| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সোহানুল হক
সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।
পশ্চিমা মিডিয়ার বয়ান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করে দিয়েছে—ইরান শিয়া, শিয়া মানেই বিভ্রান্ত,আর বিভ্রান্ত মানেই ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্যুত।এই বয়ান ধর্মীয় তর্কের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল—কারণ ইরানকে আদর্শিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা গেলে তাকে সহজে শত্রু বানানো যায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় আচরণ বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
ইরান যে ধর্মীয় পরিচয় বহন করে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—সে কোন শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে এবং কার স্বার্থে দাঁড়াচ্ছে। বাস্তবে দেখা যায়, ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করে আসছে—যা মুসলিম বিশ্বের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এর মূল্য ইরান দিয়েছে বাস্তব অর্থেই নিষেধাজ্ঞা,অবরোধ, সামরিক হামলা,অর্থনৈতিক চাপে তাদের মুদ্রা ও জীবনযাত্রার মান নেমে গেছে।
অর্থাৎ এটি কেবল কথার বিরোধিতা নয়,বরং বাস্তব খরচ দিয়ে নেওয়া রাজনৈতিক অবস্থান। অন্যদিকে, সৌদি আরবকে দীর্ঘদিন “ইসলামের অভিভাবক” হিসেবে উপস্থাপন করা হলেওরাষ্ট্রীয় নীতিতে তাদের প্রধান মিত্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলঘনিষ্ঠ শক্তিগুলো। ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের অবস্থান বাস্তবে অনেক সময় নীরবতা বা আপসের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে—ধর্মীয় পরিচয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ, না কি রাজনৈতিক অবস্থান?ইসলামের ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, নবী (সা.) ও সাহাবিদের চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান,শক্তির সামনে নতি স্বীকার না করা,এবং মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকা।এই মানদণ্ডে বিচার করলে,আজকের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কে কতটা “ইসলামি”—
তা শুধু মসজিদের সংখ্যা দিয়ে নয়,বরং নীতিগত অবস্থান দিয়েই বেশি বোঝা যায়।
ইরানকে তাই শুধু “শিয়া রাষ্ট্র” হিসেবে দেখলে বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।তাদের ভূমিকা মূলত একটি প্রতিরোধমূলক রাষ্ট্রের— যে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে নিজের স্বার্থ ও পরিচয় রক্ষায় দাঁড়িয়েছে।।আর সৌদি আরবের সমস্যা হলো—তারা ধর্মীয় মর্যাদা বহন করলেও রাজনৈতিকভাবে সেই মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এখানে সিদ্ধান্তটা আবেগের নয়, যুক্তির—ইসলাম কোনো জাতিগত বা মাজহাবি পরিচয় নয়,ইসলাম মূলত অবস্থানের নাম।যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়,যে শক্তির কাছে মাথা নত করে না,সে ইসলামের নৈতিক চেতনার কাছাকাছি।
সুতরাং প্রশ্নটা আর “কে শিয়া, কে সুন্নী” নয়—প্রশ্নটা হলো,কে অন্যায়ের পক্ষে আর কে অন্যায়ের বিপক্ষে।
©somewhere in net ltd.