নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শেরজা তপন

অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...

শেরজা তপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

চামড়া ও চামড়াশিল্পের কেন আজ এই ভয়াবহ পরিস্থিতি?

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:১৫


প্রতি বছর এই কোরবানি আসলেই কাঁচা চামড়ার মুল্যের ভয়াবহ নিন্মমুখিতা,অব্যাবস্থাপনা,ব্যাবসায়ীদের লালসা বিশেষ করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের বিষয়, সরকার নতুন নতুন নীতি,অদক্ষতা, কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা নিয়ে মৌসুমী ব্যাবসায়ীদের ভীতি, ব্যাংকের লোন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা,চামড়া উতপাদনের সাথে জড়িত ব্যাবসায়ী নেতা ও সংগঠনগুলোর উল্টা-পাল্টা বক্তব্য নিয়ে মিডিয়া সরগরম হয়ে ওঠে।আর সেই নিয়ে শুরু হয় সারা দেশের আপামোর জনগনের ক্ষোভ-হতাশা!
কাঁচা চামড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাবস্যীরা উপযুক্ত দাম না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সেগুলো ছুড়ে ফেলে দেয়; ভাগারে,নর্দমায় অথবা নদীতে। আর সঠিক সংরক্ষনের অভাবে নষ্ট হয়ে যায় হাজার হাজার মুল্যবান চামড়া।ক্ষোভে দুঃখে কেউ কেউ চিরদিনের জন্য এই ব্যাবসা থেকে মুখ সরিয়ে নেয়- কেউবা তার শেষ সম্বল বা পুঁজি হারিয়ে আত্ম –হননের উপায় খোঁজে।
ভয়ঙ্কর এই টালমাটাল সময়ে কেউ কেউ এর পেছনের কারসাজির কারিগর হিসেবে দায় চাপিয়ে দেয় মুল ধারার ব্যাবসায়ী আর সরকারের উপর- আর বাকি সবাই বাহবা দেয়। যেন এদের উপরে দায় চাপালেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?
এর পাশাপাশি সবার মনে একটাই প্রশ্ন; প্রায় বিনামুল্যে চামড়া কিনে কেন চামরাজাত পন্যের আকাশছোঁয়া দাম ধরা হয়? ভারত আমাদের থেকে কাঁচা চামড়া চোরাই পথে নেবার পরেও কেন তাদের চামড়াজাত পন্য এত সস্তা?
যেখানে ‘শ্রী’ লেদারের একজোড়া লোফারের মুল্য ৮০০ রুপি হলে আমাদের এখানে ৩/৪ হাজার টাকায় কিনতে হয়? তারপরেও সন্দেহ থেকে যায় এটা চামড়া নাকি সিনথেটিক( রেক্সিন,পি উ,ভক্স লেদার)?
এ বড় গোলমেলে ব্যাপার!
এ শতকের শুরুতে পতোন্মুখ গার্মেন্টস ব্যাবসার বিকল্প হিসেবে ভাবা হয়েছিল চামড়া শিল্পকে। সে জন্য সরকার চামড়া শিল্পকে ‘এমারজিং এক্সপোর্ট সেক্টর’ হিসেবে ঘোষনা( নেক্সট টু আর এম জি) দিয়ে- সবচেয়ে প্রায়োরিটি-দেবার পরেও বাংলাদেশের চামড়া সেক্টরের কেন এ দৈন্য দশা?
২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে এই শিল্পটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত ছিল। শিল্প কর্মসংস্থান তৈরিতেও বেশ ভাল ভূমিকা পালন করেও কেন পিছিয়ে পড়ল এ খাত?
প্রতিফুট চামড়া এক্সপোর্ট করলে ক্যাশ ইনসেনটিভ ১০% আর ফ্যাক্টরি সাভার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় হলে অতিরিক্ত ৫% সাথে টিডিএস ০.৬ ভাগ মওকুফ (এই বিষয়টা নিয়ে একটু দ্বীধান্বিত আছি।যদি কোন ভুল থাকে তাহলে পরে এডিট করে দিব)। চামড়াজাত পন্য রপ্তানীর বিপরিতে ১৫% পর্যন্ত ক্যাশ ইনসেটিভ বা প্রণোদনা ঘোষনার পরেও কেন আমাদের এই শিল্পটা দিনের পর দিন চোরাবালির গহীনে তলিয়ে যাচ্ছে?
কেঊ এই সমস্যার গভীরে যেতে চায় না। সবাই তার ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে কঠিন কঠিন জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে খালাস!
এভাবে একটা করে কোরবানির ঈদ চলে যায়- মানুষ ভুলে যায় সবকিছু। ফের আবার নতুন কোরবানির ঈদের আগে শুরু হয় সেই আলোচনা। কিন্তু সমস্যার উত্তরণ তো হয়ই না বরং আরো ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্করতম হয়।
আমি কোন বিশেষজ্ঞ বা বিজ্ঞ নই- তবুও কেন বলছি এ কথা?কেনই বা আমার এই ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে সমস্যার গভীরে যেতে চাইছি? এর কারন যারা এই নিয়ে কথা বলবেন বা যাদের বলা উচিত সেই সব বিশেষজ্ঞ বা বিজ্ঞজনের মুখে কুলূপ এঁটে রাখার প্রবণতা-তারা কারো বিরাগভাজন হতে চায়না, তারা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে চায়না বলে!কিংবা দেশের কি হল না হল তাতে কার কি এসে যায়- অথবা কে শুনবে কার কথা?
(পুরো বিষয়টা গবেষনা-ধর্মী বা তথ্যমূলক পর্যালোচনা নয়! এখানে অনেক ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে। ব্লগে ‘লেদার টেকনোলজি’র কোন এক্সপার্ট থাকলে আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দিলে খুশি হব।আর কেউ আরো বেশী তথ্য দিয়ে সাহায্য করলে কৃতজ্ঞ হব।পুরো বিষয়টা আমি খুব সহজ ভাষায় বলার চেষ্টা করব যাতে সবারই বুঝতে সুবিধা হয়। এখানে সবার-ই অংশগ্রহন জরুরি!)
আসুন প্রথমে আমরা জেনে নিই চামড়া প্রক্রিয়াজাতের ধাপগুলো সন্মন্ধে তাহলে পরের বিষয়গুলো বুঝতে সুবিধা হবে;
বাংলাদেশে মোটামুটি চার ধরেন পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হয়ঃ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া।
সবচেয়ে মুল্যবান ও বিস্তৃত পরিসরে গরুর চামড়া ব্যাবহৃত হয়। এর পরেই আছে ছাগল বা ভেড়া। ভেড়ার চামড়া বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করলে এটা বেশ মোলায়েম ও নরম হয়- যা দিয়ে মুলত; হালকা জ্যাকেট, অন্তর্বাস, গ্লভস, জুয়েলারী বক্স, মেয়েদের ফ্যাশানেবল ওয়ালেট পার্স ও ছোট ব্যাগ তৈরি করা হয়। ছাগলের চামড়াও অনুরুপ কাজে ব্যাভহৃত হয় কিন্তু তুলনামুলকভাবে একটু নিন্ম মানের ও কম দামের পন্য তৈরি করা হয়।
কিন্তু মুল সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশের বেশীরভাগ বড় ট্যানারির ছাগল ভেড়ার চামড়া প্রসেসিং এ অনীহার জন্য এটা মুলত অভ্যান্তরিন উতপাদনে ব্যাবহৃত হচ্ছে।
একখন্ড ক্রাস্ট বা সেমি ক্রাস্ট ( ৩-৬ স্কঃ ফুট) ছাগল বা ভেড়ার চামড়া( মুলত ছাগলের লাইনিং বলা হয়) সাইজ ভেদে ৮০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়( ব্যাগ ,জুতা, ইনসোল, সুকতলা সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়)। এবং রংবিহীন শুকনো শক্ত ভেড়া বা ছাগলের চামড়া( যাকে ভেরি’ বলা হয়) সেটা পাউন্ড(!) দরে বিক্রি হয়।( যেটাতে ইচ্ছেমত ম্যানুয়াল ডাইং- হাতে রঙ ও এনগ্রেভিং- কারুকাজ করা যায়। রেফ; আড়ং এর জুয়েলারি বক্স, কিছু মেয়েলী ব্যাগ ও ফটোফ্রেম সহ অন্যান্য কিছু)
এবার আসি, মহিষের চামড়ায়-মহিষের চামড়ায় স্থায়িত্ব ঘনত্ব ও পুরুত্ব অন্যান্য চামড়া থেকে অনেক বেশী। সেই সাথে এটা টেকসই চামড়া। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মহিষের চামড়া খুব ভারি ও পুরুত্ব বেশী হওয়ার জন্য এটা প্রক্রিয়াজাত করন বেশ সমস্যা। এবং বিস্তৃত পরিসরে এই চামড়া ব্যবহৃত না হওয়ার জন্য প্রায় সব ধরনের ট্যানারি এই চামড়া প্রসেস করতে অনীহা প্রকাশ করে।
বেশীরভাগ মহিষের চামড়াই ব্লু ওয়েট অবস্থায় স্প্লিট বা চিরে ফেলা হয়( সিঙ্গেল পার্ট বেল্ট হলে চামড়া চেরা হয় না।) নীচের সেই খন্ডিত অংশকে বলে স্প্লিটেড লেদার যা মুলত; বেল্টের অভ্যান্তরে, ব্যাগ, জুতা সহ অন্যান্য পন্য উৎপাদনে অভ্যান্তরিন লাইনিং হিসেবে ব্যাবহৃত হয়। এখানে উল্লেখ্য; চায়না তাদের মাঝারি মুল্য ও মানের চামড়াজাত পন্য গরু ও মহিষের স্প্লিট চামড়ার উপরে সিনথেটিক কোটিং করে হুবুহু মুল চামড়াজাত পণ্যের মত পন্য তৈরি করে। যেটাকে পিওর চামড়া ভেবে প্রায় সবাই ভুল করে।
চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরনের ধাপগুলো;
সংরক্ষন
চামড়া তৈরির প্রক্রিয়া শুরুর আগে কাঁচা চামড়ার পচন বন্ধ করতে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে সল্টিং বা লবনীকরন,চিলিং বা হিমায়ন এবং জৈব-প্রতিরোধের ব্যবহার।

ভেজানো
চামড়াগুলো থেকে লবন ও ময়লা দূর করার জন্য কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এটি সংরক্ষণজনিত প্রক্রিয়া ও পরিবহণের সময় শুকিয়ে যাওয়া চামড়াকে পুনরায় আদ্র ও মোলায়েম করা ।
পেন্টিং
পেইন্টিং এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে সালফাইড মিশ্রন ব্যবহার করে চামড়া থেকে পশম সরানো যায়।

প্রথম ও দ্বীতিয় প্রক্রিয়া সাধারনত একসাথে করা হয়। চু্ন, ক্লোরিন, সালফাইড সহ অন্যান্য কেমিক্যাল ও প্রচুর পরিমান যোগ করে একসাথে বিশাল ড্রামে দীর্ঘ সময় ধরে ঘোরানো হয়। এর ফলে চামড়া থেকে পশম, ময়লা, লবন, ঝিল্লি দূর হয়ে যায়। চামড়া থাকে ভেজা মোলায়েম, অল্প গন্ধ যুক্ত, ও খানিকটা নীল বরনের। যাকে বলা হয় ব্লু ওয়েট ( ভেজা নীল) চামড়া।
আমাদের নদী দুষন এর জন্য সবচেয়ে বেশী দায়ী –চামড়া ব্লু ওয়েট করার জন্য ব্যাবহৃত কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্য পানি।

Fleshing (ফ্লেসিং)
একটি মেশিনের মধ্য দিয়ে নীচের দিকের মাংসল টিস্যু অপসারণ করার হয়। এই পর্যায়ে কিছু চামড়া গুলোকে স্প্লিট বা বিভক্ত করা হয়।

Deliming (ডিলিমিং)
ডিলিমিংয়ের মূল কাজটি হ'ল ধীরে ধীরে চামড়ায় থাকা ক্ষারকে হ্রাস করা।এছাড়া ডিলিমিংয়ের সময়ে এর মধ্যে থাকা অন্যান্য কেমিক্যালের যৌগ, স্কুড সহ সবকিছু অপসারন করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে এটালে ফাইনাল ট্যানিং এর জন্য প্রস্তুত করা হয়।
( এই পর্যায়ে আরো কিছু কঠিন প্রক্রিয়ার যেমন; (Bating, Pickling, Degreasing) মধ্যে দিয়ে চামড়ার তেল ঝরানো, গুনাগুন, স্থায়িত্ব ও মান বাড়ানো হয়।)

এরপরে
ট্যানিং ;
ট্যানিং ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হতে পারে যথাঃ
খনিজ ট্যানেজঃ বেশিরভাগ চামড়া ক্রোমিয়ামের লবণের সাহায্যে ট্যানড হয়।
অ্যালডিহাইড এবং তেল ট্যানেজঃ অ্যালডিহাইড এবং তেল দিয়ে টান দেওয়ার ফলে খুব নরম চামড়া উত্পাদন করে এবং এই চামড়া পরিষ্কারযোগ্য এবং ধোয়া যায়। ফ্যাশন লেদার ইন্ডাস্ট্রিজে এই ধরনের চামড়া ব্যাবহৃত হয়।
উদ্ভিজ্জ ট্যানেজ
বিভিন্ন উদ্ভিদের নির্যাস দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় বাদামী বর্ণের চামড়া তৈরি করে যা ঘন এবং দৃঢ় হয়। এই ধরণের চামড়া জুতার আস্তরণ,ব্যাগ এবং কেস,বেল্ট উত্পাদন করতে ব্যবহৃত হয়।( বাইরের বায়ারদের সবচেয়ে বেশী পছন্দের উদ্ভিজ বা ভেজিটেবল লেদার। কিন্তু এর উৎপাদন খরচ বেশী।)
বিদারক বা Spliting
এই পর্যায়ে চামড়া গুলোকে যতটুকু থিকনেস বা পুরুত্ব দরকার সেই হিসেবে স্প্লিট বা বিভক্ত করা হয়।
এবং এর কয়েক ধাপ পরে আসে ডাইং

বিভিন্ন ধরণের রঙের চামড়ার রঙিন ফ্যাশনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু চামড়া শুধু উপরি অংশ রঙ করা হয়। আবার কিছু চামড়ার রঙ ভিতরে প্রবেশ করাতে হয়।
Fatliquoring বা ফ্যাট
ফাইবার লুব্রিকেট করতে এবং চামড়া নমনীয় এবং নরম রাখতে তেল প্রয়োগ করা হয়। এই তেল ব্যাবহার না করলে চামড়া শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে শক্ত হয়ে যাবে ও নমনীয়তা হারাবে।
এছাড়া বাফিং, মিলিং , কৃত্তিম ছাপ(সাপ, কুমির সহ বিভিন্ন প্রানী বা ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের চাপ দেয়া হয়) এর দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চামড়া তৈরি হয়।
মেশিন এর দ্বারা( অটোমেটিক বা হ্যান্ড গান দিয়ে), বা হাত দিয়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চামড়ার উপরিভাগে চুড়ান্ত পর্যায়ে রঙ করা হয়। এরপরে আছে প্লেটিং, পলিশিং সহ অন্য অনেক প্রক্রিয়া। কোন চামড়াকে আয়নার মত চকচকে ঝক ঝকে করা হয়- কোনটাকে করা হয় বিবর্ণ। কৃত্তিম কোটিং দিয়ে কোন চামড়াকে পানিরোধোক করা হয়।
কোন চামড়া থাকে মোলায়েম কোনটা আঁশযুক্ত – বিশেষায়িত এই চামড়াগুলো তৈরি-ই হয় ; কে কি তৈরি করতে চায়-কার কি চাহিদা তার উপরে।
গ্লভস এর চামড়া দিয়ে বেল্ট হবেনা আর বেল্টের চামড়া দিয়ে পার্স হবেনা। জুতার চামড়ায় আছে ভিন্নতা, জ্যাকেটের চামড়া অন্যরকম আবার সোফা বা গাড়ির সিট কাভারের জন্য ভিন্ন জাতের চামড়া লাগবে। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য এক ধরনের চামড়া আবার বাটিক বুটিকের জন্য অন্য চামড়া।
আমার পুরো সিরিজে যে বিষয়গুলো নিয়ে সহজিয়া ভাষায় সংক্ষেপে বর্ণনা করার চেষ্টা করব সেগুলোর তালিকা একটু দীর্ঘ। দয়া করে একটু ধৈর্য ধরুন। এই খাতকে আমি পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করছি সুদীর্ঘ ২০ বছর ধরে। সেজন্য ধীরে ধীরে আলোচনা করতে করতে এই তালিকা আরো দীর্ঘ হলেও হতে পারে।
নীচে উল্লেখিত প্রতিটা বিষয় নিয়ে আমার আলোচনার ইচ্ছে আছে- যদি আপনারা সাথে থাকেন;

• পরিবেশ দুষনের ধোঁয়া তুলে বিশেষ মহলের প্রচারণা ও বিদেশী ক্রেতাদের মুখ ফিরিয়ে নেয়া।
• ব্লু-ওয়েট চামড়ার রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশী ক্রেতাদের স্বার্থের আঘাত ও তাদের নেতিবাচক মনোভাব
• শুধু ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তর করার মহা ভুল সিদ্ধান্ত!
• বেহুদা মেলা ও এর উপকারিতা ও অপকারিতা
• ইপিবি
• ঢাকার বাইরের মোকাম ও ট্যানারি
• কাঁচা চামড়ার আড়ত
• ভাসমান ব্যাবসায়ী
• ভাসমান কর্মী
• চামড়া প্রক্রিয়ার সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট
• ব্লু ওয়েট
• ব্যাঙ্ক লোন ও পরবর্তী পরিস্থিতি
• ব্যাবসায়ীদের মুখ ফিরিয়ে নেয়া/ রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ
• অতিরিক্ত মুনাফালোভীদের চক্রান্ত
• অব্যাবসায়ীদের এই ব্যাবসায় পুঁজি বিনিয়োগ
• স্থানীয় ও বিশেষ এলাকার লোকদের দ্বন্দ
• কারখানাগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়া
• এক্সপোর্ট প্রোমোশন জোন গুলোতে দেশী চামড়া প্রায় ব্যাবহার না করার প্রবণতা।
• রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ট্যানারি দখল
• সরকারের অদক্ষনীতি ও তেলবাজী
• ব্যাক ওয়ার্ড লিঙ্কেজ
• এক্সেসরিজ, কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামালের জন্য বিদেশ নির্ভরতা
• সরকারি প্রণোদনা আত্মস্বাদের প্রবণতা
• ঢাকার বাইরের মোকাম ও ট্যানারি
• কেমিক্যাল(চামড়া প্রক্রিয়াজাত করনে বাংলাদেশ ও ভারতের কস্টিং-য়ে বিশাল ফাঁক)
• লবন-ই করন। চামড়া সংরক্ষন
• অদক্ষ কারিগর ও টেকনিক্যাল হ্যান্ড
• প্রয়োজনীয় মেশিনারিজের সল্পতা ও অত্যাধুনিক মেশিনারিজের প্রতি অনাগ্রহতা
• অল্প কিছু ব্যাবসায়ীর ব্যাবসা কুক্ষিগত করে রাখা
• যোগাযোগ স্থাপন ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময় না করার জন্য নতুন উদ্যোক্তা সৃস্টিতে বাধা
• স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যাবসায়ীদের ভ্যাট ও আয়কর বিভাগ কত্তৃক চরম হেনস্থা!
• জুতা শিল্পে বিহারিদের দৌরাত্ব
• ভারতের আগ্রাসন
• বন্ধু চীনের অ-বন্ধু সুলভ আচরন ও চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রন
• শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভিয়েতনামের মত দেশের আবির্ভাব
• বিদেশী ব্র্যান্ডগুলোর আমাদের দাবিয়ে রাখার প্রচেষ্টা
• রপ্তানীতে জালিয়াতি
• জাপানিজ ব্যাবসায়ীদের সাথে প্রতারণা
• চামড়া আমদানি
• চামড়া ও চামড়াজাত পন্যের তিনটা সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব।
• সংগঠনের নেতাদের ছোট ব্যাবসায়ীদের কোনঠাসা করে রাখার প্রবনতা ও বিদেশী ক্রেতা দখলের প্রতিযোগীতা।
• চামড়া শিল্পে সৃষ্টিশীলতার অভাব- অন্যের ডিজাইন চুরি ও কপি করার প্রবণতা।


আর সবশেষে আলোচনা করব যে সকল বিষয় নিয়ে তা হলঃ

• মি. বাউয়ার- বাংলাদেশের চামড়া ব্যাবসার ভবিষ্যত নিয়ে এক জার্মানি বিশেষজ্ঞের অভিমত।
• চামড়া শিল্পে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্থানের তুলনামুলক চিত্র( সংক্ষিপ্ত আকারে)
• বিশ্ববাজারে চামড়ার চাহিদা ও এর যোগান(সংক্ষিপ্ত)
• কেন আমাদের চামড়ার চাহিদা বিশ্ব বাজারে এখনো আছে
• বিভিন্ন শিল্পে পশুর হাড়, শিং ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট অংশের ব্যাবহার

সবশেষে- বিষয়ঃ এখনো ঘুরে দাড়ানোর সময় আছে- ব্লগারদের সাথে নিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে; আমাদের মতামত ও বিশ্লেষন
(আশা করি চামড়া শিল্পের এই ভয়াবহ দুরবস্থায় আমরা দেশের কথা ভেবে এই শিল্পের উন্নয়নে সবাই কিছু মতামত শেয়ার করব। দয়া করে সহযোগীতা করুন।)
---- চলবে
পরের পর্বের জন্যঃ Click This Link


-শেরজা তপন
ছবিঃ নেট

মন্তব্য ২৬ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (২৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৫৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



শেষ বাক্যে আপনি কি বলতে চেয়েছেন, ব্লগারেরা কি চামড়ার ব্যাপারে কিছু করতে হবে, কোন প্রতিবাদ ইত্যাদি (এক খাতারে? )?

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:১৩

শেরজা তপন বলেছেন: ভাই আমি কি বলতে চেয়েছি- সেটা না বোঝার মত সল্প বুদ্ধির লোক আপনি না!!
তারপরেও বলিঃ এই পর্বটা মুল সিরিজের একটা অংশ মাত্র। এরপরে অনেক আলোচনা বাকি। এই ব্লগে অনেকেই থাকতে পারেন কিছু কিছু বিষয়ে আমার থেকে অনেক ভাল জানেন বোঝেন। চামড়া শিল্পের উন্নয়নে তাদের মতামত চেয়েছি আমি?
তারপরেও যদি না বোঝেন- তাহলে আমার আর বোঝানোর ক্ষমতা নাই ... মাফ কোরে ডিয়েন

২| ০৫ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৫৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


করোনার ঈদের দিনে( ১ দিনে) ১কোটীর কাচাকাছি চামড়া বাজারে এসেছে, ইহা হ্যান্ডলিং করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ( সরকার ও ব্যবসায়ীরা মিলে) নেয়া হয়নি।

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:১১

শেরজা তপন বলেছেন: কেন নেয়া হয়নি বা কেনই এমন হল? সেই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই তো আজকের এই লেখা; সাথে থাকবেন দয়া করে
ভাই। কোন পরামর্শ থাকলে দিয়েন?

৩| ০৫ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৫৯

অশুভ বলেছেন: যদিও এই শিল্প সম্পর্কে আমার কোনো অভিজ্ঞতা নাই বা জানাশোনাও নাই। তবে এটুকু বলতে পারি, ৬-৭ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে এটি সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে আছে। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে দেখতাম কোরবানীর শেষে সবগুলো চামড়া জড়ো করে রাখা হতো। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে এক/দুইজন ব্যবসায়ী দরদাম ঠিক করে চামড়াগুলো নিয়ে যেত। এরপর দেখলাম, লাভের আশায় অনেক লোকই এই ব্যবসায় হাত দিয়েছে। যারা মূলত ছিল মোসুমী ব্যবসায়ী। তখন চামড়ার দাম হু হু করে বেড়ে গেল। আবার বিগত কয়েকবছর ধরে কেউ তো চামড়া নিতে আসেই না বরং যে দু-একজন ব্যবসায়ী আছে তাদের কাছে চামড়া পৌছে দিতে হয়। তবুও তারা নিতে চায় না।
সাথে আছি, অন্তত নতুন কিছু জানার জন্য।

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:৫৭

শেরজা তপন বলেছেন: সেই কথাগুলোই বলতে চাচ্ছি। কেন এরকম হল- হঠাত করে চামড়ার দামের ভয়ঙ্কর পতন কেমনে হল? এটা দু-চার দশদিনের বিষয় নয়; এর পেছনের ইতিহাস বেশ বড়। বাংলাদেশের চামড়ার বাজার ফের ঘুরে দাড়ানোর সম্ভাবনা কম-তবুও চেষ্টা করলে ফের সেই সুদিন ফিরে আসতে পারে।
সাথে থাকুন আমি চেষ্টা করছি-আমার বুদ্ধির ও জানার সীমা যতটুকু ততটুকু জানাতে

৪| ০৫ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:১৯

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
তাহলে এখন কি এখন সব ধরনের জুতার দাম ও চামড়াজাত জিনিসপত্রের দাম কমে যাবে ?
অনেক কম দামে আমরা পাব এই সমস্ত জিনিস গুলো বাজার থেকে?

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০১

শেরজা তপন বলেছেন: সাজ্জাত ভাই, ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। আমি একটা করে বিষয় ধরে আলোচনা করি- তারপর বুঝবেন আসল খেলাটা কোনখানে?
আমি চাইলে অনেকের মুখোশ উন্মোচন করতে পারি- কিন্তু ক্ষুদ্র মানুষ, সাধ আছে সাধ্য নাই!
দয়া করে সাথে থাকবেন

৫| ০৫ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৯

আকন বিডি বলেছেন: লিখুন বস।কিছু যেন জানতে পারি।

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:৪০

শেরজা তপন বলেছেন: তাইতো লিখতে চাচ্ছি ভায়া। জানিনা কতদুর পারব? ধৈর্য আর সময়ের সমস্যা। তবে শুরু যখন করেছি- বেঁচে থাকলে একদিন শেষ হবেই। আপনারা সাথে থাকলে অবশ্যি এগুবে

৬| ০৫ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৯

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: দারুন উদ্যোগ।

স্যালুট।

এমন আত্শঘাতি জাতি বিশ্বে বুঝি আর ২য়টি নেই। নিজের বৃহত, সামগ্রিক, জাতিগত স্বার্থ ছেড়ে
ব্যাক্তিক, কতিপয়ের জন্য পুরা জাতির স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া হয়।

অসহায় কিছু মত প্রকাশ লিংক দিলাম - যদি একটা লাইনও কোন কাজে লাগে

কোরবানির চামড়াঃ একটি এসো নিজে করি প্রজেক্ট
গরুর চামড়ার তেহারী (অসহায় রম্য)

গরিব ঠকানো চামড়া বানিজ্য এবং নিরব আমরা !!

এতিমের চামড়া

বিক্রি করতে না পেরে ছাগলের চামড়া পদ্মা নদীতে নিক্ষেপ

পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় - - -

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:৪৩

শেরজা তপন বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু ভাই, আপনার মন্তব্য পড়ার জন্য আমি সব সময় মুখিয়ে থাকি। আপনার মন্তব্য মানেই অন্য কিছুর স্বাদ।
অবশ্যি লিঙ্কের দেয়া লেখাগুলো পড়ব।
আত্মঘাতী জাতিঃ শতভাগ ঠিক কথা।
অনেক অনেক ধন্যবাদ- সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন নিরন্তর

৭| ০৫ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৪৩

রাজীব নুর বলেছেন: কঠিন একটা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। অনেক কিছু জানতে পারলাম।

০৫ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:৪৩

শেরজা তপন বলেছেন: জ্বী ভাই বিষয়টা একটু কঠিন-ই।তবে চেষ্টা করছি সহজ ভাবে বর্ণনা করার জন্য। পরের পর্ব-গুলোতে সাথে থাকবেন এবং এই সাথে আপনার মুল্যবান মতামত শেয়ার করবেন এই আশায় রইলাম...

৮| ০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৪০

মা.হাসান বলেছেন: বোল্ড করা বিষয়গুলোর কয়েকটা একাধিকবার এসেছে। এর প্রতিটা বিষয় নিয়েই আলাদা পোস্ট হতে পারে। সমস্যা হলো- আমরা ব্লগার, কিবোর্ড-মাউস নিয়ে কি যুদ্ধ করবো? যাদের হাতে করার ক্ষমতা তাদের আগ্রহ কম।

দেশে কোনো সিলিকন চিপ প্রডিউসিং কারখানা নেই, কিন্তু সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইইই ডিপার্টমেন্ট আছে। দেশে বছরে প্রায় ১ কোটি পিস গরুর চামড়া এবং দেড় কোটি পিসের মতো ছাগল-ভেড়ার চামড়া বাজারে আসে, কিন্তু লেদার টেকনোলজির কলেজ একটা।

এবছর ছাগলের চামড়া ২টাকা পিসও বিক্রি হয়েছে (কিছু নর্দমা-নালা-নদিতেও ফেলা হয়েছে)। কুটির শিল্প চালু হলে লাখ লাখ বেকার ছেলে-মেয়ের কর্ম সংস্থান হওয়া সম্ভব।

লবনই করন প্রসঙ্গ আলোচনার সময়ে আশা করি লবনের অসাধু সিন্ডিকেটের কথা আলোচনা করবেন।

বানিজ্য মন্ত্রনালয়ে শুধু চামড়ার জন্য আলাদা সেল থাকা দরকার ছিলো।
পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

০৬ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:০৬

শেরজা তপন বলেছেন: ১।বোল্ড করা বিষয়গুলোর কয়েকটা একাধিকবার এসেছে; কিছু ঠিক করেছি। আরো থাকলে বলবেন?।
২।এর প্রতিটা বিষয় নিয়েই আলাদা পোস্ট হতে পারে। সমস্যা হলো- আমরা ব্লগার, কিবোর্ড-মাউস নিয়ে কি যুদ্ধ করবো? যাদের হাতে করার ক্ষমতা তাদের আগ্রহ কম; আমি সেটাই বলতে চাই। যাদের কাছে এসব কথা পৌছানোর দরকার তাদের কাছে কখনো পৌছাবে না আর পৌছালেও তারা গুরুত্ব দেবে না।
৩। দেশে কোনো সিলিকন চিপ প্রডিউসিং কারখানা নেই, কিন্তু সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইইই ডিপার্টমেন্ট আছে; এইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৪।দেশে বছরে প্রায় ১ কোটি পিস গরুর চামড়া এবং দেড় কোটি পিসের মতো ছাগল-ভেড়ার চামড়া বাজারে আসে, কিন্তু লেদার টেকনোলজির কলেজ একটা; এই বিষয় ও আমার আলোচনায় থাকবে। অদক্ষ কারিগর ও এক্সপারটিজে।
৫।লবনই করন প্রসঙ্গ আলোচনার সময়ে আশা করি লবনের অসাধু সিন্ডিকেটের কথা আলোচনা করবেন; এই বিষয় নিয়ে আমার ধারনা কম তার পরেও থাকবে।

৬।বানিজ্য মন্ত্রনালয়ে শুধু চামড়ার জন্য আলাদা সেল থাকা দরকার ছিলো; মি বাউয়ার আমাকে সেটাই বলেছিলেন ২০ বছর আগে।

ধন্যবার ভাই আপনাকে আপনার সু-চিন্তিত মতামতের জন্য।
আশা করি প্রতিবার আপনি নেমন নতুন নতুন কিছু বিষয় উত্থাপন করে আমার আলোচনায় সহযোগীতে করবেন।
ভাল থাকুন।

৯| ০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:৪৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আগের চেয়ে রপ্তানি কমে গেছে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে। কিছু ক্রয়াদেশ হারিয়েছে ট্যানারিগুলি।

০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:২৭

শেরজা তপন বলেছেন: অনেক অনেক কমে গেছে। কিছু ব্যাবসায়ী এই ব্যাবসা ছেড়ে দিয়েছেন। কিছু ওখানে জমি নিয়ে অন্যকে ভাড়া দিয়েছে( গোপন চুক্তিতে)
সাথে থাকবেন - এক এক করে আমি আসব সব বিষয়ে। ফাঁকে একটু পরামর্শ ও দিয়েন

১০| ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৩:৪৭

সাফকাত আজিজ বলেছেন: লেখাটা প্রিয়তে রাখলাম...

০৯ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১০:০৬

শেরজা তপন বলেছেন: ধন্যবাদ আজিজ ভাই লেখাটা প্রিয়েতে রাখার জন্য। আমার ধারনা এবং বিশ্বাস আপনি দেশকে খুব ভাল বাসেন( আপনার ব্লগে গিয়ে তেমনটা বুঝলাম)।
লেখায় যে কোন মতামত দিবেন- আপনার যেকোন প্রশ্ন থাকলে করবেন। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বাংলাদেষের ইতিহাসে সবচেয়ে যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় প্রবন্ধ হিসেবে এটাকে উপস্থাপন করা- সেজন্য আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য!
ভাল থাকুন সবসময়

১১| ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:০৫

মা.হাসান বলেছেন: লবনের সমস্যা- টেকনাফ এলাকায় হাজার হাজার কৃষক লবন চাষের সাথে জড়িত। এমনও সময় গেছে, কয়েক বছর আগে, এরা আন রিফাইন্ড লবন ৫০ পয়সা কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে লবনের দাম ২০০ টাকা মনের নিচে। উল্লেখ্য, এখন কৃষকরা পলিথিন পদ্ধতিতে লবন চাষ করে বলে লবনে মাটির পরিমান নেই বললেই চলে। এই লবন চারটাকা-পাঁচ টাকা কেজি দরে কিনে মিল গুলো ৩৫ টাকা কেজি দরে আমাদের কাছে লবনের প্যাকেট বিক্রি করে-- যদিও আয়োডিন, প্ল্যান্ট- অনেক কিছুই ইউনিসেফের কাছ থেকে নাম মাত্র দামে পাওয়া।
বর্তমানে দেশে লবনের চাহিদা আনুমানিক ১৬ লাখ টনের মতো, উৎপাদন ১৮ লাখ টনের মতো (বছরে)। এর পরেও বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের একটি সিন্ডিকেট সোডিয়াম সালফেটের নামে ইন্ডিয়া থেকে কম দামে খাদ্য লবন কিনে এনে বাজার সয়লাব করে দেয় , আমাদের কৃষকরা দাম পায় না, আবার কোরবানির ঈদের আগে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফেলে, ফলে চামড়া সংরক্ষনকারিদের ২০ টাকা কেজি দরেও লবন কিনতে দেখেছি।

https://www.thedailystar.net/backpage/news/tears-salt-farmers-1875991

এই লিংকের লবন চাষিদের কষ্টের কিছু কথা পাবেন। ঈদের সময়ে লবনের দাম বাড়ার কথা আপনার জানা থাকার কথা, ঐ বিষয়ে আর লিংক দিলাম না।
অনেক শুভ কামনা।

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:২৯

শেরজা তপন বলেছেন: আপনাকে পেয়ে যে কি ভাল লাগছে ভাই।
এই ধরনের বিশাল প্রেক্ষাপট ও বড় কলেবরের লেখায় আপনার মত গুণী কারো সহযোগীতা ছাড়া নিখুতভাবে লেখা একেবারেই অসম্ভব!
আমি আমার প্রতিটা পর্বে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি অনুরোধ করছি-কিছু জানা থাকলে বা আমার লেখায় ভুল থাকলে একটু সহযোগীতা করার জন্য।
আরো কিছু বিজ্ঞ ব্লগার সহ আপনি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় আমি নিজেকে দারুন সৌভাগ্যবান মনে করছি

সামনে অনেকগুলো পর্ব আছে। এর পরের পর্ব দেবার আগে আচমকা আকিজ স্যু ও এস বি ট্যানারির মালিক জনাব মোমিন মারা যাওয়ায় ট্যানারি শিল্পে যে বিশাল শুন্যতা সৃষ্টি হল তা ভেবে চরম মন খারাপ। পরের পর্বটা তাকে উৎসর্গ করব বলে কন্টেন্ট কালেকশনের চেষ্টায় আছি।

চামড়ার লবনীকরন নিয়ে অবশ্যি কিছু লিখব- সেখানে আপনার দেয়া লিঙ্ক ও লবন সমস্যা বিষয়ক মতামত অবশ্যি অন্তর্ভুক্ত হবে।

ভাল থাকুন ভাই- পরের পর্বগুলোতে সাথে থাকবেন।

১২| ০৯ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১১:০৪

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: সব পর্ব পড়ার চেস্টায় আছি----

০৯ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১১:২৬

শেরজা তপন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ এত বড় একটা কঠিন কর্ম হাতে নিয়েছেন বলে :)

গল্প উপন্যাস হলে সমস্যা ছিলনা

১৩| ১৭ ই জুলাই, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




চোখের সমস্যার কারণে বড় আকারের কোন লেখা পাঠে কিছু দিন বিরত ছিলাম ।
কারণ একটু বেশী ক্ষন লাগিয়ে তাকিয়ে লেখা পাঠ করলে চোখে খচ খচ করে
পানি ঝড়ে। তাই চোখের ডাক্তারের পরামর্শে আই ড্রপ নিচ্ছিলাম নিয়মত ।
ইত্যাকার বিবিধ কারণে , এই মুল্যবান পোষ্টটি পাঠ করা হয়ে উঠেনি ।
এই পর্বের লেখায় চামড়া পক্রিয়াকরণ সম্পর্কে কারিগরী দিকগুলি
খুব সুন্দর ভাবে উঠে এসেছে। এর সাথে যুক্ত বিভিন্ন ধরনের
প্রতিকুলতা সসাথে ট্যানারী মালিকদের বিবিধ মানসিকতা
যথা -গরু মহিষ , ছাগল, ভেড়ার চামড়া পক্রিয়াকরনে
অনিহা বা অবিবেচনমুলক বাছবিচার প্রভৃতি দিক
নিয়েও কথা মালা উঠে এসেছে দারুন ভাবে ।
পর্বাকারে লেখার জন্য পোষ্টেরশেষাংশে
যে তালিকাটি দেয়া হয়েছে তা খুবই
আশাপ্রদ। ধারণা করছি ঐগুলির
উপর আপনার মুল্যবান পোষ্ট
গুলি হতে আমরা চামড়া
শিল্পের বর্তমান হাল
হকিকত ও বিপর্যয়
সম্পর্কে একটি
ভাল ধারনা
পাবই ।

পরের পর্বগুলি পাঠে চললাম ।
পোষ্টি প্রিয়তে তুলে রাখলাম।

শুভেচ্ছা রইল ।

১৯ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১১:৩৩

শেরজা তপন বলেছেন: ডঃ এম আলী ভাই,
চোখের সমস্যার পরেও আপনি এত কষ্ট করে আমার লেখাটি পড়ে দারুন উতসাহব্যাঞ্জক মন্তব্য করার জন্য আপনার প্রতি ফের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা রইল।
তথ্যগত পর্যালোচনা ও বাস্তব অবস্থার যে বিশাল ফারাক আমি আম্র লেখায় সেটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আপনি আপনার লেখায় তথ্যগত দিকগুলো বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে যে সুদীর্ঘ ও বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করেছেন সেটা আমার এই লেখা শুরুর আগে দুর্ভাগ্যবশত দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। আপনার লেখাটা আরো আগে পড়লে আমার লেখার উতকর্ষতা আরো বেশ খানিকটা বাড়ত বলে আমি মনে করি।
আপনার দীর্ঘ নিবন্ধে শুধু কাঁচা চামড়া এক্সপোর্ট নিয়ে যে সকল পর্যালোচনা,প্রতিবন্ধকতা ও ডকুমেন্টাল প্রসেসিং নিয়ে যেভাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন সেটা সত্যি অভাবনীয়। এ বিষয়ে আপনার গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ফুটে উঠেছে।
প্রতিটা সেক্টর ধরে ধরে এবং এর গভীরে ঢুকে যেভাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন সেটা দারুন প্রশংসার দাবি রাখে।
তথ্যগত বিষয়ে আমার জ্ঞান অতি সীমিত- শুধুমাত্র কিছু ডকুমেন্ট ও অর্ন্তজাল ই ভরসা- যেসব স্থানে সর্বোপরি কোন বস্তুনিষ্ঠ ও একদম অথেনটিক তথ্য আশা করা বাতুলতা মাত্র।
বাংলা ভাষায়( অন্য ভাষায় ও) আমার দখল ভীষণ কম। ভাষাগত এত কম দক্ষতা নিয়ে এমন বিশাল পরিসরে আলোচনা করা বেশ কঠিন। আমি চেষ্টা করেছি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আলোচনা করার। ভুল-ভ্রান্তি থাকলে সেটা ক্ষমাসুন্দর দৃশটিতে দেখবেন।
দেশকে ভালবেসে আমরা হয়তো দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্লগে সুদীর্ঘ আলোচনা করতে পারি কিন্তু আদৌ সেটা দেশের উন্নয়নের জন্য কোন কাজে আসবে কিনা সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কেননা হর্তাকর্তাদের এই সব আলোচনা পর্যালোচনা দৃষ্টিগোচর হবে কিনা সন্দেহ থেকে যায়।
তবু আমাদের ক্ষুদ্র সামর্থ দিয়ে পরিচিত মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। দেশের প্রতি আমাদের কতটা পালন করতে পারছি জানিনা তবুও চেষ্টা যে চালিয়ে যাচ্ছি এটাই বা কম কি।
আপনার মন্তব্য সবসময়ই আমাকে দারুনভাবে উজ্জীবিত করে আরো ভাল কিছু লেখার জন্য। সামু ব্লগে আপনার মত ঋদ্ধ ব্যক্তিত্ত্বের খুব প্রয়োজন। আশা করি আমাদের সাথে এভাবেই সবসময় থাকবেন। ভাল থাকুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.