| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমার কাছে অনেক আইডিয়া আছে এবং আমি তা ব্লগে এপ্লাই করি! জানেনই তো, পৃথিবীর সব কিছুর মূলে রয়েছে আইডিয়া!
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতের উন্নয়নে শুধু মূলধন বা প্রযুক্তি নয়, বরং সঠিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা যায়, একটি ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকেই যদি উদ্যোক্তারা শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, তাহলে তাদের উদ্ভাবন সক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পায় । আমাদের দেশে অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা শুরু করলেও একা একা এগিয়ে যেতে চান, যা তাদের বৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাস্তবে, সঠিক মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগই একটি ব্যবসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশে এর বাস্তব উদাহরণ আমরা স্টার্টআপ বা আইটি খাতে দেখতে পাই। অনেক তরুণ উদ্যোক্তা বিভিন্ন টেক কমিউনিটি, ফেসবুক গ্রুপ বা ইনকিউবেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে নতুন আইডিয়া ও সহযোগিতা পায়। যেমন, একজন অ্যাপ ডেভেলপার যদি অন্য একজন মার্কেটিং এক্সপার্টের সাথে যুক্ত হন, তাহলে তাদের যৌথ উদ্যোগে একটি সফল পণ্য তৈরি করা সম্ভব। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ধরনের নেটওয়ার্ক শুধু তথ্যই দেয় না, বরং নতুন পণ্য ও সেবার ধারণা তৈরিতেও সহায়তা করে ।
নেটওয়ার্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিশ্বাস (trust) এবং সহযোগিতা। অনেক সময় আনুষ্ঠানিক চুক্তির চেয়ে পারস্পরিক বিশ্বাসই ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যায় । বাংলাদেশে আমরা দেখি, অনেক ব্যবসা পার্টনারশিপে শুরু হয় পরিচিত বা সুপারিশের মাধ্যমে। যেমন, গার্মেন্টস সেক্টরে একজন উদ্যোক্তা বিদেশি বায়ারের সাথে কাজ শুরু করেন স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে, যেখানে শুরুতে আনুষ্ঠানিকতা কম থাকলেও বিশ্বাসের ভিত্তিতে বড় ব্যবসা গড়ে ওঠে। এই বিশ্বাসই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেয় এবং নতুন বাজারে প্রবেশ সহজ করে।
তাই বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো - শুরু থেকেই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা। এটি হতে পারে ব্যবসায়ী সংগঠন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, কিংবা আন্তর্জাতিক সংযোগের মাধ্যমে। সরকার ও বেসরকারি খাত যদি এই নেটওয়ার্কিং সুবিধা আরও সহজ করে দেয়, তাহলে এসএমই খাত দ্রুত উন্নতি করবে। একক প্রচেষ্টার চেয়ে যৌথ উদ্যোগই ভবিষ্যতের সফলতার চাবিকাঠি - এটি বুঝতে পারলেই বাংলাদেশের ব্যবসা খাতে আসবে নতুন উদ্ভাবনের জোয়ার।
©somewhere in net ltd.