নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক › বিস্তারিত পোস্টঃ

বরিশাল বিভাগ নাকি বরিশাল জেলা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? আমি পুরো বরিশাল বিভাগ সম্পর্কে বলি।

২৫ শে আগস্ট, ২০২৫ রাত ৯:৪৯


**দীপান্তর দণ্ড ও নোয়াখালী-বরিশালের প্রাচীন ইতিহাস**

১২৫০ সালের দিকে বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অঞ্চলে শাসকগণ নিজস্ব আইনকানুনে শাসন চালাতেন। শ্রী দীনেশ চন্দ্রের লেখায় জানা যায়, তৎকালীন দণ্ডের পাঁচটি ধরন ছিল: বেত্রাঘাত, অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড এবং দীপান্তর বা বনবাসে প্রেরণ।

বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড প্রচলিত থাকলেও বেত্রাঘাত ও দীপান্তর বিলুপ্ত। তবে দীপান্তর দণ্ড ব্রিটিশ আমল পর্যন্ত ছিল, যেমন রাষ্ট্রদ্রোহীদের আন্দামানে পাঠানো হতো।

তৎকালীন শাসকরা দুর্ধর্ষ আসামীদের জনমানবহীন দ্বীপ অঞ্চলে (যেমন নোয়াখালী, কুতুবদিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী) খাদ্য ও কিছু সরঞ্জামসহ ফেলে দিতেন। এই দ্বীপগুলো ছিল জঙ্গলে ভরা, হিংস্র প্রাণীতে পরিপূর্ণ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অনেক আসামী সেখানেই মারা যেতেন, আবার কেউ কেউ টিকে থেকে সেখানেই বসতি গড়ে তুলতেন। এভাবেই ক্রমে এসব অঞ্চলে গড়ে ওঠে মানব বসতি ও সভ্যতা, যার প্রাথমিক পর্যায়ে লুট, খুন, ডাকাতি ছিল ব্যাপক।

ফলে ঐতিহাসিকভাবে অনেকেই এই অঞ্চলের মানুষদের অপরাধীদের উত্তরসূরি বলে মনে করতেন। কেউ কেউ এমনকি তাদের ক্রোমোজমে অপরাধপ্রবণতা থাকার কথাও বলেন, যদিও এটি **বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন**।

প্রকৃতপক্ষে, সব অঞ্চলেই ভালো-মন্দ মানুষ থাকে। নোয়াখালী ও বরিশাল থেকে সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ’র মতো মানবতাবাদী লেখকও উঠে এসেছেন। এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে হেয় করা নয়, বরং ইতিহাসের একটি অজানা দিক তুলে ধরা।

ভালো দিকঃ

১। সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত মানুষের বসবাস বরিশাল বিভাগে। শিক্ষার হারে বাংলাদেশে প্রথম। তুলনামূলকভাবে কুসংস্কার কম।

২। শান্তিপ্রিয় ও আড্ডাপ্রিয়। অতিথি পরায়ন। রাত-দিন ২৪ ঘন্টা এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়া যায়। ছিনতাইকারীর ভয় নাই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তুলনামূলকভাবে কম। একারনে হত্যা-ধর্ষন-যৌতুক নাই বললেই চলে। কালে-ভদ্রে ২/১টা ঘটনা ঘটে।

৩। প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য। যানজট নেই। মানুষের ঘনত্ব কম। সমগ্র বরিশালের জনসংখ্যা কুমিল্লা জেলার চেয়ে অল্প কিছু বেশি। গন্ডায় গন্ডায় সন্তান জন্ম দেয়না।

৪। ধান ও মাছের জন্য বিখ্যাত। ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের বড় যোগান আসে বরিশাল থেকে।

৫। আমড়া, পেয়ারা, নারিকেল ও পান আসে বরিশাল থেকে।

৬। বরিশালের মানুষ সবকিছু তাজা/টাটকা খেতে পছন্দ করে। তাই শূটকি খাওয়ার মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

৭। নেতৃত্ব দেয়ার গুনাবলি আছে। শিক্ষিত হওয়ার কারনে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপদে যেমন আছে, তেমনি বাংলাদেশের বড় মাপের রাজনীতিবীদ বরিশাল বিভাগে বেশি।

৮। ৭ বীরশ্রেষ্ঠের ২ জন বরিশাল বিভাগের। একজন সেক্টর কমান্ডার এই বিভাগের।

৯। সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা বরিশালের পটুয়াখালী জেলাতে।

১০। জীবনানন্দ দাস, বিজয় গুপ্ত, সুফিয়া কামাল, তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া, আঃ গাফফার চৌধুরী, আরজ আলী মাতব্বর, আলতাফ মাহমুদসহ অসংখ্য কবি সাহিত্যিক ও শিক্ষা অনুরাগীদের জন্ম বরিশাল বিভাগে।

১১। মিঠুন চক্রবর্তী, সুস্মিতা সেন, নচিকেতা, জুয়েল আইচ, রাজীব, হানিফ সংকেত, মোশাররফ করিম সহ অনেক অভিনয় শিল্পী, নৃত্যশিল্পী, কন্ঠশিল্পীর বাড়ি বরিশালে।

১২। শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতসহ অসংখ্য প্রথম সারির রাজনীতিবীদদের বাড়ি বরিশালে।

১৩। পুরো বরিশাল বিভাগ জুড়েই অসংখ্য জায়গা আছে। নৌ-ভ্রমন আরামদায়ক।

খারাপ দিকঃ

১। উল্টো-পাল্টা শুনলে হঠাৎ রেগে যায়। আবার একসাথে মিলে যায়। তর্ক-বিতর্ক অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে মনে হবে বিপদের। তবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা।

২। আঞ্চলিক ভাষার কারনে চামার মনে হয়। যা বলার সরাসরি বলে দেয়।

৩। রেল যোগাযোগ নাই। গ্যাস লাইন নাই।

৪। এই এলাকার সাথে কোন অনৈতিক ও দুই নাম্বারি কাজ করলে বাঁশের মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না।

৫। বরিশাল শহরের কাশিপুরের লোকজন বিখ্যাত মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার জন্য।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.