নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শাহ্‌রিয়ারের ব্লগ

শাহ্‌রিইয়ার

শাহ্‌রিইয়ার › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুন্দরবনে তেলভর্তি জাহাজডুবি ও অপসারন জনিত অব্যাবস্থাপনায় বনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশংকা

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৩৬

গত মঙ্গলবার ভোরে তেলবাহী ট্যাংকার ‘ওটি সাউদার্ন ষ্টার-৭’ সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগামারী এলাকায় নিমজ্জিত হয়। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে প্রায় সোয়া লাখ লিটার তেল অবশিষ্ট অবস্থায় রয়ে গেছে , এ তেলও যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য তা পদ্মা অয়েল থেকে কিনে নেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধার ও তেল অপসারণ বিষয়ে একটি সভা হয়। সভায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে সরকারি উদ্যোগ হিসেবে সুন্দরবনের পাশের এলাকার লোকজনকে স্পঞ্জ দিয়ে তেল তোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো তেল তোলার স্পঞ্জ সরবরাহ না করায় শিশু-কিশোরদের নদীতে নেমে তেল মেখে তা পাড়ে এসে গর্তের মধ্যে জমা রাখতে দেখা গেছে। নৌকায় করে নদী থেকে খালি হাতে তেল তুলে তাঁরা গ্রামের মধ্যে কুয়া বানিয়ে রাখছেন। চাঁদপাই ও জয়মনি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় উদ্যোগে তেল অপসারণের এ দৃশ্য দেখা গেছে। ডুবে যাওয়া তেলবাহী জাহাজ ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন মালিকের উদ্যোগে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর চার দিনে ১২টি জোয়ার-ভাটায় তেল ছড়িয়ে পড়ার এলাকা বাড়লেও এখনো তেল অপসারণে কোনো সরকারি ভাবে বড় ধরণের উদ্যোগ শুরু হয়নি। জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া নেওয়া হলেও এ ঘটনার মধ্যেও গতকাল পশুর ও শ্যালা নদী দিয়ে ১০ থেকে ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে।জাতিসংঘ, ইউনেসকো, বন বিভাগ থেকে নৌপথটিকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে হটাৎ করেই কান্ডারি-১০ থেকে অয়েল স্পিলড ডিসপারসেন্ট নামের রাসায়নিক পদার্থ ছেটানো শুরু হয়েছিল কোন ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই। পরবর্তীতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় বন বিভাগের আপত্তিতে তা স্থগিত করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মল্লিক আনোয়ার হোসেন জানান, এই অয়েল স্পিলড ডিসপারসেন্ট কোন দেশ থেকে আমদানি করা, এটি তৈরি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ, এর আমদানি কোড এবং রাসায়নিক নাম পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেই এটি ছিটানো শুরু হবে।

এরই মধ্যে সুন্দরবনে প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূলীয় বনের ক্ষেত্রে বিশ্বে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমির হুসাইন চৌধুরী জানিয়েছেন, সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল প্রতিদিন নতুন করে ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকায় ছড়াচ্ছে।

এর পূর্বে ইন্দোনেশিয়া, পানামা, নাইজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও পুয়ের্তোরিকোতে এ রকম তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে এসব দুর্ঘটনার কোনোটাতেই এত বেশি এলাকায় তেল ছড়ায়নি। তারপরও ওই দেশগুলোতে বনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়ানো যায়নি। এতে করে ধ্বংস হয় হাজার হেক্টর শ্বাসমূলীয় বন। আর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার হয় আরও কয়েক হাজার হেক্টর বনভূমি, বনের চারাগাছের বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আক্রান্ত এলাকার অর্ধেক গাছই মৃত্যুবরণ করে।

সুতরাং নিশ্চিত ভাবেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আমাদেরকে নানান সময়ে বড় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষাকারীর ভুমিকা পালনকারী এই সুন্দরবন। ইতিমধ্যেই আজ শুক্রবার কাঁকড়াগুলো কালো কালো তেলে মরে যেতে দেখা গেছে। নদীতে দেখা মিলছে না কুমিরেরও।

সুন্দরবনে কাঁকড়ার এমন মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সুন্দরবন–গবেষক ও বিশ্বব্যাংকের পরিবেশবিষয়ক উপদেষ্টা ইশতিয়াক সোবহান বলেন, কাঁকড়ার পুরো শরীরে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় দ্রুত তেল শরীরে প্রবেশ করে এবং তা এর অক্সিজেন গ্রহণ ও শারীরিক ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়ায় বাধার সৃষ্টি করে। এর ফলে এই তেল নিঃস্বরণের ঘটনায় প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাঁকড়া ও চিংড়ি জাতীয় প্রাণীরা মারা পড়বে। তেল যদি দ্রুত অপসারণ না হয়, সপ্তাহ দুয়েক পর মাছ, সাপ ও অন্য জলজ প্রাণী এবং তীরবর্তী লতাগুল্মগুলো মরতে শুরু করবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, কাঁকড়া শ্বাসমূলীয় বনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। সুন্দরবনের গাছপালা থেকে যে পাতা ও লতা ঝরে পড়ে, তা কেটে টুকরো টুকরো করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে কাঁকড়া সহায়তা করে, যা নদীর মাছসহ অন্য প্রাণীদের খাবারের জোগান দেয়। তাই কাঁকড়ার মৃত্যু সুন্দরবনের অন্যান্য ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীকে খাবারের সংকটে ফেলতে পারে এবং এতে বনটির বাস্তুসংস্থান ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.