নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন অস্থির মানুষ। বৈপরীত্যকে লালন করি নিজের ভিতরে । সময়ের ধুলোবালি দৃষ্টিকে ঝাপসা করে- তবু চোখ মেলে চেয়ে থাকি নির্বিকার। অন্তরাত্মা চিতকার করে তবু শান্ত ভাবে হেঁটে চলি -যেন অন্যকারো চলা । উচ্চারিত কথামালা-সে ও যেন অন্য কারো বলা।

সেজুতি_শিপু

লেখালেখি করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু মাথার ভিতর তাগিদ অনুভব করি।কত কী দেখছি চারপাশে, কত কত অনুভব ইচ্ছে করে রেখে দেই শব্দ মালা গেথে।

সেজুতি_শিপু › বিস্তারিত পোস্টঃ

তোমার সীমানা জ্বালাও

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৫


——————————
নুসরাত, প্রিয়াংকা রেড্ডী ..........এবং সকল নারী
———-

তুমি পোষাক পড়বে সেভাবেই যেন
ততটাই দেখা যায় , যতটা দেখলে
দৃকমাত্র লালাঝরা লোলুপের লালা থাকে সংযত ,
যদিও তোমার ছায়াতেও তার লালশার লালা ঝরে!
ঘুরবে ফিরবে- সীমার মধ্যে, মাথার ওপরে আকাশ যেন না টানে।
স্রষ্টার আকাশ তোমার জন্যে নয়।
যেখানেই যাও, বেলাবেলি ঘরে ফিরো -
নির্জন পথ পাশে পড়ে থাক, ভীড়টাও এড়াতে হবে,
তোমার জন্যে গৃহকোনই ভালো , যদিও এখন
বাহির যুদ্ধে নড়বড়ে হাতে বাড়তি শক্তি লাগে-
এবং গৃহকোনও কোনো শ্বাপদমুক্ত অভয়াভন্য নয়।
তুমি কোন কথা বলবে না । কখনওই নয়।
কখনও বলবে গা ঘেসে দাঁড়াবেন না,
না, কোন অভিযোগ নয়- রুখে দাড়ানোও নয়
শ্লীলতাহানি তো তোমার প্রাপ্য, ধর্ষণ, মৃত্যুও-
চিঁ- চিঁ করেও কোন প্রতিবাদ তোমার জন্য মানা।

চুপচাপ থাকবে এবং জানবে, এই তো ঢের বেশী
তুমি নি:শ্বাস নিচ্ছ , খাচ্ছ - দাচ্ছ, চলছ- ফিরছ-
কখনও সখনও হোচ্ছ দৃশ্যমান ।
তোমার তো টুঁ- শব্দটি করার কথা নয়!
বিস্তর পরিশ্রম করে করে
এই সভ্যতার বিকট জঙ্গলবাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে ।
সেখানে তুমি সেচন করবে সকাল বিকাল
আড়ালে থেকে পুষ্ট করবে, তুষ্ট করবে।
সেজন্যে, তোমাকে যখন-যেভাবে-যেখানে থাকতে বলা হবে -
তুমি তাই থাকবে ।
সে বলবে, টানটান বিছানার চাদর দিয়ে ঢাকা পালংক হয়ে থাক-
তুমি তাই থাকবে ।
সে বলবে, রাস্তার মোড়ে সুদৃশ্য ভাস্কর্য হয়ে দাঁড়াও-
তুমি তাই দাঁড়াবে ।
সে বলবে নর্তকী হও -
তুমি দেহের তন্ত্রে তন্ত্রে নৃত্যের মুদ্রা ফুটিয়ে তুলবে।
আবার,
সে বলবে, তুমি নরকের দরজা, তুমি পাপ,
তুমি তেঁতুল, তুমি অন্ধকার, তুমি দূর হও।
তুমি ক্রমশ: অন্ধকারে নিজেকে মুড়ে নিয়ে অদৃশ্য হতে হতে
এক কোনে কোনমতে অদৃশ্যমান হয়ে থাকবে
একপ্রস্থ মাংসের সমাহার বৈ কিছু নও তো তুমি!

অলঙ্ঘনীয় অন্ধকারে পুড়তে পুড়তেই তুমি
তাকে নির্মাণ করছ -নিজের শক্তিকে রূপান্তর করে,
তিল তিল শ্রম আর মমতা দিয়ে তাকে পুষ্ট করছ।
তার সকল ক্ষোভ, বিক্ষোভ, আগুন, হিংস্রতা, লালসা, আর
বিকৃতির অবমুক্তির ভাগাড় হয়ে তাকে ধারন করছ। তুমি সর্বংসহা ।
তাকে বয়ে নিয়ে গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছ এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে,
এক সময় থেকে আরেক সময়ে ।
বস্তুত: সে প্রবল অস্তিত্বমান ও পরাক্রমশালী হয় তোমার জন্যে-
কেবল, তুমি জানছ না - জেনেও।


তুমি শুধু জান, তুমি কেউ নও, তোমার কিছু নয়,
তোমার জন্যে কিছু নয় ।
তোমার কেবলই ঝরে যাবার কথা ,
পুড়ে যাবার কথা- মরে যাবার কথা-
পুড়তে পুড়তে তোমার সকাল গিয়েছে -পুড়তে পুড়তে দুপুর
পুড়তে পুড়তে এতদূর এলে -
আরও কত পোড়া বাকী?
ক্লান্তি কি এল, ক্লান্তি আসে কি- পুড়তে পুড়তে ? অবসাদ- ঘেন্নাও?
ক্রোধের আগুন জ্বলে না কখনও?
কোন একদিন ক্লান্তি-ঘেন্না-ক্রোধ ঘনীভূত হলে পড়ে-
দগ্ধ শরীর মশাল উচিয়ে ধরে
জ্বলন্ত বেগে গলা ছেড়ে ডাক দিও
অনেক তো হ’ল- এবার একটি দাবানল গড়ি চল।
————————-

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৪৭

রাজীব নুর বলেছেন: দারুন সুন্দর পদ্য।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩৩

সেজুতি_শিপু বলেছেন: ধন্যবাদ।

২| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০৪

বিজন রয় বলেছেন: অনেক ভাল, অনেক মুগ্ধতা!

এমন লিখতে পারলে আমি সুখ পেতাম।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩৪

সেজুতি_শিপু বলেছেন: ধন্যবাদ। এমন লিখতে না হলে আমি সুখ পেতাম।

৩| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১৫

নার্গিস জামান বলেছেন: খুব সুন্দর :)

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩৪

সেজুতি_শিপু বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:১০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
নারী নিজেকে এত ঠুনকো আর নাজুক ভাবার কোন অবকাশ নাই।
তুমি মাতা, তুমি ভগ্নি তুমি কন্যা তুমি জায়া। তা হলে কেন এত
দুঃখ বিলাস তোমার। ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বাধিক মর্যাদা
কেন নাখোশ হবে তাতে? নারী গর্ভেই জন্ম নেয়
পুরুষেরই রক্তের এক কন্যা। সেই কন্যা্ পর্যায়ক্রমে
নারী মাতা,নারী ভগ্নী,নারীই তোমার জায়া এসো আজ গাই সাম্যের গান-
নারী নয় বেশ্যা,নয় নস্ট মাল। নারীর দৃষ্টিতে পৃথিবীর রূপ
দেখে হই আকাশের মত মহান।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩৮

সেজুতি_শিপু বলেছেন: কি বলেন? আমিতো ভেবেছি নারী ঠুনকো আর নাজুক, নারী নস্ট মাল।
ধন্যবাদ পাঠের জন্য, মন্তব্যের জন্যে।

৫| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: শুভ সকাল।
আপনার পোষ্ট টি আবার পড়লাম।
ভালো লাগলো।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৯

সেজুতি_শিপু বলেছেন: ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ। অনুপ্রাণিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা।

৬| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৫৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ঠিক কি বলবো কবিতা পরে বুঝতে পারছি না ।
কিছু বলে বা না বলে কোনো ভাবেই প্রিয়াঙ্কার সাথে করা দানবিকতার দায় থেকেতো বাঁচা যায় না ।
কোনো একদিনের সোনালী ভোরে সব মানুষ মানুষ হবে সেটুকু আশা করা ছাড়া কি যে আর করার আছে সেটাও জানিনা ।
জীবনের চালচিত্র আঁকা কবিতা ভালো হয়েছে ।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:১৪

সেজুতি_শিপু বলেছেন: ধন্যবাদ।
একদিনের সোনালী ভোরে সব মানুষ মানুষ হবে -হয়তো হবে।
আর যদি তা হয়- আমাদের আশার জন্য হবে না- -হবে -মানুষ জেগে উঠলে, নারী নিজেকে চিনলে এবং অনেক মানুষ তার জন্য সংগ্রাম করলে। তবে সে দিন অনেক দূরে- এতোদূরে যে, কল্পনায়ও দেখা যায় না। এখন তো রাত ক্রমশ গভীর হোচ্ছে।

৭| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৭

আলমগীর সরকার লিটন বলেছেন: অসাধারণ লেখেছেন কবি আপু
অনেক শুভেচছা নিবেন---------

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:১৫

সেজুতি_শিপু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। শুভেচছা আপনাকেও।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.