নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্যর পথে নির্ভীক!

সালমান সাদ

আমি একজন ভাল মানুষ হতে চাই। সমাজটাকেও ভাল বানাতে চাই।

সালমান সাদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুসলিম আতঙ্কবাদী!

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১১:৪৮

একটি জাতীয় দৈনিকের পাতায় একজন নির্বাসিত লেখিকা তার কলামে উল্লেখ করেছেন, মুসলমান একটি আতঙ্কিত জনগোষ্ঠীর নাম। ভারতে গরু জবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন ‘মাঝে মধ্যে আমার আশঙ্কা হয়, বিশ্বের মুসলিম আতঙ্কবাদীদের মতোই হয়ে উঠছে হিন্দু আতঙ্কবাদীরা। হতে না পারলেও চেষ্টা করছে। মুসলিম আতঙ্কবাদীরা সারা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’ এ বক্তব্য থেকে এমনটিই বোঝায় যে, পৃথিবীব্যাপী এখন মুসলমানই একমাত্র আতঙ্কবাদী জনগোষ্ঠী; কিন্তু লেখিকার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, বিশ্বজুড়ে এমন কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে যারা ইসলামের কাছে পরাজিত, এই লেখিকাও তাদের মতো একজন। এরা শঙ্কিত যে, আগামী বিশ্বের নেতৃত্ব আসবে মুসলমানদের হাতে। নেতৃত্ব হারানোর ভয়ে পশ্চিমারা ওঠেপড়ে লেগেছে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডায়।
পশ্চিমা স্বার্থান্বেষী গ্রুপগুলোও বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদের ব্যাপারে তারা পশ্চিমাদের ধাঁচেই গৎবাঁধা কথা বলতে থাকে। কোথাও কিছু ঘটলেই তারা দাড়ি-টুপিওয়ালা লোকজনকে ধরে এনে মিডিয়ার সামনে দাঁড় করিয়ে মুসলিম জঙ্গি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই কাজটি এখন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও গোটা পশ্চিমা সমাজে করা হচ্ছে। ইসলামে জঙ্গিবাদের যে স্থান নেই, তা পশ্চিমাদের থেকে আর কেউ ভালোভাবে বোঝে না। পশ্চিমারা এটাও জানে যে, তারা নিজেরা ইরাকে কিভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ফিলিস্তিনের মানুষকে কেমন করে পিষে মারার ব্যবস্থা করেছে; চেচনিয়ায় কিভাবে মুসলিমদের খুঁজে খুঁজে বের করে নিধন করা হয়েছে; বসনিয়ায় কারা রক্তের নহর বইয়ে দিয়েছে; আফগানিস্তানে কে জুলুম করেছে; কাশ্মিরের মুসলমান কাদের দ্বারা নিষ্পেষিত। আর এসব জানে বলেই তারা ইসলামি জঙ্গিবাদের কথামতো অপকৌশলকে বেছে নিয়েছে, যাতে বিশ্বের মুসলমানেরা ওই সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ হতে না পারে।
পশ্চিমারা ভালো করেই জানে, মুসলমানেরা ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিসর, ফিলিস্তিনে সংঘটিত অন্যায়ের বদলা একবার নিতে শুরু করলে তাদের আর বাঁচার পথ থাকবে না।
ইসলাম মানবতাবাদী ধর্ম। স্বয়ংসম্পূর্ণ এ ধর্ম অন্য কোনো ধর্মের ওপর জবরদস্তি বা অন্যায় হস্তক্ষেপ করে না। এ ধর্মের শিক্ষা মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণের শিক্ষা। আন্তঃধর্মীয় তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে মানবিকতা, ভারসাম্য ও সার্বিক কল্যাণের দিক দিয়ে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। পৃথিবীতে এখনো অনেক মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে যেখানে পরধর্মসহিষ্ণু পরিবেশ বিরাজ করছে। আর বাংলাদেশ ইসলামি রাষ্ট্রও নয় এবং এখানে কুরআন-হাদিসের কোনো আইনও নেই। শুধু ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ এই কথাটি লেখা আছে তা-ও আবার সংবিধানের পাতায়। এ রাষ্ট্র ঘটা করে ইসলাম ধর্ম পালন করেছে, তারও তো কোনো নজির নেই। এসবের পরও শুধু সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ লেখা থাকায় খুব বড় ধরনের দোষের কিছু কী হয়েছে?
শুধু বাংলাদেশের সংবিধানেই ‘রাষ্ট্রধর্ম’ উল্লেখ করা রয়েছেÑ এমন নয়। ৬০টির মতো দেশের সংবিধানে সেসব দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে। ওই সব দেশে সেটি নিয়ে সমস্যা না হলে বাংলাদেশের সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ লেখা থাকলে সমস্যা দেখা দেয় কিভাবে তা ভাবতে হবে। আসলে সমস্যা অন্য কোনোখানে নয়; অনেকের দৃষ্টিতে ‘সমস্যা’ শুধু ইসলামে।
তরুণদের জিজ্ঞেস করলে বলে, কী হবে দেশ নিয়ে ভেবে? তার চেয়ে খেলাধুলা নিয়ে চিন্তা করলে মনটা একটু হলেও আনন্দে থাকে। বাংলাদেশের যে অবস্থা, তাতে হতাশায় পথ চলা বন্ধ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত যুবকেরা এখন চারটি জিনিস নিয়ে মহাব্যস্ত থাকে। ১. ক্রিকেট ২. মাদক ৩. মোবাইল আর ৪.অস্ত্রবাজি বা খুনখারাবি। দেশের যুবসমাজকে এসবে ডুবিয়ে রেখে দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। এভাবে বেশি দিন চলতে থাকলে জাতি ধর্ম হারাবে, সম্মান হারাবে, ভবিষ্যৎ হারাবে, বাণিজ্য হারাবে, শিক্ষা হারাবে, যে আত্মসম্মানটুকু অবশিষ্ট আছে, সেটুকুও হারাবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.