নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সালমা রুহী

সালমা রুহী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফেলে আসা শৈশব

০৫ ই মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯


প্রযুক্তি আমাদের আশীর্বাদ স্বরুপ অনেক কিছু দিয়েছে, অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যাতিক্রম ও ঘটেছে।
যেমন, আমাদের কাছ থেকে, প্রিয়জনকে চিঠি লেখার সুযোগটা কেড়ে নিয়েছে।
টুং করে একটা শব্দ হতেই 'এসএমএস' আকারে চিঠি পোঁছে যায়, মোবাইলের ইমুতে বা ম্যাসেঞ্জারে..!
আজ এমন কাউকে চিঠি লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে, যার কাছে টুং করে চিঠি পৌঁছাবে না...

প্রিয় ফেলে আসা শৈশব,

তুমি কেমন আছো..?
দিন বদলের খেলায় তুমি শৈশব থেকে কৈশোর, যৌবন, বার্ধক্য এভাবে বদলাতে থাকো..!
তুমি যতই বদলা ও না কেন, "তুমি আমার মাঝে আজও আমার প্রিয় শৈশব হয়েই আছো, থাকবে।"
আমি যখনই সময় পাই, ফিরে যাই আমার শৈশবে, হাতড়ে খুঁজি আমার শৈশবের হারানো দিনগুলো, হারানো স্মৃতিগুলো।

আজও মনে পড়ে শৈশবের দূরান্তপনা, রোজ বিকেলে বান্ধবীদের সাথে মাঠে চলে যাওয়া কত ধরনের খেলা, "বউছি, গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা, কাঁনামাছি, আরও কত খেলা।"
বৃষ্টিতে ভেঁজা, কাগজের নৌকা বানানো, আমি তো ঘুড়িও উড়াতাম, ঘুড়ি কাটার জন্য কাঁচ বেটে সুতায় মাঞ্জা দিতাম, মার্বেল, ডাংগুলি, গাছে চড়া, পুকুরে সাতার..!
মায়ের কাছে বিচার যেতো, " আফনের মাইয়্যা পোলাপাইনের খেলা খেলে। "
তারপর ছেলেদের খেলার জন্য মায়ের হাতের পিটুনি, মা বলতেন, "তুই মেয়ে মেয়েদের খেলা খেলবি, ছেলেদের খেলা খেলিস কেনো..?
আমি তো তখন বুঝতাম না, ছেলেদের আর মেয়েদের খেলা আলাদা হয়।
ভাবতাম খেলা তো খেলাই, খেলার আবার ছেলে মেয়ে কি..?

পাশের বাসার বান্ধবীর ছেলে পুতুলের সাথে, ঘটা করে আমার মেয়ে পুতুলের বিয়ে দিতাম।
আবার মেয়ে বিদায়ের সময় কি কান্নার অভিনয়, যেনো সত্যিই বিয়ে দিয়ে মেয়েকে বিদায় দিচ্ছি।
আমার বাড়ির পাশের বস্তির কিছু গরীব বান্ধবীও ছিলো, তাদের সাথে খেলতে গেলেও মায়ের কাছে নালিশ যেতো।
আমি তো বুঝতাম বান্ধবী মানে বান্ধবী, গরীব-ধনী কি..?
ছেলেদের খেলা, মেয়েদের খেলা, গরীব বান্ধবী, ধনী বান্ধবী।
এখন বুঝি এইসব ভেদাভেদ মানুষের সৃষ্টি, আল্লাহতালার না...!

শৈশব তুমি তো জানো, "আমি যত দূরন্ত হইনা কেন, কারো গাছের কোন ফল কোনদিন চুরি করতাম না।
শুধু কুড়ানো বড়ই আর কুড়ানো কাঁঠালের মুজি দিয়ে সব বান্ধবীরা মিলে ভর্তা করতাম, সেই ভর্তা নদীর পারে বসে খেতে খেতে কখন যেন সন্ধ্যা হয়ে যেতো..!
ভয়ে ভয়ে ঘরে ঢুকলেই শুরু হতো মায়ের হাতের রিমান্ডের মাইর..।
মা বলতেন, "এতক্ষণে ঘরে ফিরার সময় হলো, আমি ভয়ে মরি, পানিতে পড়লি নাকি ছেলে ধরা নিয়ে গেলো..!"

শৈশব তোমাকে চিঠি লিখতে গিয়ে, "অজান্তেই ফিরে গেছি আমার শৈশবে, কখন যেনো চোখের কোনটা ভিজে গেছে।
" শৈশব তোমার স্মৃতি কখনো ভুলবো না, তোমার সাথে কাটানো আমার বয়সটা ওখানেই যদি থেমে যেতো...!"

ভালো থেকো, তোমাকে আজও খুব মিস করি.....
ইতি
"শৈশবকে মিস করা আমি"

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: শৈশব আমার দারুন আনন্দময় ছিল।

০৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:১৯

সালমা রুহী বলেছেন: আমারও শৈশব অনেক আনন্দময় ছিল..

২| ০৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:০৫

আফসানা মারিয়া বলেছেন: লাটিম, কলা পাতার ঘড়ি, মাংস চোর খেলা, মাটির পুতুল এসব আমাদের আনন্দ দিতো। শৈশব সব সময়ই মাসুম।




















০৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:২০

সালমা রুহী বলেছেন: আহা, শৈশব...!

৩| ০৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:০৯

হাবিব স্যার বলেছেন: মনে পড়ে শৈশবকে।

০৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:২১

সালমা রুহী বলেছেন: হুম, আমারও....

৪| ০৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:১৭

আফসানা মারিয়া বলেছেন: লাটিম, কলা পাতার ঘড়ি, মাংস চোর খেলা, মাটির পুতুল এসব আমাদের আনন্দ দিতো। শৈশব সব সময়ই মাসুম।

৫| ০৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৪১

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: সুন্দর আবেগ আর সেই আবেগ থেকে সুন্দর কথামালা।

০৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:২৩

সালমা রুহী বলেছেন: ধন্যবাদ, "শৈশব মনে পড়লে আজও চোখের কোন ভিজে যায়....! "

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.