নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রত্যাহার করা উপাধি বহন—জনগণের সঙ্গে প্রতারণা কেন?

১১ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:০৩

১৯৬৯ সালের উত্তাল গণঅভ্যুত্থানের সময়কার এক আবেগঘন মুহূর্তে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে তৎকালীন ভিপি তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। এটি ছিল এক প্রতীকী সম্মান—শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন এবং পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।

কিন্তু মাত্র চার বছর পর, ১৯৭৩ সালে, স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির টানাপোড়েন ও ছাত্রদলের রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রেক্ষিতে এই উপাধি প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে ছাত্র সমাজের দিক থেকে।

দৈনিক সংবাদ–এর ৩ জানুয়ারি ১৯৭৩ সংখ্যায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম পল্টন ময়দানের বিশাল জনসমাবেশে শহীদ দুই ছাত্র—মতিউল ইসলাম ও মির্জা কাদিরুল ইসলামের লাশ সামনে রেখে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা পাঠ করেন।

সেই ঘোষণায় তিনি জানান:

১৯৬৯ সালে রেসকোর্স ময়দানে ডাকসুর পক্ষ থেকে যে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রদান করা হয়েছিল,
ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সেই উপাধি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম, রেডিও, টেলিভিশন এবং সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানানো হয় যাতে তারা আর তার নামের আগে এই উপাধি ব্যবহার না করেন।

একইসঙ্গে বলা হয়, একসময় ডাকসুর পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে “জাতির পিতা” আখ্যা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু স্বাধীন দেশে আবার ছাত্রের রক্ত ঝরায় সেই বিশেষণও প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এমনকি তাকে দেয়া ডাকসুর আজীবন সদস্যপদ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।


এখানে মূল প্রশ্ন উঠে আসে—
যে উপাধি একদা ছাত্রসমাজ দিয়েছিল এবং পরে তারাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছিল, সেই উপাধি সরকারি ও সামাজিক পরিসরে অব্যাহতভাবে ব্যবহৃত হওয়া কি এক ধরনের ঐতিহাসিক সত্য গোপন করা নয়? জনগণের সঙ্গে এক ধরণের প্রতারণা নয়?

এই ঘটনাটি আজও ইতিহাসে বিতর্কের জন্ম দেয়—
উপাধি কি শুধুই আবেগের প্রতীক? প্রত্যাহার করা উপাধি বহাল রাখা কি ন্যায়সঙ্গত?একটি রাজনৈতিক সময়ের সিদ্ধান্ত কি পরবর্তী প্রজন্মের ওপর আরোপ করা উচিত?

এই প্রশ্নগুলোই বারবার সামনে আসে যখন ১৯৭৩ সালের পল্টন ময়দানের ওই ঘোষণা স্মরণ করা হয়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.