| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শেখ রুবে০০৭
“What is the meaning of life”
অতি সাম্প্রতীককালে সাভারের তাজরীন গার্মেন্টেসে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে শতাধিক লোকের মৃত্যুর ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই নতুন এক মৃত্যুর মিছিল আমাদের সামনে এসে হাজির হয়েছে। মৃত্যুর এ মিছিলে জানিনা শেষ পর্যন্ত কত লোক সামিল হবে। অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনা ইতিমধ্যেই কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য লোকের তাজা প্রাণ, কত লোককে করেছে আহত আরও কত লোক ধ্বংসস্তুপের মাঝে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন “রানা প্লাজা” নামক ৯ তলা এক ভবন ধসে ইতিমধ্যে সারা দেশের আকাশ-বাতাস গগনবিদারী কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিনের মতো আজও ভাগ্য বিড়ম্বিত হাজার হাজার মানুষ জীবিকার সন্ধানে জড়ো হয়েছিলেন “রানা প্লাজায়”। কিন্তু ভাগ্য তাদের এতটাই বিড়ম্বিত যে শেষমেষ অকালে জীবন দিয়ে প্রিয়জনকে কান্নার সাগরে ভাসিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হলো। কিন্তু কেনো তাদের এই অকালে চলে যাওয়া? তাদের তো কোনো দোষ ছিল না। এর জন্য দায়ী কে?
কিছু সংখ্যক অর্থলোভী মানুষ এর জন্য দায়ী। তাদের খামখেয়ালিপনার কারণে জাতিকে এত বড় বড় সব দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যতদূর জানা গেছে দুর্ঘটনা ঘটার ঠিক আগেরদিন (মঙ্গলবার) ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছিল। র্যাব-পুলিশ পর্যন্ত ভবনটি পরিদর্শন করেছিলো। তারপরও কেনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বুধবার কারখানাগুলো চালু রাখা হলো? আরও জানা যায়, শ্রমিকদের জোর করে, লাঠি দেখিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
যাক সেসব কথা বলে এখন আর লাভ নেই। যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। সারাজীবন ধরেই অর্থলোভী মানুষ নামক কিছু অমানুষেরা খামখেয়ালিপনা করেই যাবে আর অসহায়-গরীর মানুষেরা অকালে জীবন দিয়েই যেতে থাকবে। জানিনা আমাদের দেশে এই রীতি কোনোদিন পরিবর্তন হবে কিনা? জানিনা এ থেকে সরকারের টনক নড়বে কিনা?
ইতিমধ্যেই “রানা প্লাজায়” কর্মরতদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সাভার এলাকা। আমরা সকলেই জানি প্রিয়জন হারানোর শোক ভোলা কঠিন। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে প্রিয়জন হারানো সেই সব মানুষের প্রতি রইলো গভীর সমবেদনা। আমরা অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে গভীরভাবে শোকাহত। সেই সাথে ধিক সেই সব অর্থলোভী মানুষ নামক অমানুষদের প্রতি।
সাভারে “রানা প্লাজা” ধস সংক্রান্ত সকল সংবাদগুলো একসাথে দেখতে এখানে ক্লিক করুন
©somewhere in net ltd.