নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক

সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। কারণ, সত্যই হৃদয়কে মুক্তি দেয়। মিথ্যা ক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, তাতে আত্মা দগ্ধ হয়।

সোহানুল হক › বিস্তারিত পোস্টঃ

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীতে একটি উল্লেখযোগ্য বিশৃঙ্খলা বা বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট

১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬

১৯৯৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্পর্শকাতর অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল—সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে সৃষ্টি হওয়া এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি, যা “মে বিদ্রোহ” নামে পরিচিত। সে সময় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যেমন অস্থির ছিল, তেমনি সামরিক কাঠামোর ভেতরেও দেখা দিয়েছিল মতপার্থক্য ও টানাপোড়েন।

এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি Abdur Rahman Biswas এবং সেনাপ্রধান Abu Saleh Mohammad Nasim। রাষ্ট্রপতির একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—দুইজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাকে(মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিক ও মেজর জেনারেল আবদুর রব)বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো—কে ঘিরেই মূলত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। সেনাপ্রধান সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান, যা দ্রুত একটি বিদ্রোহাত্মক পরিস্থিতির জন্ম দেয়।

পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন জেনারেল নাসিমের অনুগত কিছু সেনাদল সাভার ও ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। সম্ভাব্য সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় রাজধানীজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ঢাকার প্রবেশপথগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এই সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নেতৃত্ব কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সংবিধান ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে Mahbubur Rahman-কে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সেনাবাহিনীর ভেতরে নেতৃত্বের স্পষ্টতা ফিরিয়ে আনে।

বিদ্রোহী সেনাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে কৌশলগতভাবে যোগাযোগব্যবস্থা ও চলাচলের পথগুলো সীমিত করা হয়—ফেরি পারাপার বন্ধ, সড়কে ব্যারিকেড—সব মিলিয়ে তাদের ঢাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টা জোরদার হয়।

শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছাড়াই এই সংকটের অবসান ঘটে। জেনারেল নাসিমসহ সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয় এবং সেনাবাহিনীতে পুনরায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ঘটনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি বড় পরীক্ষা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.