নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শেরজা তপন

অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...

শেরজা তপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

চৌদ্দ-তে ১৪ (পর্ব-২)

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:২৭


চৌদ্দ-তে ১৪ (প্রথম পর্ব)
করোনা ও আমার উপলব্ধি:
চমকা পৃথিবী থমকে গেল! দু’চার রুমের একটা ফ্লাট আর একটুকরো বারান্দা-এই ছোট্ট ক্ষেত্রে আটকে গেল জীবন। বাইরের পৃথিবী দেখা যায় ওই বারান্দাটুকু দিয়ে- কিন্তু ঘুরে ফিরে সেই একই দৃশ্য! সবকিছু যেন ‘পস’ করে দিয়েছে কেউ-দু’চারটে নেকড়ে কুকুরদের দখলে ফুটপাথ ও রাস্তা। শুধু সকাল থেকে সন্ধ্যা হয় আর সন্ধ্যা থেকে রাত ভোর হয়- আলোর তারতম্য ছাড়া আর কোন পরিবর্তন নেই। টেলিভিশন মোবাইল কম্পিউটার আর কতক্ষণ! মনের মধ্যে যখন সারাক্ষণ মৃত্যু চিন্তা দাবড়ে বেড়ায় তখন কাহাতক আর এসব ভাল লাগে!
এক নিমেষে কাছের মানুষগুলো দুরের নক্ষত্র হয়ে গেল! সারাদিন কতই না তাড়াহুড়ো এটা না করলে ওটা না হলে লাইফ বরবাদ। কখনো বেহুশের মত গাড়ি চালাই, কখনো জানের ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হই- একটা কাজ হারালে হতাশায় মুষড়ে পড়ি। সময় মত ডেলিভারি না দিলে যেন পৃথিবী-শুদ্ধ গোলমাল বেধে যাবে!
কিন্তু আজ আর কোন কাজ নেই- জীবনের কোন কিছুর মানে নেই। জীবন বাঁচানোই এখন মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যেন!!
প্রথমে গিন্নীর জ্বর আসল। সে অতিরিক্ত সতর্কতায় দ্রুত নিজেকে আইসোলেট করে নিল।
কি ভয়াবহ অবস্থা! আমার দশ এগার বছরের ছেলে আর চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে পড়লাম অথৈ পাথারে। এভাবে একাকী ওদের কখনো সঙ্গ দেইনি। মেয়ে সেদিন প্রথমবার ওর মাকে ছাড়া আমার সাথে ঘুমাল। আমার এক পাশে ছেলে আরেক পাশে মেয়ে। করোনা হলেই সবাই নিশ্চিত মরে যাবে সবার মধ্যে এমন ভাবনা ছিল তখন। দুপাশে দু’জনকে নিয়ে সারারাত নির্ঘুম ভাবলাম; ও চলে গেলে এভাবেই এদেরকে নিয়ে বাঁচতে হবে!
শরীরটা ম্যাজ ম্যাজ করছিল। দুদিন বাদেই এক সকালে ব্লাক কফিতে চুমুক দিতেই বিস্বাদ ঠেকল। নাকে কোন কফির গন্ধ আসছে না- তার মানে আমি করোনায় আগেই আক্রান্ত হয়েছি!!
এবার ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মধ্যে এসে দাঁড়ালাম! আমি আইসোলেশোনে গেলে বাচ্চা দুটোর দেখভাল করবে কে? আমার নীচ তলায় বোনেরা থাকে। এক ব্লক দুরেই ছোট ভাই থাকে বৃদ্ধা মা আর পঙ্গু ভাইকে নিয়ে। জানিনা ছেলে-মেয়ে করোনার জীবাণু বহন করছে কি-না? ওদেরকে ওখানে পাঠিয়ে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়া ঠিক হবে না। নিজের আপন মা-বোন থেকে দূরে থাকাই তখন তাদেরকে সেফ রাখা।
ছেলে মেয়ে যেন হুট করে বড় হয়ে গেল! ছেলেটা তার বোনের দায়িত্ব নিয়ে নিল সাবলীলভাবে। আমি বা আমার গিন্নি এক ফাঁকে সারা দিনের রান্না করে ওদের জন্য টেবিলে খাবার ঢেকে রেখে ফের রুমে ঢুকে যাই। ওদের মত কোন গোলমাল না করে খেয়ে নেয়, ছেলেটা তার বোনকে আদর করে খাইয়ে দেয়। দূর থেকে আমি নজর রাখি ওদের দিকে আর ভাবি; আমাদের দু’জনের ছাড়া ওরা পৃথিবীতে এভাবেই থাকবে।
বই পড়ে কম্পিউটার দেখে দিন কেটে যায় কোনভাবে কিন্তু রাত আর কাটতে চায় না। সারারাত অন্য রুম থেকে ওর চাপা কাশী আর মৃদু শ্বাসকষ্টের শব্দ বুকের উপর যেন পাথর চাপা দিয়ে রাখে। মাঝে মধ্যে এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ মৃত্যুভয়কে জাগিয়ে দেয় বহুগুণ!

টা কোন কথা হোল এভাবে চলে যাব!! কত কিছু বলার ছিল, কত কিছু করার ছিল, কত স্বপ্ন সাধ আশা এই চার দেয়ালের বন্দীদশায় শেষ হয়ে যাবে? (আমাদের দুই পরিবারের ৮ এর অধিক প্রিয়জন হারিয়েছি করোনায়)

নিজের সাথে অনেক যুদ্ধ করে শেষে আঁকড়ে ধরলাম ফের লেখা-লেখিকে! সেবার করোনা থেকে খুব সহজেই বেঁচে ফিরলাম আর লিখে গেলাম দীর্ঘ ছয়মাস একটানা (কাজ-কাম করেছিও কিছু)। করোনা আমাকে নতুন করে জীবন দিল যেন। আমাকে বুঝিয়ে দিল প্রকৃতিতে কত নিঃসঙ্গ অসহায় আমি। করোনা আমাকে শিখিয়ে গেল এ মহাবিশ্বে কেউ কারো নয়- দিন শেষে ভীষণ একা আমি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে জানলাম; করবো বলে কোন কিছু ফেলে রাখা যাবেনা। হয় এখনি করতে হবে না হলে কখনোই নয়।
ফের আমি আমার প্রিয় ব্লগ-মুখী হলাম- ব্লগারেরাও আমাকে অতি সাদরে কাছে টেনে নিল। হয়তো কিছু হবে না- হয়তো কিছু পাবনা। আমি যা ছাইপাঁশ লিখি সেটা দিয়ে পৃথিবীর কোন ক্ষতি-বৃদ্ধি সাধন হবে নাদ। তবুও যতক্ষণ আঙ্গুল চলবে, চোখের দৃষ্টি ঘোলা হয়ে না আসবে, অমোঘ মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শ না পাই ততদিন লিখে যাব। হতাশা মানুষকে শুধু পিছনে ঠেলে দেয়- আরও বেশী হতাশ করে, রূঢ় করে নিঃসঙ্গ ও হিংস্র করে।
লেখালেখি আমার একান্তই আমার, এ ভুবনে আমার সদর্প বিচরণ! আমি আমার সাথে গল্প করি, আমাকে নিয়ে গান বাঁধি, বিশ্বের সব মহান মনিষীরা আমার স্বপ্নের সারথি হয়, জগতের তাবৎ মহা-সুন্দরীরা আমার রোমান্টিসিজমের সাথী হয়, আমার ফ্যান্টাসি কিংবা কল্পলোক ছুঁয়ে আসে মহাবিশ্বের কোর কে। আর কি চাই- জীবনের প্রতিটা দিন আনন্দের প্রতিটা ক্ষণ উপভোগের।
(আরো কিছু বলার ছিল কিন্তু আমার সাহিত্য সৃষ্টি করার ক্ষমতা ভীষণরকম সীমিত)

কেকটা দিন যায় শত স্বপ্ন, আশা আর ভালবাসা না পাওয়ার হতাশা নিয়ে লক্ষ মানুষ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যায়- আর আমি ভাবি কি সৌভাগ্যবান আমি আরেকটা দিন বেঁচে রইলাম!! প্রখর সূর্যালোক আর সাথে প্যাচপ্যাচে ঘামও তখন উপভোগ্য মনে হয়।
কারো কটু কথা তখন গায়ে লাগেনা- মাঝে মধ্য উপভোগ্য মনে হয়।

মানুষ আমি লোভ লালসা অহংকার ঘৃণা হতাশার ঊর্ধ্বে নই- তবুও নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত মত্ত! আশীর্বাদ করবেন।

(অতীব সংক্ষিপ্তকারে)
******
১৪ই ডিসেম্বর ২০০৮
প্রথম আলোর ব্লগে ঘোরাঘুরি করছি তার জন্মলগ্ন থেকেই। লেখালেখির সখ অনেক দিনের তবুও ইচ্ছে হয়নি তেমন করে কখনো প্রচার বা প্রকাশের।
সুযোগ এসে হাতের মুঠোয় ধরা দিতে চাচ্ছেই যখন, তখন ভাবনাটা না হয় একটু শেয়ারই করি। ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ কর্তৃপক্ষকে এমন একটা সুযোগ করে দেবার জন্য।
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন: ব্লগে সু-স্বাগতম!! পথ চলা হোক আনন্দের। শুভকামনা থাকলো।

~তিনি শেষবার কারো পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন ০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ সালে। তারপর আর ব্লগ-মুখো হননি সম্ভবত! কেমন আছেন চিটি আপু? ভাল থাকুন যেখানেই থাকুন যেভাবেই থাকুন।

মন্তব্য ৪২ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৪২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:৩১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



স্মৃতিকথা ভালো লিখেছেন। স্মৃতিকথাগুলো পড়তে আমার ভালো লাগে, আমি নিজেও স্মৃতিকথাই লিখি। ধন্যবাদ।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:৫২

শেরজা তপন বলেছেন: বরাবরই আপনার স্নেহ ও ভালবাসায় ধন্য আমি।
আমারতো স্মৃতিকথা খুবই প্রিয়।
বেশ খানিকটা বিরতি দিয়ে আসলেন এবার ভাই। ভাল থাকুন সুস্থ্য থাকুন সুন্দর থাকুন।

২| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:৩৩

মোহাম্মদ গোফরান বলেছেন: আমি সামু ছাড়া কোন্দিন কোন ব্লগ ভিজিটও করিনি। অন্য কোন ব্লগ আছে কিনা সেটাও আমার জানা নেই।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:৫৪

শেরজা তপন বলেছেন: লিখবেন বা দেখবেন কিভাবে- বাকি সব ব্লগ তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলেছে বেশ আগেই।
আমরা সামুর ঠিকানা পেয়েছি দেরিতে।

৩| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:৩৬

নিবর্হণ নির্ঘোষ বলেছেন: করোনার স্তব্ধ সময় আসলে মানুষকে অনেক বাস্তবতার মুখোমুখি করে জীবনের মানে বুঝিয়ে দিয়েছে । আমি নিজেই অনেক বড় ধাক্কা খেয়েছি । আপনি লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন আর আমি অনুপ্রেরণা হারিয়েছি , হতাশবাদীদের দলে চলে গিয়েছিলাম । তবে সেসময়টাতে আমি রুবাইয়াত লিখতাম । একসময় নিজের পরিবর্তনটা আমি লিখাতে নিয়ে আসি , তবুও কোন ফল পাইনি । শেষে লিখা বন্ধ করে দিই , এখন আবার শুরু করছি একটু একটু করে । সেই সময়টা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছিল । নিটশের মত আমাকে আলাদা করে তুলেছিল ।

সত্যি বলতে কী , স্তব্দ সময় মানুষকে বরং গতিশীল হতে সাহায্য করে !!

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:৫৬

শেরজা তপন বলেছেন: রুবাই বা রুবাইয়াত তো উচ্চমার্গের কাব্য। ছাড়লেন কেন?

~ দারুণ বলেছেন; সত্যি বলতে কী, স্তব্দ সময় মানুষকে বরং গতিশীল হতে সাহায্য করে !!
ধন্যবাদ আপনাকে ফের।

৪| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:১৬

নিবর্হণ নির্ঘোষ বলেছেন: আমি রুবাইয়াত ছাড়িনি কিন্তু নিজে যখন স্তব্ধ হয়ে পড়ি তখনই কেবল আমি রুবাই লিখতে পারি । বানান ভুলের জন্য আবারও দুঃখিত !!!

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৫৬

শেরজা তপন বলেছেন: খুব ভাল করেছেন না ছেড়ে!
মাঝে মধ্যে আমাদের সাথে দু'য়েকখানা শেয়ার করিয়েন।

৫| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৩০

সোনাগাজী বলেছেন:



করোনার সময় বাচ্চাদের বয়স কত ছিলো?
২ পরিবারের ৮ জন মানুষ আপনারা হারিয়েছেন, এটা অনেক বেশী; এঁদের বয়স কি রকম ছিলো?

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৪৩

শেরজা তপন বলেছেন: সবচেয়ে কম বয়সী ৪৫।
আমার আপন ছোট চাচা মারা গিয়েছেন ৭৩ বছর বয়সে। বেশ ফিট ছিলেন।
আমার গিন্নীর দু'জন কাজিন( ৪৫ ও ৪৭) ও এক চাচী মারা গিয়েছে।

৬| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৩৩

সোনাগাজী বলেছেন:


@নিবর্হণ নির্ঘোষ ,

সব ছাড়লেও রুবাইয়াৎ ছাড়বেন না; বাংগালীদের ১ জন ওমর খৈয়াম দরকার; তদুপরি, আপনি রুবাইয়াৎ ছাড়লে করোনা ফিরেও আসতে পারে।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৫৩

শেরজা তপন বলেছেন: :) একটু খোঁচা হলেও রাসালো মন্তব্যে তিনি হয়তো মাইন্ড করবেন না।

৭| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২৯

নিবর্হণ নির্ঘোষ বলেছেন: ঠিক বলেছেন তপন ভাই আমি মাইন্ড করি নাই । ভাবতাছি আমি না লিখলে যে করোনার প্রাদুর্ভাব হবে তা কী প্রথমে জ্যামাইকাতেই হবে ? হা হা হা হা

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:৪৮

শেরজা তপন বলেছেন: ওখানে এখনো মনে হয় করনার উৎপাত খানিকটা রয়ে গেছে যাই হোক যেখানেই যাক বাংলাদেশ ফের না হলেই হয়।
এমনিতে আমরা যে দুরবস্থার মধ্যে আছি ফের করোনার মত কোন খানা দিবে একেবারে সব রোগে নয় অভাবে মারা যাবে।

৮| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:০০

নীল-দর্পণ বলেছেন: করোনা অনেক নির্মম দিক দেখিয়ে গেছে এবং বুঝিয়ে গেছে আমরা প্রত্যেকেই আসলেই একা!

চিটি আপার কথা আমার মনে আছে কারন আপার ব্লগ থেকে আমি রসমালাই এর রেসিপি লিখে রেখেছিলাম। তখন রান্না শেখার ঝোঁক ছিল নতুন নতুন। যেখানেই থাকুন আপা ভালো থাকুন।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:৪৬

শেরজা তপন বলেছেন: তাই নাকি? চিটি আপুর কথা মনে আছে এখন আপনার অনেক ধন্যবাদ তার রান্নার কথা ফের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য।

আপনার প্রথম কথাগুলোর সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত।ভালো থাকবেন অনেক ধন্যবাদ ভাই।

৯| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:১৭

নেওয়াজ আলি বলেছেন:

মোহাম্মদপুর নভোদায় আমার বাসা তেমন রুম আর বারিন্দা । অবশ্য পরে আমি গ্রামে গিয়ে অনেকদিন ছিলাম।







১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:৪৫

শেরজা তপন বলেছেন: আমিও গ্রামে গিয়ে রোজার সময় দিন পনেরো ছিলাম।
আসলেই ভয়ঙ্কর একটা সময় গেছে তখন!
মন্তব্যে আসার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে ফের ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন ভাই।

১০| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:২৪

শূন্য সারমর্ম বলেছেন:


ব্লগ লিখে নিজেকে হালকা মনে হচ্ছে এখন?

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:৪২

শেরজা তপন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
কষ্টের কথা লিখলে অবশ্যই হালকা লাগে,সবারই লাগে আপনারও লাগে নিশ্চিত।

১১| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:২৬

সোনাগাজী বলেছেন:




এই বাংগালী ওমর খৈয়াম যথাসম্ভব "নিক তৈরির কারখানা"; আমার পোষ্টে গিয়ে আমাকে অপদস্হ করার চেষ্টা করেন। কবি, গল্পকার, উপন্যাসিক, সাহিত্যিক যদি অন্যকে অপদস্হ করার কাজে নি্যোজিত থাকে, তারা কি গার্বেজ লিখছেন! আমি সব সময় অপু তানভীর, নীল আকাশ, জুলবার্ণের লেখা পড়ি আর হাসি, মুল্যবোধহীন সাহিত্যের কারখানা

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:৪১

শেরজা তপন বলেছেন: এখানে যাদের কথা বলেছেন আপনি তারা অতি সজ্জন উঁচু মানের এবং আমার প্রিয় ব্লগার। আমি আপনাকেও যে অপছন্দ করি তা নয়।
সমস্যাটা কোথায় একটু ভাবার চেষ্টা করুন? আপনার নিজের সমস্যাটা নিয়ে চিন্তা করলে মনে সবচেয়ে ভালো হবে- কেন সবাই আপনার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে আপনাকে কটু মন্তব্য করে ভালো করে ভেবেচিন্তে দেখুন মুল সমস্যাটা কোথায়?

১২| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ ভোর ৪:০১

সোনাগাজী বলেছেন:



কাল্পনিক_ভালোবাসা সাহেব খোলা ব্লগে ভোট নিচ্ছেন, ইন্টারেষ্টিং চিন্তাধারা।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৮:৫৬

শেরজা তপন বলেছেন: আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে আপনাকে ব্লগের মডারেটর হবার জন্য অনুরোধ জানাতাম।
এখনো সময় আছে আপনি নতুন একটা ব্লগ করেন- সেইটে চলুক আপনার মতো করে।

১৩| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ ভোর ৫:৩৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আল্লাহর রহমতে আমার কোন আত্মীয় করোনায় মারা যায়নি। তাই এটার তীব্রতা আমি পুরোপুরি বুঝবো না। আমি একটা ওষুধ কোম্পানিতে চাকরী করতাম ২০২০ সালে তাই করোনার সবচেয়ে ভয়ংকর সময়ে আমাকে প্রতিদিন নিয়মিত অফিসে যেতে হয়েছে। আধা বেলা অফিস করতাম আমরা কয়েকজন। অন্য সময় যেখানে সোয়া এক ঘণ্টা লাগে ২০২০ সালের মার্চ বা এপ্রিলে আমার অফিসে যেতে সময় লাগতো মাত্র ১৮ মিনিট। গাড়িতে ওষুধ কোম্পানির নাম থাকার কারণে পথে কখনও আটকায়নি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ড্রাইভারের করোনার লক্ষণ দেখা যাওয়ার পর আমি নিজেই পরবর্তী ১ বা ২ মাস গাড়ি চালিয়েছি। বাসায় আসার পর জুতা বাইরে রেখে অন্য কোন রুমে না গিয়ে আমি আলাদা রুমে থাকতাম। এই করোনার একাকীত্বই আমাকে ব্লগ লেখার সুযোগ করে দেয়। ২০২০ সালের আগে আমার কোন পোস্ট নাই। শুধু মন্তব্য করতাম।

পরে আমার স্ত্রীর করোনার লক্ষণ দেখা দেয়। তখন আনাড়ি হাতে আমাকে রাঁধতে হয়। আমার ছেলেমেয়েরা রান্নায় সাহায্য করে। ওদের মনের ভয় দূর করার জন্য রান্নার সাহায্যকারী হিসাবে যুক্ত করেছিলাম যেন কোন কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ওরা ভয় পাচ্ছিল ওদের মার কি হবে এবং মা যখন অসুস্থ তখন ওদের খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। ওদের সেই ভয় কাটাতে হয়েছে আমাকে। আমার রান্না খেয়ে আমার স্ত্রী বলে যে ডাল রান্না নাকি ভালো হয়েছে। আমার অবশ্য হাসি পেয়েছিল কারণ জীবনে কখনও রান্না করিনি। আমার স্ত্রীর পরে আমারও করোনার লক্ষণ দেখা দেয়। তবে উভয়েই শেষ পর্যন্ত ভালো হয়ে যাই। তবে আমার বউ খুব ভয় পেয়েছিল এক পর্যায়ে। তাকে সামলানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছিল। যদিও তার করোনার লক্ষণ তেমন তীব্র ছিল না। মুলত মনের ভয় বেশী ছিল।

করোনা আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিতে তেমন কোন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। করোনার পরেই যুদ্ধ আর হানাহানি নিয়ে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:০৫

শেরজা তপন বলেছেন: আপনার ঘটনাতো আমার কাছাকাছি প্রায়! :(

যাক সবাই মিলে সুস্থ্য আছে এইটেই বিশাল পাওয়া। আমাদের মত অনেকের এমন হলে বাঙলা ব্লগে লেখালেখির একটা জোয়ার আসার কথা ছিল; কিন্তু দুর্ভাগ্য হয়নি। তবে ফেসবুকে হয়েছে।
করোনায় অনেকের 'পোয়া বারো' ছিল তার মধ্যে ঔষধ কোম্পানীগুলো।
সুদীর্ঘ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন

১৪| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ ভোর ৬:২৫

কামাল১৮ বলেছেন: এক কোটির বেশি মানুষ করোনায় মারা গেলো।সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ইচ্ছা করলেই এদের স্বাভাবিক মৃত্যু দিতে পারতেন।কিন্তু তিনি তা করলেন না।তার পরও তাকে দয়ালু বলতে হবে।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:০৬

শেরজা তপন বলেছেন: আল্লাহতায়ালার সাথে যোগাযোগ থাকলে জিগাইতাম! কিন্তু দুর্ভাগ্য আপনার মত আমার ক্ষমতাও সীমিত। :(

১৫| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৭:৫০

সোহানী বলেছেন: ভয়ংকর সে দিনগুলো ছিল। কিন্তু তারপরও কিছু একটা পেয়েছেন ..... এই যে আপনার বাচ্চাদের এক লাফে স্বাবলম্বী হলো, আপনার লিখালিখি শুরু হলো। সেটা ও তো কিছু।

আরো দীর্ঘদিন ব্লগে থাকুন এ প্রত্যাশায়।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:১০

শেরজা তপন বলেছেন: 'প্রতিটি প্রক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে'।
এইটা প্রমানিত সত্য- যা জীবনের চলার পথেও সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়।

করোনা শেষ বাচ্চারা ফের 'অবলম্বী' হয়ে গেছে!
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনার শুভকামনার জন্য আপু। ভাল থাকুন নিরন্তর।

১৬| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪১

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: স্মৃতিকথাগুলো পড়ে মনটা কেমন করে উঠলো। কি এক ভয়ঙ্কর সময় এসে হাজির হয়েছিলো!!
গলা-ব্যথা আর শুকনো কাশি যেদিন টের পেলাম, বৌ-বাচ্চাদের কিছু বুঝতে না দিয়ে দূরে রইলাম। মনজুড়ে শুধু রইলো কোনো কিছুইতো গুছানো হয়নি!! চলবে কিকরে ওরা!! ভয়ে করোনা টেস্টও করাইনি।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৫০

শেরজা তপন বলেছেন: ভয়ঙ্কর বলে কি শুধু ভয়ঙ্কর!
যে আমি সব জরুরি কাজ ফেলে প্রতিদিন নুন্যতম ১ ঘন্টা আড্ডাবাজি করি। সে আমি বন্ধুহীন কাটালাম দীর্ঘ ছয় মাস!!!
আপনিও আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমার মনে হয় কমবেশী বাকি নেই কেউ।

এই ধরনের চিন্তা সারাক্ষন কুড়ে কুড়ে খেয়েছে সিংহভাগ মানুষকে। আমিও ব্যতিক্রম নই।

১৭| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:৩৯

রোকসানা লেইস বলেছেন: ভালোলাগল লেখাটা।
করোনা কাল, অদ্ভুত এক নুতন উপলব্ধি দিয়েছে। আমার কাছে অনেকটা পজেটিভ মনে হয়েছে, এই নতুন জীবন যাপন।
তবে শেষ না হতেই যেন আবার পুরানো অস্তিরতায় ডুবে গেলাে মানুষ।
আপনার ঠিক কোন সময়ে করােনা হয়েছিল?
আজ ছিল প্রথম ভ্যাকসিন চালু হওয়ার দিন। কতটা সময় ব্যয় করেছি ভ্যাকসিন নেয়ার অপেক্ষা আর রেজিস্ট্রেশনের জন্য । আমার বয়সের মানুষের সময় কখন হবে। উদ্বিগ্ন অপেক্ষা। একটা টিকা নিলেই ভালো থাকা যাবে। কি এক সময় ছিল।
এখন আরো ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য ডাকাডাকি করছে ক্লিনিক থেকে অথচ আর ভ্যাকসিন নেয়ার কোন ইচ্ছা হয় না।

চিটি হামিদা রহমানের কথা মনে পরে আমারও অনেক। উনার মন্তব্য দেখে মনে হতো উনি আমাকে চিনেন।
যদিও কখন ব্যক্তিগত কথা হয়নি। আসলে কতদিন আর আসেন না ।
অনেকেই আর আসেন না ব্লগে। আশা করি তারা ভালো আছেন।
আপনি ফিরে এসেছেন এবং বেশ জমিয়ে লিখছেন এভাবেই থাকুন।
শুভেচ্ছা নিরন্তর ভালো থাকুন।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৫৫

শেরজা তপন বলেছেন: হ্যাঁ মানুষ কি চমতকারভাবেই না সবকিছু কত সহজে ভুলে গেল!!!
আমি আপনি সবাই সেই এক পথের পথিক। আমার করোনা হয়েছিল এপ্রিলে।

ভ্যাকসিন দেবার লোক খুঁজে না পেয়ে শেষ্মেষ নষ্ট করে ফেলছে- অথচ কি নিদারুণ অপেক্ষাতেই না ছিলাম আমরা।

বাহ চিটি আপার সাথে আপনারও বেশ সখ্যতা ছিল -জেনে ভাল লাগল।
ব্লগারদের ব্লগারেরা ভোলেনা সহজে- লেখায় লেখায় কিভাবে যেন আজীবনের বন্ধন গড়ে ওঠে।
ভাল থাকুন আপু। শুভকামনা নিরন্তর!

১৮| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:৪১

রাজীব নুর বলেছেন: শেরজা আপনার আজকের লেখাটি বেশ সুন্দর হয়েছে। গোছানো টিপটপ। তাই লেখাটি দুবার পড়লাম। সেই সাথে মন্তব্য গুলো।

করোনা আমার বাবাকে কেড়ে নিলো। এই তো কয়েকদিন আগে আব্বার দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী পালন করলাম। আব্বার মৃত্যু আমাকে বড় বেশি অসহায় করে দিয়ে গেলো। আমার মাথার উপর থেকে বট গাছ নাই হয়ে গেলো।

আপনাকে অনুরোধ করবো, আপনি প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখবেন। এই লেখালেখি আপনাকে শান্তি দিবে, আনন্দ দেবে।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:০১

শেরজা তপন বলেছেন: আমার একটা অদ্ভুত সমস্যা কি জানেন- আমি তাড়াহুড়ো করে যেসব লেখা লিখেছি পাঠকের সাড়া পেয়েছি সেগুলোতেই বেশী।
খুব গুছিয়ে লিখতে গেলে লেখা হজপজ হয়ে যায়। :( আজব ব্যাপার!
আমার আব্বাও করোনার ঠিক আগের বছর গত হয়েছিলেন। বাপজানকে খুব মনে পড়ে আমার- যেমন করে আমার দাদাকে তিনি স্মরণ করতেন।
আমি একটু সুযোগ পেলেই লিখতে বসি। ত্রিশ বছরের অধিককাল অল্প বিস্তর গ্যাপ দিয়ে হলেও ডায়েরি লেখা মেইন্টেইন করেছি।এটা এখন খুব কাজে দিচ্ছে। পুরনো ডায়েরি যখন পড়ি- কিছু কিছু স্মৃতি কোনভাবেই আমি রি-কল করতে পারিনা। মনে হয় এসব ঘটনা আমার জীবনে ঘটেইনি। আর কিছু ঘটনা একেবারে উলটে যায়।
এমনটা আপনার হয়েছে কখনো?

আন্তরিক মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১৯| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:৪১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ভাই কি বলব , বলার ভাষা নেই।

বিদেশ বিভুয়ে একা একা আমিও ১৪ দিন পার করেছি বন্ধ ঘরের খাচায়। সাসপেক্টেড হিসাবে আইসোলেশন রুমে -https://www.somewhereinblog.net/blog/bd12sh19K/30318839 ,আমার যা সবচেয়ে বেশী খারাপ লেগেছে তা হলো জুমার নামাজ পড়তে না পারা । ছিল মানষিক টেনশন , মরার ভাবনা।

আবার এদিকে আমি আইসোলোশন থেকে বের হওয়ার কিছু দিন পর অর্ধাংগিনী+ ছোট ছেলে (৫ বছর) পজেটিভ। যে ছেলে মাকে ছাড়া কোন ভাবেই থাকেনা আর তাই এক রুমে। বড় ছেলে আর বাসার সাহায্যকারী আলাদা আলাদা রুমে। এদিকে আমি হাজার হাজার মাইল দূরে।চাকুরীর সুবাধে অর্ধাংগিনী চাইলে হাসপাতালে থাকতে পারত তবে ছেলেদের কে দেখব, আমি নাই । কি যে এক অবস্থা । এ যেন আল কোরআনে বর্ণিত হাশরের মাঠেরই ছবি (কেউ কারো নয়, কারো সাহায্যও পাওয়া যাবেনা)

২০২০-২১ সাল পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে নানা কারনে। তবে ২০২০ সাল বেশী বেশী মানুষের স্মরণে থাকবে শুধু নেতিবাচক খবরের জন্য।এ সাল মানুষের জন্য খুব বেশী ইতিবাচক খবর না থাকলেও নেতিবাচক খবরের অভাব ছিলনা । আর মানুষে মানুষের মাঝে সম্পর্ক যে কত ঠুনকো এবং বিরুপ অবস্থা ও পরিস্থিতিতে আপনজনেরা কতটা নিষ্ঠুর এবং পরিবর্তন হতে পারে তা করোনা আমাদের ভালভাবে দেখিয়ে দিয়েছে। ক্ষুদ্র এই ভাইরাস মানুষের জীবনের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার অনেক কিছুই চুরমার করে দিয়েছে। অনেক মানুষ চিরকালের জন্য তার প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। অনেক মানুষ প্রিয়জনের সাহচর্য ছাড়া নিঃসঙ্গ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

করোনার নিষ্ঠুরতায় মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়েছে বহুগুণ। বিচলিত মানুষ যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষকে বোকা ও অসচেতন করছে এ অদৃশ্য জীবাণুর ভয়াবহতা। এর ফলে স্বার্থপরতা বেশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে মানুষের মাঝে। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ ক্রমান্বয়ে নানা কুসংস্কারে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে।করোনা সারা দুনিয়ার সব কিছু লন্ডভন্ড করে ফেলে সাথে সাথে মানুষে মানুষে দূরত্ব ও অবিশ্বাস বাড়িয়েছে।আমাদের সমাজে এমনিতেই মানুষের সাথে মানুষের মতের-মনের মিল ও বিশ্বাস কম ।আর এর মাঝে করোনা সে দূরত্ব ও অবিশ্বাস আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন স্বামী - স্ত্রী কে বাবা-ছেলেকে , মা-মেয়েকে মানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করছেনা ।সামান্য হাচি-কাশির উপসর্গ দেখা দিলেই সবাই তার সাথে দূরত্ব তৈরী করে ফেলছে ।করোনা আসলে হয়েছে কি হয়নি তাও ভেবে দেখার সময় নেই কারো।এ এক অসহ্যকর পরিবেশ ।কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা । এ যেন সবাই এক একজন বিচছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা।যেখানে মানুষে-মানুষের সহমর্মিতা ,সহযোগীতা একের বিপদে বা সুখে-দুখে অন্যের সহায়তা সহযোগীতা সব অনুপস্থিত ।

করোনা মানুষকে যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী ভাবতে বাধ্য করছে তা হলো মানুষে মানুষের সম্পর্ক তথা আপনজনদের সম্পর্কে। যে আপনজনদের জন্য আমরা ন্যায় অন্যায় ভূলে যে কোন অন্যায় এবং যে কোন উপায়ে তাদের সুখের জন্য যে কোন খারাপ কাজ করতে ভাবিনা সেই আপনজনরা ই বিপদে আপনার-আমার কতটা কাজে আসে তা নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে করোনা।কারন করোনা হয়েছে বা তার উপসর্গ দেখা গেছে এ জানা মাত্রই যেভাবে আপনজনেরা তাদের ছুড়ে ফেলেছে বা ত্যাগ করেছে তাতে আপনজনদের নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ এনে দিয়েছে করোনা।

এ বিষয়ে আমিও একটি লেখা লিখেছিলাম ।

আপনার সাথে শেয়ার করলাম - "ফিরে দেখা - সাল ২০২০ " - করোনা-আপনজন এবং উপলব্ধি - Click This Link

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:৫৫

শেরজা তপন বলেছেন: আপনার মন্তব্য আমার পুরো পোস্টের সমান হয়ে গেছে প্রায়।
আপনার লেখায় চোখ বুলিয়ে আসতে গিয়ে মন্তব্যে দেরি হয়ে গেল! যদিও সেখানে প্রথম মন্তব্যটা দেখে বিরক্ত হয়েছি।
চমৎকার ও বিস্তারিত মন্তব্যে এবন আপনার লেখার লিঙ্ক শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ।
ভাল থাকুন।

২০| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:০৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় তপন ভাই,
খুবই যাতনাময় লেখা। করোনা আমাদের বহুজনকে এমনই আত্মীয় পরিজন চ্যুত করেছে। আমরাও স্বামী স্ত্রী দুজনেই সেকেন্ড ওয়েবে করোনা আক্রান্ত হই। বাচ্চাকে সে সময় বড়বুবুর বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।সে এক দিন গেছে। যাই হোক জীবনের এমন কঠিনতম দিন ভুলা যাবে না ঠিকই কিন্তু মনে না করাটাই ভালো আপনাকেও তেমন পরামর্শ দেবো।

ভালো থাকবেন সবসময়।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:৫৯

শেরজা তপন বলেছেন: এই দুঃখ কষ্টগুলোই মানুষ ফের উঠে দাড়াবার নতুন ভাববার শক্তি দেয়;

~ আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥
রবি ঠাকুর

আপনিও কঠিন সময় কাটিয়েছেন ভাই। যাহোক এখন সুস্থ্য আছেন ভাল আছেন এই ঢের!
ভাল থাকুন।

২১| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৮:৩১

আহমেদ জী এস বলেছেন: শেরজা তপন,




সুন্দর স্মৃতিকথা।
যন্ত্রনাময় দিনগুলোর ভেতরেও যে আপনি নিজের ডানা মেলে দিতে পেরেছেন তা সবাই পারেনা!
এ যেন, আপনাকে আবার আপনার নতুন করে আবিষ্কার। আর আমরাও পুরাতনকে মাড়িয়ে দিনে দিনে আপনার নতুন থেকে
নতুনতর হয়ে ওঠা দেখছি।
লেখালিখি হলো মনের ভেতরে গড়ে তোলা এক গহীন দীঘি যেখানে ডুব দিয়ে জীবনের যতো না-পাওয়া, খেদ- ক্লান্তি, দুঃস্বপ্ন ধুঁয়ে মুছে ফেলা যায়!

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:০৩

শেরজা তপন বলেছেন: লেখালেখি আর বন্ধ হবার নয় সম্ভবত - প্রকৃতি যতদিন সামর্থ রাখবে, আশা করি চলবে ততদিন।
আপনার মন্তব্য আমাকে প্রতিনিয়র দারুনভাবে অনুপ্রাণিত করে আরো ভাল কিছু লেখার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার। ভাল থাকুন।

অ।ট। অনেকদিন আপনার লেখা পাচ্ছি না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.