নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শেহজাদ আমান

শেহজাদ আমান

একজন সাংবাদিক ও সৃষ্টিশীল লেখক

শেহজাদ আমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাহমুদুর রহমান মান্না বুঝেছিলেন, হাসনাত কাইয়ুম বোঝেননি

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০৯



মাহমুদুর রহমান মান্না ভাই বুঝেছিলেন, হাসনাত কাইয়ুম ভাইরা বোঝেননি!

এত ব্যস্ততার মাঝেও বিশদ আকারে পুরনো কাসুন্দি ঘাটতে হচ্ছে...

মান্না ভাই যখন তাঁর নাগরিক ঐক্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেন (সম্ভবত ২০১০-এর পরেরদিকে) তখন তিনি 'তৃতীয় শক্তি'র উত্থানের স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তখন আসলেই, রাজনীতিটা দ্বি-বলয়ে আবর্তিত হচ্ছিল-- আওয়ামী লীগ বলয় ও বিএনপির বলয়। এই দুই বলয়ের রাজনীতিতে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে অনেকেই তখন রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা উপলব্ধি করেছিলেন।
কিন্তু সেই প্রেক্ষাপট দ্রুতই পাল্টে গেল, বিশেষ করে ২০১৩-এর পরবর্তী সময়ে। তখন রাজনীতির ক্ষমতার ভরকেন্দ্র আবর্তিত হতে লাগল স্রেফ আওয়ামী বলয়কে কেন্দ্র করে। বিএনপি বা তাদের জোট ছিটকে পড়ল ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বা বলয় থেকে। তখন, আমিও নাগরিক ঐক্যের তৎকালীন সক্রিয় কর্মী হিসেবে উপলব্ধি করছিলাম যেঃ এখন আর তৃতীয় শক্তির তেমন প্রাসঙ্গিকতা নেই। বরং সবাই মিলে দ্বিতীয় কেন্দ্র বা বলয়টিকেই শক্তিশালী করতে হবে, যেহেতু আওয়ামী বলয়টি ক্রমশ স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে যাচ্ছিল।

আমার তখন খুব ভালো লেগেছিল যে মাহমুদুর রহমান মান্না ভাইও সেটা বুঝে সেভাবেই 'তৃতীয় শক্তি'র ধারণা থেকে বের হয়ে আওয়ামী বিরোধী বলয়কেই শক্তিশালী করার জন্য সেদিকেই ঝুকেছিলেন এবং সেই বলয়ের সাথেই যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন।
এবার আসি হাসনাত কাইয়ুম ভাই ও তাদের রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন-এর কথায়...তারা এখন তৃতীয় শক্তির কথা বলেন এবং সেটা করতে গিয়ে এবি পার্টি ও নাগরিক পার্টির মতো ডা*নপন্থী দলের সাথে জোটেও গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তারাই সেই জোটে আর থাকতে পারেনি; এবি পার্টি আর নাগরিক পার্টি অতি স্বাভাবিকভাবেই জামাতের সাথে জোটে গেছে।

তো, দেশে যখন একটা চরম অ-বাংলাদেশপন্থী ও ডা*নপন্থী শক্তির কবলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, সেখানে সেই ডা*নপন্থী শক্তির বিপরীত বলয়ে অবস্থানকারী মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক ধারায় থাকা বিএনপি জোটের সাথেই সখ্য বা ঐক্যটাই বেশি দরকার ছিল...যেখানে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে অলরেডি অ-বাংলাদেশপন্থী, ডা*নপন্থীরা চলে এসেছে; সেখানে তৃতীয় শক্তি হিসেবে বাতুলতা যদি কেউ করে, সে কিন্তু জামাতের নেতৃত্বে জোটকে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে স্বীকার করেই তৃতীয় শক্তির কথা বলবে-- আর এমনটাই ভাবা স্বাভাবিক।
আমি মনে করি, এখানেই মান্না ভাই ও নাগরিক ঐক্যের সফলতা, এবং অপরদিকে হাসনাত কাইয়ুম ভাই ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ব্যর্থতা!

(* নাগরিক ঐক্য এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব পর্যায়ের অনেকেই আমার পরিচিত বা এখনো ভালো সম্পর্ক আমার, মান্না ভাই ও কাইয়ুম ভাইসহ। তাই এই লেখাটা লিখলাম! সামনের লেখাতে 'সংস্কার' ইস্যুতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অবস্থান ও চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা করব)


মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩৩

কামাল১৮ বলেছেন: পার্টি যদি জনগনের মূল সমস্যা তুলে ধরতে না পারে তবে যত গালভরা কথাই বলুক কোন কাজে আসবে না।সেই পার্টি জ্বলে উঠবে না।তারা সিধান্ত নেয় বাস্তব থেকে না,কাল্পনিক সমস্যা থেকে।তারা অনেকেই কেতাবি বিপ্লবী,জনগন থেকে উঠে আসা বিপ্লবী না।

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০৯

শেহজাদ আমান বলেছেন: কথিত রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বাস্তবসম্মত কোনো রাজনৈতিক দল কখনোই ছিল না। এদের পলিটিক্যাল বুদ্ধি ও দেশপ্রেমের বদলে এখন এরা সুবিধাবাদ ও ডানপন্থার দিকে ভালোভাবেই ঝুঁকেছে। এদের সংস্কারের ধুয়ো তো স্রেফ একটা শো আপ ছাড়া কিছু না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.