নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চারুশিল্পী , লেখক

শাহ আজিজ

চারুশিল্পী , লেখক

শাহ আজিজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

দি কিলিং স্কোয়াড

১৩ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৪৩




মানুষটি ওয়াশরুমে যেতে চেয়েছিল । সবে নাস্তা খেয়েছে বোনের সাথে । বোন একজন ডাক্তার । তিনি বলছিলেন ভাই আমার গেল কয়দিন ভাল করে ঘুমাচ্ছিল না , অস্থির থাকত সবসময় । সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল ঢাকায় মানসিক ডাক্তারের সাহায্য নেবেন তাই গাজিপুর থেকে ঢাকায় এলেন । এখানে ভাল চিকিৎসা হয় শুনেছেন ডাক্তার বোন । ওই ওয়াশ রুমে যাওয়ার নাম করে তাকে দোতালায় নিয়ে গেল একজন ওয়ার্ড বয় । বোনের মুখের সামনে গেট আটকে দিল ওরা । আধা ঘণ্টা অস্থির হয়ে বোন অপেক্ষায় । এবার একজন এসে বোনকে উপরে সেই রুমে নিয়ে মৃত ভাইয়ের লাশের পাশে দাড় করিয়ে দিল । হতভম্ব বোন । হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে নিলে তারা ভাইকে মৃত ঘোষণা করে ।
একজন রোগী বারান্দায় বসে পুরো ঘটনাটি দেখেছেন । তারা ওই এ এস পিকে অবজারভেশন রুমে ঢুকাতে চাইলে তিনি সেখানে তর্ক শুরু করেন । এবার দুজন তাকে হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে রুমে ঢুকিয়ে ফেলে , সাথে যোগ দেয় আরও চারজন । পেছনে আরও চারজন । মোট দশজনের একটা বাহিনী একজন সুস্থ মানুষ ওয়াশ রুমে যেতে চাওয়ার কারনে সাউনড প্রুফ রুমে উপুড় করে শরিরের উপর বসে কেনুই দিয়ে ঘাড়ে এবং দুকাধে ক্রমাগত আঘাতে নির্জীব করে ফেলল । হাত দুটো বেধে ফেলল একটা ওড়না দিয়ে । এ এস পি ওয়াশ রুমের পেশাব ফ্লোরেই করে দিয়েছিলেন । পেশাব ধুয়ে দিল একজন লাল বালতিতে আনা পানিতে ।
পাঠক এ কোন সিনেমার বর্ণনা নয় , নয় কোন রিহারসেলের বয়ান । এটি সদ্য খুন হওয়া একজন এ এস পির খুনের ঘটনার বর্ণনা । সি সি টি ভি চালু না থাকলে সব হারিয়ে এলোমেলো হয়ে যেত । সি সি টি ভির সাক্ষীই এখন খুনের ঘটনার মুল প্রমান । এই এতোগুলো লোক কি ওই মানসিক হাসপাতালে রেডি থাকত চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষদের এভাবে ধরে নিয়ে হাত পা বেধে কনুইএর আঘাতে নিস্তেজ করার জন্য ?
পাঠক আপনি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে বসবাস করছেন , রাজধানী ঢাকায় । ওই মাইন্ড এইড সাইনবোর্ডের নিচে ভবনটির মধ্যে যা ঘটছে তারও অনুমোদন ছিল না প্রশাসনের । স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম আছে যাদের কাজ ঢাকা শহরে যারাই ক্লিনিক হাসপাতাল চালায় তাদের তথ্য নেয়া এবং জমা করা । এলাকায় কাউন্সিলর , এম পি , পুলিশ – থানা আছে । তারা কি কেউই জানত না এখানে কি হয় বা হচ্ছে । জানলে এই দশজনের বাহিনী একটি পুলিশ অফিসারকে হত্যা করল তার আগে পিছের কাহিনী জানত ।

একটি বিষয় সবাই এড়িয়ে যাচ্ছেন তা হল এ এস পিকে সরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেই মাইন্ড এইডে নিয়ে আসা হয় । কেন ? এই বিষয় সবাই চেপে গেছেন । দশজনের ওই কিলিং স্কোয়াড এখন পুলিশের হেফাজতে । আমরা শিঘ্রিই জানতে পারব এটি কি পরিকল্পিত খুন ।

কাপাসিয়ার গ্রামের বাড়িতে এ এস পির নির্দোষ শিশু খেলছে সঙ্গীদের নিয়ে , নির্মল , ও বোঝেইনি ওর বাবা আর কখনো ফিরে আসবেনা । মাইন্ড এইডের মুল মালিক একজন মহিলা ডাক্তার , রাতে গ্রেফতার হয়েছে । আরেক ডাক্তার নিউরোসাইন্সে ভর্তি , সম্ভবত খুন হওয়ার পরই ভর্তি হয়েছে । রাজনিতিকরা গ্রেফতারের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকতেন এক সময় , ভাসানি সাহেব তালিকার শীর্ষে ছিলেন । এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির রহস্য উদঘাটন হোক ।
আসলে আমি আপনি সে বা তারা কেউই আর নিরাপদ নই এই রাষ্ট্রে । আমাদের পেছনে তাড়া করে বেড়াচ্ছে দশ জনের বাহিনী , ওড়না হাতে ।।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: খুব নির্মম ঘটনা। মানুষ কীভাবে পিটিয়ে মানুষকে মেরে ফেলতে পারে, তা ভাবতে গেলে দম বন্ধ হয়ে আসে।

আপনার প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে সরকারি হাসপাতাল থেকে মাইন্ড এইডে আনা হলো কেন? আমরাও জানতে চাই।

এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর জানা গেল অতিরিক্ত ফ্লোরের রাজউকের অনুমোদন ছিল না।
নারায়নগঞ্জে মসজিদে আগুন লাগার পর জানা গেল গ্যাস লাইন সংযোগের অনুমোদন ছিল না।
এবার জানা গেল মাইন্ড এইডের অনুমোদন ছিল না।
তো, এগুলো যাদের চেক বা সার্ভে করার কথা, বা এলাকার বাঘা বাঘা মানুষগুলো কি এগুলো দেখেন না? নাকি মোটা অঙ্কের টাকা খাইয়া এগুলো আন্ডারহ্যান্ড অনুমোদন দিয়া থাকেন?

১৩ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৪২

শাহ আজিজ বলেছেন: হটাত করেই কোটিপতিদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে , এরা সেই বাঘা বাঘা লোকদের টাকা , আসে সর্বপ্রকার অনৈতিক আয় থেকে । যে দুজন ডাক্তার এর মালিকানায় ছিল আমরা দেখতে চাই তাদের শাস্তি হয়েছে ।

২| ১৩ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩০

চাঁদগাজী বলেছেন:



ঘটনা সম্পর্কে আপনার কি ধারণা?

১৩ ই নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১১

শাহ আজিজ বলেছেন: পুলিশকে অস্থিতিশীল করে তোলার পরিকল্পনা

অথবা

কারো ইন্ধনে - হোক পারিবারিক বা কর্মক্ষেত্র জনিত ।

৩| ১৩ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:২০

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: অনুসন্ধানে সব বেরিয়ে আসবে।

১৪ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১২:২১

শাহ আজিজ বলেছেন: যদি চেপে দেওয়া হয় ?

৪| ১৪ ই নভেম্বর, ২০২০ ভোর ৫:৩৯

জিকোব্লগ বলেছেন:



বাংলাদেশের সব জায়গায় মানসিক রোগীদের পিটানো
নিত্য-নৈমন্তিক ব্যাপার। পাবনা মানসিক হাসপাতালের
রোগীদের সাক্ষাৎকার শুনলেও তা জানতে পারবেন।
এছাড়াও জ্বিন ধরা মানসিক রোগীদের মারপিট করা,
রাস্তায় পাগলদের ইট মারা প্রায় প্রতিদিনই চোখে পড়ে।
এক আল্লাহ ছাড়া, এই মানসিক রোগী /পাগলদের কেউ
দেখার নাই। কেউ বাধাও দেয় না। মানুষ বড়ই নির্মম।

কাজেই , এটি কোনো পরিকল্পিত খুন না। এটি মারপিটের
ফলে দৈবক্রমে মৃত্যু। মানসিক রোগীদের পিটানো দণ্ডনীয়
অপরাধ করলে হয়তো মারপিট কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু
তারপরেও পুলিশকে ঘুষ দিয়ে এইসব লোকেরা ছাড়া পেয়ে
যায়। এবার দৈবক্রমে মানসিক রোগী পুলিশই এর শিকার।

১৪ ই নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:০০

শাহ আজিজ বলেছেন: তদন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হোক । আমরা জানতে পারব মানসিক অস্থিরতার চিকিৎসা কি কনুই দিয়ে মেরে দেওয়া হয় কিনা । লোকটি ওয়াশ রুমে পেশাব করতে যেতে চেয়েছিল । আসলে তাকে উন্মাদ বানানোর প্রক্রিয়া করেছিল । মেরে ধরে বেধে রাখলে চিৎকার করবে , ডাক্তার এসে পর্যবেক্ষণ করে কড়া ডোজের ঘুমের ইঞ্জেকশন দিতে বলবে । উপরে কি চিকিৎসা চলছে নিচতালায় স্বজনরা জানেনা । বেশ কিছুকাল হাসপাতালে রাখতে পারলে বড় আকারের বিল বাগানো যাবে । ৮০ বা ৯০ দশকে বি টি ভির অনুসন্ধানি দল পাবনায় মানসিক হাসপাতালে সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়েছিল । সেখানে উন্মাদ সহ কিছু সুস্থ মানুষও পাওয়া গেল । তাদের জমি জমা সঙ্ক্রান্ত বিবাদ থাকায় বেধে চিকিতসালয়ের ডাক্তার , সহকারিদের টাকা পয়সা দিয়ে পাগল বানিয়ে রাখা হয়েছিল । সুস্থরা মুক্তি পেয়েছিল । দেশে মানুষ প্রথমবারের মত জানতে পেরেছিল পাবনায় আসলে কি হয় ।

আমরা অপেক্ষায় । মুলত স্বাস্থ্য বিভাগকে পাগলা গারদ বিভাগ বানালে উপযুক্ততা পাবে ।

৫| ১৪ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৪৬

রাজীব নুর বলেছেন: প্রচন্ড মর্মান্তিক।

১৪ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:০২

শাহ আজিজ বলেছেন: আমরা সুস্থ ধারায় হাঁটছি না এটা তারই প্রমান ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.