| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমার কাছে অনেক আইডিয়া আছে এবং আমি তা ব্লগে এপ্লাই করি! জানেনই তো, পৃথিবীর সব কিছুর মূলে রয়েছে আইডিয়া!
বিশ্বব্যাপী সংঘাত, সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে যখন আলোচনা হয়, তখন আমরা সাধারণত রাজনৈতিক সমঝোতা, সামরিক নিরাপত্তা বা কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকে তাকাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যদি খাদ্য, আয় ও জীবিকার নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে কাগুজে শান্তি চুক্তি কতটা টেকসই হয়?
আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতায় একটি বিষয় ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে: দারিদ্র্য শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, এটি নিরাপত্তা ও শান্তির মৌলিক ইস্যু।
দারিদ্র্য, কৃষি ও সংঘাতের গভীর সম্পর্ক
বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী গ্রামীণ ও কৃষিনির্ভর। কৃষিতে ক্ষতি হলে শুধু খাদ্য উৎপাদন কমে না, বাড়ে দারিদ্র্য, সামাজিক অসন্তোষ এবং অভিবাসনের চাপ। বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেক সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার জন্ম দেয়।
অর্থাৎ, শান্তির ভিত্তি রাজনৈতিক চুক্তিতে নয়, মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তায়।
Shared কৃষি অবকাঠামো: নতুন ধরনের শান্তি বিনিয়োগ
এই প্রেক্ষাপটে একটি নতুন ধারণা সামনে আসছে—যৌথ কৃষি অবকাঠামো (Shared Agricultural Infrastructure)।
এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে সরকার, আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও কৃষকরা যৌথভাবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়:
ক) স্যাটেলাইট-ভিত্তিক রোগ পূর্বাভাস
খ) ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ প্ল্যাটফর্ম
গ) স্মার্ট ভ্যালু চেইন ও বাজার তথ্য ব্যবস্থা
বাংলাদেশের GEOPOTATO প্রকল্প দেখিয়েছে, স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে আগাম রোগ সতর্কতা দিলে কৃষকের উৎপাদন বাড়ে এবং ক্ষতি কমে। এর অর্থ—কৃষকের আয় বাড়ে, দারিদ্রতা কমে।
আন্তর্জাতিক ব্যবসার ভূমিকা: শুধু লাভ নয়, শান্তি
বড় আন্তর্জাতিক কৃষি ও প্রযুক্তি কোম্পানির কাছে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি, বিনিয়োগ সক্ষমতা ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। যদি তারা কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে অংশীদার হয়, তাহলে এটি কেবল CSR নয়—একটি কৌশলগত শান্তি বিনিয়োগ।
কেন?
কারণ স্থিতিশীল কৃষি মানে স্থিতিশীল গ্রামীণ সমাজ, আর স্থিতিশীল সমাজ মানেই কম সংঘাত।
শান্তি কীভাবে আসে?
আমাদের প্রচলিত ধারণা হলো—শান্তি আসে রাজনৈতিক সমঝোতা থেকে। কিন্তু বাস্তবে শান্তি আসে তখনই, যখন মানুষ অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ বোধ করে।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে,
---শান্তি কোনো কোম্পানির CSR প্রকল্পের সরাসরি ফল নয়।
---শান্তি একটি সামাজিক ফলাফল, যা দারিদ্র্য হ্রাস, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা থেকে জন্ম নেয়।
বাংলাদেশের জন্য এর তাৎপর্য
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ঝুঁকি ও গ্রামীণ দারিদ্র্যের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি। যদি সরকার আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে স্মার্ট কৃষি অবকাঠামো গড়ে তোলে, তাহলে এটি শুধু কৃষি উন্নয়ন নয়—জাতীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতার কৌশল হয়ে উঠতে পারে।
নতুন চিন্তার প্রয়োজন
এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের তিনটি মৌলিক চিন্তার পরিবর্তন শেখায়:
ক) শান্তি শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক বিষয় নয়—এটি অর্থনৈতিক অবকাঠামোর বিষয়।
খ) দারিদ্র্য হ্রাস মানবিক কাজ নয়—এটি কৌশলগত নিরাপত্তা বিনিয়োগ।
গ) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুধু মুনাফার জন্য নয়—তারা বৈশ্বিক শান্তি ব্যবস্থার অংশীদার।
উপসংহার
যদি আমরা সত্যিই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ চাই, তাহলে দারিদ্র্য দূরীকরণকে শুধু উন্নয়ন লক্ষ্য নয়—শান্তি কৌশল হিসেবে দেখতে হবে। যৌথ কৃষি অবকাঠামোতে বিনিয়োগ হতে পারে সেই কৌশলের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।
শান্তি কূটনীতির টেবিলে নয়—শান্তি জন্ম নেয় মানুষের মাঠে, খামারে ও জীবিকায়।
লেখক:
মোহাম্মদ ফাছিহ-উল ইসলাম শাইয়্যান
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
কৃষি বাজেট যখন সামরিক বাজেটের চেয়ে কম হয়, তখনই বিপত্তি।
অথচ কৃষি হতে পারতো শান্তি আনয়নের একটি হাতিয়ার।
ধন্যবাদ নিরন্তর।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যদি খাদ্য, আয় ও জীবিকার নিরাপত্তা
...............................................................................................
এর সাথে শিক্ষা ও নিরাপদ বাসস্হান আছে ।
এসবই রাষ্ট্র জনসাধারনকে দিবে,
সেটাই তো আমাদের অধিকার !
.........................................................................
রাস্ট্র চালায় রাজনীতি, আর তার পিছনে থাকে রাজনৈতিক
দল, একারনে তাদের দ্বায় এড়ানো যায় না ।