| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
‘বার মাসে তের পার্বণ’ খ্যাত বাঙ্গালীদের অনেক প্রিয় উৎসবের একটি হল পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা বর্ষবরণ। একজন উৎসব প্রিয় বাঙ্গালী হিসেবে আমার ও এই নববর্ষ বরণ নিয়ে উৎসাহের অন্ত নেই। আনন্দঘন, উৎসবমুখর এই দিনটি নিয়ে ভাবতে গেলেই কিছু ভাবনা আপনাআপনি চলে আসে।পহেলা বৈশাখ মানেই আমার কাছে মঙ্গল শোভাযাত্রা,রঙ্গিন আলপনা, গরদ তথা লাল পেড়ে সাদা শাড়ি,মাটির গয়না, হাত খোঁপায় জড়িয়ে রাখা চুলে ফুলের ছোঁয়া, মেহেদী-আলতার রঙ্গে হাত রাঙ্গানো,বৈশাখী মেলায় ঘুরতে ঘুরতে মুড়িমুড়কি, মণ্ডা-মিঠাই এর স্বাদ নেওয়া, নাগরদোলা, পুতুল নাচ সেই সাথে চিরাচরিত পান্তা-ইলিশের জিভে জল আনা স্বাদ-এর এক অভূতপূর্ব সমন্বয় এই দিনটি।নিজেকে এবং নিজের শেকড় কে নতুন রূপে ফিরে পেতে এই দিনটি বরাবরই আমার কাছে অনন্য।প্রতি বছরের মত ১৪১৯ কেও একই ভাবে বরণ করার আশা রাখছি।তবে আমার একটা স্বপ্ন আছে যেটা প্রতিবার-ই দেখি,চেষ্টা করি যতটা সম্ভব স্বপ্নটাকে সত্যতা দেবার।এবারও ব্যতিক্রম হবেনা জানি। আমি স্বপ্ন দেখি আমাদের সমাজটা একদিন এমন হবে যেদিন বর্ষবরণের দিনে কোন পথ শিশু ভাত খাবার জন্য দুটো পয়সা চেয়ে কাঁদবেনা,ফেলে দেওয়া তরমুজের খোসা,পান্তার বাসন খুঁটে খাবার খুঁজে ফিরবেনা।সমাজের উঁচু তলার মানুষগুলোর বদ্ধ গাড়ির কাঁচের সামনে ফুল হাতে কাকুতি-মিনতি করবেনা কোন শিশু।আমাদের সমাজে সামর্থ্য-বান মানুষের অভাব নেই। খুঁজলে এমন অনেক পাওয়া যাবে যারা নতুন বছরকে বরণ করতে হাজার হাজার টাকা শপিং সেন্টারে বিলিয়ে দিচ্ছেন অনায়াসেই।আমি বলিনা যে মানুষ শখ পূরণ করবেনা।মানুষ অবশ্যই তাঁর শখ পূরণ করবে কিন্তু একবার ভেবে দেখা বোধহয় উচিত যে আমার শখের জন্য বরাদ্দ হাজার টাকার সামান্য কিছুটা দিয়ে আমি আরও একজনের শখ না বরং প্রয়োজন মেটাতে পারি।কাগজ কলমে লিখছি বলেই না আমার মন এভাবেই আমাকে বলে। আমি জানি হয়ত আমি একা না,আমার মত এরকম ভাবে আরও অনেকেই ভাবেন। সেটাই আশার কথা। আমরা বাঙ্গালীরা জাতিগত ভাবে আশাবাদী আর তাই আশা করি এমন একদিন অবশ্যই আসবে যেদিন আমার এই ভাবনাগুলো সত্য হবে, মানুষ বুঝতে শিখবে জাতির ঐতিহ্য রক্ষায় সবথেকে আগে দরকার মানুষগুলোকে রক্ষা করা আর সেদিনের বর্ষবরণ খুঁজে পাবে প্রকৃত সার্থকতা।
©somewhere in net ltd.