নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাঙালি শিক্ষিত সমাজ

স্বাধীন বাংলা

মেহ্দী হাসান দোহা

স্বাধীন বাংলা › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবন কথা - ভাষা সৈনিক শহীদ আবুল বরকত

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৯

১৯২৭ সালে ১৬ জুন ভাষা শহীদ আবুল বরকত ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহাকুমার ভরতপুর থানার বাবলা নামক একটি ছোট গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম শামসুজ্জোহা। পার্শ্ববর্তী গ্রাম তালিবপুর ইংলিশ হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন। বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। ঢাকার পুরানা পল্টনে বিষ্ণু প্রিয়া ভবনে তার মামা আব্দুল মালেক সাহেবের এই বাড়িতে মৃত্যুর আগ পর্যন ছিলেন।১৯৪৮ সালেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স কোর্সে ভর্তি হন। ছাত্র হিসাবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী, নম্র, ভদ্র ও চরিত্রবান।১৯৫১ সালে তিনি অনার্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেনীতে চতুর্থ স্থান লাভ করেন এবং এম.এ. শেষ পর্বে ভর্তী হন। ১৯৫২ সাল ২১ ফেব্রুয়ারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের সামনে "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই" এই দাবীতে আন্দোলোন তীব্র হয়ে উঠে।পুলিশের সঙ্গে ছাত্র জনতার সংঘর্ষ হয়, শ্লোগানে শ্লোগানে কেঁপে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামপাস। বুলেট আর লড়াই শুরু হয় বিক্ষিপ্তভাবে। বাঙালি জনতার চোখে সেদিন ছিল ভয়ে পরিবর্তে ঘৃনার আগুন । পুলিশ চেষ্টা করছিল ছাত্রদের ব্যারিকেড ভেঙ্গে হোস্টেল চত্বরে ঢুকতে। কিন্তু, ছাত্রদের শক্ত প্রতিরোধের কারনে তারা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছিল । বেলা ৩টার দিকে হোস্টেল চত্বরে ঢুকে নির্মমভাবে গুলি চালাতে থাকে পুলিশ। তখন আবুল বরকত এক বন্ধুর দিকে এগিয়ে এসেছিলেন। হঠাত তিনি মাটিতে পড়ে যান। প্রথমে কেউ বুঝে উঠতে পারেনি, ততক্ষনে রক্তধারা ছুটে মাটি ভিজে যাচ্ছে। তলপেটে গুলি লেগেছিল তার । পরনের নীল হাফ শার্ট, খাকি প্যান্ট ও কাবুলী স্যান্ডেল রক্তে ভিজে যাচ্ছে। দু'তিন জন ছুটে এসে সুঠামদেহী বরকতকে কাঁধে তুলে জরুরী বিভাগের দিকে দৌড়াতে থাকেন। বরকত বলেছিলেন খুব কষ্ট হচ্ছে, আমি বাঁচবনা, বিষ্ণু প্রিয়া ভবন পুরানা পল্টনে খবর পৌঁছে দিবেন। ডাক্তাররা তাকে বাঁচানো জন্য আপ্রান চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের জন্য সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারী রাত ৮টার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরী ওয়ার্ডে মহান দেশ প্রেমিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারী মোট কতজন শহীদ হন তার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। কারন অনেক শহীদের লাশ মর্গ হতে মিলিটারী ও পুলিশ গুম করে ফেলে। পরের দিন তাদের জানাজা হবে ছাত্ররা মাইকে এই ঘোষনা দিলে পুলিশ সে রাতেই মর্গ থেকে লাশ সরিয়ে ফেলে। আবুল বরকতের মামা আব্দুল মালেক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ্যাসিস্ট্যান্ট একাউন্টস অফিসার ছিলেন এবং তার এক আত্মীয় এস.এম.জি. বিভাগে ডেপুটি সেক্রেটারী ছিলেন। তার নাম আবুল কাসেম। তারা দুজনে তদবীর করে পুলিশের কাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন। ২১ ফেব্রুয়ারী রাত ১০টার দিকে পুলিশের কড়া পাহাড়ায় আজিমপুর পুরাতন গোরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। শহীদ আবুল বরকতকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে মরনোত্তর ২১শে পদক দিয়ে সম্মানিত করেন।



তথ্য সূত্র : বিশ্ব তোরনে বাংলা

ভাষ্কর রাসা

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৫২

নাভদ বলেছেন: ৫

২| ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৪

স্বাধীন বাংলা বলেছেন: নাভদ,
ধন্যবাদ আপনাকে।

৩| ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৪২

বঙ্গাব্দ বলেছেন: হে বীর সালাম তোমায়

৪| ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৯

স্বাধীন বাংলা বলেছেন: বঙ্গাব্দ,
রেটিং দিতে ভুলে গেছ?

৫| ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৫

প্রশ্নোত্তর বলেছেন: ৫। চালিয়ে যান।

৬| ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০১

পরোপকারী বলেছেন: মূল্যবান পোষ্টের জন্য-৫। লিংক থাকলে দয়া করে দিবেন।
ধন্যবাদ।

৭| ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৫০

স্বাধীন বাংলা বলেছেন: পরোপকারী,
লিংক নেই।
ভাষা সৈনিক শহীদ আবদুল জব্বার, শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ, শহীদ শফিউর রহমান- এর জীবন কথা সহ জেলা ভিত্তিক ভাষা সৈনিকদের তালিকা প্রকাশ করব।

৮| ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৫২

স্বাধীন বাংলা বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ

৯| ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:২৯

রাশেদ বলেছেন: ৫

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.