| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হয়ত দুপুরের দগ্ধ লেলুয়ায়
আমার ক্ষুদ্র হৃদয়ে পুষ্প ফোঁটবে না
যা তুমি মনে কর ।
বাসন্ত বিল শেষে সুদূর বন থেকে
নৃত্যে কেঁপে কেঁপে উঠা সবুজ পাতা গুলো
ধীরে ধীরে এসে জমা পরবে না
আমার বুকের খাচায় বাতাস হয়ে ।
হয়ত তুমি মনে কর
নীল আকাশের দিকে আবেগে উঁচু
চোখে তাকিয়ে থাকা
আর নির্ঝরে নিঃশব্দে ঝড়া মাংসগলা উত্তপ্ত
লাভা
(যাকে আমি ভুল করে অশ্রু ভেবেছিলাম)
সেটুকু কোন বেদনার নয় , কোন যন্ত্রনার নয় ;
হয়ত তাই চলে গেছ ।
আমার প্রেম নামক উত্তপ্ত
বালিয়ারিকে একা করে ।
হয়ত আমার ক্ষুদ্র বিবেকের
এতটুকু মূল্য নেই তোমার মহান মনুষ্যত্বের
কাছে ।
তোমার দম্ভের কাছে আমি পরাগশূণ্য ;
তোমার অস্তিত্বে
আমার কোষগুলোর আবেদনকে
হয়ত তুমি ধূমকেতুর চলনা ভেবেছ ;
তাই চলে গেছ
আমার প্রেমকে ব্যার্থ করে
আমার ডিম্বাণু শূণ্য করে ,
নিষিক্ত কোন ভ্রুণানুর কাছে
যে তোমায় অস্তিত্ব দিবে ভেবেছ ।
ভেবেছ যে তোমায় পৌছে দিবে
অথবা হাতে তুলে দিবে
মঙ্গল কিংবা বৃহস্পতি ।
ভালই হবে চলে গেলে !
কেন তোমায় কষ্ট দিতে যাব ?
আমিতো সত্যিই নিষিক্ত হতে পারিনি ,
কেন পারিনি তুমি জান ?
হয়ত জান ; হয়ত জান না ।
তুমি কি জানতে চেয়েছ কোন দিন ?
কেন আমি নিষিক্ত হতে চাইনি ?
আমার ডিম্বাণু ঢেকেছে নিপীড়িত নীড়
কঙ্কালষাড় দরিদ্র দিনমজুর
ওরা শুয়ে আছে আমার ডিম্বাণুর জমিনে
যারা জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে
অলিতে গলিতে পদদলীত হচ্ছে
যাদের মুখের দিকে তাকালে আমার
শিরা উপশিরা বিদ্রোহ করে ।
আমার রক্ত , লসিকাকে উত্তপ্ত হয়ে তোলে,
হিমোগ্লোবিন উত্তেজিত হয়ে
ছুটোছুটি করে এ্যবরো থ্যাবরো ।
আমার অস্তিত্ব কেঁদে কেঁদে উঠে ।
তাই আমার ক্ষুদ্র বিবেক বিলাসিতা ছেড়ে
ডাস্টবিন ছাটা কুকুর গুলোর পাশে বসে থাকে ;
যাদের তুমি গালি দাও ।
বিকৃত করেছে কপির জলে , তোমার উঁচু রঙের
পোশাক ;
অপরিপক্ক কঁচি হাত ।
ঘৃণায় তুমি তাদের লাথি দাও ;
দূর্বল দেহের ছিটে ফোঁটা অন্ন বের
করে আন ;পাকস্থলি থেকে
নিচু রঙের চামরা ছিড়ে রক্তে রাঙিয়ে দাও
তুমি যাদের ;
আমার ক্ষুদ্র বিবেক পরে থাকে
তাদের কাছে । ওদেরই একজন হয়ে ।
তুমি বলেছিলে , আমার মন ছোট
আমি নিচু দিকে তাকাই ।
সত্যিই তাই ।
কেন জান ?
কারন আমি অন্ধ সাজতে পারিনা ,
আমার রেটিনার আঙিনায়
কপাট পরে না কিছুতেই ।
রাস্তার পশু বেওয়ারিশ বলে তেড়ে যাও
যাদের তুমি
ওদের বুকে লাথি মেরে
ছেড়া বিচ্ছিন্ন অঙ্গগুলো মাড়িয়ে মাড়িয়ে
আমি মন্ত্রী হতে পারি না ।
ওদের বিষাক্ত সর্প কূপের গর্তে রেখে
আমি চড়তে পারি না বায়ু
কিংবা তরলে জাহাজে জাহাজে ।
ওদের পেলে রেখে ঐসবে আমার দম বন্ধ
হয়ে আসে ।
তুমি বলতে ওরা চোর , ডাকাত , সন্ত্রাস
কিংবা লুটতরাজ ,
কিন্তু তুমি কি কথনো ওদের অধিকার দিয়েছ ?
ওদের
শান্তিতে থাকতে পেরেছে একটি সেকেন্ড ?
এক মুঠো অন্ন তুলে দিয়েছ তৃপ্তি ভরে ?
বরং ওদের অন্ন কেড়ে নিয়েছ ।
অধিকার , শান্তি নিয়ে খেলা করেছ ।
ওদের দূর্বলতার সুযোগ নিয়েছ বার বার।
আমার ক্ষুদ্র মনুষ্যত্বের বিবেক
এই অশহায় নির্লজ্জ বিচ্ছিন্ন অঙ্গগুলোকে
পবিত্র মনে করে ।
তাই ওদের পাশেই বসে থাকি
যাদের তুমি টোকাই বলে ঘৃণা কর
বেওয়ারিশ বলে কর ছ্যঃ ছ্যঃ ।
আমি ওদের গায়ে গা মেখে ঘুমিয়ে পরি ।
ওদের মত করে স্বপ্ন দেখি
ডাস্টবিনের খাবার গুলো যেন কুকুর
নাখেয়ে পেলে ,
পরবর্তী নিঃশ্বাসের নিশ্চয়তা খুঁজি ।
ওদেরই একজন হয়ে ।
আমার ডিম্বাণু নিষিক্ত হয় না
তোমার তন্ত্রের বলি হওয়া এই অসুখীদের জন্য
।
রাস্তার পশু বলে যাদের ওপর তুমি চড়াও
হও ,
ওদের জন্য ।
চলে যাও ; বাধা দেব না ।
আমার জীবন নিষিক্ত হবে না
যতদিন ক্ষত মোছন না হয় ওদের
ততদিন বুড়ীঙ্গার বিষাক্ত জলই পান করব ;
ওদের মত করে বিছানা পাতব রাস্তার
কংক্রিটে ।
সংসার পাতব রাতের আধারে
এক একটি ক্ষণস্তায়ী সংসার ।
চলে যাবে আমায় ছেড়ে ?
আমার নিষিদ্ধ প্রেমের রক্তের বাধন ছিড়ে ?
যাও চলে ।
আমি পরে থাকব বেওয়ারিশদের ওয়ারিশ হয়ে ।
এরা এক একটি আমার সন্তান ।
তুমি কুক্ষণে নও , ইচ্ছে হলে থাকতে পার ।
ইচ্ছে হলে চলে যেতে পার ,
অন্য কোন নিষিক্তের কাছে ।
যে তোমায় হাতে তুলে দিতে পারবে
মঙ্গল কিংবা বৃহস্পতি ।
২|
১২ ই এপ্রিল, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১১
টুম্পা মনি বলেছেন: কঠিন!! সুন্দর। শুভকামনা।
৩|
১৩ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১২:৪৬
সোহরাব হোসাইন বলেছেন: স্যামহয়ারে নতুন ব্লগিং করছি ।তাই মন্তব্যের পিঠে মন্তব্য বসাতে ব্যার্থ হওয়ায় আমাকে ক্ষমা করবেন । বোকামন ও টুম্পেকে ধন্যবাদ ।আপনাদের নিজ নিজ মন্তব্য আমায় অনুপ্রেরণা দেয় ।
৪|
০১ লা জুলাই, ২০১৩ রাত ৮:৫৮
বটের ফল বলেছেন: কঠিন সুন্দর হয়েছে রে ভাই। যদিও একটু বড় হয়ে গেছে।
প্লাসায়িত।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই এপ্রিল, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১০
বোকামন বলেছেন:
অসাধারন
+++++++++
কবি আপনার আগের কবিতাগুলো পড়তে ইচ্ছে হল !