নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইসলামী জীবন

শাহ মাহমুদ হাসান

শাহ মাহমুদ হাসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মহানবীর মহান আদর্শ

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ভোর ৬:০৫

রাসুলুল্লাহ (সা.) দুনিয়ার তাবৎ মানুষের সামনে শুধু কোরআনের শিক্ষাই পেশ করেননি, বরং তিনি নিজেকে কোরআনের জীবন্ত নমুনা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। কোরআনে যে নৈতিক গুণাবলিকে উৎকৃষ্ট কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব গুণে তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ গুণান্বিত

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সব শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য এক অনুপম আদর্শ। তাঁর অনুসরণ-অনুকরণ করার মধ্যে মানবজীবনের ঐকান্তিক সফলতা নিহিত। রাসুল (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেছেন সচ্চরিত্রের বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে সচ্চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের নিমিত্তই প্রেরণ করা হয়েছে।’ (জামেউল আহাদিস : ৬৭২৯)।

মানবজাতির আদর্শ
রাসুল (সা.) ছিলেন সৃষ্টির সেরা মানুষ। নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকরাও অকপটে স্বীকার করেছেন, মুহাম্মদ (সা.) সর্বকালের, সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ মহামানব। রাসুল (সা.) এর চরিত্র সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা কালাম : ৪)। অর্থাৎ নৈতিক চরিত্রের সর্বোচ্চ মানের ওপর আপনি অধিষ্ঠিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নৈতিক চরিত্রের মান নিয়ে মক্কার মোশরেকদেরও অভিযোগ ছিল না। তাঁর বিশ্বস্ততা ও উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাদের ছিল না কোনো দ্বিমত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নৈতিক চরিত্রের সর্বোত্তম সংজ্ঞা দিয়ে হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘কোরআনই ছিল তাঁর চরিত্র।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) দুনিয়ার তাবৎ মানুষের সামনে শুধু কোরআনের শিক্ষাই পেশ করেননি, বরং তিনি নিজেকে কোরআনের জীবন্ত নমুনা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। কোরআনে যে নৈতিক গুণাবলিকে উৎকৃষ্ট কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব গুণে তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ গুণান্বিত।

ক্ষমা ও মহানুভবতা
প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি চরম শত্রুকেও ক্ষমা করে দিতেন। মক্কা বিজয়ের দিনে রাসুল (সা.) মক্কার লোকদের উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, ‘হে কোরাইশরা! তোমরা আমার কাছ থেকে আজ কেমন ব্যবহার আশা করো?’ তারা বলল, সম্মানিত ভাই ও ভ্রাতুষ্পুত্রের মতো! তিনি বলেন, ‘তোমরা চলে যাও! আজ তোমরা মুক্ত!’ যারা একসময় তাকে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন, সামাজিকভাবে বয়কট করা এমনকি হত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছিল অথচ তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন! সহনশীলতা তার চরিত্রকে নিয়ে গিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতায়। রাসুল (সা.) একবার সাহাবিদের সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলেন। এমন সময় একজন বেদুঈন এসে সেখানে পেশাব করা শুরু করলে সাহাবিরা তাকে ধমক দিয়ে থামতে বলেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তাকে ছেড়ে দাও; বাধার সৃষ্টি করো না।’ তারপর তিনি লোকটিকে ডেকে বলেন, ‘এটা মসজিদ, এ স্থান অপবিত্রতা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানার জন্য উপযুক্ত নয়।’ অতঃপর রাসুল (সা.) কওমের একজন লোককে বলেন, তুমি পানিভর্তি একটা বালতি নিয়ে এসো। এরপর এর ওপর ঢেলে দাও। তিনি বালতিতে পানি এনে তার ওপর ঢেলে দিলেন। (মুসনাদে আহমাদ : ১২৯৮৪)। বিভিন্ন শারীরিক সমাস্যা হতে পারে এ চিন্তা থেকে রাসুল (সা.) লোকটিকে প্রস্রাবের মাঝে বাধা দিতে নিষেধ করলেন, বরং মসজিদে প্রস্রাব করাটাকেই সাময়িকভাবে অনুমোদন করলেন। যারা উগ্র মানসিকতাসম্পন্ন তাদের জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় ঘটনা। ভিন্নমতাবলম্বী মানুষের সঙ্গে ইসলাম কী ব্যবহার করতে বলেছে, তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এখানে বিদ্যমান।

দানশীলতা
সৃষ্টিকুলের মধ্যে রাসুল (সা.) এর মতো দানবীর আর কাউকে পাওয়া যাবে না। কেউ তার কাছে কিছু চেয়েছে, অথচ তিনি তা দেননি, এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। একবার তার কাছে একজন লোক এলো সাহায্যপ্রার্থী হয়ে, তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মাঝের সব বকরি দিয়ে দিলেন। অতঃপর লোকটি নিজের সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো। কেননা মুহাম্মদ (সা.) এত বেশি পরিমাণে দান করেন যে, তিনি নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো ভয় করেন না।’ (মুসলিম : ২৩১২)।

অধীনস্থদের প্রতি মহানবীর ব্যবহার
রাসুল (সা.) কখনও কোনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি। তিনি ছিলেন স্ত্রীদের কাছে একজন আদর্শ স্বামী। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আমি তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম, কারণ আমি আমার স্ত্রীদের কাছে উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ : ১৯৭৭)। তিনি কখনও কোনো কাজের লোককে মারধর করেননি। হজরত আনাস (রা.) শিশু অবস্থায় রাসুল (সা.) এর খাদেম হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি একটানা ১০টি বছর রাসুল (সা.) এর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। এ সুদীর্ঘ সময়ে রাসুল কখনোই আমার প্রতি বিরক্ত প্রকাশ করে উফ্ শব্দটুকু উচ্চারণ করেননি। আমার কোনো কাজ দেখে কখনও বলেননি, তুমি এ কাজ করলে কেন? কিংবা কাজ না করলে কখনও বলেননি, তুমি এ কাজ করলে না কেন?’ (বোখারি : ৫৬৯১)। এজন্যই মহানবীর চরিত্রকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল (সা.) এর আদর্শ তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।’ (সূরা আহজাব : ২১)।

সফল জীবনের নিশ্চয়তা
জীবনে সফলতা পেতে হলে রাসুল (সা.) এর আদর্শের পূর্ণ অনুসারী হতে হবে। তাঁর আদর্শ বাদ দিয়ে অন্য কারও আদর্শ অনুসরণ করে জীবনে সফল হওয়া যাবে না। এরশাদ হচ্ছে, ‘যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।’ (সূরা আহজাব : ৭১)। জান্নাত প্রাপ্তির পূর্বশর্ত হিসেবে রাসুল (সা.) এর অনুকরণের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে নহরগুলো প্রবহমান। আর সেটিই প্রকৃত সফলতা।’ (সূরা নিসা : ১)।

মুক্তিকামীদের আদর্শ
রাসুলে করিম (সা.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে সবার জন্য অনুসরণীয় ও মুক্তির কা-ারি হিসেবে। আল্লাহর ভালোবাসা প্রাপ্তিও মহানবীর পরিপূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণের ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘হে রাসুল! তুমি লোকদের বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ করো। তবে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সূরা আলে ইমরান : ৩১)। রাসুলকে ভালোবাসার নিদর্শন হচ্ছে তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করা। তাঁর সুন্নত অনুযায়ী জীবনযাপন না করে নিজেকে আশেকে রাসুল বলে দাবি করা অর্থহীন। রাসুল অনুসরণের অর্থ হলো ধর্মীয় জীবন থেকে ব্যক্তিজীবন, সমাজ জীবনসহ জীবনের সব অঙ্গনে একমাত্র তাঁর আদর্শ মেনে চলা। আবার তাঁর আদর্শের অনুসারী না হলেও রয়েছে কঠোর শাস্তির হুশিয়ারি, ‘যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের নাফরমানি করবে অবশ্যই তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সে সেখানে চিরকাল থাকবে।’ (সূরা জিন : ২৩)। যারা রাসুলের বিরোধিতা করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘যারা নবী (সা.) এর আদর্শের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে, যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে।’ (সূরা নূর : ৬৩)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সব লোকই জান্নাতি হবে অস্বীকারকারী ছাড়া। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! অস্বীকারকারী কে? রাসুল (সা.) বলেন, যে আমার অনুসরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে আমার নাফরমানি করবে, সেই অস্বীকারকারী।’ (বোখারি : ৬৮৫১)।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ভোর ৬:০৭

শাহ মাহমুদ হাসান বলেছেন: Click This Link

২| ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৩

শাহ মাহমুদ হাসান বলেছেন: Click This Link

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.