নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক › বিস্তারিত পোস্টঃ

গাজাবাসীর স্বল্পস্বস্তিকে মুক্তি নয়, বরং পূর্ণ স্বাধীনতা এবং ঐতিহাসিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা পর্যন্ত সংগ্রাম অপরিহার্য।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২৫ দুপুর ২:২১

পশ্চিমা শক্তি (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ) এবং তাদের মিত্র আর কিছু আরব-মুসলিম শাসকগোষ্ঠী একটি পরিকল্পিত কূটনীতি ও প্রচারণার মাধ্যমে গাজার পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে আসছে; একটি দীর্ঘসময়ের অবিচারের ইতিহাসকে সরিয়ে রেখে সাম্প্রতিক সংঘাতকে আলাদা করে ‘যুদ্ধ’ বা ‘বার্তাসূত্র’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে; ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি বা পুনর্গঠন মানেই ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ পুনঃসংরক্ষণ — তাই ফিলিস্তিনীদের পুরো স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত যে আন্দোলন চলছে, সেটাকে থামাতে বা বিজয় হিসেবেই উদ্‌যাপন করতে না বলা উচিত।

১) ইতিহাসকে বিচ্ছিন্ন করে বর্তমানের রূপায়ণ

গাজা ও পশ্চিম তীরের স্বাধীনতাবঞ্চিত রাষ্ট্রীয় ইতিহাস একটি শতাব্দীরও বেশি—বহু ক্ষতি, উচ্ছেদের নীতিমালা, অবরোধ ও সামরিক চাপে গঠিত। কিন্তু বর্তমানে প্রধান ধারার কিছু মিডিয়া ও রাজনৈতিক বর্ণনায় সংঘাতকে কেবলগতভাবে ‘আততায়বাদ বনাম প্রতিরোধ’ বা ‘ইসরায়েল বনাম হামাস’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এতে ইতিহাসের ক্রম, দীর্ঘকালীন অবৈধ দখল, বসতি-নীতি ও উপনিবেশী নমুনাগুলো সংকুচিত বা অদৃশ্য করে দেয়। এই ধরনের বিচ্ছিন্ন উপস্থাপনা পাঠক/শ্রোতাকে সমস্যার মূল থেকে বিচ্যুত করে—অর্থাৎ মূল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৃ-রাজনৈতিক কারণগুলো (occupation, settlement, blockade ইত্যাদি) আলগা করে ফেলে।

২) মিডিয়ার ভূমিকা — বাছাই, ভাষ্য, ও প্রসঙ্গহীনতা

মিডিয়া কোন খবর কতটা দেবে, কোথায় কিস্তিতে দেবে, কোন শব্দগুলো ব্যবহার করবে—এসবই রাষ্ট্রীয় নীতির অনুকরণে জনগণের উপলব্ধি গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। দুই বছরের সময়ে অনেক প্রধান মিডিয়া ‘সাংবাদিকতার অর্পিত নিরপেক্ষতা’ বজায় রেখে না ভেবে নির্দিষ্ট শব্দচয়ন ও প্রসঙ্গচ্যুতি করেছে—ফলস্বরূপ বহু দর্শক/পাঠক গাজার দীর্ঘ নির্যাতনকে সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেবলমাত্র সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখছে। এমন বর্ণনার সমালোচনা বহু সাংবাদিক ও অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে।

৩) সামরিক ও আর্থিক সহায়তা — নীতিগত সমর্থন কি শুধুই ‘রক্ষা’?

পশ্চিমা শক্তিগুলো, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলকে কেবল রাজনৈতিক কূটনীতি দিয়ে নয়, ব্যাপক সামরিক ও আর্থিক সহায়তাও দিয়ে আসছে—যা বিভিন্ন রিপোর্ট ও বিশ্লেষণ একেবারে স্পষ্ট করে বলছে: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধকালীন ও স্থায়ী সামরিক তহবিল, অস্ত্র ও প্রযুক্তির সরবরাহ বরাবরই উচ্চস্বরে চলে এসেছে। এই বাস্তবতার ফলে প্রশ্ন ওঠে—এ যেন সরাসরি যুদ্ধের সক্ষমতা ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তির পেছনে যৌক্তিক সহায়তা।

৪) ‘পুনর্গঠন’—কেউ কি সত্যিকারের পুনর্গঠন চাইছে, না কি ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস?

যখন পুনর্গঠনের কথা বলা হয়, তা বাস্তবায়নের জন্য যে নিয়ন্ত্রণমূলক শর্ত আরোপ করা হয়—উদাহরণস্বরূপ নির্মাণসামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতি বারবার অনুমোদন-নির্ভর করা, প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ রাখা—এসবই ইঙ্গিত দেয় যে পুনর্গঠনকে নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো বজায় রাখতে চাইছে নির্দিষ্ট শক্তি। ফলত পুনর্গঠন শোনালে দ্রুত শান্তি ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি না মন্দ, বরং তা হতে পারে পুনরায় দখল বা প্রভাববিস্তারের একটি অ্যালায়েন্সড উপায়। এমন উদ্বেগ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও সাংবাদিকতাতেও উঠে এসেছে।



(প্যালেস্টিনীয়রা যুদ্ধের অবসানের দাবিতে বিক্ষোভ করছে এবং হামাসবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে — বেইত লাহিয়া, উত্তর গাজা উপত্যকা, ২৬ মার্চ ২০২৫। (এএফপি)



৫) আরব-মুসলিম শাসকচক্রের ভূমিকা — কেন ‘দালাল’ বলা হচ্ছে?

কিছু আরব শাসকশ্ৰেণী দীর্ঘদিনে পশ্চিমা নীতির সঙ্গে সমঝোতা করে এসেছে—কিছু ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র, তেলের স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ইত্যাদি দায়ে তারা পশ্চিমা কূটনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে উদ্যত হয়েছে। ফলে তারা অনেকে মনে করে ফিলিস্তিনি সংগ্রামের পাশে সমর্থন দেওয়ার বদলে কূটনৈতিক এবং সময়মতো কণ্ঠ নীরবতা দেখিয়ে থাকে বা সীমিত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়—এটাকেই ‘দালাল’ বা প্রতিক্রিয়াশীল শাসকচক্র বলা হয়। এই বিতর্কিত সম্পর্ক ও সমর্থনের ধরণ ইতিহাস ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক চালচিত্রে পরিস্ফুট।

৬) ফল — ক্ষণিকের স্বস্তি নয়, মৌলিক স্বাধীনতা চাই

গাজার বাসিন্দাদের জীবনে যদি সাময়িক স্বস্তির নিঃশ্বাস আসে — তা অবশ্যই মানুষের জন্য স্বাগত; কিন্তু সেটাকে চূড়ান্ত বিজয় মনে করে উদযাপন করা যাবে না, যদি না সেই সরলীকৃত দৃশ্যাবলী নিশ্চিত করে যে পূর্ণ স্ব-শাসন, সীমাহীন প্রবেশাধিকার, সরবরাহশৃঙ্খলার অবসান এবং ইতিহাসভিত্তিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অন্যথায় পুনর্গঠন শুধু শক্তির অবস্থান ঠিক করার আরেকটি নাম হতে পারে।

শেষ কথা

এই আন্তর্জাতিক নাটক-রচনায় ঘটমান ভ্রান্ত উপস্থাপনা, অস্ত্র-বিতরণ ও নিয়ন্ত্রিত পুনর্গঠনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। কিন্তু নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ও সংখ্যাতাত্ত্বিক-প্রামাণ্য তথ্যের সঙ্গে মিশিয়ে বললে তা আরও জোরালো ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। ফিলিস্তিনি জনগণের রাজনৈতিক সাম্য ও স্বাধীনতা না নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম থামবে না; এবং মানুষকে ক্ষণিকের সংবর্ধনা বা প্রপাগান্ডার আনন্দে অন্ধ করে দেবেন না।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.