নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইসলামী জীবন

শাহ মাহমুদ হাসান

শাহ মাহমুদ হাসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৫০


পৃথিবীবাসী যখন অশান্তি ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির চরম মুহূর্ত অতিক্রম করছিল তখনই পৃথিবীতে শুভাগমন করেছিলেন (৫৭০ খ্রিস্টাব্দে) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানব ও শান্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। মহান আল্লাহ তাকে পাঠিয়েছিলেন অশান্ত ও অস্থির এ পৃথিবীতে ন্যায়-ইনসাফ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব দিয়ে। এরশাদ হচ্ছে, ‘আমি তোমাকে গোটা বিশে^র জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া : ১০৭)। শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দয়িত্ব পালনে তিনি তার গোটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
শান্তি সংঘ প্রতিষ্ঠা
ফুজ্জারের যুদ্ধের পরে কিশোর মুহাম্মদ (সা.) নিপীড়িত ও নিগৃহীত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ‘হিলফুল ফুজুল’ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মক্কার সম্ভ্রান্ত যুবুকরা মুহাম্মদ (সা.) এর নেতৃত্বে যে কোনো জুলুম-অত্যাচার প্রতিরোধের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ হন। নবুয়ত প্রাপ্তির পরও তিনি এ ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলতেন, ‘আমি আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন চুক্তিতে যোগদান করেছিলাম, যার বিনিময়ে লাল উটও আমার পছন্দ নয়। আজও এ ধরনের কোনো চুক্তি সম্পাদনে আমাকে ডাকা হলে আমি অবশ্যই তাতে শরিক হব।’ (বায়হাকি : ১২৮৫৯)।
বিবদমান গোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা
নবী কারিম (সা.) যখন ৩৫ বছরের টগবগে যুবক, কোরাইশরা তখন কাবাঘরের পুনর্নির্মাণ শুরু করে। কিন্তু হাজরে আসওয়াদ প্রতিস্থাপন নিয়ে দেখা দেয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা। প্রত্যেক গোত্রই হাজরে আসওয়াদকে যথাস্থানে স্থাপন করা নিয়ে তুমুল বিবাদে জড়িয়ে পড়ল। ওই সময় কোরাইশদের প্রবীণতম ব্যক্তি আবু উমাইয়া ইবনে মুগিরা এ দ্বন্দ্ব নিরসনকল্পে একটি প্রস্তাব পেশ করে বললেন, ‘হে কোরাইশরা! এ পবিত্র মসজিদের দরজা দিয়ে যে ব্যক্তি প্রথম প্রবেশ করবে, তাকেই তোমরা এই বিবাদ মীমাংসার দায়িত্ব দাও।’ সবাই এ প্রস্তাবে সম্মত হলো। অতঃপর দেখা গেল, ওই দরজা দিয়ে মুহাম্মদ (সা.) সর্বপ্রথম প্রবেশ করলেন। তাঁকে দেখে সবাই একবাক্যে বলে উঠল, এ তো আমদের পরম বিশ^স্ত মুহাম¥দ! আমরা সবাই তার যে কোনো সিদ্ধান্ত মানতে প্রস্তুত। যুবক মুহাম¥দ (সা.) তার প্রখর মেধা ও প্রজ্ঞা খাটিয়ে একটি চাদর আনতে বলেন। তিনি নিজ হাতে চাদরের ওপর পাথরটিকে রেখে চার গোত্রপ্রধানকে সেটি বহন করে যথাস্থানে নিয়ে স্থাপন করে দিলেন। আর এভবেই তিনি চরম উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম : ১/১৯৭)।
হুদায়বিয়ার সন্ধিতে গৃহীত শান্তি নীতি
হিজরতের ছয় বছর পর ওমরাহ পালনের জন্য ১ হাজার ৪০০ সাহাবাকে নিয়ে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন। হুদায়বিয়া নামক স্থানে পৌঁছলে কোরাইশরা তাদের গতিরোধ করে। মুশরিকরা যে কোনো মূল্যে মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশে করতে বাধা দিতে তৎপর হয়ে উঠল। মুশরিকদের এ অন্যায় আস্ফালনের চূড়ান্ত জবাব দিতে মুসলমানরা রাসুল (সা.) এর অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন। মুসলমানরা খোদায়ি মদদে কুফরি শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কারণ এরই মধ্যে বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা যে ছিল মুসলমানদের! তারা কোনোভাবেই নতজানু হওয়ার পাত্র নয়। এক অদম্য মনোবল নিয়ে রাসুলের হুকুমের অপেক্ষা করছিলেন তারা। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) শান্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাহাবাদের প্রতিরোধ আকাক্সক্ষা ও প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও মুশরিকদের সঙ্গে এক অসম চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলেন। যার ধারাগুলো ছিলÑ ১. উভয়পক্ষ আগামী ১০ বছরের জন্য কোনো যুদ্ধে জড়াবে না, ২. এ বছর মক্কায় প্রবেশ না করেই ফিরে যেতে হবে, ৩. আগামী বছর মুসলমারা ওমরাহ করতে এসে তিন দিনের বেশি অবস্থান করতে পারবে না। আর আত্মরক্ষার জন্য কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র বহন করতে পারবে না, ৪. কোরাইশদের কোনো লোক তাদের অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়া পালিয়ে মদিনায় চলে এলে মুসলমানরা তাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য থাকবে, ৫. কোনো মুসলমান ইসলাম ছেড়ে মক্কায় চলে এলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে না।
প্রত্যক্ষ দৃষ্টিতে চুক্তির শর্তগুলো মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও রাসুল (সা.) ‘যুদ্ধ নয় শান্তি’ এ নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রমাণ করলেন, মুসলমানরা একটি শান্তিকামী দল। তারা জোর-জবরদস্তি ও নৈরাজ্যে বিশ^াস করে না। তাছাড়া এ চুক্তির মাধ্যমে ফুটে উঠেছিল রাসুল (সা.) এর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা। এ চুক্তির মাধ্যমেই মূলত কোরাইশরা মুসলমানদের কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা ছিল মুসলমানদের জন্য এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বিজয়।
বিজয়ের মুহূর্তেও শান্তির ঘোষণা
হুদায়বিয়া সন্ধির মাত্র ২ বছরের মাথায় মুসলমানরা রক্তপাত ছাড়াই মক্কা বিজয় করে। এ বিজয়ের দিনে রাসুল (সা.) এর সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে ছিল মক্কার অপরাধীরা। আর রাসুল (সা.) এর যে কোনো নির্দেশ পালনের অপেক্ষায় ছিল ১০ হাজার সশস্ত্র মুসলিম যোদ্ধা। যদি রাসুল (সা.) বলতেন, ‘যে হাত মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, মুসলমানদের ওপর নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে, সে হাতগুলো কেটে ফেল! যারা মুসলমানদের হত্যা করেছিল তাদের মস্তক উড়িয়ে দাও!’ তাহলে মক্কাবাসী অবাক হতো না। তিনি বলতে পারতেন, ‘মক্কার সক্ষম পুরুষরা হবে মুসলমানদের দাস এবং নারীরা হবে তাদের দাসী!’ কিন্তু রাসুল (সা.) এমন কোনো কিছুই বললেন না। তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘হে কুরাইশরা! তোমরা আমার কাছ থেকে আজ কেমন ব্যবহার আশা কর?’ তারা বলল, সম্মানিত ভাই ও ভ্রাতুষ্পুত্রের মতো! তিনি বললেন, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা সবাই মুক্ত!’ সহনশীলতা তার চরিত্রকে নিয়ে গিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতায়। আর এভাবেই রাসুল (সা.) বিশ^বাসীকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বুনিয়াদ রচনা করে শান্তিপূর্ণ বিশ^ গড়ার ধারণা দিয়েছিলেন।
লেখক : এমফিল গবেষক, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
http://www.alokitobangladesh.com/todays/details/241089/2017/12/02

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.