| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুল আরবিঃ আলি তানতাভি
ডাক মারফতে আমার কাছে এক ভদ্র মহিলার চিঠি এসেছে। ভদ্র মহিলা নাম-ঠিকানা কিছুই উল্লেখ করেননি। চিঠির বর্ণনাভঙ্গি মহিলার গুণী মানুষ হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। চিঠিতে তিনি কিছু অভিযোগ করেছেন এবং কিছু বিষয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যের একটি অংশ ছিল, ‘দেখুন! আরবের নারীরা কত সংকীর্ণ ও পরাধীন জীবন যাপন করছে। অথচ পাশ্চাত্যের নারীদের জীবন কত স্বাধীন। এখানকার নারীদের বদ্ধ জীবন দেখুন আর ওখানকার নারীদের স্বাধীনতা দেখুন!’
এখানে এসে আমি থমকে গেলাম। বিষয়টি নিয়ে ভাবলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, তার ভ্রান্তি চিহ্নিত করে জবাবি পত্র লিখব। পরে মনে হল, তার নাম-ঠিকানা তো জানি না। পরে মনে মনে ঠিক করলাম, মহিলার জবাবি চিঠিই হতে পারে এ প্রবন্ধের বিষয়বস্তু।
এ ভদ্র মহিলার মতো অনেকেই এমন ধারণা পোষণ করে। তারা এটাকে শুধু ধারণা বলে স্বীকার করে না। বিশ্বাসের চেয়েও বড় কিছু ভাবে। এ অভিযোগের সবচেয়ে সঠিক সংক্ষেপ ও গভীর অর্থপূর্ণ জবাব দিয়েছেন এক আমেরিকান মহিলা অধ্যাপক বাহজা বাইতারকে।
অধ্যাপক বলেন, তিনি আমেরিকার এক সেমিনারে মুসলিম নারী সম্পর্কে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বক্তব্যে তিনি বলছিলেন, সম্পদের ক্ষেত্রে মুসলিম নারীর রয়েছে পরিপূর্ণ অধিকার। তার সম্পদে বাবা কিংবা স্বামীর কোন কর্তৃত্ব নেই। নারীর সম্পদ না থাকলে তার ভরণ-পোষণের ভার বাবা অথবা ভাইদের উপর। বাবা-ভাই না থাকলে এ দায়িত্ব নারীর নিকটাত্মীয় ওয়ারিশদের, যদি সে চাচাতো চাচার ছেলেও হয়। এভাবে ভরণ-পোষণ চলবে তার বিয়ে পর্যন্ত কিংবা সম্পদের মালিক হওয়া পর্যন্ত। বিয়ের পর তার ভরণ-পোষণের যাবতীয় দায়িত্ব তার স্বামীর উপর। যদিও সে মিলিয়ন মিলিয়ন সম্পদের মালিক হয় আর স্বামী সামান্য চাকুরে…। এমন আরো অনে কথা যা আমরা জানি কিন্তু পশ্চিমারা জানে না।
বক্তব্যের মাঝখানে এক প্রসিদ্ধ নারী সাহিত্যিক দাঁড়িয়ে গেলেন। বললেন, আপনি যেমনটি বলেছেন নারী যদি আপনাদের ওখানে এমনই হয় তাহলে আমাকে নিয়ে চলুন। সেখানে আমি মাত্র ছ’মাস বসবাস করতে চাই। এরপর আমাকে মেরে ফেললেও দুঃখ নেই।
মহিলার কথায় তিনি আশ্চর্য হলেন। মহিলার খোঁজ-খবর জিজ্ঞেস করলেন। তখন মহিলা নিজের অবস্থা ও সেখানকার নারীদের সামাজিক অবস্থা তুলে ধরলেন। বললেন- বাইরে থেকে মনে হয়, আমেরিকার নারীরা পূর্ণ স্বাধীন। বাস্তবতা হল, তারা পরাধীন। মনে হয়, তারা সম্মানিত অথচ তারা চরমভাবে লাঞ্ছিত। সমাজ তুচ্ছ ক্ষেত্রে তাদের সম্মান দেখায় আর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চরম অবজ্ঞা করে। পুরুষরা গাড়ি থেকে নামার সময় নারীকে হাত বাড়িয়ে দেয়। সাক্ষাতের সময় তাদেরকে সামনে রাখে। কখনো ট্রামে নিজের সিট ছেড়ে বসতে দেয়। তার চলার জন্য পথ ছেড়ে দেয়। এর বিনিময়ে তারা এত খারাপ আচরণ করে, যা সহ্য করার সাধ্য নারীর নেই।
এখানে একটি মেয়ে সাবালিকা হলে বাবা সহযোগিতার হাত গুটিয়ে নেয়। মুখের উপর বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়। তাকে বলে, যাও নিজে উপার্জন করে খাও! আজকের পর থেকে তোমার জন্য আমার কাছে কিছুই নেই। নিঃস্ব মেয়েটি একা জীবনসমুদ্রে ঝাঁপ দেয়। মেয়েটি পরিশ্রম করে জীবন চালায়, না দেহ বিক্রি করে জীবন চালায় তার কোন পরোয়া নেই। কেউ জিজ্ঞেস করে না, সে পরিশ্রম করে রুটি উপার্জন করছে, না স্তন বেঁচে রুটি জোগাড় করছে। এটা শুধু আমেরিকার চিত্র নয়, পুরো পশ্চিমেরই এ চিত্র।
ড. ইয়াহইয়া শামা আজ থেকে তেত্রিশ বছর পূর্বে প্যারিস থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে ফেরার পর ঘটনা শুনিয়েছিলেন, তিনি এক বাড়িতে গিয়েছিলেন। লোকেরা বলেছিল, এখানে একটি রুম ভাড়া হবে। বাড়িতে প্রবেশের সময় তিনি একটি মেয়ের মুখোমুখি হন। সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তার চোখে টলমল পানি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে তার?
তারা বলল, ও আমাদের মেয়ে। আমাদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে একা বসবাসের জন্য।
তিনি বললেন, সে তো কাঁদছে!
তারা বলল, সে এসেছিল রুম ভাড়া নিতে। আমরা ভাড়া দেইনি।
জিজ্ঞেস করলেন, কেন?
তারা বলল, সে মাত্র বিশ ফ্রাঙ্ক দিতে চাচ্ছে। অন্যরা ত্রিশ ফ্রাঙ্ক ভাড়া দিবে।
পাঠক! ঘটনাটি বিশ্বাস না হলে (অবিশ্বাস করার অধিকার আপনার আছে। কারণ, আমাদের সমাজে এমন ঘটনা একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার।) ড. ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি আপনাকে নিশ্চিত করে বলবেন। ঘটনাটি তিনি দেখেছেন, শুনেছেন। তাছাড়া আমাদের যেসব বন্ধুরা ইউরোপ আমেরিকায় গিয়েছেন, তাদের সঙ্গে থেকেছেন তারাও এ ধরনের বহু ঘটনা শুনিয়েছেন। নারী সেখানে এতই সস্তা যে, সামান্য রুটির জন্য তাদেরকে মহামূল্যবান সম্পদ সতীত্ব খোয়াতে হয়।
এক যুবতীকে নিয়ে তাওফীক হাকিমের লেখা পড়েননি? যুবতী নিজেকে তার হাতে সঁপে দিয়েছিল। এক ঘরে তারা থেকেছিল। স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করেছে। বিনিময়ে মেয়েটি শুধু একটি ছাদের আশ্রয় চেয়েছিল। পেট ভরে খেতে পারে এমন দস্তরখান চেয়েছিল। এক পর্যায়ে সে মেয়েটিকে ত্যাক্ত বিরক্ত করে তাড়িয়ে দেয়।
হে সম্মানীয়া, আমাদের সমাজে নারীকে পেতে একজন মন্দ লোকের অনেক মূল্য দিতে হয়। কারণ, অনেক কষ্ট আর সাধনার পরই সে একজন নারীর কাছে পৌঁছতে পারে। প্রাচ্যের নারীরা নিজেদের অবগুণ্ঠিত করে রেখেছে বলেই সম্মানিতা হয়েছে। নিজেকে সুরক্ষিত রেখেছে তাই তার খোঁজ পড়েছে। পশ্চিমে নারীরা নিজেদের মেলে ধরেছে তাই লাঞ্ছিতা হয়েছে। কারণ, প্রদর্শিত বস্তু সাধারণত হেয় হয়ে থাকে।
আরবের প্রথম যুগের কবিদের নারীর হাতের তালু কিংবা কব্জির কিঞ্চিত ঝলক দর্শনেই মাথা ঘুরে যেত, হৃদয় জেগে উঠত, প্রাণ প্রেমে ভরে উঠত। সৃষ্টি করতেন কবিতা আর গান। এর কারণ হল, নারী ছিল অবগুণ্ঠিত, আবরিত। আর পশ্চিমের নারীরা? পুরুষ সমুদ্র সৈকতে তার দেহের উঁচু নিচু সবই দেখতে পায়। সে নারীর জঙ্ঘা দেখে তবুও মনের মাঝে কোন আন্দোলন অনুভব করে না। নারীর উদোম অঙ্গও ভালোবাসাকে নাড়া দেয় না। এর মাঝে জীবনের কিছ্ইু খুঁজে পায় না। কাছ থেকে দেখেও কোন কামনা জাগ্রত হয় না। নারীর পা আর চেয়ারের পায়া ও দরজার পাল্লা এক সমান।
এভাবেই সেখানে বিয়ের বাজারে আকাল পড়েছে। বিয়ে হলো স্থায়ী বন্ধন। এর মাধ্যমে পুরুষ পছন্দের মানুষটির সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়। সহজাত বাসনা পূর্ণ করে। এটাই বিবাহের প্রতি আগ্রহী হওয়ার প্রথম কারণ। বিয়ে ছাড়াই যদি কেউ বাসনা পূর্ণ করতে পারে তাহলে সে কেন শুধু শুধু নতুন বন্ধনে জড়াবে? পশ্চিমের নারীরা স্বামী হারিয়েছে, ভরণ-পোষণকারী খুইয়েছে। জীবন ধারণের জন্য সব ধরনের পেশা বেছে নিয়েছে। তারা কাজ করছে কল-কারখানায়। কাজ করছে ক্ষেত-খামারে। রাস্তা পরিষ্কারের মতো কাজও তাদের করতে হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের বলেছে, ইউরোপের বহু তরুণী পাবলিক টয়লেটের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে। অনেক নারী জুতা পালিশের কাজ করে। ছোট একটি বাক্স নিয়ে রাস্তার পাশে বসে থাকে। কেউ আবার এসবের মধ্য দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। যখন কোন খদ্দের এসে মুখের সামনে জুতো বাড়িয়ে দেয় তখন বই রেখে জুতো পালিশে মন দেয়। এই হচ্ছে পশ্চিমের নারীর অবস্থা।
এর বিপরীতে প্রাচ্যের নারীরা ঘরে নিরাপদ থাকে। আর পুরুষ কষ্ট ও পরিশ্রম করে তার আহার ও পরিধানের ব্যবস্থা করে।
আমাদের সমাজে মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলে পুরুষ তাকে খুঁজে নেয়। সবিনয়ে মোহর পেশ করে। এ মোহর বাবা ভাই কারোরই নয়। তার অনুমতি ছাড়া কেউ এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অন্যদিকে পশ্চিমের নারীরা উল্টো পুরষের পেছনে পেছনে দৌড়ায়। সঠিক পুরুষ পর্যন্ত পৌঁছতে সে পঞ্চাশবার হোঁচট খায়। কখনও এমন হোঁচট খায়, যা তাকে জীবন সায়াহ্নে উপনীত করে। সঠিক পুরুষ পেয়ে গেলেও মোটা অঙ্কের যৌতুক ছাড়া পুরুষ বিয়েতে রাজি হয় না। এরপরও স্বামী লোভাতুর থাকে স্ত্রীর সম্পদের প্রতি, যেন সেও স্ত্রীর সম্পদ ব্যবহার করতে পারে। আমাদের এখানে নারীর সম্পত্তিতে একমাত্র নারীরই একচ্ছত্র অধিকার।
আপনি বলতে পারেন, এটা তো অনেক আগের কথা। আমাদের এখানেও বিয়ের বাজার মন্দা। আমাদের এখানেও বয়স্ক অবিবাহিত মহিলা আছে অনেক। কথা সত্য। কিন্তু এমনটা কেন হল? কারণ, ইংরেজরা যে ব্যাপারে অভিযোগ করে, যা থেকে তারা বাঁচতে চায় সে ক্ষেত্রেও আমরা তাদের অনুসরণ করছি। ঔপনিবেশবাদীরা আমাদের মনে গেঁথে দিয়েছে -এটা ছিল গত শতাব্দীর কথা যখন আমরা ছিলাম ঘুমন্ত উদাসীন- তারা আমাদের চেয়ে উন্নত ও অগ্রসর জাতি। তারা যা করে তাই সঠিক। তাই আমরা তাদের অনুসরণ করেছি সব ক্ষেত্রে।
কিন্তু আরবীয় স্বভাব কি এ অনুকরণ বরদাশত করতে পারবে? সম্ভ্রমের ব্যাপারে আরবরা সবচেয়ে আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন জাতি। এমনকি তারা লোকলজ্জার ভয়ে কন্যা সন্তনকেও জীবন্ত মাটি চাপা দিত। একজন আরব নিজের রাগ কী করে সংবরণ করবে যদি কোন পুরুষ এসে তার কাছে ঘড়ির সময় জানতে চাইল না, চাইল না তার কাছে সিগারেটের জন্য আগুন। চেয়ে বসল তার স্ত্রীকে- একসাথে নাচতে, বুকের সাথে বুক আর চেহারার সাথে চেহারা মেলাতে, পায়ের সাথে পা ঠুকতে।
কোন আরব কোন মুসলমান এতে রাজি হবে না। সত্যিকারের পুরুষত্ব আছে যার মাঝে সেও রাজি হবে না। প্রাণীদের মধ্যে শুকর ছাড়া কোন প্রাণীই এতে প্রবৃত্ত হয় না।
এ হল পশ্চিমে নারীদের অবস্থা। পশ্চিমের নারীরা কি খুব ভালো আছে, যে জন্য আমাদের নারীদের জন্যও তা চাচ্ছি?
শায়খ বাহজা বাইতারকে আমেরিকান নারী কী বলেছে তাতো জানলেনই। জার্মান বা ফ্রান্সের প্রত্যেক নারীর মনের কথাও এটি। অনেকে ইসলামী শরীয়ার উপর এ অভিযোগ করেন, উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারী পুরুষের অর্ধেক পায়।
পুরুষকে একাধিক বিয়ের অধিকার দিয়েছে। বলি, ইউরোপ আমেরিকার নারীদেরও জিজ্ঞেস করে দেখুন, তারা অর্ধেক মীরাছ লাভের পরিবর্তে স্বামী থেকে ভরণ-পোষণ পাওয়াকেই বেছে নিবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মান নারীদের জিজ্ঞেস করা হলে, তারা কি দশজনের জন্য একজন স্বামী আকাঙ্ক্ষা করে নি? যে তাদের সাথে ন্যায় আচরণ করবে। তাদের ভরণ-পোষণের ভার নিবে।
জার্মানি বা এজাতীয় দেশগুলো একাধিক বিয়ের অনুমোদন ছাড়া নারীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সঙ্কট নিরসন কীভাবে করবে? আল্লাহর বিধান আর প্রকৃতিই যদি দুই শ্রেণীর সহবস্থানকে অবধারিত করে দিয়ে থাকে এবং প্রতি পঞ্চাশ জন পুরুষের বিপরীতে একশজন নারী থাকে তাহলে প্রতি পুরুষের দু’জন স্ত্রী ছাড়া উপায় আছে? সব প্রাণীর ক্ষেত্রে কি আল্লাহর একই বিধান নয়? মুরগী ও মৌমাছির মধ্যে নারী-পুরুষের হার কত? পশ্চিমের পুরুষরা কি চার বা চারের অধিক স্ত্রী গ্রহণ করছে না? তারা করছে কিন্তু তা অবৈধ পন্থায় করছে। তবে কি আপনারা স্বামীর পরকিয়ার গোপন ইবলিসী অভিসারে সন্তুষ্ট? আর বৈধ ও স্বীকৃত দ্বিতীয় স্ত্রীতে চরম আহত ও বিস্মিত।
হে সম্মানীয়া! আপনি ভাববেন না, পশ্চিমের নারীরা বড় ভাগ্যবান, মর্যাাদাবান ও সম্মানিত। না বিষয়টি এমন নয়। আল্লাহর শপথ! পৃথিবীতে আমাদের নারীদের চেয়ে মর্যাদাবান সম্মানিত কেউ নেই। আমাদের সমাজে স্বামী একান্তই তার স্ত্রীর। বান্ধবী বা প্রেয়সীর নয়। তেমনি স্ত্রী একান্তই তার স্বামীর, প্রেমিক বা বন্ধুর নয়। পরপুরুষের সামনে সে নিরাবরণ হয় না, স্বামী ছাড়া কেউ তার সৌন্দর্য দেখে না। পশ্চিমের অন্ধ অনুসরণকারীদের কাছে কি এটাই দোষণীয়?! নিজের আহারের পাত্র নিজের জন্য সংরক্ষণ করলে, অন্যকে হাত দিতে না দিলে কি রাগের বিষয়? পবিত্রতা কি দোষ? সম্ভ্রম রক্ষা কি লজ্জার? ভালোই কি তবে মন্দ? আলোই কি অন্ধকার?
অন্যের মাথা দিয়ে চিন্তা করা, অন্যের চোখে দেখা এবং বানরের মতো অন্যের অনুকরণ প্রবণতা দূর করতে চাইলে আমরাই পারব। আমাদের উচিৎ নিজেদেরকে চেনা, আরব ও ইসলামের পথে ফিরে আসা, পবিত্রতা ও শুদ্ধতার পথে চলা।
পশ্চিমের নারী যা ইচ্ছা করুক, পুরুষরা তাদের নিয়ে যা খুশি করুক। আমাদের সঙ্গে পশ্চিমের নারীদের কী সম্পর্ক? আমাদের নারীরা হোক আল্লাহ যেমন চান আর আমরা যেমন চাই। আমরা হব শুধু তাদের জন্য। তাদের নিয়েই আমরা সন্তুষ্ট থাকব। পরনারীর দিকে আমরা তাকাব না।
আমাদের নারীরা যতদিন হিজাব আঁকড়ে থাকবে, নিজেদের শিষ্টাচার বজায় রাখবে, আরবীয় চরিত্র এবং ইসলামের বিধিবিধান জড়িয়ে থাকবে ততদিন পৃথিবীতে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নারী কেউ হবে না। এ উন্নত সমাজের ঐতিহ্য হল, আয়েশা রাযি., আসমা রাযি., খানছা রাযি., খাওলা রাযি., রাবেয়া রহ. এবং অগণিত জ্ঞানী গুণী ও সন্তান লালনপালনে পারঙ্গম নারীগণ। এমন দ্বীনদার, সম্ভ্রম সচেতন মায়েরাই জন্ম দিয়েছেন সেসব মহাপুরুষ যারা ছিলেন বীর যোদ্ধা, সুবক্তা, চিন্তানায়ক, দেশের সম্পদ। তারাই নেতৃত্ব দিয়েছেন পৃথিবীকে। আপনাদের মতো নারীরাই এসকল নেতৃস্থানীয় পুরুষদের গর্বিত জননী।
©somewhere in net ltd.