মনোনীত করেন। স্বাভাবিকভাবেই মুয়াবিয়ার এই সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি, তিনি ৬০ হাজার সিরিয়ান সৈন্য নিয়ে ইরাকের দিকে অগ্রসর হন। হযরত হাসানের পক্ষেও তার সেনাবাহিনী সমবেত হয় বসরা এবং কুফা থেকে। এর মাঝের ঘটনা কিছুটা অস্পষ্ট। ইমাম হাসান হঠাৎ যুদ্ধের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, এর মাঝে শিবিরে এক খারিজীর আক্রমণে আহত হলে আরও মনোবল হারিয়ে ফেলেন। নেতার এমন অবস্থা দেখে নবীজীর চাচা হযরত আব্বাসের ছেলে, বসরার গভর্নর উবায়েদ আল্লাহ ১০ লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে মুয়াবিয়ার সাথে চুক্তি করে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে। ওদিকে মুয়াবিয়া-হাসান শান্তিচুক্তিও স্থাপিত হয়; চুক্তি অনুসারে মুয়াবিয়াকে খিলাফত প্রদান করা হয় বিনিময়ে মুয়াবিয়া কথা দেন কখনো তার বংশধরকে খলিফা মনোনীত করতে পারবে না। কিন্তু পরবর্তীতে উনি তার ওয়াদা রাখতে ব্যর্থ হন, যার কারণে দ্বিতীয় ফিতনা শুরু হয়।

এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, সেই মারওয়ান তখনো অক্ষত, বহাল তবিয়তেই ছিলেন। মুয়াবিয়ার আমলে মদীনার গভর্নর এবং উমাইয়া গোত্র প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। হযরত মুয়াবিয়া ক্ষমতা চাইলেও বনু হাশেমি নির্বংশ করার পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু উনার মৃত্যুর পর মারওয়ানের পরামর্শে মুয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদ এবং পরবর্তীরা হাশেমি বংশের সদস্যদের হত্যার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এই হাশেমি বংশ থেকেই পরবর্তীতে হযরত আব্বাস এবং হযরত আলীর ধারায় দুটি খিলাফতের জন্ম হয় যথাক্রমে আব্বাসী এবং ফাতেমি খিলাফত।৬৮০ সালে কারবালায় ইমাম হোসেন রাঃ এর মৃত্যু হলে ইয়াজিদ আরও তিন বছর শাসন করে মারা যায়, এরপর তার ছেলে দ্বিতীয় মুয়াবিয়া ক্ষমতায় আসলে মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় প্লেগে মৃত্যু বরণ করে। এসময় উমাইয়া খিলাফতে এক শুন্যতার সৃষ্টি হয়, এমন একটা সময়ের জন্যই এতো যুগ অপেক্ষমান ছিলেন মারওয়ান। সিরিয়ান সেনাপতিদের সাহায্য নিয়ে ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম জাহানের খলিফা হিসেবে অধিষ্ঠিত হলো মারওয়ান বিন আল হাকাম। উমাইয়া খিলাফতের মধ্যে থেকেও পরিবর্তন আসলো, আবু সুফিয়ানের বংশধারা থেকে মারওয়ানিদ উমাইয়া ধারার শুরু হলো।



লেখকের কথা B:-/

এতো বড় লেখা দেওয়ার উদ্দেশ্যটা শুধুই ইতিহাস জানানো জন্য ছিল না। তাও এতো নেগেটিভ ইতিহাস তুলে ধরার। কিন্তু এগুলো আড়াল করতে গিয়ে ভক্তদের ‘Missing Link’ এর জায়গায় ‘Missing Lies’ গেলানো হয়। তাও একেক জনেরটা একেক রকম। ইতিহাস নিয়ে আরও অনেক পোস্ট লিখেছি, কিন্তু আরও কোন পোস্টের জন্য এতো পড়তে, লিখতে, মাথা খাটাতে হয়নি। বই করলেই সুবিধা হতো, বেঢপ ব্লগ পোস্ট বানাতে গিয়েই সমস্যায় পড়েছি। অসংখ্যা ইতিহাস, মতবাদ বাদ রয়ে গেছে বা বর্ণনা করা হয়নি সবাই জানেন বলে।

এখানে দুটি বিষয় মুখ্য

প্রথমত, ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখি তবে ইসলামের সাহাবীদের একেকজন বিশ্বের যে কোন রাজার দরবারে মন্ত্রী বা সেনাপতি হবার যোগ্যতা রাখতেন। কেউ আরব উপদ্বীপ জয় করছে, কেউ সিরিয়া, কেউ ইয়েমেন, কেউ ইজিপ্ট, কেউ বা নৌবাহিনী নিয়ে সিসিলি দখল করে বসে আছে। এরকম প্রতাপশালীরা পাশাপাশি অবস্থান করলেই আগুন ছাড়াই ধোঁয়া উড়বে।


দ্বিতীয়ত, আমাদের মাঝে সাহাবাদের ফেরেশতা রূপে গণ্য করার একটা পূজনীয় ভাব আছে। অথচ এমন কোন বিধান কোথাও নেই। কলব সাফ নবীজীর হয়েছিল, সাহাবাদের নয়। একজন মানুষের সব গুণাগুণই তাদের মাঝে বিদ্যমান ছিল। জিব্রাইল আঃ-মিকাইল আঃ এর মাঝে গ্রুপিং হয়েছে এমন কোন উদাহরণ নেই। কিন্তু সাহাবাদের মাঝে হয়েছে, মারওয়ানের মতো চরিত্র সমাজের বাহিরের কেউ নয়। এটাই রাজনীতি, বিশ্বের অধিকাংশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেই অতি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু এটা নিয়ে ১৪০০ বছর ঘৃণার চাষাবাদ করা বোকামি। প্রতিটি খিলাফতেরই অনেক ভালো ভালো কাজ আছে। সেগুলা নিয়ে বন্ধুত্ব না করে বিবাদ ধরে টানাটানি করলে সমাধান হবে না। দোষ সবারই ছিল, শিয়ারা পরবর্তী যুগে পালিয়েই বেড়িয়েছে ইহুদীদের মতো। তাদের ভাগ হয়েছে শতধা, হাজারটা মতবাদ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু আমি তাদের ভালো দিক দেখি মিশর শাসন করার পরেও সেখানের জনগণকে কনভার্ট করেনি।

আমেরিকা, ইউরোপের অনেক চার্চে গলায় সাপ নিয়েও প্রার্থনা হয়। তাদের কেউ মারতে যায় না কিংবা আপনি মুসলমান হয়ে মারতে গেলেও সবাই মিলে ঠ্যাঙাবে। কিন্তু মুসলমানদের উল্টা, আমেরিকা ইরানে বোমা মারলেও অনেকের ঈদ লাগে আর কারণ জিজ্ঞাসা করলে উল্টাপাল্টা ইতিহাস বলে। হিংসা দূর হোক, সবার মাঝে ঐক্য আসুক।

সবাই ভালো থাকুন। 8-|

মন্তব্য ৪৬ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৪৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন: পুরাতন চান্দুকে বরণ করলাম নতুন .... । তবে রাজনীতি মনে যেন পলিট্রিক্স তাই ভালো লাগে না।

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৫৫

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই :)

২| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:১৩

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ১৯৩০ সালে মুসলিমদের মক্কা বিজয়ের আগ সালটা ভুল লিখা হয়েছে।
পোস্টটা দুইবার এসেছে।

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৫৬

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই, ঠিক করে দিছি :)

৩| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০৫

শের শায়রী বলেছেন: প্রথমেই অভিনন্দন অসাধারন এক পোষ্ট নিয়ে পাচ বছর পর উপস্থিতি জানান দেয়ায়, রেগুলার হবা তো?

একই পোষ্ট দুবার আসছে, এডিট করে নীচের অংশ ডিলিট দিয়ে প্লীজ। স্পেসিং কোথাও একটা কোথাও দুটো পড়ছে। সিফফিনের যুদ্দে একটা টাইপো আছে মুসলমান রা ১৯৩০ সালে মক্কা বিজয় লিখছ।

পুরানো চান্দু ফিরে আসলে সবার জন্যই মঙ্গল হবে, এই ধরনের একটা পোষ্ট দেয়া মানে অসংখ্য তথ্য উপাত্ত নিয়ে ঘাটাঘাটি।

অভিনন্দন চান্দু। রেগুলার লিখবা এই আশায়।

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৫৯

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: ঘাটাঘাটি মানে, এর চেয়ে বিতর্কিত আর কিছু আছে কি না জানা নাই। আগের ইতিহাস পোস্টগুলা খালি দেখছি, পড়ছি, অনুবাদ করছি। আর এটার একটা লাইন লিখতেও ১০ জায়গায় চেক দেওয়া লাগে। একটা ইস্যুতে শিয়া-সুন্নির মাঝেই গন্ডায় গন্ডায় মতবাদ পাওয়া যায়।
স্পেসিং সমস্যার কারণটা বুঝলাম না। বাকিগুলা ঠিক করে দিছি :)

৪| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৫৩

রাজীব নুর বলেছেন: বিশাল পোষ্ট। তবু বিরক্ত লাগে নি।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:০০

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই। এরকম পোস্ট লিখে এরকম কমেন্ট পেলেই স্বার্থক লাগে :)

৫| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:০৮

অভি চৌধুরী বলেছেন: পুরোটাই পড়েছি অনেক ঠান্ডা মাথায় পড়তে হয়েছে কারন আরবদের নাম গুলো মনে রাখা খুব জটিল, নামের সাথে বাপের নাম দেয়াতে সবাইকে একজনই মনে হতে লাগে তাই খুব ধীরে এবং আগে আবার পিছে করে করে এই পোষ্ট পড়তে আমার অনেক সময় নিয়েছে। অনেক কিছুই জানলাম,। সুত্র জানিনা কোথা থেকে আসলো, সবাইতো সবাইকে সঠিক মনে করে। একই ঘটনা একসাথে দুজন দেখলে সব সময় একি রকম প্রচার হয়না। সমস্যা এখানেই বেশি যা আজ পর্যন্ত চলমান।

আল্লাহ আমাদের সঠিক জানা বোঝা এবং সঠিক পথে থাকতে সহযোগীতা করবেন এটাই চাওয়া। আমিন

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ,

(পোষ্ট দুবার আসছে এবং কিছু কিছু জায়গায় সাল ভুল আসছে। )

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৫৫

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: ভাইয়াকে অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য। আমি আসলে ভাইয়া ইতিহাস ভিত্তিক ব্লগার, আমার আগের পোস্টগুলো দেখলে বুঝবেন। ইসলামের ভালো ব্যাখ্যা ভালো ইসলামিস্টরা দিতে পারবেন। :)
আর ঐ যে বললেন নাম দিলে বাপের নামে ভ্যাজাল লেগে যায়, রেফারেন্স জুড়ে দিলে তো আরও ঝামেলা হয়ে যেতো। কোরআন এবং হাদীসগুলোর দিয়েছি শুধু। বাকিগুলো বুঝার সুবিধার জন্য সুন্নি, শিয়া, ইতিহাস এই তিনভাগে উল্লেখ করে দিছি। পোস্টে দিয়ে ভারী করি না কখনো। কমেন্টে কেউ চাইলে দেই, সাধারণত কেউ চায় না।

৬| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৬:২৫

কামরুল হাসান শািহ বলেছেন: আচ্ছা ওই সময়টারে ভালোভাবে জানার জন্য কোন কোন বই পড়তে হবে?

লেখাটা নির্মোহ হইছে।
প্লাস টেলাস আছেনি এখনও ব্লগে?

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০২

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: ব্লগে কি আছে কি নাই এখনো ধরতে পারতাছি না। কমেন্টে সব ইমো দিতে পারতাছি না, কমেন্ট হয় কিন্তু ভিজিটর চেঞ্জ হয় না। আরও যেন কি কি আছে।

এই লেখা নির্মোহ রাখা অনেক কঠিন একটা কাজ রে ভাই। এক পক্ষ গোপন রাখতে চায়, আরেক পক্ষ মহাভারত লেখে। বইয়েও সেই সমস্যা, পক্ষে চলে যায়। এই বিষয়ের উপর মাল্টিপল স্টাডি চালাইতে হবে।

৭| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৮

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই। এরকম পোস্ট লিখে এরকম কমেন্ট পেলেই স্বার্থক লাগে

আবার হারিয়ে যাবেন না। নিয়মিত হবেন।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০৩

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: চেষ্টা করবো ভাই :)

৮| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:০৫

নীল আকাশ বলেছেন: শুভ সকাল,
ফিরে আসার জন্য অভিনন্দন। আপনার পোস্ট আমি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। আপনি যেই কাহিনীগুলি তুলে ধরেছেন সেইগুলি বেশিরভাগই শিয়াদের অতিরঞ্জিত এবং বানোয়াট কাহিনী। এইসব কাহিনী এরা দিনের পর দিন অতিরঞ্জিত করে রটিয়েছে। আপনি লেখাগুলির কোন সূত্রই দেন নি? এইধরণের লেখাগুলির সূত্র দরকার সত্যতা জানার জন্য। কোন জায়গা থেকে নিয়েছেন বা লেখক'কে সেটা দেখলেই বুঝা যেত?

যা দিয়েছেন এইগুলি কিছুই না। নিন শিয়াদের কান্ড কারখানা নিয়ে সামান্য নমুনা দিলাম।
Muhammad Ibn Massoud al-Ayashi related:
Imam al-Sadiq (Peace be upon him) was sitting with a group of his followers, and asked them: "Do you know whether the Prophet died a natural death or was murdered? Allah the Almighty says: "if then he died or is killed". The truth is that the Prophet was poisoned in his last days before he died. Aisha and Hafsa administered poison in his food. Upon hearing this, Imam Sadiq's followers said that they (Aisha, Hafsa) and their fathers were among the worst villains ever created by Allah."
Source: Tafseer al-Ayashi, Vol 1, Page 200; Bihar-ul-Anwar, by Allama Al-Majlisi, Vol 22, Page 516
[আমি যথাযথ সূত্র দিয়েছি, মনগড়া কাহিনী লিখিনি]

আপনি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহাবী হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে নিয়ে বাজে অভিযোগ করেছেন অথচ দেখুন সহী হাদীসে কী আছে?
ফিতনার দরজাটি হযরত ওমর স্বয়ং নিজে — হাদিস নং – ৫০০ ।
মুসাদ্দাদ (রাঃ) —- হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে , তিনি বলেন , একদা আমরা হযরত ওমরের কাছে বসা ছিলাম । তখন তিনি বললেন , ফিতনা সম্পর্কে রাসুল (সাঃ) এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে স্মরন রেখেছ ?
হযরত হুযাইফা (রাঃ) বললেন , যেমনটি মহানবী (সাঃ) বলেছিলেন হুবহু তেমনটি আমি মনে রেখেছি ।
হযরত ওমর বললেন , রাসুল (সাঃ) এর বানী স্মরন রাখার ব্যাপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছ ।
অামি বললাম , রাসুল (সাঃ) বলেছেন যে , মানুষ নিজের পরিবার পরিজন , ধন সম্পদ , সন্তান সন্ততি , পাড়া প্রতিবেশীর ব্যাপারে যে ফিতনায় পতিত হয় — সালাত , সাদাকা , ন্যায়ের অাদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ সেই সমস্ত ফিতনাগুলিকে দূরীভূত করে দেয় ।
হযরত ওমর বললেন , তা আমার উদ্দেশ্য নয় । বরং আমি সেই ফিতনার কথা উল্লেখ করছি যা সমুদ্রের তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হবে ।
হুযাইফা (রাঃ) বললেন , হে খলীফা ওমর , সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোন কারন নেই । কেননা আপনার ও সেই ফিতনার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে ।
হযরত ওমর জিজ্ঞাসা করলেন , সে দরজাটি ভেংগে ফেলা হবে , না খুলে দেয়া হবে ?
হুযাইফা (রাঃ) বললেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে ।
হযরত ওমর বললেন, তাহলে খুলে দেওয়া ফিতনার দরজাটি আর কোনদিন বন্ধ করা যাবে না ।
হুযাইফা (রাঃ) এর ছাত্র শাকীক (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন যে, হযরত ওমর কি সে দরজাটি সম্পর্কে জানতেন ?
হুযাইফা (রাঃ) বললেন , হ্যা , দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত , তেমনি হযরত ওমর নিশ্চিত ভাবে সে দরজাটি সম্পর্কে জানতেন । কেননা আমি তার কাছে এমন একটি হাদিস বর্ননা করেছি , যা মোটেও ভুল নয় ।
ফিতনার সেই দরজাটি কে ? এ বিষয় হুযাইফা (রাঃ) কে আমরা জিজ্ঞাসা করতে ভয় পাচ্ছিলাম ।
তাই আমরা মাসরুক (রাঃ) কে বললাম এবং তিনি হুযাইফা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন ।
উত্তরে হুযাইফা (রাঃ) বললেন যে , ফিতনার দরজাটি হযরত ওমর স্বয়ং নিজেই ।
সূত্র – বুখারী শরীফ , দ্বিতীয় খন্ড ,
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ঈসমাইল বুখারী আল জুফী (রহঃ)
সম্পাদনা পরিষদ কতৃক অনুদিত ও সম্পাদিত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন , বাংলাদেশ ।

যেকোন সাহাবীকে নিয়ে লেখার সময় সর্তক হওয়া উচিত কারণ স্বয়ং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাহাবীদের সরাসরি অনুসরণ করতে বলেছেন।

আমি আপনাকে হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) লেখার সংকোলন 'নাজাঘুল বালাঘ' বইটা পড়তে বলবো। এই বই পড়া থাকলে আজকে এইসব উদ্ভট কাহিনী নিয়ে পোস্ট দিতেন না।

ধন্যবাদ।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৩৮

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই পড়ার জন্য।

আপনার সাথে আমার আগেও এই বিষয়ে কথা হয়েছে, আমি জানি ইতিহাস আপনি বিশ্বাস করেন না। কিন্তু আমি শুরুতেই বলেছি এটা ইতিহাসকে ভিত্তি করে লেখা, কাজেই এখানে নিজের পক্ষের লেখা খুঁজতে আসলে ভুল করবেন। কোরআন, হাদীসের যেসব কথা উদ্ধৃত হয়েছে সেগুলোর রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। আপনি বলেছেন শিয়াদের বানোয়াট কাহিনী নিয়ে উদ্ভট পোস্ট দিছি, অথচ সবখানে সুন্নি, শিয়া এবং ইতিহাসবিদ এই তিন সূত্রের কথা বলেই লিখেছি। আপনি যদি সেই টপিকে সুন্নি রেফারেন্স বা ইতিহাস ভিত্তিক কোন রেফারেন্স গুগোলে সার্চ করেও না পেতেন তাহলে বানোয়াট বলতে পারতেন, কিন্তু সেটা আপনি করেননি।

একটা হাস্যকর শিয়া কোটেশন দিলেন, আপনার কি ধারণা এই পোস্ট লিখতে গিয়ে এগুলো আমার চোখে পড়েনি? আপনি চাইলে আরও ১০০০ দিবো, কিন্তু আমি জানি আপনি সেগুলো প্রচার করবেন ঘৃনা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। পোস্টটা আসলেই মনোযোগ দিয়ে পড়লে ভাই দেখতে পেতেন লেখা আছে শিয়ারা শতধা ভাগ হয়েছে, হাজার মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে। এখানে তো শিয়াদের প্রতি ভক্তি বাড়ানোর কথা বলি নাই, তারা কেন বিভাজিত হয়েছে, মারওয়ান, সাবা, এজিদদের কথা বলা হয়েছে।
আপনি নিশ্চইয়ই জানেন শিয়াদের বারো ইমামের প্রায় সবাইকে উমাইয়া এবং আব্বাসীরা বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। যারা সবাই আহলে বাইয়াতের সদস্য ছিলেন। যদি মাথাই কেটে ফেলা হয় তবে বাকিদের কাছ থেকে ভ্রান্ত আকিদাই আসবে স্বাভাবিক। ইমাম আবু হানিফা'র কাজের গুরুত্ব নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারেন, উনাকেও যদি মতবাদ প্রচার করতে না দিয়ে উনার শিক্ষক শিয়াদের ইমাম আবু জাফরের মতো হত্যা করে ফেলা হতো তাহলে নিশ্চয়ই হানাফি মাজহাব পাওয়া যেতো না। এই বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারবেন এটাই প্রত্যাশা।

আর হযরত উমর রাঃ কে নিয়ে বাজে অভিযোগ করেছি!! ভাই উনার সম্পর্কে তো ধরতে গেলে কিছুই বলি নাই আর। আপনি না পড়েই ধারণা করছেন শিয়ারা উনাকে যেসব গালাগালি করে সেগুলো লেখা আছে এই পোস্টে, উনাকে নিয়ে কখনো পোস্ট দিলে উনার অবদান নিয়েই দিবো।

আর ভাই নাজ আল বালাঘ এর কন্টেন্ট ভালো কিন্তু এর রচয়িতা নিয়ে যে কতোটা সন্দেহ এবং বিবাদ আছে সেটা কি আসলেই আপনার অজানা?? এই কারণেই এটা এই পোস্টে আসেনি।

ভালো থাকবেন।

৯| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৩২

ইসিয়াক বলেছেন: চমৎকার পোষ্ট।
শুভকামনা রইলো।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৩৮

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই।

১০| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৩৫

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
৫ বছর পর ফিরে এসে দারুণ এক ইতিহাস নিয়ে এসেছেন। যারা শুধু এতদিন একটা অংশ জানতো তারা এবার পুরোটা জানতে পারবে।+++++

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৩৯

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: আপনাদের কিছু জানাতে পেরে আমিও ধন্য হলাম ভাই। :)

১১| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৩৭

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ওয়েলকাম ব্যাক চান্দু !

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪০

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: হুম আপু, ফিরে আসলাম আপনাদের মাঝে :)

১২| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪৪

নতুন বলেছেন: রাজনিতি সবকিছুর উপরে, ক্ষমতা পাওয়ার জন্য মানুষ অনেক কিছুই করে।

সাধারন মানুষ ধম` মানে, কিন্তু এর পেছনের রাজনিতি সম্পকে খুব একটা জানেনা।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৪৮

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: ভাই, তিনটা মানুষ এক হলেই রাজনীতি শুরু হয়ে যায়, ২০ জনের একটা প্রাইভেট কোম্পানি থাকলেও সেখানে ৪টা গ্রুপ থাকে আর এতো বড় সাম্রাজ্যে রাজনীতি থাকবে না এটা শুধু বোকাদেরই ধারণা। আর আমি এটাকে খারাপ হিসেবেও দেখি না, এসবের বিনিময়েই উমাইয়াদের সামরিক বিজয়, আব্বাসীদের শিল্প-সাহিত্য এসবই ইসলামী ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।

১৩| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:০১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: অসাধারন।

লজ্জ্বা, দ্বিধা ভয় দূরে ঠেলেই এই নির্মোহ সত্যানুসন্ধান এখণ সময়ের প্রয়োজন।
অন্ধত্ব নয়, অতি ভক্তি নয়, শত্রুতা বশত নয়, সত্যের মৌলিক দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করলেই
সত্যটা বেরিয়ে আসে।

নবীজির জানাজা ৩ দিন পর হয়েছে এই দু:খজনক সত্য আড়াল করলেইতো সমস্যার সমাধান হবে না।
বরং সামনে এনে কার্যকারণ অনুসন্ধানের মাধ্যমে, তা বিলোপে কোরআন ও আহলে বায়াতের /আহলে বাইতের সিলসিলা
ধরে সত্যের কাছেই থাকতে হবে।
যে জন্যে শুধু পুথিগত বিদ্যা যথেষ্ট নয়, একই সাতে চাই আধ্যাত্বসাধনার পূর্নতা।
জাগ্রত হৃদয়ে সত্যালোকে স্নাত মানব। দুনিয়ার মোহমুক্ত, সত্যাসক্ত, আল্লাহ ভিরু নেতৃত্ব।

দীর্ঘ হাইবারনেশন ;) থেকে জাগায় স্বাগতম।
আশা করি পাবো নিয়মিত।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর শুভকামনা

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৪৯

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: অনেকদিন পরে ব্লগে ভাইয়ের কমেন্ট পেলাম। এটা অন্যরকম অনুভূতি। সুন্দর মন্তব্যের জন্য ভাইকে ধন্যবাদ।

১৪| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:২২

অনন্য দায়িত্বশীল আমি বলেছেন: সময় নিয়ে পড়তে হবে।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৫২

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: হুম অনেক সময় লাগবে, মাথাও ঠান্ডা থাকলে ভালো হবে পড়ার সময় :)

১৫| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:০২

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: আমাদের দেশের যারা হুজুর আছেন, তাঁরা কি ইসলামিক এই সব ইতিহাস নিয়ে কখনও ওয়াজ করেন?

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৫৭

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: করে, কিন্তু নিজেদের ব্যবসা নষ্ট হবে এমন করে নয়। বেশীরভাগ হুজুরই ভক্ত ধরে রাখে আরেকজনকে শত্রু বানিয়ে। মনের হিংসা বাড়ানোকে বলা হয় ঈমানী জোর। একে মারবেন, তাকে ধরবেন, কাফের বলে গালি দিবেন, বিভেদ করবেন তাহলেই আপনি বড় হুজুর।

১৬| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:১৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: অনেকদিন পরে অনেক বড় একটা লেখা অখন্ড মনোযোগ দিয়া পড়লাম।

ব্লগে আসার আগে আমার ধারনা ছিল, আমি অনেক জ্ঞানী একজন মানুষ, এখন যতোই দিন যাইতাছে, আপনেগো মতো ব্লগারের পোষ্ট দেইখা বুঝতাছি, আমি আসলে কিছুই জানি না। :((

এইসব বিষয় নিয়া এতো ধরনের লেখা পাই যে, খেই হারায়া ফালাই.....কোনটা ধরুম আর কোনটা ছাড়ুম, বুজতেই পারি না। তবে, আপনের লেখা পইড়া অনেক কিছু জানলাম। ব্লগের পন্ডিতেরা কইতে পারবো, এইটা কতোটুকু সহি লেখা। আপনের কনফিডেন্স দেইখা মনে হইতাছে, লেখা ঠিক আছে। আবার হারায়া যায়েন না যেন। এমন আরো লেখা চাই......আর আরো গেয়ানী হইতে চাই।

লেখাটা প্রিয়তেও নিয়া রাখলাম। যদি ভবিষ্যতে কামেও লাগতে পারে। ;)

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:২৩

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: :D :D হা হা ভাই, আপনার কমেন্ট পড়ে অনেক মজা পেলাম। সতি বলি, ব্লগে আসার আগে আমিও এগুলোর তেমন কিছু জানতাম না। ব্লগিং করতে গিয়েই জেনেছি।
আসলে এতো আগের বিতর্কিত ইতিহাস তাও যেখানে আমাদের ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ওতপ্রতভাবে জড়িত সেটার আসল ঘটনা তালাশ করা মুশকিল। সহজ একটা উদাহরণ দেই, প্রাচীন ইতিহাসে বলে গাওগামেলার যুদ্ধে আলেকজান্ডারের বিরুদ্ধে পারসিয়ান দারিওসের সৈন্যসংখ্যা ছিল ১০ লক্ষের কাছাকাছি। অপরদিকে আধুনিক ইতিহাস বলে এক লক্ষের কাছাকাছি, এটাই সবাই মেনে নিবে। কিন্তু যদি কোন একটা মুসলিম যুদ্ধে এরকম আধুনিক ইতিহাসের রেফারেন্স দেন যে রোমানরা ৪৫ হাজার ছিল, যেখানে মুসলিম ইতিহাসবিদরা ২ লক্ষ বলেছে তবেই আপনি অবিশ্বাসীদের কাতারে চলে যাবেন।

১৭| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:৩০

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আলেকজান্ডাররে তো চিনি, কিন্তু গাওগামেলার যুদ্ধ নামে যে একটা যুদ্ধ আছে, এইটাই তো জানতাম না! :((

সেইজন্যই তো রিকোয়েস্ট করলাম, হারায়া যায়েন না আবার! লেখতে থাকেন!!! :)

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০০

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: লিখবো লিখবো করেও আর আলেকজান্ডার নিয়ে লেখা হয়নি। অনেক আগে ফেসবুকে একটা ছোট পোস্ট দিছিলাম, দেখতে পারেন।
view this link

১৮| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:৩২

নীল আকাশ বলেছেন: আপনি আমার প্রশ্ন কিংবা সূত্র এর কোনটারই কোন উত্তর দিন নি। আপনি বলেছেন ইতিহাস থেকে লিখেছেন। ভাল কথা, এবার ইসলামের কোন ইতিহাসের বই থেকে লিখেছেন? ইবন ইসাহাক? ইবন হিসাম? কার নাম বলুন? কোন বইতে এই সব গাজাঘুরি গল্প দেয়া আছে?

আমি আপনাকে সহী সনদ সহ হাদীস দিয়েছি। হাদীসের দুইটা অংশ। এক হলো হাদীসের মূল লেখা আর ২য় হলো তার সহী সনদ। আপনার লেখা নিজেই পড়ে দেখুন? কোথায় আপনার সেই সূত্র গুলি? কোথায় সেই সহী সনদ?

আপ্নি সিনিয়ার ব্লগার। লেখা আপনার। ডিফেন্ড আপনি করবেন আপনার লেখার। আমি জানতে চাই কোন জায়গা থেকে এইসব তথ্য পেয়েছেন? নাজাঘুল বালাঘ আমি পড়েছি। এবং পড়েছি দেখেই এই নাম বলেছি। শিয়ারা অনেক কিছু বলে। তাতে কারও কিছু যায় আসে না।

আপনি হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সন্দেহের তীর ছুড়েছেন? এর বিপরীতে আপনাকে আমি সহী সনদ সহ ফিতনার হাদীস দিয়েছি। কেন আমি এই ফিতনার হাদীস এখানে দিয়েছি সেটা বুঝেছেন তো? এখন বলুন কোনটা ঠিক? সহী সনদ সহ হাদীস না আপনার কোন রকম সূত্র ছাড়া আন্দাজে লেখা।

একদম প্রথমেই আপনি ভুল করেছেন। আমি এর আগে কখনই আপনার লেখা পড়িনি। আর আপনিও আমাকে চেনেন না। এইসব বিষয় নিয়ে ব্লগে সবাই প্রশ্ন তুলবেও না। আমি তুলেছি কারণ আমি জানি। আর জানি বলেই আমি প্রশ্ন তুলেছি।

আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত কোন অথেন্টিক সূত্র না দিবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এই পুরো লেখাটাকেই আজগুবি এবং বানোয়াট লেখা বলবো। আপনি সূত্র দিলে মনে রাখবেন আমি সেই সূত্র খুব ভালো মতো চেক করবো।

ইসলাম আমার ধর্ম, আমার বিশ্বাস। আর আপনি আমার এই বিশ্বাস নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
আপনার লেখা কতটা যৌক্তিক সেটা প্রমাণ করুন।
ধন্যবাদ।

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪২

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: দয়া করে বোকার মতো স্মার্ট হবার চেষ্টা করবেন না। আপনি আমাকে চিনেন কিন্তু জানেন না, আমিও আপনাকে চিনি এবং কিছুটা হলেও জানি। ব্লগে কমেন্ট করার ব্যাপারে, কাউকে ভুল বলার আগে সচেতন হোন।
কয়দিন আগেই আপনার সাথে জাদিদ ভাইয়ের ফেসবুক পোস্টে তর্ক হয়েছিলেন, যেখানে আপনাকে ইতিহাস ভিত্তিক রেফারেন্স দেওয়ার পর স্পষ্ট বলেছিলেন কোন ইতিহাসবিদের কথা আপনি বিশ্বাস করেন না। এরকম কাউকে তো ইতিহাস ভিত্তিক রেফারেন্স দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। পোস্টের শুরুতেই বলা হয়েছে ইতিহাস ভিত্তিক রেফারেন্সকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তারপরেও সেদিনের মতোই বিরক্ত উদ্রেক করছেন পোস্টের আলোচনার বাহিরে থাকা হযরত উমর রাঃ'কে টেনে এনেছেন। এই পোষ্টে হযরত আবু বকরকেও বাহিরে রাখা হয়েছে। হযরত উসমানের মৃত্যুটা শুধু ফ্যাক্ট ফাইন্ড করা হয়েছে। মূল চরিত্র কারা সেটাও বলা আছে। আপনি সেদিকে যানই না।

আবারও বলছি এই পোষ্টে সুন্নি, শিয়া আলাদা করা আছে; আপনি সুন্নি সোর্স না পেলে এসে বানোয়াট বলে যাইয়েন, বিরক্ত কইরেন না। পোস্টটা লিখতে কষ্ট হইছে, সেই মেন্টালিটি আপনার নাই, দুই চারজন নিজের পক্ষের লেখা পড়েই ডিসিশনে পৌছে যান। তারপরেও একটু শান্তি দেই আপনাকে, পোস্টে ইবনে কাথারির কথা বলা আছে, তাবারি, উইলফ্রেড মাডলুং সহ পঞ্চাশেরও বেশী বই, জার্নাল ঘাঁটা হয়েছে। আপনি আমার অন্য একটা ইতিহাসের পোস্টে আসুন, দেখি সেখানে কিভাবে সহীহ ইতিহাস ব্যাখ্যা দেন। সেগুলো যেভাবে লেখা হয়েছে, এটাও সেভাবেই লেখা হয়েছে। শুধু আরও এনালাইসিস বেশী করা হয়েছে সত্যটার কাছাকাছি যাওয়ার জন্য।

আর গোটা পোস্টটা অনেক ভাগে ভাগ করা হয়েছে, আপনি একটা পয়েন্টের বিরুদ্ধেও কিছু বলতে পারেননি; খালি 'তুই ভুল তুই ভুল' করে যাচ্ছেন। এখানে কোরআন, হাদীসের কথাও এসেছে। অথচ বললেন পুরো লেখাটাই আজগুবি, বানোয়াট। কোরআন, হাদীসও আজগুবি, বানোয়াট তাই না? একটু কমনসেন্স রাখুন

১৯| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:০৭

নীল আকাশ বলেছেন: আর হযরত উমর রাঃ কে নিয়ে বাজে অভিযোগ করেছি!! ভাই উনার সম্পর্কে তো ধরতে গেলে কিছুই বলি নাই আর।
আপনি কার সর্ম্পকে বলবেন? হযরত উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে নিয়ে?
আপনি কি জানেন সহী তিরমিজি শরীফে কি লেখা আছে? এটা সিহা সিত্তার একটা হাদীস গ্রন্থ।
হাদিস - ৩৬২৪ তিরমিজি
“হযরত উকবা ইবনে আমের রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমার পরে কেউ নবী হলে নিশ্চয়ই ওমর ইবনুল খাত্তাব হত।”

ধন্যবাদ

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৫৯

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: আপনি কি আমার সাথে রাজনীতি করতাছেন? আমি কে সেটা আপনার জানা নাই থাকতে পারে কিন্তু পোস্টে তো বলা আছে রাজনীতি করতাম। ব্লগের গত দশকে যারা আওয়ামী লীগ করতো তাদের জিজ্ঞাসা কইরেন চান্দুর কথা।

পুরো লেখা অর্ধেক বা গোপন করে অপব্যাখ্যাই খারিজীদের লক্ষণ। আমার লেখাটা ছিল;
আর হযরত উমর রাঃ কে নিয়ে বাজে অভিযোগ করেছি!! ভাই উনার সম্পর্কে তো ধরতে গেলে কিছুই বলি নাই আর। আপনি না পড়েই ধারণা করছেন শিয়ারা উনাকে যেসব গালাগালি করে সেগুলো লেখা আছে এই পোস্টে, উনাকে নিয়ে কখনো পোস্ট দিলে উনার অবদান নিয়েই দিবো।

২০| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:১৬

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: ধর্ম নিয়ে লিখতে গেলে অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে। জোড়া-তালি চলবেনা কোন মতেই।

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪৭

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: এটা তো ধর্মীয় পোস্ট না ভাই, ইতিহাস ভিত্তিক। ইতিহাস লেখার সকল নির্মোহ চেষ্টাই এতে করা হয়েছে। আপনি কোন পয়েন্ট ধরে প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন।

২১| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৩৩

নীল আকাশ বলেছেন: বুঝতে পারলাম। আপনি আমাকে কোন সূত্র দেবেন না। ঠিক আছে, আমি যা বুঝা উচিত তাই বুঝেছি।
আমি আপনার ৮ নাম্বার প্রতিমন্তব্য থেকেই ১৯ নাম্বার মন্তব্য করেছি, পোস্ট থেকে নয়।
আপনি কোন ধরণের রাজনীতি করতেন আমি জানি না। আমি আপনার অনেক পরেই এই ব্লগে এসেছি।
আপনার ব্লগ নিকের সাথে মিলিয়ে ফেসবুক নিক কী সেটা আমি জানি না।
তবে আমার ব্লগ বাড়ি ঘুরে আসলে আওয়ামী লীগের কথা আর কখনও আমাকে বলবেনও না। আমাকে প্রতিনিয়তই এইসব লীগের দালাদের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। সন্দেহ থাকলে মডারেটের কাছেও জিজ্ঞেস করতে পারেন আমি এর আগে ব্যান খেয়েছিলাম কেন?

আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছি কারণ আমি এইব্লগে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আজেবাজে লেখা আর মন্তব্য করাটা বন্ধ করতে চেয়েছি। এটা পড়ে আসুন- ব্লগে পোস্ট দেয়া বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় নিয়ে লেখার ব্যাপারে কিছু অপ্রিয় সত্যকথা
ধন্যবাদ।

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০৮

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: আর আমার এই পোস্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে যারা ইসলামের ইতিহাস বানোয়াট এবং বিকৃত করে ঘৃনা এবং বিভাজন ছড়ায় সেসব ভন্ডামি বন্ধ করা।

আপনি এই পোস্ট আজেবাজে বলছেন কারণ এই পোস্ট বুঝার মতো মেন্টালিটি আপনার নেই, কিন্তু আশার কথা যে অনেকের আছে। খুব গন্ডিবদ্ধ আপনার চর্চা, সেটার বাহিরে কিছু বললেই আপনার বিশ্বাসে টান পড়ে যায়। কে কি কারণে কি নিয়ে পোস্ট দিয়েছে এটুকু গভীরে বুঝার ক্ষমতা আপনার নাই।
আপনার কোন ধারনাই নেই ব্লগে কি আজেবাজে লেখা হতো, কারা লেখতো আর কারা প্রতিবাদ করতো। ব্লগের রাজনীতি কি জিনিস সেটার ধারে কাছেও যান নাই আপনে।

যাই হোক, আপনার ব্লগিং শুভ হোক। ধর্ম আমার বিষয় না, দুইদিনই আপনার সাথে ধর্ম এবং ইতিহাস এক হয়ে যাওয়ায় কথা হয়েছে। মনে হয় না এসব বিষয়ে আর কখনো লাগবে আপনার সাথে।

২২| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:১৩

সুপারডুপার বলেছেন:



আদি ইসলামিক রাজনীতির কিছু বিষয় আগেই পড়েছিলাম, কিছু বিষয় আপনার লেখা থেকে নতুন করে জানলাম। স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বই ও ওয়াজ মাহফিল থেকে কেউ এগুলো জানতে পারে না। আদি ইসলামিক রাজনীতি এবং দ্বন্দ্বের অজানা অধ্যায় সবার সামনে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মতে,
১) কেন সাহাবীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকতে পারলেন না? এটার মূল কারণ কি?
২) একজন আরেকজন কে হত্যা, মারামারি ও নির্যাতন করার ক্ষেত্রে কেন তাঁদের ভিতরে কোনো মানবতাবোধ জাগ্রত হত না?

২৩| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৫৮

বঙ্গভূমির রঙ্গমেলায় বলেছেন: অসাধারণ পোষ্ট।

অনেক অজানা বিষয় জানলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

ভাল থাকুন নিরন্তর।

২৪| ০২ রা মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৩৭

হাসান রাজু বলেছেন: আমাদের দেশে শিয়াদের প্রায় অমুসলিম পর্যায়ে গণনা করা হয়। বেশির ভাগ মানুষের ধারনাও তাই। হুজুররা এভাবেই বয়ান করেছেন আমাদের কাছে। যদিও ইরান একমাত্র ইসলামিক দেশ হিসেবে তারা গর্বে বুক ফলান (যাক, সেটা অন্য বিষয়) ।

আমার বিশ্বাস ছিল নিশ্চয়ই শিয়ারাও আমাদের ব্যাপারে এমন কথাই বলে ।

২৫| ০৩ রা মার্চ, ২০২০ রাত ১২:২৬

আমি তুমি আমরা বলেছেন: অনেকদিন পরে অনেক বড় একটা লেখা অখন্ড মনোযোগ দিয়া পড়লাম এবং প্রিয়তে নিলাম। ওয়েলকাম ব্যাক।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.