| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ভ্যাগা বন্ড
কোথাও থেমে থাকার জন্য আমি জন্মিনি। ছুটে চলাই আমার নিয়তি।
আল্প কিছুদিন আগের কথা; "জেন্ডার" সম্পর্কিত একটি গবেষণার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম সিলেটের চা বাগানে।দুপুরবেলা স্থানীয় এক রেস্তোরা থেকে গরুর মাংস আর অন্যান্য ভাজি-ভর্তা দিয়ে উদরপূর্তি করে সিলেট শহর সংলগ্ন লাক্কাতুড়া চা বাগানে গেলাম তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।
তখন প্রায় চারটা বাজে; বাগানের বাচ্চাদের সাথে কথা বলার সময় জানলাম, এরা কেউ দুপুরে খাবার খায়না। সকালের খাবারটা স্কুল থেকে দেয়া হয় আর তারপর আবার সন্ধ্যায় আথবা রাতে। স্কুলের দেয়া কলা/রুটি/বিস্কিট খেয়ে এরা ১২ ঘন্টা কাটায়, আর তারপর একবেলা ভাত ।
অবাক হলাম; তাৎক্ষণিক ভাবে কিছুটা কষ্টও লাগলো বটে। কিন্তু এই খারাপ লাগা বা কষ্ট আমাকে সিলেট ফিরে দুপুর বেলার উদরপূর্তির দুই ঘন্টার ব্যাবধানে নানরুটি দিয়ে ভাজা মুরগির মাংস চিবুতে বাধা সৃষ্টি করেনি।
ঠিকইতো; এইসব কুলি-কামিনের বাচ্চারা নাখেয়ে থাকলে তাতে আমাদের কি? আমরা এদেরকে দেখিয়ে বিদেশ থেকে বড় বড় ডোনার খুজবো, বড় বড় টাকার ডোনেশন আনব আর তাদিয়ে মুরগির রান চিবুব। এদের ভাগে দেয়ার জন্য রয়েছে মুরগি ভাজারএটো হাড্ডিগুলো।
বেচে থাকুক আমাদের মুরগি ভাজা আর বেচে থাকুক এই হাড্ডিসার মানুষগুলো। এদের দেখিয়ে আমরা আরো বড় বড় ডোনেশন আনব; আরও বেশি মুরগি ভাজা খাবো। এদের ভাগে এটো হাড্ডি জুটুক অথবা না জুটুক; তাতে আমাদের কি??
২|
২৫ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ১১:৫৩
কান্ডারি অথর্ব বলেছেন:
বেচে থাকুক আমাদের মুরগি ভাজা আর বেচে থাকুক এই হাড্ডিসার মানুষগুলো। এদের দেখিয়ে আমরা আরো বড় বড় ডোনেশন আনব; আরও বেশি মুরগি ভাজা খাবো। এদের ভাগে এটো হাড্ডি জুটুক অথবা না জুটুক; তাতে আমাদের কি??
৩|
২৫ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:২৫
জীবন্মৃত০১ বলেছেন: ডোনেশন আনেন আগে...
৪|
২৫ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:৫৫
গ্রামের মানুষ বলেছেন:
তাহলে এক কাজ করেন, ডোনেশন আনা বন্ধ করে দেন। এবং এর মাধ্যমে তাদের সকালের ব্রেকফাস্ট কিংবা রাতের খাবারটুকু বন্ধ করে দিয়ে ষোল কলা পূর্ণ করা যাক।
আর যারা দরিদ্র শিশুদের জন্য কাজ করে অর্থাৎ যারা উন্নয়নকর্মী তাদের তো পেট নাই, কিংবা খাইলে নিদেনপক্ষে ঘাস-লতা-পাতা খাইতে পারে, ভাজা মুরগীর ঘি তাদের পেটে সহ্য হয়না! তাদের পরিবারের বাবা-মা, সন্তান-সন্ততিরাও সব পেটবিহীন যাদের খানা-খাদ্য না দিলেও চলে।
ব্যবসায়ীর বাচ্চা খাইতে পারে, রাজনীতিবীদের বাচ্চাও খাইতে পারে, পুলিশ, উকিল, ইন্জ্ঞিনিয়ারদের বাচ্চারা খাইলেও দোষের কিছু নাই - শুধু উন্নয়ন কর্মীরা খাদ্য খাইলেই বিপদ। গরীব মানুষেরা তাতে আরও শুকাইয়া যায়।
উন্নয়ন কর্মীদের মধ্যে কোন ডক্টরেট করা লোক নাই, বিবিএ, এমবিএ করা লোকও নাই, এনথ্রোপলোজী কিংবা ডেভেলাপমেন্ট স্টাডিজে অনার্স বা মাস্টার্স করা লোক নাই - সবাই ক্লাস এইট পাশ, সুতরাং তাদের ভাজা মুরগী খাওয়া হারাম
ধন্যবাদ লেখক এমন নগ্ন সত্যটাকে উন্নয়ন কর্মীদের সামনে পরিষ্কার করে দেয়ার জন্য.........
২৫ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:৩২
ভ্যাগা বন্ড বলেছেন: ভাই, আপনার 'নগ্ন সত্য' উদ্ধারের আমি চেষ্টা করিনি বরং আমি যেটা করেছি সেটাই লিখলাম। 'উন্নয়ন কর্মী' হিসাবে পরিচয় আমি দিতে পারিনা, মাস্টার্স এখনো চলছে। একটা ইন্টারন্যাশনাল এনজিওর জন্য খুব অল্প কিছুদিন কাজ করেছিলাম আর সেটাই ভরসা। এদিক-সেদিক ছুটে এনজিও/রিসার্চ/উন্নয়ন খাত সম্পর্কে আমি যেটুকু বুঝলাম তাতে যাদের জন্য এই প্রচেষ্টা তারা কতটা পায় আর 'উন্নয়ন কর্মীদের' পেটে কতটা যায় অথবা এর রেশিও কতভাগ সে সম্পর্কে আমি খুব বেশি সন্দিহান। অবশ্য আমি এটাও জানি যে আমার এই সন্দেহে কিছুই যায়-আসে না এবং হয়তো কিছুকাল পরে এই 'মুরগী ভাজায়' আমার অংশটাও বুঝে নেব অথবা নিতে পারলে খুশি হব। কিন্তু তাতেতো আমি যেটা দেখেছি সেটা পাল্টে যাবেনা।
৫|
২৫ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:৩৩
গ্রামের মানুষ বলেছেন: লেখক বলেছেন: ভাই, আপনার 'নগ্ন সত্য' উদ্ধারের আমি চেষ্টা করিনি বরং আমি যেটা করেছি সেটাই লিখলাম। 'উন্নয়ন কর্মী' হিসাবে পরিচয় আমি দিতে পারিনা, মাস্টার্স এখনো চলছে। একটা ইন্টারন্যাশনাল এনজিওর জন্য খুব অল্প কিছুদিন কাজ করেছিলাম আর সেটাই ভরসা।
ভাই পড়াশোনা শেষ করেন, বেশ কিছুদিন কাজ করেন তারপর উন্নয়ন সেক্টর সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার হয়ে যাবে আর আশা করি আপনার ধারণাও পাল্টাবে।
শুধু মুরগী ভাজাটাই দেখলেন কিন্তু এর পেছনের শ্রম ও অনিশ্চয়তার কাহিনীগুলো কিন্তু দেখলেন না। প্রজেক্ট বেইজড্ চাকরী যা কি না ২/৩ বছর পর পর শেষ হয়ে যায়। কপাল ভাল থাকলে আবার চাকরী পাবেন আর নইলে বউ-বাচ্চা সহ দেশের বাড়ীতে প্রস্থান।
পাশাপাশি ২৪ ঘন্টার স্ট্যান্ডিং ডিউটিতো আছেই সেনাবাহিনীর মত। যেকোন অকস্মাৎ দুযোর্গে মাত্র কিছু সময়ের নোটিশে ঝাপিয়ে পড়া, সংক্রামক রোগগ্রস্থ মানুষকে সহায়তা দেয়া, নিরাপত্তার ঝুকি মাথায় নিয়ে মেয়েদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানো, সমাজে প্রচলিত কিন্তু ক্ষতিকর মনোভাবগুলো পরিবর্তন করতে গিয়ে সমাজ পতিদের রোষানল পড়া... আছে অনেক কিছু।
আর সব পেশার মানুষকেই সম্মান করা দরকার, যদি না কেউ ব্যাক্তিগতভাবে দূর্নীতি করে।
৬|
২৫ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:৩৭
গ্রামের মানুষ বলেছেন:
আরেকটা তথ্য দিয়ে সাহায্য করি, সাধারণত উন্নয়ন সেক্টরে কর্মীদের পেটে যাওয়া আর গরীব মানুষের জন্য ব্যয়ের রেশিও হচ্ছে ১০:৯০। দাতা সংস্থা বেশী ফ্লেক্সিবেল হলে ১৫:৮৫। এর বেশী হলে ফান্ড মেলে না।
৭|
২৫ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:০৫
সেলিম আনোয়ার বলেছেন: নিঠোর বাস্তবতা
৮|
২৫ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:০৭
বোকামন বলেছেন: গরীবের দু:খ কে বুঝে !!!
৯|
২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:৪০
কালোপরী বলেছেন:
১০|
২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:০২
মুদ্রা সংগ্রাহক বলেছেন: @ গ্রামের মানুষ আপনাদের মত কর্মীদের স্যালুট জানাই, কিন্তু ধিক্কার জানাই প্রজেক্ট এর টাকায় বড় বড় ফোর হুইলার এ চড়ে বেড়ানো এনজিও র মালিকদের....জানি না এনজিও চালিয়ে ক্যামনে তারা ধানমন্ডি/গুলশানে ফ্ল্যাট কিনে যেখানে আপনার হিসাব অনুযায়ী ১০:৯০ বড়জোর ১৫:৮৫ ডিস্ট্রিবিউশন হওয়ার কথা ছিল।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ১১:৪৭
কালা মনের ধলা মানুষ বলেছেন: নিরেট, বাস্তব এবং দুঃখ জাগানিয়া সত্য।