নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শেরজা তপন

অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...

শেরজা তপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাবনিক-দ্বিতীয় খন্ড~ শেষ পর্ব

১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৪৩


আগের পর্বের জন্যঃ Click This Link
সেরিমেতোভা এয়ারপোর্ট থেকে এরোফ্লোতের মাঝারি মাপের বিমানটা কিছুক্ষণ আগে উড্ডয়ন করেছে। সৌম্য সিট বেল্ট বাঁধা অবস্থায় সামনে ঝুঁকে ঘাড় উঁচিয়ে শেষবারের মত মস্কো শহরটাকে দেখার চেষ্টা করছে। সন্ধ্যে নামছে সবে-বরফের চাদরে মোড়া বিশাল এই শহরটাকে খানিকটা ঝাপসা দেখা যাচ্ছে-ভুতুড়ে মনে হচ্ছে। প্রথম দিন বিমান ল্যান্ড করার পুর্ব মুহুর্তে এই শহরের এমন নিষ্প্রাণ , ঘোলাটে, প্রায় নিশ্চল প্রায় ঘোলাটে শহরটাকে দেখে ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিল-তার বার বার মনে হচ্ছিল এটা সেই শহর নয় যেখানে তাঁর আসবার কথা। বিমানটা হয়তো ভুল করে সাইবেরিয়াতে বা অন্য কোন শহরে চলে গেছে। যে শহরের স্ট্রিট বাতিগুলো মোমবাতির মত টিম টিম করে জ্বলছে রাস্তায় বরফে মোড়া দুয়েকটা কিম্ভুত আকৃতির গাড়ি অতি মন্থর গতিতে চলছে। সমগ্র শহড় জুড়ে একটুখানি সবুজের রেশ নেই। এয়ারপোর্টের বরফগুলো বিমানের চাকায় পিষ্ট হয়ে আর কাদা মাটিতে ধুসর রঙ ধারণ করে পুরো পরিবেশটাকে আরো বেশী ভৌতিক করে রেখেছে।
সেদিন সৌম্য কোনমতেই এ শহরে নামতে চায়নি- মনে প্রাণে ফিরে যেতে চাইছিল তাঁর আপন আলয়ে।বার বার চোখ বন্ধ করে নিজেকে চিমটি কেটে ভাবতে চাইছিল এটা সত্যি নয় দুঃস্বপ্ন।
এয়ারপোর্টে নেমে বাইরের মাইনাস পঁচিশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় হালকা ঝড়ো হাওয়ার বাতাসের ঝাপটায় সত্যিকারে হাড়-কাঁপুনি শীত অনুভব করছিল। এয়ারপোর্টে ওকে যে এজেন্ট রিসিভ করতে এসেছিল তাঁর হাত-পা ধরে মিনতি করেছিল আমাকে ফিরতি ফ্লাইটে দেশে পাঠিয়ে দেন আমি এই দেশে আর এক দণ্ড থাকব না।
সেদিন কি ঘুণাক্ষরেও জানত সে বাইরে থেকে দেখা ধুসর এই শহরের ভিতরে এত রঙ, উচ্ছ্বাস উচ্ছলতা লুকিয়ে আছে!
আজ এই শহরটার জন্য বড্ড মন কাঁদছে-কোন মতেই ফিরে যেতে চায়নি সে।মাত্র দু’বছরে এই দেশটা যেন জনম জনমের আত্মিক সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে।
খবর এসেছে সৌম্যের মা ভীষণ অসুস্থ- তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার গুরুত্ব অনুধাবন করে সৌম্য আগ-পিছু না ভেবে প্রায় এক কাপড়েই বেশী পয়সা দিয়ে টিকেট কেটে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মার বাবা সীতাকুণ্ডের বেশ কেউকেটা ধনবান মানুষ। ভাটিয়ারীর প্রথমদিককার জাহাজ-ভাঙ্গা ব্যবসায়ীর তিনি একজন। এছাড়া খাতুন-গঞ্জেও তাঁর পাইকারি মালের বেশ কয়েক খান আড়ত আছে।
আমরা দুই ভাই এক বোন। ভাইবোনের সবার ছোট আমি। আমার বাবার ইচ্ছে ছিলনা আমরা ভাইয়েরা জাহাজ-ভাঙ্গা ব্যাবহার সাথে যুক্ত হই। তিনি চেয়েছিলেন আমরা দু ভাই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অন্য কোন ভদ্রস্ত ব্যবসায় যুক্ত হই। কিন্তু আমার বড় ভাই পড়াশুনায় বেশী এগুতে না পেরে অবশেষে বাবার পুরনো ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে।
শেষমেষ মা-বাবার শেষ ভরসা ছিলাম আমি। জন্ম থেকেই দেখে এসেছি অফুরন্ত টাকার ঝনঝনানি। আমার কোন কিছুর অভাবই কখনো অপূর্ণ থাকেনি।তবে পড়াশুনায় ফাঁকিবাজি করলেও বেশ মেধাবী ছাত্র নাকি আমি। প্রথম শ্রেণীতে ইন্টার পাশ করার পরে আমার বাবার খায়েশ হল আমাকে বিদেশে পড়াতে পাঠাবে। আমিও বেশ লাফালাম। কিন্তু স্কলারশিপ বা ভাল ভার্সিটিতে ভর্তির জন্য টোফেল বা জি ম্যাট করার মত ধৈর্য-ইচ্ছা কোনটাই আমার ছিল না।
আমার তখন ধান্ধা যেন তেনভাবে পয়সা দিয়ে কোন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে দেশ ত্যাগ করা। তবে ইউরোপ আমেরিকায় না হলে ইজ্জত থাকে না তাই ওসব দেশে যাবার চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করলাম।
সব চেষ্টায় বিফল হয়ে যখন চরম হতাশায় আমি ঠিক তখন আমার এক বন্ধু রাশিয়ার খবর দিল। সব শুনে পারলে তক্ষুনি আমি রাশিয়ায় ছুটে যাই।
কিন্তু বাধ সাধলেন আমার বাবা। কম্যুনিস্টদের দেশে বিশেষ করে একেবারেই অপরিচিত কোন পরিবেশে তিনি আমাকে যেতে দিবেন না। আমার মাকে কে যেন কান পড়া দিয়েছিল ওদেশে গেলে আমি নাকি নাস্তিক হয়ে যাব! আমার বড় ভাই ও রাজী নয়। সে এদিক ওদিক থেকে খবর এনে বুঝে গেছে আদপে আমার উদ্দেশ্য কি!
প্রথমে আমি একা লড়াই চালালাম পরে ভুজুং ভাজুং দিয়ে বড় আপাকে সঙ্গী করলাম। আমার বাবা আবার ভীষণ মেয়ে অন্তঃপ্রান। তাঁর কথা ফেলতে পারেন না। অবশেষে আমার জেদ আর বড় আপার চেষ্টায় সবাই নিম রাজী হোল।
পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে মস্কোতে এসেছিলাম। দু’বছরে বহু চেষ্টায় তাঁর অর্ধেকেও খরচ করতে পারিনি। ভুঁইফোড় একটা ইনিস্টিটিউট থেকে টাকার বিনিময়ে দুইবার ভিসা এক্সটেন্ড করিয়েছি।
ফেরার পথে পকেটে আমার এখনো হাজার তিনেক ডলার। আহা-হা এই টাকা দিয়ে আরো বছর দু’য়েক আয়েশ আর ফুর্তিতে কাটিয়ে দিতে পারতাম।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
সৌম্যের হুট করে রাশিয়া ছেড়ে যাবার জন্য চরম মন খারাপ হলেও- মায়ের জন্য ভীষণ উৎকণ্ঠা হচ্ছে। মা তাকে ও সে তাঁর মাকে প্রচণ্ড ভালবাসে। এখানে আসার পরে বার বার উপলব্ধি করেছে মায়ের অভাব।
তবে চোখমুখে দারুণ এক প্রশান্তি তার। ফেরার আগে সম্ভবত মহৎ এক কর্ম করে এসেছে সে আনন্দে।এয়ারপোর্টে ববি তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করল বেশ কিছুক্ষণ- মনে হচ্ছিল মায়ের পেটের ভাইকে চির বিদায় দিচ্ছে। রণি ভাই ও বেশ বিষণ্ণ বা মন খারাপের ভান করছে। তবে আমি জানি, আমি যতদিন উক্রাইন বা রাশিয়ায় থাকব ততদিন তাঁর মাথায় অনবরত অমঙ্গলের কাঁটা খোঁচাবে। মস্কোর আরো কিছু বন্ধু এসেছিল- প্রায় সবাই মাতাল। প্রত্যেকের চেহারায় সত্যিকারের বেদনার আভাস। এর আগে সম্ভবত কোন বন্ধুকে কেউ মস্কো থেকে দেশে বিদায় দেয় নি।
ববি আর এলিনার সাক্ষাৎ টা আমিই নিজে যেচে করিয়েছিলাম খুব আগ্রহভরে। রনী ভাই ববির জন্য যে রকম পাত্রী খুঁজছেন এলিনা অনেকটা সেই টাইপের। আর এলিনা কোন বাঙ্গালী ছেলেকে বিয়ে করতে চাইলে ববি পারফেক্ট। আমার ধারনা ও ববিকে মানুষ করতে পারবে। এলিনা ববির সাথে প্রথমে হাই হ্যালো করেছিল শুধু কিন্তু একেবারেই পাত্তা দেয়নি। ববির মত একজন সুদর্শন বাকপটু বাবনিকের বেশ আঁতে লেগেছিল। সে যেন কঠিন পণ করেছিল যে ভাবেই হোক এলিনাকে পটাবেই।
ওদিকে ওর প্রতি এলিনার নিস্পৃহভাব আর আমাকে ফিরে পাবার আকুতি ববিকে যেন উন্মাদ করে ফেলল।
আমার ভীষণ অবহেলা আর ববির চরম একাগ্রতায় অবশেষে বরফ কিছুটা গলেছে।
বন্ধুর জন্য এমন একটা কিছু করতে পারায় আমি চরম প্রীত আনন্দিত ও গর্বিত। তবে ফেরার আগে ববিকে প্রতিজ্ঞা করিয়েছি, ‘এ মেয়েকে সে বিয়ে করবে’

~ প্রথম পর্বের জন্যঃ Click This Link

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:১৯

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: এক বাবনিক ছেড়ে দিয়ে অন্য বাবনিকের হাতে তুলে দিয়ে গেল। এটা কিছু হলো!
পরের খণ্ডের অপেক্ষায়।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩৭

শেরজা তপন বলেছেন: হাঃ হাঃ বিষয়টা না হয় অন্যভাবে দেখি আমরা এক বন্ধু তাঁর প্রিয়তমাকে অতি প্রিয় বন্ধুর হাতে তুলে দিল- যাতে তারা বিয়ে করে
সুখে দিনাতিপাত করতে পারে :) কত বড় একটা সেক্রিফাইস নয় কি?

আমি জানি কিছুই হয় নি তবে যেটা সত্যি সেটাই হল।

অনেক ধন্যবাদ ভ্রাতা বরাবরের মত মন্তব্যে অনুপ্রাণিত করার জন্য।

২| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৫৮

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
আমি এই সিরিজটার এই পর্বটাই পড়লাম। ভালো লাগলো++++ এটা কি নিজের জীবনের কাহিনী নাকি শুধু গল্প।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪৩

শেরজা তপন বলেছেন: মাত্র একটা পর্ব পড়লেন- বড়ই দুর্ভাগ্য আমার, বাকিগুলোতে আপনার সঙ্গ পেলাম না :)

স্থান কাল পাত্রের একটু পরিবর্তন বাদে এই সিরিজের ৮০/৯০ ভাগ সত্য ঘটনা! তবে ঘটনাগুলো আমার আশেপাশে ঘটেছে- এখানে থার্ড পারসন হিসেবে কোথাও কোথাও আমার অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
বাকি পর্বগুলো পড়ার আমন্ত্রন রইল। অনেক ধন্যবাদ।

৩| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৪:৪২

জুন বলেছেন: সৌম্যের ফিরে আসায় কেমন একটা পরাজয়ের ভাব আছে। হয়তো সত্যি তার মা অসুস্থ, কিন্তু যে ভাবে সে এলিনাকে ববির হাতে গছিয়ে দিয়ে আসলো তাতে তার মাঝে ফিরে যাওয়ারও কোন আকুলতা দেখলাম না। এক পরাজিত বাবনিকের রাশিয়ার কিচ্ছা কি শেষ হলো শেরজা তপন? নাকি আরও চমক আছে??
অনেক অনেক ভালো লাগা রইলো। প্লাস দিয়ে গেছি আগেই।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪৭

শেরজা তপন বলেছেন: আসল গল্পের তো শুরু হোল আপু- তবে সৌম্যের বয়ানেই হবে সব কথা কিন্তু গল্পটা হবে ববিকে নিয়ে। যিনি মুল বাবনিক।

সৌম্যের ওই বয়সে মানুষ আদর্শগতভাবে অতটা দৃঢ় হয়না। বয়স বাড়ে ধীরে ধীরে ব্যাক্তিত্ত্ব বাড়ে আদর্শবান হয়।
সৌম্য তখন চঞ্চল দুরন্ত বা অস্থিরমনা! এসব নিয়ে গভীরভাবে ভাবেনি হয়তো সে- তাই উপলব্ধি করেনি তেমন করে। তবে ধীরে ধীরে হবে
অনেক ধন্যবাদ- ভাল থাকুন আপু

৪| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৫:২৭

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: মায়ের সাথে নারীর টান। এখন মায়ের কাছে যাবো গ্রামের বাড়িতে। অসুস্থ বাবাকে দেখতে। এর চেয়ে পূণ্যের কাজ এখন আর নেই। পিতা মাতা বোন সন্তান প্রিয়তমা তালিকা বেশি বড় নয়তো । :)


সুন্দর।+

১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৬

শেরজা তপন বলেছেন: ঠিক বলেছেন- তবে তাঁর বাবা অসুস্থ নয়। মায়ের অসুখের খবরেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছে সে।
অনেকদিন পরে আপনাকে পেলাম- অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ভাল থাকুন নিরন্তর

৫| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৫:৩৭

মনিরা সুলতানা বলেছেন: কিছু হইলো !!

১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪০

শেরজা তপন বলেছেন: সৌম্যের ফিরে আসা মানে গল্পের শেষ নয়। সবে গল্পটা শুরু হোল- তবে সৌম্য আর পাদ প্রদীপের আলোয় থাকছে না।
বরাবরের মত সাথে থাকার জন্য - অনুপ্রেরণা দেবার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। পরের পর্বগুলোতে সাথে থাকবেন সেই প্রত্যাশায় রইলাম।

৬| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪১

ইসিয়াক বলেছেন: পরের পর্বের অপেক্ষায়..... নিশ্চয় ভবিষ্যতে যা কিছু হবে সেটা সৌম্য আর এলিনার দুজনের জন্য ভালো কিছু হবে।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:০০

শেরজা তপন বলেছেন: হবে হয়তো সম্ভবত। আমরা আমাদের মত ভাবি- কিন্তু নিয়তি বাঁধা থাকে প্রকৃতির হাতে।
সব কিছু ভাল হইলে কতই না ভাল হইত।

* নিকের ছবি দেখি আগের ছবর সাথে একদম মেলে না -ঘটন কি???

৭| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:২০

ইসিয়াক বলেছেন: নিকের এই ছবি বাচ্চাকালের হা হা হা বুইড়া মানুষ কচি সাজবার সখ হইছে আর কি ;)

১৫ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৮:০৪

শেরজা তপন বলেছেন: বুইড়ারাইতো কচি সাজবার চেষ্টা করবে- কচিরা তো কচি-ই :)
থাক এইখান - ভাল লাগছে বেশ

৮| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:২২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: দেশ ছেড়ে প্রথম বার বিদেশ আসার পরে আমার মনে হয় ভাই সবারই এরকম অবস্থা হয়। আমিত প্রথমবার এসে কিযে কান্না পেত এবং দেয়াল ক্যালেন্ডারে প্রতিদিন দাগ কাটতাম আর ভাবতাম কবে দেশে যাব আর কিভাবে আপনজনদের ছেড়ে থাকব। সেই আমি দেখতে দেখতে ৬ বছর কাটিয়ে দিলাম। আসলেই জীবন যেন কেমন?৷ সৌম্য বাবনিক হলেও মানুষ, শেষে এসে তাই প্রমাণিত হল।।।। আর এলিনা? ওকে এত ভাল কে হতে বলেছে? যে জলে বাস করবে অথছ গা ভিজাবেনা বলে পণ করেছে।৷৷৷৷ তবে আমার আশংকা এখন এটাই বাঘ থেকে রক্ষা পেয়ে কুমিরের হাতে (এক বাবনিক থেকে অন্য বাবনিকের হস্তান্তর হচ্ছে কিনা) পড়ে কিনা।৷৷ সব মিলিয়ে আনন্দ- বেদনা মিলিয়ে ভালই লেগেছে। আর তাই দিয়ে দিলাম +++. যদিও এলিনার জন্য মনটা কেমন কেমন করছে আর ভাবছি :P আহা যদি সুযোগ হত - কিছু করতে পারতাম এলিনার জন্য।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৮:১১

শেরজা তপন বলেছেন: এলিনার প্রতি আপনার দরদ ভালবাসা আন্তরিকতা আমাকে আপ্লুত করেছে!
ওর জন্য হয়তো আর কিছু করার নেই- ওর সাথে যা ঘটে গেছে( পরের পর্বগুলোতে) সেটা রিকভার করা কোনমতেই সম্ভব নয় ভ্রাতা।
সৌম্যের মানবিক গুনাবলী আপনার চোখে ধরা পড়েছে সেটা ওই বদমাইশটার জন্য অনেক বড় পাওনা!
বাঘ থেকে কুমিরের হাতে- হতে পারে। অসম্ভব নয়।
পরের পর্বগুলোতে সাথে থাকবেন আর এভাবে অনুপ্রাণিত করবেন- সেই প্রত্যাশা রইল।

৯| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১১:৩৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: এমা! একি কাণ্ড! আপনি আমাদের কথা একবারও ভাবলেন না?সেই প্রথম থেকেই সৌম্যের সঙ্গে যে এলিনাকে পাঠক হিসেবে আমরা ভালোবেসে ফেলেছি তাদের কথা না ভেবে মায়ের অসুস্থতার কারণে সব ফেলে এসে আরেকজন মাতালের হাতে ফেলে আসাটা খুব স্বাভাবিক লাগলো না। ঘটনাটা হয়তো আরও প্রেমাঞ্চকর হতেই পারতো।এ যেন বিরিয়ানির সব উপকরণ প্রস্তুত রেখেও বিরিয়ানি না করে সাদা ভাত করার মতোই লাগলো। পোস্টে মাইনাস দিয়ে রাখলাম যতদিন না আবার এলিনার কোনো সন্তোষজনক খবর এনে না দেন।হেহেহে....

এটা তো গেল কাহিনী নিয়ে পাঠকের অতৃপ্ত মনোভাবের কথা।
অপরদিকে গল্পের নায়ক চরিত্র হিসেবে সৌম্যকে আগাগোড়াই খুব দুর্বল লেগেছে।আর সেই দূর্বলতাকে ষোলোআনা পূর্ণ করেছে তার দেশে ফেরার তাগিদের মধ্যে দিয়ে। বরং চূড়ান্ত মূহুর্তে নিজের ভার্জিনিটি রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টার মধ্যে দিয়ে এলিনার মনের কাঠিন্যতা প্রকাশ পেয়েছে। কিম্বা সামারে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামে চলে যাওয়ার সময় নিজের ব্যথাতুর হৃদয়কে অবলোকন করার মধ্যে দিয়ে একাধারে বিরহ কাতরতা ও অপরদিকে নিজেকে ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী হিসেবে পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন। কাহিনীর উল্টোদিকে সৌম্যকে প্রেম পাগল হিসেবে ব্যবহার করলেও সেখানেও সে ব্যর্থ। নিজের ভালোবাসাকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে আর যাইহোক প্রেমিক বা পুরুষ হিসেবেও সে ব্যর্থ। তবে বাবনিক হিসেবে অবশ্য সে সফল।যাতে মাতাল তালে ঠিক হবায় মায়ের ডাকে মালবাবু যে দেশে ফিরে এসেছে। এখানে তার প্রাপ্য নম্বর যথেষ্ট।

পোস্টে লাইক।
শুভেচ্ছা প্রিয় তপন ভাইকে।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৮:২৪

শেরজা তপন বলেছেন: বাপরে বাপ - আপনার মন্তব্য পড়েতো টাসকি খাইলাম পদাতিক ভাই।
কাহিনীর পুরো প্লট দেখি আমার থেকে আপনার স্মরণে বেশী আছে! ব্রাভো
সৌম্য আগাগোড়াই দুর্বল চরত্রের। অর্থবানের খানিকটা বখাটে ছেলে। ববির সঙ্গ না পেলে সে হয়তো এমন হতোই না। আসলে নিয়তি এমনভাবে তাঁর মত করে গল্প সাজায় যেখানে আমরা অসহায়।সৌম্য আর এলিনার সেই প্রেম ও বিচ্ছেদ না হলে হয়তো পৃবীর অনেকগুলো মানুষের জীবনাচরন পাল্টে যেত। এই একটা ঘটনায়- ধীরে ধীরে অনেকগুলো মানুষ জড়িয়ে যাবে। যার জট কখনোই ছাড়ানো যাবে না।
তবে সৌম্য এখনো অপরাধবোধে ভোগে সেটা সত্য। তাঁর অনুপ্রেরণা ও উৎসাহেই আমার' বাবনিকের' অবতারনা।
আপনার চমৎকার মন্তব্য ,ভালবাসা আন্তরিকতা আমাকে দারুনভাবে উৎসাহিত করল। আপনি ভাল থাকুন ভাই

১০| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: দ্বিতীয় খন্ডে বেশ চমক ছিলো।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৮:১২

শেরজা তপন বলেছেন: রাবরের মত সাথে থাকবার জন্য ধন্যবাদ ভাই। চোখের একটু সমস্যার কারনে বেশ কিছুদিন খুব বেশী লেখা পড়তে পারিনি, মন্তব্যও করা হয়নি।

১১| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ২:১৭

নেওয়াজ আলি বলেছেন: আগের সব ভুলে গিয়েছি বই বাহির হলে একসাথে পড়ে মজা পাবো

১৫ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৮:১৪

শেরজা তপন বলেছেন: আপনি কি গভীর রাতে ফ্রি হন?
দিনের আলোতে দেখাই যায় না!!
কোন সমস্যা নাই- আপনার কথা কি বলব -আমিই ভুলে যাই। বার বার রিভাইস করতে হয় :) :)

১২| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:১৪

রাজীব নুর বলেছেন: চোখের সমস্যা অবহেলা করবেন না।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৮:৩৯

শেরজা তপন বলেছেন: বেশ টেনশনে ছিলাম- সমস্যার খানিকটা সমাধান হয়েছে। দেখি সামনে কি হয়। তবে সেলফোনে লেখালেখি একদম নিষেধ :(

১৩| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:০৫

সোহানী বলেছেন: অনেকদিন পর পড়লাম বলে আবারো আগেরগুলো ঝালিয়ে নিলাম।

যে রাশিয়ার চিত্র আপনি তুলে ধরেছেন তা একবারেই সত্যিকারের চিত্র। আপনার লিখা পড়ার পর আমার রাশিয়ান বন্ধু-বান্ধবের সাথে এ নিয়ে কথা বলছিলাম।

আপনি কি এখনকার রাশিয়ার অবস্থা জানেন? তখন এক ধরনের অস্থিরতা ছিল আর এখন ভিন্ন ধরনের অস্থিরতা রাশিয়া সহ সে বেল্টের দেশগুলোতো।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৮:৪৪

শেরজা তপন বলেছেন: ফের পড়েছেন!!! তা কোন পর্ব থেকে শুরু করেছিলেন?
কিন্তু জনাদ চাদগাজী বলেন যে, আমি নাকি রাশীয়ার ভুল ভাল চিত্র তুলে ধরছি :(
তবে আপনার কথায় জানলাম আমি রাইট ট্রাকে আছি।

রাশিয়ায় আমার বন্ধু বান্ধব এখান আর বিশেষ কেউ নেই। সবাই অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছে না হয় দেশে ফেরত এসেছে।
খবরাখবর খুব কম পাই। যদিও বর্তমান রাশিয়া নিয়ে আমার তেমন কোন আগ্রহ নেই। তবু শখ আছে শেষ বারের মত একবার গিয়ে তুলনামুলক পার্থক্যটা দেখে আসার।
বরাবরের মত সাথে থাকার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা আপু। ভাল থাকুন।

১৪| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:৪৯

শায়মা বলেছেন: যে কোনো বিদায় আসলে পরম কষ্টের। এই পর্বে একে বিদায় দেখানো হলো সাথে শেষ পর্বও বলা হলো।
আর এলিনাকে ফেলে আসার কষ্টটা আরও ইমোশন দিয়ে লিখে পাঠককে কাঁদিয়ে ফেলার দরকার ছিলো। কারণ বুঝতে পারছি সেই কষ্টের ফিলিংস চেপে গিয়েছো ভাইয়া। লেখোনি। :(

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:৩২

শেরজা তপন বলেছেন: পুরো লেখা এখনো শেষ হয়নি আপা
সম্ভবত আরো দুটো খন্ড আসবে।
এলিনাকে নিয়ে কান্নার আরো অনেক সময় আছে- আরো অনেক কষ্টের কথা আছে বাকি।
কাঁদবেন নিশ্চিত কাঁদবেন।
কান্নার জন্য প্রিপারেশন নেন

১৫| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:০৩

জুল ভার্ন বলেছেন: গল্পের প্রথম পর্বের ছোটখাটো কিছু অপূর্ণতা এই পর্বে পূরণ করেছেন।
ভালো লাগলো।

ধারাবাহিক/পর্ব গল্প উপন্যাস প্রকাশে মাঝখানে বেশী গ্যাপ হলে পাঠকের ধারাবাহিকতায় চীড় ধরে-বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে অনুরোধ করছি। এই পর্ব পড়তে এসে পূর্বের পর্ব পড়তে হয়েছে।

পরের পর্ব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়ার অনুরোধ করছি।
শুভ কামনা। +

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:২৪

শেরজা তপন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জুলভার্ন ভাই। আপনার এই মন্তব্যের উত্তর পরেরটায় দিয়েছি
ভাল থাকুন নিরন্তর!

১৬| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:০৪

জুল ভার্ন বলেছেন: স্যরি, এটাই শেষ পর্ব।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:২০

শেরজা তপন বলেছেন: না না এটা শেষ পর্ব নয়-আরো কমপক্ষে দুই খন্ড বাকি আছে।
আমার প্রথম পর্বতেই এই লেখার দীর্ঘসুত্রিতার কথা বয়ান করা আছে
আগের সিরিজ শেষ করতে লেগেছিল দশ বছর!!!! :)
পর্বগুলো অনেক ভাবনা চিন্তা করে লিখতে হচ্ছে। কেননা এর সাথে সংশ্লিষ্ট পাত্র পাত্রী সবাই জীবিত ও বহাল তবিয়তে আছে। কেউ কেউ এখন সমাজের বেশ উচ্চ পর্যায়ে আসীন আছে। একটু বেফাস কথাবার্তায় তাদের জীবনে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাছাড়া চোখের একটু সমস্যা আর করোনার পরে ভয়ানক ব্যস্ততার জন্য লেখার সময় করে উঠতে পারছি না। চেষতা করছি পরের পর্বগুলো তাড়াতাড়ি দেবার,
সবগুলো পর্ব যে পড়ছেন সেটা জানিয়ে গেলেই হোল- একেবারে শেষে না হয় ছোট ভাইয়ের জন্য কষ্ট করে ফের রিভাইস দিয়েন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.