| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সোহানুল হক
সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।
একটা শহর কল্পনা করুন—যেখানে আপনি বড় হয়েছেন। আজ থেকে ৩০ বছর আগে সেখানে ছিল অল্প কয়েকজন ডাক্তার, হাতে গোনা কিছু চিকিৎসা ব্যবস্থা। অথচ মানুষ তখনও বেঁচে ছিল, চলত, হাসত—নিজস্ব এক ছন্দে।
আজ সেই একই শহরে হাসপাতালের সংখ্যা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ডাক্তার বেড়েছে বহু গুণ। জনসংখ্যাও বেড়েছে—দ্বিগুণ, তিনগুণ, হয়তো আরও বেশি। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়—তাহলে রোগ কেন কমল না? বরং বাড়ছে কেন?
এই বাস্তবতা আমাদের ভাবায়—আমরা কি কোথাও ভুল পথে হাঁটছি?
আগেকার মানুষ প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে বাঁচত। তাদের খাবার ছিল তুলনামূলকভাবে নির্মল, জীবনযাপন ছিল সহজ, মাটির সাথে ছিল গভীর সম্পর্ক। আর আজ? আমরা ধীরে ধীরে সেই প্রকৃতি থেকে দূরে সরে গেছি—প্রযুক্তি আর দ্রুততার মোহে।
আরও এক গভীর প্রশ্ন উঠে আসে—এই স্বাস্থ্য সংকটের পেছনে কি আমাদের কৃষি ব্যবস্থারও কোনো ভূমিকা আছে?
এক সময় কৃষি ছিল কৃষকের হাতে—প্রাকৃতিক জ্ঞান আর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে গবেষণা, উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিযোগিতা, আর আধুনিক পদ্ধতির আগ্রাসনে কৃষি বদলে গেছে। নতুন নতুন জাত, বেশি ফলনের লোভ, আর সেই সঙ্গে বেড়েছে কীটনাশকের ব্যবহার।
আজ আমাদের দেশে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার কীটনাশক ব্যবহার হয়। সেই বিষ মিশে যাচ্ছে মাটিতে, ফসলে, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যে। আমরা না জেনেই সেই বিষ খাচ্ছি—আর অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
তারপর? সেই অসুস্থতা নিয়ে আমরা ছুটছি হাসপাতাল, ডাক্তারের কাছে। নিচ্ছি ওষুধ—যার পেছনে খরচ হচ্ছে আরও হাজার হাজার কোটি টাকা।
একদিকে আমরা বিষ ঢালছি নিজের শরীরে, অন্যদিকে সেই বিষের প্রভাব কমাতে খরচ করছি দ্বিগুণ অর্থ। এই চক্রটা কি সত্যিই আমাদের উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে—নাকি ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?
©somewhere in net ltd.