নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময়ের সাথে চলি, সময়ের কথা বলি।

সমালোচনা অপছন্দ করি না। ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করি। গঠনমুলক সমালোচনাকে ভালবাসি।

সময়ের কন্ঠ

সত্য বলা পছন্দ করি। অন্যের কাছ থেকে শিখতে চাই। ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করি।

সময়ের কন্ঠ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইমাম বুখারি কি বললেন আর গবেষনায় কি প্রমাণ হলো?

১৫ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ইমাম বুখারী নাকি ১০০০ শিক্ষকের তত্বাবধানে থেকে ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ৬ লক্ষ হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করেছেন , যার ভিতরে ১ লক্ষের ও বেশি হাদীস তার মুখস্ত ছিল। তিনি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করার কাজটি অতি সতর্কতার সাথে করেছিলেন। তিনি ৯৯% হাদীস বাদ দিয়ে মাত্র ৭ হাজারের মতো হাদীসকে সহীহ আখ্যা দিয়ে তার গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। তার এই অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য মুসলিম উম্মাহ ৫ লক্ষ ৯৩হাজার মিথ্যা হাদীসের প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে , এ জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার।
তিনি যে কত সতর্ক ছিলেন এবং কি পরিমান কষ্ট স্বীকার করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি নিজে প্রতিটি হাদীসের বর্ননাকারীর বাড়িতে গিয়ে খোজ নিয়েছেন , বর্ননাকারী মদ খেতো কিনা , জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেছে কিনা , তার চরিত্র কেমন , স্মরনশক্তি কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি। এর কোন কিছুতে এতটুকু ব্যাত্যয় পেলেই তিনি সেই হাদীস ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এই সকল বর্ননাকারী আবার আরবের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। প্রতিটি বর্ননাকারীর বাড়িতে যাওয়া এত সহজ ছিল না। তখনকার দিনে প্রাইভেট প্লেন বা পাজেরো বা road sign দেয়া রাজপথ ছিল না যে নিমেশেই তিনি পৌছে যাবেন। ফলে তাকে শত শত মাইল উট বা ঘোড়ার পিঠে করে যেতে হয়েছে। সঙ্গে নিতে হয়েছে রসদ , রাস্তার গাইড , চোর দস্যু মোকাবেলার জন্য পাইক বরকন্দাজ আরো কত কি। হয়তো বা দেখা গেছে একজনের বাড়িতে যেয়ে ফিরে আসতেই বছর শেষ। ছিল না টেলিফোন, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা অন্য কোন প্রযুক্তি।
বুখারী হয়তো করিৎকর্মা লোক ছিলেন , তার এতো সময় নাও লাগতে পারে। ধরে নিলাম প্রতিটি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও মুখস্ত করতে তার মাত্র ১ ঘন্টা সময় লেগেছে। এই হিসাবে দিনে ২৪ ঘন্টা ঘুম খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে তিনি এক নাগাড়ে কাজ করলেও ৬৮ বছর লাগার কথা। তারপরেও না হয় প্রতিটি সহীহ হাদীস (৭০০০) লিপিবদ্ধ করার পরে তার ওজু করে ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়ার কথা বাদই দিলাম। অখচ তার আয়ুষ্কালই ছিল ৬২ বছর।
সত্যটা বের করতে পারলেন? কাগজ কলম এবং ক্যালকুটার নিয়ে বসলে এই গবেষনাটা আপনি নিজেও করতে পারবেন।

এবার আসুন বুখারীর বিচার বুদ্ধি নিয়ে সহজেই প্রশ্ন তোলা যায় এমন অগুনিত হাদীসের মাঝ থেকে মাত্র একটা নিয়ে আলোচনা করা যাক। বুখারী, বুক ৫৮, হাদীস ১৮৮ (বাংলায় হাদিস নং ৩৫৭০)
Narrated 'Amr bin Maimun: During the pre-lslamic period of ignorance I saw a she-monkey surrounded by a number of monkeys. They were all stoning it, because it had committed illegal sexual intercourse. I too, stoned it along with them.

৩৫৭০। নুয়া’ঈম ইবনু হাম্মদ (রহঃ) ... আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাহিলিয়াতের যুগে দেখেছি, একটি বানর ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে অনেকগুলো বানর একত্রিত হয়ে প্রস্তর নিক্ষেপে তাকে হত্যা করল। আমিও তাদের সাথে প্রস্তর নিক্ষেপ করলাম।’’
জিনার কারণে পাথর মেরে হত্যার ব্যাপারে মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারে বলেই কি বুখারী বানরের এই অবিশ্বাস্য হাদীসটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন? এই ঘটনা যে সত্য নয় তা সহজেই অনুমেয় তবু আলোচনার খাতিরে ধরে নিলাম যে এটা সত্য, সেক্ষেত্রে বানরের এই ঘটনা যার সাথে নবীর কোন সম্পর্কই নাই এমনকি যা ইসলামের আগের যুগের ঘটনা তা হাদীসের বইতে ঢুকানোর অর্থ কি? আর বানর দিয়ে আল্লাহ জিনার শাস্তির ডেমনস্ট্রেশন দেখালেন অথচ নবীর সারাটা জীবন চলে গেল একটা কোরানের আয়াত নাজিল করলেন না, করলেন এমন অন্তিম সময়ে যার পরপরই নবী মারা গেলেন, আর সেই সাথে সেই আয়াতও ছাগলে খেয়ে ফেলল!

মহান আল্লাহপাক বুখারি গং-এর মিথ্যাচার থেকে আমাদের হেফাজত করুন। বিশ্বে কোরআনের রাজ কায়েম হোক। মিথ্যা দুরীভূত হোক, সত্য উদ্ভাসিত হোক।

মন্তব্য ২৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০৬

আমি সাজিদ বলেছেন: কোরআন ও তার তাফসীর ছেড়ে মুসলমানরা যেদিন হাদীস নিয়ে বেশী মাতামাতি শুরু করলো, সেদিন থেকেই তাদের মধ্যে ঝামেলা শুরু। আপনার লজিক সঠিক। যে হিসেব দিয়েছেন তাতে বোঝাই যায়, বুখারী সাহেবের লোকেরা অতিরঞ্জিত বলেছেন।

২| ১৫ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৫

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:


সেই সময় টেপ রেকর্ডার থাকলে ভালো হতে পারতো।

৩| ১৫ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৯

কামাল১৮ বলেছেন: ইসলামে অনেক পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা আছে।রিফর্মের দরকার আছে।

৪| ১৫ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫১

জগতারন বলেছেন:
লম্পট মোয়াবিয়া যে দিন মক্কা ও মদিনার ক্ষমতা কূট-চাল করে দখল করেছে।
সে থেকেই মুসলমান'রা ইসলামের সহজ-সরল পথ হারিয়েছে।

৫| ১৫ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫২

নতুন বলেছেন: হক মাওলা বলে কিছু বয়ান করলেই অনেকে সেটা সঠিক বলে বিশ্বাস করে। সেই থেকেই এমন অনেক আজিব কিছু বিশ্বাসের প্রচলন হয়েছে সমাজে।

৬| ১৫ ই মে, ২০২১ রাত ৮:১৯

মোস্তাফিজুর রহমান জাকির বলেছেন: হাদিস জয়ীফ ( দুর্বল ) আছে , সহিহ ও আছে । যেই হাদিস একাধারে বুখারি ও মুসলিম শরিফে উল্লেখিত আছে সেগুলো অধিকতর গ্রহণযোগ্য ।

৭| ১৫ ই মে, ২০২১ রাত ১১:৫৬

রাজীব নুর বলেছেন: ইউ রাইট ম্যান।

৮| ১৬ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:৫১

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: যে হাদিসটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটা একজন সাহাবী/ তাবেঈনের উক্তি। এই ধরণের হাদিসকে ‘মাওকুফ’ হাদিস বলে ( যখন হাদিসটিতে সাহাবীর নিজের কথা বর্ণিত হয়। এটি রসুল (সা) এর মুখ নিঃসৃত কথা নয়।)। অথবা ‘মাক্তু’ হাদিস বলে( যখন হাদিসটি তাবেঈনের নিজের কথা বর্ণিত হয়। এটি রসুল (সা) এর মুখ নিঃসৃত কথা নয়।)। অনেকে হয়তো ভাববেন যে আমরা তো জানি হাদিস মানেই রসূলের কথা। আসলে হাদিস বিশারদদের সংজ্ঞা অনুসারে সাহাবী ও তাবেঈনদের কথা/ বক্তব্যও কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হাদিস বা আতার (Report- তাবেঈনের ক্ষেত্রে ) হিসাবে গণ্য করা হয় যদি বর্ণনাটি দলিল ভিত্তিক হয়। তবে হাদিস বইয়ে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নোট দেয়া হয় যেন পাঠক বিভ্রান্ত না হন।

মাউকুফ হাদিসের (সাহাবীর উক্তি) উদাহরণ;
হজরত আলীর (রা) উক্তি “ যাকে তুমি ভালোবাসো তাকে ভালোবাসো তবে মাত্রাতিরিক্তভাবে ভালোবেসো না কারণ একদিন সে তোমার ঘ্রিনার পাত্র হয়ে যেতে পারে। একইভাবে যাকে তুমি ঘৃণা করো তাকে এমন ঘৃণা করবে না যেন তা মাত্রাতিরিক্ত হয় কারণ একদিন সে তোমার ভালবাসার পাত্র হয়ে যেতে পারে।“ ( আল বুখারি আল আদাব আল মুফরাদ – ৪৪৭ )

উপরের হাদিসটি বুখারির সহি হাদিস কিন্তু এটি রসুলের (সা) বাণী নয়। এটি হজরত আলীর (রা) উক্তি।

মাক্তু হাদিসের ( তাবেঈর উক্তি) উদাহরণ;
তাবেঈ মাসরুক ইবনে আল আজদা বলেন “কোন ব্যক্তি কর্তৃক আল্লাহকে ভয় করার কারণ হোল তার ইলম (জ্ঞান) এবং কোন ব্যক্তি কর্তৃক নিজের কর্মের প্রতি উঁচু ধারণার কারণ হোল তার অজ্ঞতা।“ ( বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে এসেছে)

হাদিস বিশারদরা হাদিসকে বিভিন্নভাবে শ্রেণী বিন্যাস করেছেন।

হাদিসের উৎস ( মূল বর্ণনাকারী) অনুযায়ী –
১। হাদিস কুদসি – আল্লাহর বাণী যা রসুল (সা) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে।
২। মারফু হাদিস – রসুলের (সা) বাণী
৩। মাউকুফ হাদিস - সাহাবীর উক্তি
৪। মাক্তু হাদিস - তাবেঈর উক্তি

ইসনাদ ( হাদিসের ধারা পরম্পরায় সনদ বর্ণনাকে ইসনাদ বলে ) অনুযায়ী হাদিসের শ্রেণী বিভাগ –
১। মুতাওয়াতির হাদিস – যে হাদিস একাধিক ইসনাদ দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।
২। আহাদ বা ঘারিব হাদিস – যে হাদিস শুধু একটি ইসনাদের দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের বিশুদ্ধতা অনুযায়ী হাদিসের শ্রেণী বিভাগ –
১। মাকবুল হাদিস ( গ্রহণযোগ্য) – এটিকে আবার দুইটি ভাগ করা হয়েছে।
অ) সহি হাদিস
আ) হাসান হাদিস
২। মারদুদ ( অগ্রহণযোগ্য) হাদিস- এটাকে আবার দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে
অ) দাইফ ( দুর্বল)
আ) মাউদু (জাল)

যে হাদিস নিয়ে বিতর্ক চলছে এটি একজন তাবেঈন কর্তৃক বর্ণিত তার নিজের জীবনের একটা অভিজ্ঞতার বর্ণনা। এই বর্ণনাটি বুখারি শরীফের যে অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে সেটার নাম ‘আনসারদের মুনাকিব ( Merit)’। এই অধ্যায়ের হাদিসগুলিতে আনসারদের ( মদিনার স্থানীয় মুসলমান) ক্রিয়া কর্ম, বৈশিষ্ট্য, গুনাগুন ইত্যাদি ব্যাপারে বর্ণনা আছে। বর্ণনাকারী তার কিছু অজ্ঞানতা প্রসুত কাজের বর্ণনা দিয়েছেন এই হাদিসে। কারণ তখনও ইসলামের আলো তার কাছে পৌছায় নাই। ফলে ঐ সময় একটা অনর্থক কাজ তিনি করেছেন ( যা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে)। এই হাদিসের উদ্দেশ্য হোল যে ঐ সময় ( ইসলাম আসার আগে) তারা অনেক অজ্ঞানতা প্রসুত ( জাহিলি) কাজ করতো। ঐ সময়ের আনসারদের অবস্থা বর্ণনার জন্য হাদিসটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এটার সাথে জিনার শাস্তির কোন সম্পর্ক নাই।

আপনার কথা মত যদি ছাগল কোরানের আয়াত খেয়ে ফেলে তাতে কোরানের কোন সমস্যা হবে না। কারণ শুধু কিছু আয়াত না যদি পুরা কোরআনও ছাগলে খেয়ে ফেলত তবুও কোন সমস্যা হতো না। কারণ তখন বহু সাহাবী কোরআন তাৎক্ষনিকভাবে মুখস্ত করতেন এবং তারা হাফেজ ছিলেন। শুরু থেকেই কোরআন প্রথমে মুখস্ত করা হতো এবং তারপর লিখা হোত।

রসূলের (সা) কথাতেই অনেক ইসলামী আদেশ নিষেধ প্রয়োগ করা হয়। সব কিছু কোরআনে থাকে জরুরী না। এমন অনেক কিছু
ফরজ বা ওয়াজিব হয়েছে যেগুলির কথা কোরআনে নাই।

ইমাম বুখারি আপনার বা আমার মত মানুষ ছিলেন না। তিনি যে অত্যধিক প্রখর মেধাবী একজন মানুষ ছিলেন এটা ইতিহাসে লেখা আছে। আপনার আমার পক্ষে এতো হাদিস মুখস্ত করা সম্ভব হতো না। তার মেধা আল্লাহর একটা বিশেষ নেয়ামত। ওনার পিতাও হাদিস বিশারদ ছিলেন। হাদিস নিয়ে ওনার আগেও কাজ হয়েছে। উনি সেগুলির উপর কাজ করেছেন এবং সংকলিত করেছেন। উনি যে শুধু ভ্রমণ করেছেন এমন না। অনেক হাদিস বর্ণনাকারী ওনার সাথে সাক্ষাত করেছেন। তাই সময়ের হিসাব আমাদের কাছে গোলমেলে মনে হতে পারে। মোট জাল হাদিসের সংখ্যা ( ৬ লাখ বা যাই হোক) নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। এটা কতটা সঠিক তথ্য আমি জানি না। তবে মূল ব্যাপার হোল যেগুলিকে উনি সহি বলেছেন সেই হাদিসগুলি নিয়ে আরও অনেকে কাজ করেছেন এবং কোন ভুল পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। বুখারির অনেক হাদিস অন্যান্য হাদিসের বইয়েও আছে।

৯| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১২:২৬

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: @সাড়ে চুয়াত্তরঃ

আল্লাহ তালা বলেন, مَا فَرَّطْنَا فِيْ الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ‘ আমি এই কিতাবে (কুরআনে) কোন বিষয়ই লিপিবদ্ধ করতে ছাড়িনি’ (আন‘আম ৬/৩৮)।

আর আমরা তোমার উপরে প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি’ (নাহল ১৬/৮৯)।

আর আপনি বললেন, এমন অনেক কিছু ফরজ বা ওয়াজিব হয়েছে যেগুলির কথা কোরআনে নাই।

এখন তো তাহলে আমার ডাক ছেড়ে কাদা উচিত, নাকি বলেন?


১০| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১২:২৭

এ আর ১৫ বলেছেন: জনাব সাড়ে চুয়াত্তর
একটা কথার জবাব দিবেন কি? এই হাদিসটা কেন হাদিস গ্রন্থে যোগ করা হয়েছে?
বাদরদের ভিতর কোন বিবাহ বন্ধন হয় কি? বাদররা পাথর মেরে অন্য বাদরকে হত্যা করে কি? তিনি কি বাদরের ভাষা জানেন যে তাকে বাদরেরা বোলেছে ব্যভিচারের কারনে ঐ বাদরি কে মারা হচ্ছে।
এই ধরনের অবাস্তব ঘটনা কি করে হাদিস গ্রন্থে স্থান পায়?

১১| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১:৪৪

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: @সাড়ে চুয়াত্তরঃ
আল্লাহ তালা বলেন, مَا فَرَّطْنَا فِيْ الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ‘ আমি এই কিতাবে (কুরআনে) কোন বিষয়ই লিপিবদ্ধ করতে ছাড়িনি’ (আন‘আম ৬/৩৮)।
আর আমরা তোমার উপরে প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি’ (নাহল ১৬/৮৯)। আর আপনি বললেন, এমন অনেক কিছু ফরজ বা ওয়াজিব হয়েছে যেগুলির কথা কোরআনে নাই।
সহমত।


মহানবী ( সা : ) এর ওফাতের পর চার খলিফার কেহই হাদিস নিয়ে বাড়াবাড়ির প্রয়োজন অনুভব করেন নাই কেন? এর বিভিন্ন কারণ হতে পারে, যেমন এর কোনো প্রয়োজনীয়তাই নেই অথবা এই হাদিস নিয়ে মুসলিম বিশ্ব কখনোই একমত হতে পারবে না।
মুসলিম বিশ্বের সকল প্রকার দ্বন্ধ, সংঘাত, দল-উপদল, সব কিছুর মূলেই আছে হাদিস নিয়ে একমত হওয়ার অভাবে।

ইসলামের শ্রেষ্ট চার খলিফার সময় না করে তার কয়েকশত বৎসর পরে হাদিস সংকলন নিয়ে মাতামাতির পিছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই তা কি কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন?

১২| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ১২:০৯

নীল আকাশ বলেছেন: এবার আসুন বুখারীর বিচার বুদ্ধি নিয়ে সহজেই প্রশ্ন তোলা যায় এমন অগুনিত হাদীসের মাঝ থেকে মাত্র একটা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
আপনি আরেকটা হাদিস এই ধরনের উল্লেখ করুন। অগুনিত করার দরকার নেই।

১৩| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:৩৮

নতুন বলেছেন: ধার্মিকরা অলৌকিকতায় বিশ্বাসী তাই তারা সব সময় সুপারম্যান পছন্দ করে।

হাদিস নিয়ে বাড়াবাড়ী রিজনিতিক এবং একটা গোস্ঠিকে সমর্থন দিতেই করা হয়েছে।

ধর্মকে রাজনিতিক ভাবে সব সময়ই ব্যবহার করা হয়েছে। এটাও তারই অংশ মাত্র।

১৪| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ২:৩৫

রানার ব্লগ বলেছেন: ফরজ বা ওয়াজিব হয়েছে যেগুলির কথা কোরআনে নাই।

চুয়াত্তর ভাই তাহলে কি কিছু কিছু ফরজ বা ওয়াজিব নবী মুহাম্মদের মন গড়া এটাই কি বললেন ?

১৫| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১১:২২

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: @ এ আর ১৫- ঐ তাবেঈন এবং সমসাময়িক লোকেরা বিধর্মী থাকা অবস্থায় কি ধরণের অদ্ভুদ মন মানসিকতা পোষণ করতো এটা প্রকাশ করার জন্যই এই হাদিস লিপিবদ্ধ হয়েছে। হাদিসেই বলা আছে যে তিনি তখন জাহিলাত অবস্থায় ছিলেন কারণ তিনি তখনও মুসলমান হন নাই। এই বর্ণনাটি বুখারি শরীফের যে অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে সেটার নাম ‘আনসারদের মুনাকিব ( Merit)’। এই অধ্যায়ের হাদিসগুলিতে আনসারদের ( মদিনার স্থানীয় মুসলমান) ক্রিয়া কর্ম, বৈশিষ্ট্য, দোষ, গুণ ইত্যাদি ব্যাপারে বর্ণনা আছে। বর্ণনাকারী তার কিছু অজ্ঞানতা প্রসুত কাজের বর্ণনা দিয়েছেন এই হাদিসে। কারণ তখনও ইসলামের আলো তার কাছে পৌছায় নাই। ফলে ঐ সময় একটা অনর্থক কাজ তিনি করেছেন ( যা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে)। এই হাদিসের উদ্দেশ্য হোল যে ঐ সময় ( ইসলাম আসার আগে) তারা অনেক অজ্ঞানতা প্রসুত ( জাহিলি) কাজ করতো। ঐ সময়ের আনসারদের অবস্থা বর্ণনার জন্য হাদিসটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এটার সাথে জিনার শাস্তির কোন সম্পর্ক নাই।

ইসলাম গ্রহণের আগে আনসারদের দোষ, গুণ ইত্যাদি কেমন ছিল সেই বিষয়ে এই অধ্যায়ে ১৭৩ টি হাদিস আছে। হাদিসগুলি দেয়ার উদ্দেশ্য মানুষ যেন জাহিলি যুগ আর ইসলামের আলোকিত যুগের পার্থক্য করতে পারে। বুখারি শরীফের এই অধ্যায়ের আরেকটি হাদিস উদাহরণ হিসাবে দিলাম।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগের কাজের মধ্যে একটি হলঃ কারো বংশ-কুল নিয়ে খুঁটা দেয়া, কারো মৃত্যুতে বিলাপ করা। তৃতীয়টি (রাবী ‘উবাইদুল্লাহ) ভুলে গেছেন। তবে সুফিয়ান (রহ.) বলেন, তৃতীয় কাজটি হল, তারকার সাহায্যে বৃষ্টি চাওয়া। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৬৮)

১৬| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১১:২৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: @ কাল্পনিক ভালোবাসা- আপনার মন্তব্যে মনে হচ্ছে যে তাহলে আর হাদিসের দরকার নাই, কারণ কোরআনে সব কিছু স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। কেন হাদিসের দরকার আছে এবং কিভাবে রসূলের আদেশে ওয়াজিব বা ফরজ হয় সেই ব্যাপারে আমি আগামীকাল একটা পোস্ট দেব ইনশাল্লাহ। শুধু একটু ক্লু দেই। আমরা ঈদের যে ফেতরা দেই এটা কোরআনের কোথায় বলা আছে। ফেতরা তো ফরয বা ওয়াজিব। হজের ফরজগুলির বর্ণনা কোরআনের কোথায় আছে। বিস্তারিত আমি আমার পোস্টে বর্ণনা করবো।

১৭| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১১:৩৭

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: @ স্বামী বিশুদ্ধানন্দ- ইসলামে মূল আকিদা গত পার্থক্য ছাড়া অন্যান্য অনেক বিষয়ে একাধিক মতামত থাকলেও কোন সমস্যা নেই। এই কারনেই ৪ মাজহাবের অনুসারি একই বিষয়ে ৪ পথ অবলম্বন করলেও ৪ টাই গ্রহণযোগ্য। যার যেটাকে বেশী যৌক্তিক মনে সে সেটা পালন করবে। যত দলাদলি দেখেন তার বেশীর ভাগই এমন বিষয় নিয়ে যেগুলি মুখ্য কোন বিষয় না। যেমন তারাবির নামাজ কয় রাকাত, নামাজে হাত বুকে বাধবেন না পেটে বাধবেন ইত্যাদি। একাধিক মত সমস্যা না। সমস্যা পরস্পরের প্রতি সহনশীলতার অভাব। কোরআনের অনেক বিষয়ের ব্যাখ্যা নিয়েও একাধিক মত আছে। তাই হাদিসকে দোষ দিয়ে কোন লাভ নাই। হাদিস যদি নাও থাকত তবুও মুসলমানরা দলাদলি করতো কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে।

১৮| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১১:৪৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: @ রানার ব্লগ - ফরয বা ওয়াজিব হতে হলে কোরআনে থাকতে হবে এটা কোথায় পেয়েছেন। আপনি পারলে এই কথা প্রমান করেন কোরআন আর হাদিসের আলোকে। ঈদে যে ফেতরা দেন তার কথা কোরআনের কোথায় আছে? রসুল যে আদেশ দেন সেটা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই তার আদেশ আর আল্লাহর আদেশ একই। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য নিজেদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৬)

আল্লাহর আদেশ আর রসূলের আদেশ একই জিনিস। জিব্রাইল ফেরেশতা কোরআনের অহি ছাড়াও বিভিন্ন সময় রসুল (সা) কাছে আসতেন তাকে বিভিন্ন বিষয় আল্লাহর নির্দেশে রসুলকে (সা) অবগত করার জন্য। প্রতি বছর রমজানে জিব্রাইল (আ) আসতেন রসূলের (সা) কোরআন পাঠের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য। সাহাবীদের সামনেও জিব্রাইল (আ) মানুষের আকৃতিতে এসে রসুলকে ( সা) দ্বীন শিক্ষা দিয়েছেন আল্লাহর নির্দেশে। তাই রসুল ধর্মীয় ব্যাপারে কখনও মন গড়া কথা বলতেন না।

‘আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩-৪)

১৯| ১৮ ই মে, ২০২১ রাত ২:০৬

এভো বলেছেন: সাড়ে চুয়াত্তর কমেন্ট নং ১৫

ভাই গাজাখরি কাহিনী নিয়ে থাকা এখন অনেক আছে, এমন কি মুসলমানদের ভিতর প্রচুর আছে। তাই বলে ঐ সব গাজাখরি কাহিনী হাদিসের ভিতরে স্থান পাবে, এটাকে মানা যায় না।
আমাদের ওয়াজ মহফিলে হুজুররা বহু গাজাখরি কথা বলে, ইসলাম আসার আগে যেমন এগুলো ছিল, এখন আছে এবং মুসলমানদের ভিতরে ও আছে। আপনার ব্যাখা ধোপে টিকে না যে ইসলাম আসার আগে তাবেঈণরা যে উদ্ভট কাহিনী বিশ্বাস করতো ইত্যাদি। এখন মুসলমানরা অনেক গাজাখরি কাহিনী মানে, সাইদীকে চাদে দেখে।
এই কাহিনী কেন হাদিসের বইতে স্থান পাবে এবং হাদিসকে প্রশ্ন বিদ্ধ করবে।

২০| ১৮ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:২১

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: @ এভো - আমার ১৫ নম্বর মন্তব্য দেখেন। জাহিলিয়াত যুগে মদিনার লোকেরা কি ধরণের কু সংস্কারে বিশ্বাস করতো এটা প্রকাশ করার জন্যই এই হাদিস লিখিত হয়েছে। এই ধরণের কুসংস্কার সম্পর্কে জানানোর উদ্দেশ্য হোল যে অন্ধকার যুগ আর ইসলামের কি পার্থক্য তা যেন মানুষ অনুধাবন করে। এই কারনেই এই ধরণের হাদিস কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসগুলি পড়ার আগে জানতে হবে কার দ্বারা, কেন এবং কি উদ্দেশ্যে এই হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। যে পাঠক তার হাদিস বোঝার নুন্নতম জ্ঞান থাকা আবশ্যক। সেই জ্ঞান না থাকলে হাদিসকে সে গাঁজাখুরি বলতে পারে। এই দোষ হাদিসের না বরং অপর্যাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী পাঠকের।

২১| ১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:৪৪

এভো বলেছেন: কমেন্ট ২০, জনাব সাড়ে চুয়াত্তর
মুসলমানদের ভিতর অনেক কুসংস্কার আছে এবং জাহিলিয়াত যুগেও ছিল, তাহোলে পার্থক্য কি? এই সমস্ত কোন যুক্তিই গাজাখরি গল্পকে হাদিস গ্রন্থে যুক্ত করার বাহানা হতে পারে না।

২২| ১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৪:২১

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: @সাড়ে চুয়াত্তরঃ আপনার কথা সত্য হলে তো কোরান ভুল হয়ে যায়, আল্লাহর কথা ভুল হয়ে যায়।

এখন ব্যাখ্য আপনিই দেন।

২৩| ১৮ ই মে, ২০২১ রাত ১১:১৮

ঈশ্বরকণা বলেছেন: কাল্পনিক_ভালোবাসা,
আমিতো বুঝতে পারছি না এই অপ্রয়োজনীয় লেখাটাতে আপনি এই মন্তব্য দুটো করলেন কেন ? কোনোই দরকার ছিল না এই মন্তব্য দুটো করে ইসলামেরে বিরুদ্ধে বিষাদগার করা এই ব্লগারকে রিফুয়েলিং করার । ।সবচেয়ে সহজ যেই কাজটা আপনি করতে পারতেন সেটা হলো ইসলামের খুবই মৌলিক একটা বিষয় যাতে মেইনস্ট্রিম ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে হাজার বছরের বেশি সময় ধরে ঐক্য আছে , হাদিসের গুরুত্ব দিতে হবে, সেটার বিরুদ্ধে এই নোংরা লেখার জন্য এই ব্লগারকে পার্মানেন্টলি ব্যান করে দেয়া (এই ব্লগার এর আগেও ইসলাম নিয়ে নোংরা পোস্ট করেছে)। সেটা না করে অযথা আপনার করা মন্তব্য দুটো দেখে খুবই দুঃখিত হলাম । ও আরেকটা কথা, ব্লগ কর্তৃপক্ষ কি ব্লগটা বাঁচিয়ে রাখতে চাইছেন না ? যদি চান তাহলে এই ধরণের লেখাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন । এর আর ১৫-এর আজকের লেখাটার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিন দয়া করে । আর ইসলামের বিরুদ্ধে না জেনে, না পড়াশোনা করে বিষাদগার করছে যে ব্লগারগুলো তাদেরও একটু করা ওয়ার্নিং দিন। নইলে ব্লগ কিন্তু বন্ধ হবার আশংকার রেড জোনেই থেকে যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.