| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সোহানুল হক
সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।
মৌলভী আবুল হাশিমের সন্তান ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বদরুদ্দীন উমর। বাবা মৌলভী আবুল হাশিম ছিলেন বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক।
মৌলভী আবুল হাশিম ধর্মভিত্তিক একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধীতা করেন। ভাষাভিত্তিক স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রচেষ্ঠায় তিনি কংগ্রেস নেতা শরৎ বসুর সাথে দেখা করেন। শরৎ বসুসহ তিনি কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহেরুকে বোঝানোর চেষ্ঠা করেন বাঙালিদের একই ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস। কিন্তু কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহেরু এবং কংগ্রেসের তীব্র বিরোধিতা শেষ পর্যন্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলা গঠনের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে নাই করে দেয়।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি ভারতেই অবস্থান করেন এবং পশ্চিমবঙ্গ আইন সভায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দেন। তিনি মুসলিম লীগ দল এবং মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারী পার্টি বিলুপ্ত করেন।
কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধীতা করলেও ভারতে মুসলিম জমিদার নেতারাও শান্তি ও নিরাপত্তা পাচ্ছিলো না। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি তাদের বক্তব্যে মুসলমানদের বিরোদ্ধে বিষোদগার করেন, কলকাতা-নোয়াখালী দাঙ্গার সকল দায় মুসলিমদের দেন। সকল মুসলিমকেই পাকিস্তানি হিসেবে ট্রিট করা হচ্ছিল।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বিনাবিচারে হত্যার ফলে চরম অশান্তি ও অনিরাপত্তা তৈরী হয়। ফলে উনি ভারত ছেড়ে মুহাজির হিসেবে পাকিস্তানে হিজরত করতে বাধ্য হন।
পাকিস্তানে এসে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। পরে খেলাফতে রাব্বানী পার্টির নেতৃত্ব দেন। আইয়ুব খানের শাসনামলে মৌলভীআবুল হাশিম ইসলামিক একাডেমি তথা বর্তমানে ইসলামি ফউন্ডেশনের পরিচালক নিযুক্ত হয়।
যাইহোক, বদরুদ্দীন উমর ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক। শেখ মুজিবের শাসনামল হোক কিংবা হাসিনার আমল। তিনি অন্যায়ের সাথে আপস করেননি কখনোই। বিগত বাপ-মেয়ের স্বৈরাচার আমলে অল্প কিছু মানুষ ছিল যারা শিরদাঁড়া সোজা রেখে কথা বলতেন।
বদরুদ্দীন উমর তেমনই একজন।
বদরুদ্দীন উমর কোন পুরস্কার, উপাধি কিংবা সম্মাননার লোভে কখনোই আপস করেননি। এমনকি রাষ্ট্র উনাকে কোন পুরস্কার দিলেও তিনি কোন পুরস্কার গ্রহনও করেননি। বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছেন।
১৯৭২ সালে বদরুদ্দীন উমরকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তিনি তা সাথে সাথেই প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭৪ সালের তিনি ইতিহাস পরিষদের পুরস্কারও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
বহু বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাহিত্যিকের আজীবনের একান্ত স্বপ্ন বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকার যোগ্যতম ব্যক্তি হিসেবে বদরুদ্দীন উমরকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন। কিন্তু বদরুদ্দীন উমর সাথে সাথেই তা প্রত্যাখ্যান করেন।
গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, ‘১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে। আমি সেগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। এখন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু তাদের দেওয়া এই পুরস্কারও আমার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।’
বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, লেখক, গবেষক, রাজনীতিজ্ঞ, মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
©somewhere in net ltd.