| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শান্তির সপক্ষে জাতীয় সনদ
২০১৩ সাল, স্বাধীনতার ৪২ বৎসর পরেও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। মাতৃভূমিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যখন জাতীয় ঐক্যমত অপরিহার্য্য তখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দ্বিধা বিভক্ত। শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরস্পরের সমালোচনা ও দোষারোপে ব্যস্ত। কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত সুষ্ঠ, স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। একদিকে বিরোধী দল ও জোট যতই নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা পেতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছে ততই সরকারী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী না মানার জন্য অনঢ় ও শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে। প্রধান ২টি রাজনৈতিক দল ও জোট বাংলাদেশের মানুষকে দুঃসময়ের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট যে নামেই হোক না কেন সকল দলের অংশগ্রহনে অবাধ সুষ্ঠ, স্বচ্ছ ও নিরপে নির্বাচনের কোন বিকল্প নাই। তবে নির্বাচনই শেষ কথা নয়। নির্বাচনের পরে যদি আবারও পরাজিত দল নির্বাচনের রায় মেনে না নেয়, বিজয়ী দল পরাজিত দলের নেতা কর্মীদের বাড়ীতে হামলা করে, সংখ্যালঘুদের আক্রমন করে। ৬ মাস/১বৎসর যেতেই বিরোধী দল যদি আবার সংসদ বর্জন করে, আবার যদি হরতালের মত অর্থনৈতিক বিধ্বংসী আন্দোলন হয়, আবার যদি হরতালের আগের দিনেই নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় তবে স্বচ্ছ ও নিরপে নির্বাচন করার পরও গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না, দেশও এগিয়ে যাবে না।
এই উপলদ্ধি থেকেই আমরা কিছু সংগঠন শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার জন্যে একটি জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও তাতে ঐক্যমত স্থাপন করার জন্যে সকল প্রধান রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এরকম জাতীয় সনদ বা জাতীয় অঙ্গীকার ব্যতিত শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আমার প্রিয় জন্মভূমিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
বাংলাদেশের সুশীল সমাজ তথা নাগরিকবৃন্দ, সাংবাদিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী, পেশাজীবি, চাকুরিজীবি, শিক সকলের প্রতি আমাদের আহ্বান যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি যদি জাতীয় ঐক্যমতে না আসে তবে জাতীয় স্বার্থে, মাতৃভূমির মঙ্গলার্থে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করতে যাতে তারা জাতীয় স্বার্থে একমত হন।
প্রস্তাবিত জাতীয় সনদের খসড়া
১. গ্রহনযোগ্য নির্বাচন ঃ- সকল দলের অংশগ্রহনে সুষ্ঠ, স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বা অন্য কোন নামেই হোক না কেন)। অন্তর্বর্তী কালীন সরকার প্রধান নিয়ে প্রতিবারই যেন নতুন কোন বিরোধ সৃষ্টি না হয় তার জন্য টেকসই কোন ব্যবস্থায় সকলের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
২. নির্বাচনের রায় মেনে নেওয়া ঃ সকলকে নির্বাচনের রায় মেনে নিতে হবে। বিশেষ করে যে দল বা জোট নির্বাচনে পরাজিত হবে বা কম আসন পাবে তাদেরকে রায় মেনে নিতে হবে এবং সংসদে যেতে হবে। সংসদ বর্জন করা চলবে না। সংসদে ৯০ কার্য দিবস অনুপস্থিত থাকলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়, এই সময় সীমা আরোও কমিয়ে ৩০ দিন করতে হবে।
৩. শান্তি বজায় রাখা ঃ নির্বাচনের পর কোন সহিংসতা হবে না বিশেষ করে পরাজিত দল বা জোটের কর্মী সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সংসদের মেয়াদ পরিবর্তন ঃ প্রতি ৪(চার) বৎসর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা যেতে পারে (যেহেতু প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে মতায় ৫ বৎসর সহ্য করতে পারে না)। তাতে একদিকে তাড়াতাড়ি মতার পরিবর্তনের আশ্বাসে বিরোধীদলের রাজপথের আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠবে না। জনগন ভোগান্তি থেকে বাঁচবে। অপরদিকে কোন সরকারী দলের শাসন দুঃশাসনে পরিনত হলে জনগন এক বৎসর পূর্বেই দুঃশাসন থেকে রেহাই পাবে।
৫. মতার ভারসাম্য ঃ সংসদে ব্র“ট মেজরিটি একজন প্রধান মন্ত্রীকে স্বৈরাচারে রূপান্তরিত করতে পারে। রাষ্ট্রপতির মতা বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রতির মধ্যে মতার ভারসাম্য স্থাপন করতে হবে যাতে জাতি কোন এক ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে না পরে। সরকার প্রধান ও সরকারী দলের প্রধান একই ব্যক্তি হবেন না।
৬. দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঃ দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেক দলকেই অঙ্গীকার করতে হবে যে তারা চিহ্নিত দূর্নীতিবাজদের নমিনেশন দেবেন না এবং নির্বাচিত হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দূর্নীতি সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রনে আনার জন্যে সচেষ্ট থাকবেন। প্রমাণিত দূর্নীতিবাজদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখতে হবে।
৭. মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পে অব¯থান গ্রহন ঃ লাখো শহীদের আত্মœত্যাগে মুক্ত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। সকল প্রধান রাজনৈতিক দলকে অঙ্গীকার করতে হবে যে, যে দলই তায় আসুক না কেন মানবতা বিরোধী যুদ্ধ অপারাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যহত রাখবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সকল প্রকার মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদকে প্রতিরোধ করবে।
৮. হরতাল বর্জন ঃ হরতাল বর্জন করতে হবে, কারন হরতাল দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে এবং দেশকে পঙ্গু করে। বলা হয়, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার কিন্তু হরতালের আগের দিন গাড়িতে আগুন দেয়া, মানুষ পুড়িয়ে মারা কোন সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। হরতালের দিনও বোমা-ককটেল মেরে মানুষকে হত্যা করা বা আহত করা, সম্পদ ধ্বংস করা গণতান্ত্রিক অধিকার নয়, শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ এবং স্বেচ্ছামূলক হরতালই গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে যা এখন আমাদের দেশে বিরল। তাই হরতাল বর্জনের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
৯. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ঃ শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যতিত গণতন্ত্র অর্থবহ হবে না। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন সহ স্থানীয় সরকারের সকল স্তরে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের হাতে মতা দিতে হবে এবং শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে (প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ও মতায়ন সহ) এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
১০. সুশাসন নিশ্চিতকরন ঃ সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সকল েেত্র সরকারী দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। অর্থমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হবেন বিরোধী দলের সাংসদ। জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি সহ জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোতে প্রধান বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো রাজনৈতিক দল ভিত্তিক হতে পারে। স্থানীয় সরকারের সকল অর্থ কমিটি/উপকমিটির চেয়ারম্যান থাকবেন বিরোধী দলের।
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেত্রী সাবেক প্রধান মন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে আমাদের আকুল আবেদন, দেশের স্বার্থে, জনগনের স্বার্থে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে, সর্বোপরি শান্তিপূর্ন বাংলাদেশ গড়ে প্রগতির অগ্রযাত্রায় শরিক হতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই আপনারা এই প্রস্তাবিত জাতীয় সনদের ব্যপারে ঐক্যমত পোষন করবেন।
আসুন দলমত নির্বিশেষে আমরা বাংলাদেশের মানুষরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তির ল্েয জাতীয় সনদ প্রণয়নে কাজ করি। আপনার বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ, সংশোধনী, সংযোজন ও বিয়োজন শান্তির সন্ধানে জাতীয় সনদকে আরো সুন্দর করতে পারে। সবশেষে প্রত্যাশা গনতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়ীক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে এদেশের মানুষ জয়ী হবে।
* ইনটিগ্রিটি বাংলাদেশ * গ্রীন ভলান্টিয়ার্স * শেরপুর আইটি কাব * যুব উৎসব উদযাপন পরিষদ * ঢাবি আইটি কাব * জাবি আইটি কাব * জবি আইটি কাব * দেশপ্রেমিক মুভমেন্ট * সাস্ট আইটি কাব * শেরপুর সরকারী কলেজ আইটি কাব * আনন্দ মোহন সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ আইটি কাব।
©somewhere in net ltd.