নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক › বিস্তারিত পোস্টঃ

“উর্দু রাষ্ট্রভাষা হওয়ার পেছনের যুক্তি: ইতিহাসের এক ভিন্ন পাঠ”

১৩ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময় দেশটি ছিল একটি ফেডারেল রাষ্ট্র। এই ফেডারেশনের প্রতিটি প্রদেশ নিজ নিজ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানের অংশ হয়েছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এক প্রদেশের ভাষা অন্য প্রদেশের মানুষ কেন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে?

এই বাস্তবতা থেকেই তখন একটি ধারণা সামনে আসে—রাষ্ট্রভাষা এমন হওয়া উচিত, যা হয় সব প্রদেশের জন্য একটি কমন যোগাযোগের মাধ্যম, অথবা এমন একটি ভাষা যা কোনো নির্দিষ্ট প্রদেশের একক আধিপত্যকে নির্দেশ করে না। এই যুক্তিতে অনেকেই মনে করতেন উর্দু ও ইংরেজি সেই শর্ত পূরণ করতে পারে।
এখানে একটি পাল্টা প্রশ্নও আসে। বর্তমান পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা পাঞ্জাবি, তবুও কেন পাঞ্জাবিকে বাদ দিয়ে উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলো? কারণ রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণ কেবলমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব দিয়ে হয় না; এর সাথে জড়িয়ে থাকে যোগাযোগের সহজতা, ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ তৈরির ক্ষমতা।

তৎকালীন পাকিস্তানে ছিল পাঁচটি প্রধান প্রদেশ—সিন্ধু, পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান ও বাংলা। এদের ভাষাগত বাস্তবতা ছিল বৈচিত্র্যময়।

সিন্ধিরা বেলুচি বুঝত না, বেলুচিরা বাংলা বুঝত না, বাঙালিরা পাঞ্জাবি বুঝত না, পাঞ্জাবিরা সিন্ধি বুঝত না। অর্থাৎ এক জাতির ভাষা অন্য জাতির কাছে প্রায়ই দুর্বোধ্য ছিল।
এই অবস্থায় কেউ কেউ যুক্তি দেন—যদি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা হতো, তবে পাকিস্তানের বাকি বড় অংশের মানুষের জন্য প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানো কঠিন হয়ে যেত।

তাই পুরো রাষ্ট্রকে একটি সাধারণ যোগাযোগের ভাষার অধীনে রাখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। অনেকের মতে,তখনকার নেতৃত্ব বিশেষ করে Muhammad Ali Jinnah এই সংযোগের ভাষা হিসেবে উর্দুকে উপযুক্ত মনে করেছিলেন। ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকেও অনেকের যুক্তি ছিল—উর্দু ও হিন্দি ইন্দো-ইরানীয় ভাষা পরিবারের অন্যান্য ভাষার সাথে তুলনামূলকভাবে বেশি ঘনিষ্ঠ। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি যোগাযোগের মধ্যভাষা হিসেবে কিছুটা সুবিধা তৈরি করতে পারে।

ভারতের উদাহরণও অনেকে দেন। সেখানে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ থাকার পরও প্রশাসনিক কাজে হিন্দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ভাষা করা হয়েছে, যাতে ভিন্ন প্রদেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয়।
ঐতিহাসিকভাবেও দেখা যায়, তৎকালীন অনেক নেতা—যেমন

Kazi Nazrul Islam,
A. K. Fazlul Huq,
Huseyn Shaheed Suhrawardy,
Sheikh Mujibur Rahman,
এবং Ziaur Rahman

ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সাথে যোগাযোগের সময় উর্দু ব্যবহার করতেন।

আজও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে দেখা যায়—বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি শ্রমিকেরা পরস্পরের সাথে সহজ যোগাযোগের জন্য হিন্দি-উর্দু মিশ্র ভাষা ব্যবহার করেন। এই বাস্তবতা অনেকের কাছে উর্দুকে একটি যোগাযোগের সেতু ভাষা হিসেবে তুলে ধরে।
অনেক ঐতিহাসিকের মতে, জিন্নাহর দৃষ্টিতে উর্দু ছিল কেবল একটি ভাষা নয়; এটি ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় মুসলমানদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাহক। ইসলামী সাহিত্য, কবিতা ও ধর্মীয় আলোচনার বড় একটি অংশ উর্দুতে রচিত হয়েছিল। তাই তিনি উর্দুকে মুসলিম পরিচয়ের একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবেও দেখেছিলেন।

তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল—একটি সাধারণ ভাষা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ সহজ করবে এবং রাষ্ট্রকে একটি সাংস্কৃতিক বন্ধনে যুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। সমর্থকদের মতে, সেই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতা ও ঐক্যের ধারণা কাজ করেছিল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.