নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“আজ একা এসেছি”

আজ আমি এক এসেছি, সাথে আজ কেউ নেই, তবু আমার পা কাঁপছে না আমার কন্ঠ আজ সুদৃঢ়

অন্বেষা নিরন্তর

আমি সাহিত্য, ধর্ম, বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী।

অন্বেষা নিরন্তর › বিস্তারিত পোস্টঃ

চোখের পাতার নানা সমস্যা

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:১২

ব্লেফারাইটিস
চোখের পাতার প্রান্তভাগের প্রদাহকে ব্লেফারাইটিস বলে। এ রোগ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এলার্জি, খুশকী, জীবাণু (স্ট্যাফাইলোকক্কাস), চোখের পাতার গ্রন্থির (মেইবোমিয়ান গ্ল্যান্ড) প্রদাহ ইত্যাদি কারণে ব্লেফারাইটিস হয়। এ রোগ হলে চোখের পাতার প্রান্তে ছোট ছোট দানার মত খুশকি হয়। পাতার প্রান্তভাগ লাল হয়ে ফুলে যায়। অনেক সময় সামান্য ঘায়ের মত হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে চোখের পাপড়ি পড়ে যায়। যারা এই রোগে আক্রান্ত হয়, তাদের অনেকের মাথায় খুশকি দেখা যায়।

চিকিত্সাঃ এ রোগের চিকিত্সা দীর্ঘ সময় করাতে হয়। মাথায় খুশকী থাকলে তার চিকিত্সা করাতে হবে। চোখের পাতার খুশকী পরিষ্কর করতে হবে। গোসলের সময় বেবী শ্যাম্পু ব্যবহার করে চোখের পাতার খুশকী পরিষ্কার করা যেতে পারে। চোখের পাতা পরিষ্কার রাখতে হবে। চোখের পাতার প্রান্তে এন্টিবায়োটিক-স্টেরয়েড জাতীয় মলম ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখের পাতায় ঘা হলে এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খেতে দিতে হবে।

অঞ্জনি বা স্টাই
চোখের পাপড়ির গোড়ার গ্রন্থির এলাকার পুঁজ সৃষ্টিকারী সংক্রমণকেই অঞ্জনি বা স্টাই বলে। এই রোগে আক্রান্ত চোখের পাতা লাল হয়ে ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা অনুভুত হয়। পরের দিকে সাদা পুঁজ বিন্দু দেখা দিতে পারে।

চিকিত্সাঃ গরম পানিতে তুলা ভিজিয়ে স্যাক দিতে হবে। প্রয়োজনবোধে এন্টিবায়োটিক ক্যাপসুল ও বেদনানাশক বড়ি খেতে হবে। সতর্কতা হিসাবে চোখে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক্যালাজিয়ন
চোখের পাতার মেইবোমিয়ান গ্রন্থিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের ফলে গ্রন্থির নালী বন্ধ হয়ে যায় এবং মেইবোমিয়ান গ্রন্থি ফুলে যায়। একে ক্যালাজিয়ন বলে। দেখতে গুটির মত (nodular) এবং চোখের পাতার প্রান্ত হতে একটু দূরে হয়। সংক্রমণ না হলে ব্যথা হয় না। চোখের পাতায় ছোট গোলাকার ফোলা অনুভূত হয়। বাহির থেকে দেখলে চোখের পাতায় ফোলা দেখা যায়। চোখের পাতা উল্টালে ফোলা অংশের বিপরীত কনজাংটিভা লাল দেখা যায়।

চিকিত্সাঃ ছোট আকারের ক্যালাজিয়ন বিনা চিকিত্সায় সেরে যেতে পারে। অনেক সময় বহুদিন অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকতে পারে। চোখের পাতায় গরম স্যাক দিলে অনেক সময় সেরে যেতে পারে। এন্টিবায়োটিক ড্রপ ও মলম ব্যবহার করতে হবে। বড় ক্যালাজিয়ন হলে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। এই অপারেশন চোখের পাতার ভিতরের দিক কেটে করা হয়। ফলে চোখের পাতায় কোন দাগ থাকে না।

এন্ট্রোপিয়ন
চোখের পাতার প্রান্তভাগ চোখের ভিতর দিকে চলে যাওয়াকে এন্ট্রোপিয়ন বলে। চোখের পাতার প্রান্তভাগ ভিতর দিকে চলে যাওয়ায় চোখের পাপড়ি, কর্ণিয়া ও কনজাংটিভাকে আঘাত করে। জন্মগত ও বার্ধক্যজনিত কারণে এন্ট্রোপিয়ন হতে পারে। এসিড, অ্যালকালি বা অন্য কোন কারণে চোখে আঘাত পেয়ে চোখের পাতায় ক্ষত হলে এন্ট্রোপিয়ন হতে পারে। কর্ণিয়ায় পাপড়ির আঘাত লাগার ফলে চোখ খচ খচ করে। মনে হয় চোখে কিছু পড়েছে। চোখ লাল হয়ে যায়। চোখ দিয়ে পানি পড়ে। অনেক সময় কর্ণিয়াতে ঘা হয়ে যায়।

চিকিত্সাঃ চোখের পাপড়ি কর্ণিয়া থেকে দূরে রাখার জন্য ব্যান্ডেজ কন্টাক্ট লেন্স করা যেতে পারে। সাময়িকভাবে চোখের পাপড়ি তুলে দেয়া যেতে পারে। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অপারেশনের প্রয়োজন হয়।

একট্রোপিয়ন
চোখের পাতার প্রান্তভাগ বাহিরের দিকে চলে যাওয়াকে একট্রোপিয়ন বলে। বার্ধক্যজনিত কারণে একট্রোপিয়ন হতে পারে। চোখের পাতায় আঘাত লাগলে বা পুড়ে গেলে জটিলতা হিসাবে একট্রোপিয়ন হতে পারে। ফ্যাসিয়াল নার্ভ অবশ হয়ে গেলেও একট্রোপিয়ন হতে পারে। চোখের কনজাংটিভা, কোন কোন ক্ষেত্রে কর্ণিয়া অনাবৃত থাকে। ফলে চোখ জ্বালা পোড়া করে ও চোখ দিয়ে পানি পড়ে। কর্ণিয়াতে ঘা হতে পারে। এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

চিকিত্সাঃ এ রোগ সাধারণত: অপারেশনের সাহায্যে চিকিত্সা করা হয়। প্লাস্টিক সার্জারীর প্রয়োজন হতে পারে।

টসিস
চোখের উপরের পাতা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে নীচে নেমে কর্ণিয়াকে ঢেকে ফেলে তখন তাকে টসিস বলে। জন্মগত কারণে বা আঘাতজনিত কারণে টসিস হতে পারে। বার্ধক্যজনিত কারণেও টসিস হতে পারে। স্নায়ু অবশ হয়ে গেলে চোখের পাতার মাংসপেশী দুর্বল হয়ে যায় এবং টসিস হয়। চোখের পাতায় টিউমার হলে টসিস হতে পারে। অন্য রোগের লক্ষণ হিসাবে টসিস হতে পারে। টসিস হলে চোখের পাতা আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কর্ণিয়াকে ঢেকে ফেলে।

চিকিত্সাঃ জন্মগত টসিস সম্পূর্ণরূপে কর্ণিয়াকে বা পিউপিলকে ঢেকে ফেললে খুব তাড়াতাড়ি চিকিত্সা করাতে হবে নতুবা দৃষ্টিশক্তি কমে যেয়ে চোখ অলস চোখে (এমব্লাওপিয়া) পরিণত হতে পারে। অপারেশনের মাধ্যমে টসিস চিকিত্সা করা হয়।

ট্রিকিয়াসিস
চোখের পাপড়ির দিক পরিবর্তন হয়ে চোখের ভিতরমুখী হলে তাকে ট্রিকিয়াসিস বলে। চোখের পাতার প্রান্তভাগের প্রদাহ, হারপিস জোস্টার ও ট্রাকোমা রোগের জটিলতা হিসাবে ট্রিকিয়াসিস হতে পারে। জন্মগত কারণেও ট্রিকিয়াসিস হতে পারে। ট্রিকিয়াসিস হলে চোখে কোন ময়লা রয়েছে বলে মনে হয়। চোখে ব্যথা অনুভূত হয় এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে। সময় মত সঠিক চিকিত্সা না করালে কর্ণিয়াতে ঘা হয়ে যায়।

চিকিত্সাঃ সাময়িকভাবে চোখের ভিতরমুখী পাপড়ি ফরসেপ দ্বারা তুলে দিলে চোখের ব্যথা কমে যায় ও আরাম অনুভূত হয়। ইলেকট্রোলাইসিস, ক্রায়োথেরাপি ও লেজারের সাহায্যে ট্রিকিয়াসিস চিকিত্সা করা হয়।

অধ্যাপক ডাঃ চন্দ্র শেখর মজুমদার

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

চক্ষু বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

উৎস Click This Link

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৫০

রক্তিম দিগন্ত বলেছেন: কঠিন কঠিন শব্দের লেখা। প্রিয়তে রাখলাম। মাথা ঠান্ডা অবস্থায় পড়ে নিব।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.