| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৌম্য
আমি সাঈদ সৌম্য। ঘুরা ঘুরি করতে ভাল্লাগে আমার ব্যাক্তিগত সাইট http://www.shoummo.com/
![]()
গতবার কোরবানীর সময় একটা ছাগল কিনা হইলো। সাধারনত প্রতিবার ঈদের সময় আমি ফাকতালে গরুর হাটে যাবার দিন কেটে পরি। আমার বাবা আর মেজ চাচা দুজনে গিয়ে গরু কেনে শেয়ার করে। আমি চান্সে ফুরুত হয়ে যাওয়ায় বিরক্তিকর কাজটা চাচার জামাই (দুলাভাই) এর উপ্রে পড়ে। ঐবার গরুর সাথে একটা ছাগলও কেনা হলো।
ঈদের শেষমুহুর্তে তিলোত্তমা ঢাকা যখন গরুর লাদা, ময়লা পানি আর খড় বিচালীর গন্ধে জান ঝালাপালা হয় সেই মুহুর্তে কিছু ছাগল ওয়ালা মহল্লার রাস্তায় রাস্তায় কয়েকটা রোগা পটকা ছাগল নিয়ে ঘুরে। মনে হয় ঢাকার আশপাশের দরিদ্র চাষীরা খুব অভাবে পরে প্রিউ ছাগলটা বেচতে বের হয়। আমরা ঢাকাবাসী সেটাকে কেটে কুটে খেয়ে ফেলি। সেরকম এক ছাগল ওয়ালা কিভাবে জানি আমার বাবার হাতে ছাগলটা গছিয়ে দিল।
ছাগলের দড়ি হাতে বাসায় ঢুকতেই আব্বু আম্মুর রোষানলে পড়লেন। এই পটকা ছাগল কিনলা কেন? এটারে রাখবা কই, হেন তেন। চাচার বাড়িতে জায়গা আছে, কিন্তু ছাগল নিয়ে ধানমন্ডিতে রেখে আসা যায় না। তাই ঠিক হলো গরু ওখানেই থাকবে আর ছাগল থাকুক বারান্দার সামনের জায়গাতে। গ্যারেজে জায়গা নেই, বাসায় বারান্দার সামনে গ্রীল দেয়া অংশের বাইরে একটা জায়গা আছে, ওখানে কিছু গাছ পালা রাখা আছে, সেগুলো সরিয়ে ছাগল রাখা হলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই মহানন্দে সে একটা পাতাবাহারের গাছ, কয়েকটা গোলাপ খেয়ে ফেলে আমার ক্যাকটাসের মধ্যে হামলা চালালো। ক্যাকটাস গাছ গুলো আমার অতি যত্নের ছিল, বেশ কাটাওয়ালা, সবাইকে অবাক করে দিয়ে সে কপ কপ করে সেগুলো খেয়ে হজম করে ফেলে বাথরুম পর্যন্ত করে ফেললো। বেচারাকে কিছু বলার উপায় নেই। নিতান্ত গোবেচারা ছাগল, সামনে গেলেই দাড়ি নাড়িয়ে গায়ের সাথে মাথা ঘসতে থাকে।
জ্বালাতন শুরু হলো রাতে। ছাগুলে বারান্দার পাশেই ড্রয়িং রুম। অনেক রাত পর্যন্ত আমি বাবা মায়ের সাথে ঐরুমে কথা বলছিলাম। সবাই চলে আসতেই ছাগল শুরু করলো গলা ফাটিয়ে কান্না। যারা গ্রামে থেকেছে তারা হয়তো ছাগলের কান্নার সাথে পরিচিত। বাচ্চা ছেলের মত তারস্বরে করুন আর্তনাদ। সেই শব্দ সহ্যকরার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই আছে। আমরা তরিঘরি করে বারান্দায় যেতেই ছাগল চুপ। মাথা দুলিয়ে দাড়ি নাড়াতে থাকে। একটূ আগে চিল্লায় চিল্লায় কান্নার কোন লক্ষনই দেখা গেল না। ফিরে আসতেই আবার ঝামেলা। এতো মহাজ্বালতন। বুঝতে পারলাম গ্রামের চাষী সম্ভবত ছাগলটাকে তার সাথে নিয়েই ঘুমাতো (গ্রামের খুব গরীব নিঃস্ব বিশেষ করে মহিলারা ছাগল পালে এবং যেহেতুর তাদের থাকার ঘর দোর থাকেনা, তাই সাথে নিয়েই ঘুমায়)। সে মানুষ ছাড়া নিঃস্বঙ্গ ভাবে থাকতে অভ্যস্থ না। আমরা পালাক্রমে সবাই মিলে ছাগলকে সঙ্গ দিলাম।একবার আব্বু থাকে, কিছুক্ষন পর আম্মু, তার পরে আমি, কাজের মেয়েটা, একা রাখলেই চিল্লায় চিল্লায় কাঁদে। ঈদের আরো একটা রাত বাকী। ভয়ে সবার অবস্থা কেরোসিন। যেই হোক রাত দুটো আড়াইটার দিকে ছাগল ঘুমালে আমরা চুপিসারে চলে আসলাম। ভোড়রাতে সূর্যের আলো ফুটতে বাকী থাকতেই সে বুঝে গেল আমরা ফাকি দিয়ে সবাই ঘুমাতে চলে গেছি, সে শুরু করলো গলা ফাটিয়ে কান্না। সে কি কান্না, কাঁচা ঘুম ফেলে সবাই দৌড়ে আসলাম। এই ছাগল কিনে তো পুরা ফ্যামিলির মাথা পাগল অবস্থা।
গল্পটা শেষ করতে ইচ্ছা করছে না। ঈদের দিন সবাই মিলে বেচারাকে ধরে কেটে কুটে খেয়ে ফেললাম, খারাপ লাগছিলো, কিন্তু কি করার, আমরা সবাই ধর্মপ্রান মানুষ। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তার প্রিয় পুত্রকে উতসর্গ করতে দ্বীধা করেন নি। ঢাকা শহরে প্রান কেন্দ্রে একটা ফ্ল্যাট বাড়িতে বসে যতই মায়া জন্মাক ছাগল খেতেই হবে।
ছাগল পেট হিসাবে খুব উচু মানের। পোষা প্রানীর ক্ষেত্রে ছাগল আর বিড়ালের উপ্রে কিছু হয়না। দুটোই খুব আদুরে আর ন্যাকামীতে ওস্তাদ। এমন ছাগল দেখেছিলাম যেটাকে প্লেটে না দিলে খেত না। ব্যাপার আজব, সারাজীবন ছাগলকে ঘাটে মাঠে ঘাস খেয়ে চড়ে বেড়াতে দেখেছি। আদর পেয়ে বখে গিয়েছিল।আমার এক ভাই একবার একটা ছাগল পুষেছিলেন শখ করে। কি ভাবে জানি কই থেকে ছাগল যোগার করে এনেছিল, কুরবানীর মাসখানেক বাকী, এটাকে ততদিন বাড়িতেই রাখা যাক। বাড়ির পিছে বাউন্ডারী ওয়ালের ভেতরেই একটা বড় জায়গা আছে, অনেক ঘাস, চড়ে বেড়াতে পারবে। আমার এক আপার এক ছেলে হলো তখন। দুলাভাই রেডক্রিসেন্টের সাথে যুক্ত ছিলেন, শখ করে জীন হেনরী ডুনান্টের আদলে ছেলের নাম রেখেছিলেন হেনরী। ভাইয়ার এই ব্যাপারটা মোটেও পছন্দ হয়নি, তাই প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে ছাগলের নাম রাখা হলো হেনরী। আপা অবশ্য ব্যাপারটায় তীব্র বিরোধিতা করলেন। ভাইয়া ভাংলেন না মচকালেন, ছাগলের নাম রিমিক্স করে করা হল হানরু। (একটু সন্দেহের ব্যাপার, ভাইয়া অল্প দিন হলো বিয়ে করেছেন, ওনার শ্বশুরের নাম হারুন),
হানরুর চড়ে বেড়ানোর জায়গা ছিল বাড়ির পিছনের জায়গাটা। ওখানেই তাকে রাখা হত। হানরুরুরুরুরু বলে ভাইয়া ডাক দিলেই ছুটে আসতো। অল্পদিনেই দেখা গেল হানরুর ঘাসের চেয়ে অন্য রুচির খাবারে বিশেষ করে পিছে রোদে শুকাতে দেয়া কাপড় চোপড় খেতেই বেশি পছন্দ। অজ্ঞাত কারনে আমার বড় চাচীর (ঐ ভাইয়ার মা) শাড়ি তার ফেভারিট ডিশ। চাচী ভাইয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেবার চেষ্টা করলেন কয়েকবার। হয় ছাগল থাকবে নইলে তুই। কিছুতেই কিছু হলো না। ছাগলে কি না খায় শুনেছি, শাড়ি ছাড়াও কাগজ এবং আঙ্গুর, কলা আর মিষ্টি আলুর প্রতি হানরুর সীমাহীন প্রীতি টের পেলাম। আমাকে পড়াতে আসতেন তখন নীলফামারীর এক দুর্ধর্ষ শিক্ষক। বাচ্চা কাচ্চাদের কঠিন মাইর ধোর করার জন্যে অনেক বিখ্যাত ছিলেন। স্যারকে একদিন হোমওয়ার্ক না করার কারন হিসাবে বলেছিলাম হানরু আমার খাতা খেয়ে ফেলেছে। হানরু বাধা থাকতো না। ঘুরতে ঘুরতে ঘরে ঢুকে পড়তো, স্যারের পাঞ্জাবীর কোনা চিবিয়ে দিয়েছিল একবার। তারপরেও স্যার পাত্তা না দিয়ে আমাকে কঠিন ধোলাই দিলেন।
এবং ঈদের সময় হানরুকেও কেটে কুটে খেয়ে ফেলা হলো। ভাইয়া কাজটা করেন নি। আরেক ভাই এবং আমাদের আধিয়ার (রংপুর অঞ্চলে বর্গাদারকে আধিয়ার বলে) যত্নের সাথে কাটাকুটি করলো। আমি তখন ক্লাস টু কিংবা থ্রির বাচ্চা। গলা ফাটিয়ে হানরু হানরু বলে কাঁদলাম
ব্লগটা উতসর্গ করলাম প্রথম আলো ব্লগের অবিসংবাদিত জনপ্রিয় ছাগল প্রেমী ব্লগার রামানুজনকে। ছাগল প্রেমের কারনে যাকে ব্লক করে দিয়েছে কর্তৃপ
২|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৫
অলস ছেলে বলেছেন: ছাগলের নাম রিমিক্স করে করা হল হানরু। (একটু সন্দেহের ব্যাপার, ভাইয়া অল্প দিন হলো বিয়ে করেছেন, ওনার শ্বশুরের নাম হারুন) ![]()
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৬
সৌম্য বলেছেন: ভাইয়া ভাবীকে জোর গলায় বলেছিল, জীন হেনরী ডুনান্টের নামানুসারে নাম দিছেন হানরু। আমার চাচা আর ভাবীর বাবা ফ্রেন্ড। জোর করে ভাইয়াকে বিয়ে দিছিলেন।
৩|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৮
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: মাঝে মাঝে কুরবানীর পশুর প্রতি আমাদের সবারই হয়তো খুব মায়া পড়ে যায়...
৪|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০০
পারভেজ বলেছেন: খুব ই ভালো লাগলো। ![]()
ভাইয়ার উপর ভক্তি জন্মাইছে ![]()
৫|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১১
নিবিড় বলেছেন: হুমম
৬|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:২১
নকীবুল বারী বলেছেন: হা হা....শেষের অংশটা আমার ছোটভাইয়ের সাথে মিলে গ্যাছে.............................
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৮
সৌম্য বলেছেন: ভাই, বয়স হইলো এখনো, কুরবানীর ঈদের দিন বাড়ি থেকে বাইর হইতে ইচ্ছা করে না।
৭|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:২৩
নকীবুল বারী বলেছেন: আর উপ্রের অংশ মিলা গেছে আমার নিজের সাথেই..........................![]()
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৮
সৌম্য বলেছেন: উপ্রে ছোট ভাই, নিচে আপনি আর মাঝেরটা?
৮|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩২
মাহমুদ৬৯ বলেছেন: "আমাকে পড়াতে আসতেন তখন নীলফামারীর এক দুর্ধর্ষ শিক্ষক। বাচ্চা কাচ্চাদের কঠিন মাইর ধোর করার জন্যে অনেক বিখ্যাত ছিলেন।" জটিল কইচেন।
৯|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৭
মনির হাসান বলেছেন: ... সৌম্য ... চরম্পন্থি লেখা হইছে ।
খুব ভাল্লাগছে ।
০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৩
সৌম্য বলেছেন: চরমপন্থি? এইটা কি কইলেন? মনির ভাই আমি কিন্তু ভাষ্কর্য ভাঙ্গুরেদের বিরুদ্ধে।
১০|
০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:২৪
মনির হাসান বলেছেন: আহারে ... "চরম্পন্থি" ইজ "চরম"স সুপারেলেটিভ ডিগ্রী ... খারাপ কিছু মিন করিনাই ...
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৩
...অসমাপ্ত বলেছেন: প্রথম একটু আর শেষের একটু পড়লাম...
কিন্চিত... দৌড়ের উপর আছি... আবার আসতে হবে। .... +