নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অমরত্বের লোভ কখনো আমাকে পায়না। মানব জীবনের নশ্বরতা নিয়েই আমার সুখ। লিখি নিজের জানার আনন্দে, তাতে কেউ যদি পড়ে সেটা অনেক বড় পাওয়া। কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছুই নেই।

শের শায়রী

হৃদয়ের কাছে বুদ্ধির বাস ভাল কথা। কিন্তু মাঝে মঝে হৃদয়ের ওপর থেকে বুদ্ধির শাসন তুলে দিতে হয়, হৃদয়কে স্বাধীন করে দিতে হয়, মুক্ত করে দিতে হয়। স্বাধীন মুক্ত হৃদয়ের ধর্মকে সব সময় বুদ্ধি দিয়ে বিচার করতে নেই।।

শের শায়রী › বিস্তারিত পোস্টঃ

"দ্যা এ্যাসাসিন" এর গুরু হাসান ইবনে সাবাহ

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:০৭



বাগদাদের খলিফার প্রভাব তত দিনে কমে অস্তমিত প্রায়। মিশরের কায়রো তখন বাগদাদের অর্থডক্স খলিফার কর্তৃত্বের বাইরে চলে গেছে, সময় একাদশ শতাব্দীর প্রথম দিক। এই কায়রোয় তখন ইসলামের নতুন এক শাখার বেশ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নিজেদের ইসমাইলীয় (ইসমাইলীয়দের নিয়ে জানতে আগা খান ও ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়: লিঙ্কে ক্লিক করুন) বলে এরা পরিচয় দিত। এরা অনেকটা নিজস্বধারার ইসলাম প্রচার করছিলো, এই সময়ই ইসমাইলীয় বংশে হাসান ইবনে সাবাহ নামে একজন মানুষের জন্ম হয় যিনি এমন একটা কাল্টের গুরু হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন আমার ধারনা পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত ওই কাল্ট জীবিত থাকবে। এমন না যে সাবাহই প্রথম পৃথিবীতে গুপ্তহত্যা প্রচলন করছিলো, কিন্তু সাবাহর নাম গুপ্ত হত্যার সাথে অমর হয়ে থাকার কারন এটাকে সে সাংগঠনিক রূপ দিয়ে এ্যাসাসিন শব্দের প্রচলন ঘটিয়েছে।

ইসমাইলী কারা?



Map the Fatimid Empire (chronological)

মুলতঃ ফাতেমীয় খিলাফত, ইসালামী খেলাফত গুলোর মাঝে চতুর্থতম। এই খিলাফত ইসমাইলি শিয়া মতবাদকে ধারণ করত। পূর্বে লোহিত সাগর থেকে শুরু করে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় এই খিলাফতের অধীনস্থ ছিল। এটি তিউনিসিয়াকে ভিত্তি করে গড়ে উঠে। এই রাজবংশ আফ্রিকার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল শাসন করত এবং মিশরকে খিলাফতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। সর্বোচ্চ সীমায় পৌছার পর ফাতেমীয় খিলাফতের অধীনে মাগরেব, সুদান, সিসিলি, লেভান্ট ও হেজাজ শাসিত হয়। ফাতেমীয়দের দাবি অনুযায়ী তারা মুহাম্মদ (সা) এর কন্যা ফাতিমার বংশধর ছিল। তারা উত্তর আফ্রিকা জয় করে। কুতামা নামক বার্বা‌র গোষ্ঠীর মধ্যে ফাতেমীয় রাষ্ট্র আকার লাভ করে। ৯০৯ সালে ফাতেমীয়রা রাজধানী হিসেবে তিউনিসিয়ার মাহদিয়া নামক শহর গড়ে তোলে। ৯৪৮ সালে আল মনসুরিয়ায় রাজধানী স্থানান্তরিত করা হয়। ৯৬৯ সালে তারা মিশর জয় করে এবং ফাতেমীয় খিলাফতের রাজধানী হিসেবে কায়রো শহর নির্মাণ করা হয়। মিশর পুরো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হয়ে উঠে। রাজবংশ ও শাসকশ্রেণী ছিল শিয়া মতবাদের ইসমাইলি শাখা উদ্ভূত।

প্রাথমিক প্রতিষ্ঠায় বার্বা‌ররা অবদান রাখে এবং একে সামরিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে সাহায্য করে। পরবর্তীতে একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে ফাতেমীয় খিলাফতের পতন ঘটতে থাকে। ১১৭১ সালে সুলতান সালাহউদ্দিন ফাতেমীয় খিলাফতের সমাপ্তি ঘটান। তিনি আইয়ুবীয় রাজবংশের সূচনা করেন এবং একে বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফতের সাথে যুক্ত করেন

এবার চলুন দেখি কে এই হাসান ইবনে সাবাহ?


Hassan-i Sabbah

“সারগোজাসত ই সাইয়্যেদেনা” সম্ভবতঃ এটাই হাসানের আত্মজীবনি, সম্ভবতঃ এই কারনে বললাম যে এ নিয়েও ঐতিহাসিকদের মাঝে কিছু দ্বিমত দেখছি। হাসান সাব্বাহ ১০৫০ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের কোম শহরে বারো ইমামে বিশ্বাসী এক শিয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশবে তার পরিবার ইরানের অন্যতম এক প্রাচীন শহর ‘রে’ তে স্থানান্তরিত হয়। সেখানেই হাসান তার পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসারে তার প্রাথমিক শিক্ষাদীক্ষা লাভ করেন। রে শহর ছিল ইসমাইলি ধর্মমত প্রচারের অন্যতম কেন্দ্র। ইসমাইলিদের মতবাদ সম্পর্কে হাসান আমির যারাব নামক ইসমাইলি মতবাদ দীক্ষা দানকারীর কাছে জ্ঞানলাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি আবু নাসের সরজ এবং রে শহরের অন্যান্য ইসমাইলি মতবাদ প্রচারকারীর কাছে এ বিষয়ে আরো শিক্ষালাভ করেন।

ফলস্বরূপ তিনি ইসমাইলি মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সতের বছর বয়সে তৎকালীন ইসমাইলি ইমাম ফাতিমিয় খলিফা আল-মুনতাসির এর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। এখানে একটা মজার মিথ আছে, কেউ কেউ বলেন নিজাম উল মুলক (হাসান ইবনে আলী ইবনে ইছহাক তুসী), ওমর খৈয়াম এরা নাকি হাসান ইবনে সাবার সহপাঠী ছিল, যা সম্পূর্ন কাল্পনিক কারন কিন্তু এটা অন্তত নিযাম উল মুলকের ক্ষেত্রে অসম্ভব ছিল কারন নিযামের জন্ম ছিল ১০১৮ সালে, ওমর খৈয়াম ১০৪৮ সালে আর সাবাহ ১০৫০ সালে। সেক্ষেত্রে খৈয়াম আর সাবাহ কাছাকাছি হলেও নিযাম কোন মতেই সাবাহর সহপাঠী হবার সম্ভাবনা নেই।


Hassan-i Sabbah

হাসান ইবনে সাবাহ প্রায়ই বলতেন জনা ছয়েক “বিশ্বাসী” পেলেই নিজেকে জগতের অধীশ্বর বানাতে পারবেন। তার সন্মন্ধ্যে প্রচলিত আছে, হাসানের উগ্রতা দেখে একদা তারা এক বন্ধু স্যাফরন আর বিশেষ মদের তৈরী ওষুধ খেতে দিয়েছিলেন তাকে- পাগলামির প্রতিষেধক হিসাবে, অনেক পরে হাসান যখন বিভিন্ন ভাবে সেই সময়ের আঙ্গিকে সফলতা লাভ করে নিজের ভবিষ্যতবানী সত্য প্রমান করে তার সেই বন্ধুকে একটা বার্তা পাঠিয়েছিলেনঃ “এখন তাহলে পাগল কে?”

গোড়াতে নিঃসন্দেহে ব্যাক্তিগত একটা আকর্ষনীয় শক্তি ছিল হাসান ইবনে সাবাহর এবং ভীষন বেপরোয়া ছিলেন, এই বেপরোয়া স্বভাবের কারনে খুব দ্রুত কাঙ্খিত কয়েকজন জনা ছয়েক মিত্র পেয়ে গেলেন। খুবই সরল একটা বিশ্বাস প্রচার করছিলেন তিনি, “সত্য বলে কিছু নেই, আর সব কিছুই জায়েজ।” অর্থোডক্স ইসলামের বেশ কিছু ট্রাডিশানের বিরুদ্ধে বিদ্রুপ করে সবার নজর কেড়ে নিয়েছিলেন।

অনুসারীদের যাজক, সহচর ও ফেদায়ী (ভক্ত) এই তিন ভাগে ভাগ করে তিনি এক গোপন গোষ্ঠী গড়ে তুলেন। এরাই তার সাফল্যের মুল চাবিকাঠিতে পরিনত হয়। এরা ছিল এ্যাসাসিন।

এ্যাসসসিন কারা? কিভাবে এই নাম আসল


Assassins

রক্তলাল কোমড় বন্ধনী আর চপ্পল সহ সাদা জোব্বা পরা এক জোড়া বাকা ছুড়ি এরা গোপনে শরীরে বহন করত। এরা সবাই ছিল তরুন বা সদ্য কৈশোরোত্তীর্ন। হাসান এই সব তরুন আর কিশোরদের ভাঙ আর মদের সাথে আফিম মিশিয়ে খাইয়ে গোপন কৌশলে দীক্ষা দেন, যতক্ষন পর্যন্ত না তারা নিজেদের বোধ বুদ্ধি হারিয়ে তার (হাসানের) অস্ত্রে পরিনত না হয়। ফেদায়ীদের মনে এ বিশ্বাস তিনি বদ্ধমুল ভাবে ঢুকিয়ে দিতেন যে মৃত্যু অনন্ত আনন্দের উৎস। আর এই হ্যাশিস যার একটা ধারনা দেয় মাত্র। এই "হ্যাশিস" থেকে "হ্যাশাসিন" সেখান থেকে "এ্যাসাসিন" শব্দটির উৎপত্তি।



আলামুত পাহাড়ের “ঈগলের বাসা” নামক দূর্গে তিনি তার হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেন। এখানে তিনি সাদ্দাদের বেহেশতের আদলে এক বেহেশত তৈরী করেন, পাহাড়ের ওপর দেয়াল ঘেরা বিচিত্র গাছপালা, সূর্যালোকে মদের ঝর্না, রেশমী কাপড়ের তাবু এবং কিয়স্কওয়ালা অনিন্দ্য সুন্দর উদ্যান আর দৃষ্টির আড়ালে থাকা বাদকদের দের মোহনীয় বাদ্য হ্যাশিসের প্রভাবে আচ্ছ্বন্য তরুন ফেদায়ীদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই এটা এক বেহেশত হিসাবে ধরা দিত।


Hashashin Eden

তাদের খেদমতে হাজির থাকত অপরূপ কিছু সুন্দরী, যাদের সাথে যথেচ্ছা যৌনাচার তাদের মনে বদ্ধমুল ধারনা দিত তারা বোধ হয় সত্যিকারের বেহেশতে আছে। মাদকের নেশায় অচেতন ফেদায়ীদের হাসানের বেহেশতে প্রবেশ করিয়ে দুই তিন দিন রাখা হত, এর পর তাদের মাদকের ঘোরে কয়েকদিন বেহেশতের সুখানুভুতি দিয়ে আবার আলামুত পাহাড়ের দূর্গে নিয়ে বলা হত বাস্তবিক ই তারা হাসানের আশীর্বাদে সত্যি সত্যি বেহেশতে যেতে পেরেছে তবে সেটা সাময়িক কারন ঐ বেহেশতে তারা পার্মানেন্টলি থাকতে পারবে এক মাত্র মৃত্যুর পর।


Murders for a False Paradise: The Hashshashins

ঈগলের বাসারা ওই উদ্যান বা বেহেশতের তুলনা চলতে পারে এমন সুখী মানুষের দেশ কোথাও নেই। সেখানে উদ্যানের তোরনের মাথায় লেখা ছিলঃ

ঈশ্বরের সাহায্যে
জগতের অধিশ্বর আইনের বিধান
ছিন্ন করেছেন। তার নামের (হাসানের)
তারিফ করো


এই সব তরুন দের কাছে হাসান যে কোন ইসলামের যে কোন ব্যাক্তির চেয়ে ক্ষমতাশালী পয়গম্বরের মত হয়ে ওঠেন। আত্মার মুক্তিদাতা হয়ে ওঠেন তিনি। সংগঠনের হাতে গোনা সামান্য কয়েকজন ব্যাক্তি তার উদ্দেশ্য ধরতে পেরেছিল – আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতা অধিকার এবং চলমান অবস্থা বিপর্যস্ত করে সম্পদ আহরন।

আলমুত দূর্গ বা ঈগলের বাসা দখল


Alamut Castle - Gate Of Alamut

এ সময় হাসান তার জন্য এমন এক জায়গার খোঁজ করতে থাকেন যেখানে তিনি তার কার্যক্রম আরো ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবেন। খোঁজ করতে করতে তিনি ১০৮৮ সালে আলামত শহরের দেখা পান। এখানে হাসান তৎকালীন ফাতিমীয় খলিফার ইমাম হবার দাবি অস্বীকার করেন। তিনি নিজারের সমর্থক ছিলেন। এখানেই তিনি তার স্থায়ী কেন্দ্র গড়ে তুলে প্রকৃত ইমাম হিসেবে নিজারের উত্তরাধিকারকে সমর্থন প্রদান করতে আগ্রহী ছিলেন। আলামুতে একটি দুর্গ ছিল যা প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার লম্বা এবং পাঁচ কিলোমিটার চওড়া একটি উপত্যকার প্রতিরক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল। কিংবদন্তী আছে যে, এক রাজা এখানে শিকার করার সময় এক ঈগলকে দেখে সেটিকে অনুসরণ করেন। কিছুক্ষণ পর সেটিকে উড়ে গিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় এক পাথরের ওপর বসতে দেখলে রাজা এটিকে এক শুভলক্ষণ হিসেবে নেন। এ জায়গার কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সে রাজা এখানে এক দুর্গ নির্মাণ করে সে দুর্গের নামকরণ করেন ‘আলামুত’ বা ‘ঈগলের বাসা’


hasan-i-sabah.com – "The Old Man of the Mountain"

প্রায় দু’বছর সেখানে অবস্থান ও ইসমাইলি মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে তিনি ১০৯০ খ্রিস্টাব্দে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গের দখল নিতে সমর্থ হন। লোকমুখে প্রচলিত কথা অনুসারে হাসান দুর্গের মালিককে ৩০,০০০ স্বর্ণের দিনারের বিনিময়ে দুর্গ বিক্রি করে দেয়ার প্রস্তাব দেন। দুর্গের মালিক রাজি না হলে হাসান যুদ্ধ শুরু করেন এবং দুর্গের মালিককে পরাজিত করে দুর্গের দখল করেন। তিনি দুর্গের মালিককে এক ধনী জমিদারের নাম ও ঠিকানা লিখে একটি চিঠি দেন এবং তার কাছ থেকে তিনি তার পাওনা টাকা নিতে বলেন। কিংবদন্তী আরো বলে যখন সে জমিদার হাসানের সই সহ সে চিঠি দেখেছিলেন তিনি দুর্গের মালিককে বিস্মিত করে বিনাবাক্য ব্যয়ে তার পাওনা টাকা পরিশোধ করে দেন। আলামুট দুর্গ দখল করার বছরই হাসান অ্যাসাসিন বা গুপ্তঘাতকদের এ সংঘটি প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যাসাসিনরা ছিলো শিয়া মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন একটি অংশ। তিনি পাহাড়ি অঞ্চলের উপরের অংশের দখল পাওয়ামাত্র তিনি যুদ্ধ ও গুপ্তহত্যার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ক্ষমতার বিস্তৃতি ঘটানো শুরু করেন।

হাসান ইবনে সাবার শিকার শুরু


Assassination of Nizamul Mulk

আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি তিনজন ফেদায়ীর একটি দল তৈরী করতেন। এবং হত্যা করা হত মসজিদে নামায পড়া অবস্থায় অথবা নামাযে আসা যাওয়ার পথে। প্রথম আততায়ী শিকারের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে তাকে ছুরিকাঘাত করত, সে ব্যার্থ হলে দ্বিতীয় জন এবং কোন কারনে দ্বিতীয় জন ব্যার্থ হলে তৃতীয় জনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়াত, যেখানে আততায়ী নিজের জীবন উৎসর্গকে ধর্মীয় পূন্য অনন্ত বেহেশত লাভের পথ হিসাবে দেখত। এই সব শিয়া ইসমাইলীয় আততায়ীরা মুহাম্মদীয় শহরের জনাকীর্ন পথে উটচালক, চাকর বা ভিস্তিওয়ালা যে কোন ছদ্মবেশে সাধারনের ভেতর মিশে যেত।

আধুনিক সুইসাইড বম্বারদের সাথে নিশ্চয়ই আপনি মিল পাচ্ছেন, কিন্তু মজার একটা ব্যাপার আছে এখানে হাসান আর বর্তমান এ্যাসাসিন বা সুইসাইড বম্বারদের মাঝে, বর্তমানে যারা সুইসাইড বম্বিং করে তারা প্রয়শঃ নিরীহ মানুষদের মাঝে নিজেকে হত্যা করে যতটা সম্ভব সাধারন মানুষ হত্যা করে, অন্য দিকে হাসানের আইডোলজি ছিল যদি একজন মানুষ কে হত্যা করে অনেক মানুষের যুদ্ধের প্রান রক্ষা করা যায় তবে ওই একজন কে হত্যা কর।

হাসানের প্রথম শিকার ছিল মহান সেলজুক উজির নিযাম উল মুলক ১০৯২ সালের ১৪ ই অক্টোবর। নিযামের মৃত্যুতে সেলজুক সাম্রাজ্যের ভাঙন ত্বরান্বিত করে। এর পর উত্তরের গাজী মওদুদ কে হত্যা করেন।

স্বাভাবিক হত্যাকান্ডের থেকে ড্যাগারের আতঙ্কই তখনকার বড় বড় আমীর ওমরাহদের আতঙ্কিত করত। যার কারনে তার আরোপিত চাঁদা দিতে খুব অল্প মানুষ ই গড়িমসি করত। স্বাভাবিক ভাবেই বহু আমীর ওমরাহ তার শত্রু হয়ে দাড়ায়। তাকে মুলাহিদ (ধর্মদ্রোহী) আক্ষা দিয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে কিন্তু এ্যাসাসিন গুরু হাসান আল সাবাহ থাকেন ধরা ছোওয়ার বাইরে।


Salah ad-Din Yusuf

বিখ্যাত কুর্দ বীর সালাউদ্দীন এ্যাসাসিন গুরু শেইখ আল জাবাল কে ধরার জন্য ঈগলের পাহাড়ে হানা দিয়েছিলেন, বাস্তবতা হল সালাউদ্দীনকে হত্যার নিমিত্তে এই এ্যাসাসিনরা দুইবার আক্রমন চালিয়ে বিফল হলে সালাউদ্দীন রেগে গিয়ে আলামুত অবরোধ করে কিন্তু দখল নিতে পারে না, কিন্তু এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে সালাউদ্দীন যে শেইখ আল জাবাল কে ধরতে যায় সে হাসান আল সাবাহ না কারন হাসান মারা যায় ১১২৪ খ্রিষ্টাব্দে আর সালাউদ্দীনের জন্ম ১১৩৭ খ্রিষ্টাব্দে। শেইখ আল জাবাল এ্যাসাসিনদের গুরুর একটা উপাধি মাত্র। সে অন্য গল্প হয়ত অন্য দিন বলব। যে মানুষটি সন্মুখ যুদ্ধে ভয় পায় না সেও কিন্তু মাথার ওপর মরন হয়ে ঝুলে থাকার ড্যাগারের মৃত্যু ভয় অস্বীকার করতে পারে না।

হাসান ইবনে সাবাহ বা শেইখ অব জেবালের মৃত্যু


Assassin fortress of Alamut. Persian miniature.

হাসান পাহাড়ের মাঝে কিছু দূর্গ স্থাপন করেছিলেন বা পুরানো দুর্গগুলোকে সংস্কার করে এক ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছিলেন যার কারনে তাকে “শেইখ আল জেবাল” বা “পাহাড়ের প্রবীন পুরুষ” নামে ডাকা হত। জীবনের শেষ দিকে হাসান এক বিচিত্র নতুন ইম্পোরিয়ামের ভিত্তি স্থাপনে সক্ষম হন, সমরকন্দ থেকে কায়রো পর্যন্ত যেখানেই পাহাড় ছিল সেখানেই তার রাজ্য বিস্তার লাভ করেছিল যদিও সে কোন সুলতান বা রাজা ছিল না কিন্তু তার সময় যে কোন সুলতানের থেকে বেশী প্রভাব রেখে গেছে তার অমর সৃষ্টি এ্যাসাসিনদের মাধ্যমে।


Archeologists in search of Hassan Sabah’s Tomb in Alamut fortress

হাসান সাব্বাহ যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে বলে অনুভব করছিলেন তখন তিনি তার সহকারী বুজুর্গ-উমিদকে তার উত্তরাধিকার হিসেবে মনোনীত করে যান। তিনি আরো তিনজনকে তার সহকারী হিসেবে মনোনীত করে যান। কিছুদিন অসুস্থতায় ভোগার পর হাসান ১১২৪ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। তাকে আলামুটের অদূরে দাফন করা হয়। হাসান সাব্বাহর শুরু করা কাজ অ্যাসাসিনরা আরো দেড় শতকেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। হাসানকে ইসমাইলিদের ত্রাণকর্তা বলে অভিহিত করা যায়। তার সমাধিতে প্রতি বছর অসংখ্য নিজারি ইসমাইলি জিয়ারত করতে যেত। মঙ্গোলরা ১২৫৬ খ্রিস্টাব্দে তার সমাধি ধ্বংস করে দেয়।

হাসান ইবনে সাবাহ প্রায় হাজার বছর আগে মারা গেছে, কিন্তু তার দেখানো পথ ধরে আজকে অনেক রাষ্ট্রই এ্যাসাসিনদের সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় লালন করে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে, আর ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা সেই এ্যাসাসিন হয়ে সারা পৃথিবীকে নরক বানিয়ে রেখেছে প্রতি মুহুর্তে সাধারন মানুষকে উৎকন্ঠায় রেখে।।

কৃতজ্ঞতাঃ Hassan-i Sabbah

Introduction to The Assassin Legends

হাসান-ই-সাব্বাহ: অ্যাসাসিনদের স্রষ্টা

THE ASSASSINS OF ALAMUT:

ফাতেমীয় খিলাফত

Death of Hasan bin Sabbah

Archeologists in search of Hassan Sabah’s Tomb in Alamut fortress

আরো অনেক অন্তর্জাল সহ "হ্যারল্ড ল্যাম্বের দ্যা ক্রুসেডস দ্যা ফ্লেইম অভ ইসলাম"

মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৪৪

এম ডি মুসা বলেছেন: চমত্কার! ভীষণ অনুচ্ছেদ ভালো লাগার।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৫৪

শের শায়রী বলেছেন: শুকরিয়া জনাব।

২| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৪৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


ইরানের শিয়া ও সব এলাকার কুর্দীদের মাঝে এ্যাসাসিনরা এখনো আছে।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৫৬

শের শায়রী বলেছেন: শুধু ইরান আর কুর্দী না মুরুব্বী হাসান ইবনে সাবাহর এই এ্যাসাসিনরা পৃথিবীর সব দেশেই এখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় ক্ষমতার একটা নিয়ামক হয়ে দাড়িয়েছে।

৩| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৫৬

কোথাও কেউ নেই বলেছেন: Rashīd ad-Dīn Sinān (Arabic: رشيد الدين سنان‎), also known as the Old Man of the Mountain (Arabic: شيخ الجبل‎ Shaykh al-Jabal, Latin: Vetulus de Montanis)

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৫৯

শের শায়রী বলেছেন: Rashid ad-Din Sinan তাই তো দেখছি এরা সব একই গোত্রের খুজলে আরো হয়ত পাওয়া যাবে।

৪| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:১২

এইচ তালুকদার বলেছেন: মংগোলদের কাছে তাদের কব্জায় থাকা সমস্ত দুর্গ আর ধনসম্পদ সমর্পন করার পর এদের কি হয়েছিলো?

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১:৪৪

শের শায়রী বলেছেন: After him, for 175 years his successors lived in the castle until the time Hulagu Khan of the Mongol invaded there and Rukn al-Din Khorshah (the last Ismaili ruler in Alamut) upon the advice of his minister Khaje Nasir al-Din Tusi, surrendered in 654.

মুলতঃ মঙ্গোলরা আসার আগেই এই ইসমাইলীয় এ্যাসাসিনদের পতন শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাই মঙ্গোলরা যখন আসে তখন তাদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই প্রাপ্প ছিল না।

৫| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ ভোর ৪:০৩

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
রসুলের (স) ওফাতের পর চার খলিফা। খেলাফতি শাসন।

সেটাও শান্তিপুর্ন ছিলনা। রক্তাক্ত হানাহানিপুর্ন।
৩ জন খলিফাকেই কোন্দলের কারনে হত্যা করা হয়েছিলো।
এরপর রাসুল সা: এর দুই নাতীকেও হত্যা করা হয়েছিলো
রাসুল সা: এর কন্যা ফাতেমা রা: এর মৃত্যুতে ততকালিন খলিফাকে জানাজাতে আসতে বলা হয়নি এবং তাকে লুকিয়ে করব দিতে হয়েছিলো।
অপঘাতে নিহত হজরত আলী রা: এর কবর দিতে হয়েছিলো অজানা স্হানে।
এরপরও বিভেদ কোন্দল অব্যাহত ছিল শত শত বছর।
প্রতিটি ইমাম সাহেব পরে নিজস্য মতবাদে নিজস্ব নিয়মে কোরান আয়াতের বিভ্রান্তিকর তফসিরে নিজস্ব পছন্দের হাদিসে পেশিশক্তির বলে বিভিন্ন ধারায় বিচ্ছিন্ন ভাবে ইসলাম প্রচার করে এলাকা দখল বজায় রেখেছেন।


ভারতবর্ষের মাটিতে অনেক পরেই ইসলাম প্রচার প্রসার হয়েছিল।
বসরা এলাকা থেকে আগত সুফি দরবেশদের মাধ্যমে তথা গজল জারিগান মুর্সিদি গান কবিগানের মাধ্যমেই। এরা খুব শান্তিপুর্ন ছিল। কখনো বিবাদে জড়ায় নি।
পরে ফার্সি ভাসি মোগলরা আসে ধর্ম প্রচার নয়, রাজ্য দখল করতে।
পরে ইংরেজরা আসলে পশ্চিমা কট্টর আরব বহিরাগতরা এসে তাদের নিজস্ব মতবাদ চালু করতে থাকে।
সুন্নি আহমদিয়া ও সুন্নি ওহাবিরা ভারতবর্ষে দুই ধারায় বিচ্ছিন্ন ভাবে প্রচার চালাতে থাকে
কিন্তু ৪০এর দশকে ওহাবি মতবাদিরা পরে মাওলানা মওদুদী ও তাদের অনুসারিরা ভারতবর্ষের মাটিতে আস্তানা গেড়ে দাঙ্গা হাংগামা সুরু করে।
নোয়াখালীতে যারা দাঙ্গা ও খুনোখুনি শুরু করে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল তারা সবাই বহিরাগত ছিল উদ্দু-ফার্সিভাষি ছিল। দাঙ্গার আগেই অস্ত্রধারি মিলিশিয়া বাহিনী রেডি রেখেছিল।

শিয়া মতাবলম্বি ধারার একটি ধনাড্ড অংশ সেই ইসমাইলিয়ারা এখনো আছে।
ভারতবর্ষে এরা আগাখানী ও ইস্পাহানী বংশ।
বর্তমানে এরা বোম্বে, করাচি, দুবাই ও প্যারিসে ভালভাবে আস্তানা গেড়েছে। পুরান ঢাকায়ও এদের আস্তানা আছে।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৩২

শের শায়রী বলেছেন: হাসান ভাই আপনার এই মন্তব্য পোষ্টকে পূর্নতা দিল। আপনার এই তথ্যগুলোর প্রায় সবই জানা ছিল কিন্তু যেহেতু আমার পোষ্ট হাসান ইবনে সাবাহ কে নিয়ে তাই ওগুলো উল্লেখ্য করা হয়নি পোষ্টে। তবে মন্তব্যের ঘরে আপনার মন্তব্য থেকে অনেকেই এই তথ্য গুলো জানবে।

অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানবেন।।

৬| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:৩৪

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: আল তামাশের উপন্যাস বাংলায় যার নাম শয়তানের বেহেশত পড়ে বিস্তারিত জেনেছি হাসান ইবনে সাবাহ সম্পর্কে।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:১৭

শের শায়রী বলেছেন: পড়া হয়ে ওঠে নি ভাই, কোথায় পাব এই বইটা জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

পাঠে কৃতজ্ঞতা।

৭| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো পোষ্ট। তথ্যবহুল।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:১৭

শের শায়রী বলেছেন: শুকরিয়া প্রিয় ভাই।

৮| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪৪

রানার ব্লগ বলেছেন: শাসক বলতেই কি তলয়ার বন্দুক সামুরাই এর ঝনঝনানি , এরা কি ন্যাপরায়ন, বিজ্ঞ, দয়ালু, কর্মনিস্ট এর প্রতিরুপ হতে পারে না।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৪৪

শের শায়রী বলেছেন: একটা কথা আছে আই এ্যাম টু বী ক্রুয়েল অনলি টু বী কাইন্ড শাষক হতে গেলে সামগ্রিক স্বার্থে কখনো কখনো নিষ্ঠুর হতে হয় ভাই।

খন্ড কাহিনী বা আধুনিক প্রেক্ষাপটে তাদের নিষ্ঠুরতা, বর্তমান দিয়ে যাচাই করতে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাদের মাঝে যেমন নিষ্ঠুরতা ছিল তেমনি কখনো কখনো এরা ন্যাপরায়ন, বিজ্ঞ, দয়ালু, কর্মনিস্ট এর প্রতিরূপ।

পাঠে কৃতজ্ঞতা।

৯| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৪৬

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: শিয়াদের এই সম্প্রদায় সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম...

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:১১

শের শায়রী বলেছেন: শুকরিয়া ভাই।

১০| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:৫১

নীল আকাশ বলেছেন: হাসান ইবনে সাবাহ সম্পর্কে হালকা কিছু জানতাম আগে। তবে এবার বেশ বিস্তারিত ভাবে পড়লাম।
এদের হত্যা কাহিনী রূপকথার চেয়েও রোমাঞ্চকর লাগে।
দারুন লিখেছেন। লিংক গুলিতে যেয়ে অরিজিনাল লেখাগুলিও পড়ে দেখতে হবে।
ধন্যবাদ।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:২৩

শের শায়রী বলেছেন: নীল ভাই একটা লিঙ্কে একটা পি ডি এফ ফাইল আছে ওই ফাইলটা ডাউন লোড করে পড়বেন, অনেক কিছু জানবেন। ওই সময়গুলো আমার কাছে রূপকথাই মনে হয়।

পাঠে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।

১১| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:০১

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আপনি তো আস্তে আস্তে প্রয়াত ইমন যুবায়ের এর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন...

২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:১৩

শের শায়রী বলেছেন: অস্বীকার করব না যাকে অনুসরন করে ব্লগ লিখি সেই অনুকরনীয়র সাথে তুলনা অবশ্যই ভালো লাগছে, তবে লজ্জাও লাগছে কারন একক প্রচেষ্টায় ব্লগকে অনন্য উচ্চতায় ঐ মানুষটিই নিয়ে গেছে, তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারব কিনা জানি না তবে তাকে অক্ষম অনুকরন করে যাচ্ছি।

এত অসাধারন একটা কমপ্লিমেন্টের জন্য আপনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানুন।

১২| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:০০

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: যেন সদ্য মুভি শেষ করে উঠলাম :)

ঐতিহাসিক ঘটনার এমন সূখপাঠ্যতা - আহা
ক্ষমতা আর লোভই সব অপরাধরে মূলে!

সহজিয়া হৃদয় থাকে প্রেমে মাতোয়ারা। সৃষ্টি আর সৃষ্টার প্রেম বিলীন হয়ে যায়
তবে এই সব দুষ্টদের তো আর প্রেমকথায় মন ভেজে না। ;) তাদের জন্য চাই মুগরের ঘা!

সালাহ উদ্দিন আইয়ুবীর কাহিনীতে অল্প বিস্ত পেয়েছিলাম - আজ বিস্তারিত জানলাম

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা

++++

২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:২৯

শের শায়রী বলেছেন: ম্যাভাই বিশ্বাস যাবেন কিনা জানি না, আপনার পোষ্টে মন্তব্য পেলেই ইচ্ছে হয় আর একটা পোষ্ট লিখি। আপনার মত প্রিয় মানুষের মন্তব্য আমাকে লিখতে উদ্দীপ্ত করে।

পাঠে কৃতজ্ঞতা ম্যভাই।

১৩| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫৩

জাহিদ হাসান বলেছেন: এদের কারণেই হালাকু খান মুসলিমদের শত্রু হয়ে উঠে ।

২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:৩১

শের শায়রী বলেছেন: রাইট জাহিদ ভাই, এই এ্যাসাসিনরা খুব ঝামেলা দিছে হালাকু খা কে যা তাকে প্রথম দিকে ভীষন মুসলিম বিদ্বেষী করে তুলে। তবে শেষের দিকে হালাকু অনেক ভালো হয়ে গেছিল।

১৪| ২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৩৪

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:
এই বিষয়ে আগেও পড়েছি। তবে এতো সুস্পষ্ট এবং বিস্তারিত লেখা পড়া হয়নি। হাশিশ মাদকের ভয়াবহতা !! আর কি নিখুঁত পরিকল্পনা মাফিক প্রতারণা। পোস্ট প্রিয়তে। অসাধারণ ++++



mad max : fury road মুভির কথা মনে হয়ে গেল।

সেই মুভিতে একজন প্রতারক Immortal দাবী করে এবং ব্রেনওয়াশ শিষ্যরা তাকে God মনে করে।
ব্রেনওয়াশ শিষ্যদের উদ্দেশ্যে God এর মিথ্যা প্রস্তাবগুলো আমাদের সমাজে থাকা ভায়োলেন্সকারীদের চিন্তাধারার সাথে খাপে খাপে মিলে যায়।
“My half-life War Boys will ride with me eternal on the highways of Valhalla.
I am your redeemer. It is by my hand...you will rise from the ashes...of this world!”
সেই God একজন প্রতারকের মতোই মিথ্যা অমরত্বের খোলসে মুড়ে দিয়ে অতিপ্রাকৃতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে। ঠিক যেন আমাদের চারপাশে ঘটে চলা অত্যাচারের শোষণচিত্র।

হাসান ইবনে সাবাহ রা পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে।

২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:১৯

শের শায়রী বলেছেন: সিনেমা খুব একটা দেখা হয় না, mad max : fury road রোড ছবি টার নাম শুনছি, ডায়লগ তো এক দম হাসান ইবনে সাবাহ র মত দিছে।

সেই God একজন প্রতারকের মতোই মিথ্যা অমরত্বের খোলসে মুড়ে দিয়ে অতিপ্রাকৃতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে। ঠিক যেন আমাদের চারপাশে ঘটে চলা অত্যাচারের শোষণচিত্র।

হাসান ইবনে সাবাহ রা পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে।
সম্পূর্ন এক মত ভাই।।

পাঠে কৃতজ্ঞতা জানবেন।

১৫| ২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৮

করুণাধারা বলেছেন: পোস্টে এত বিষয়ে এমনভাবে লিখেছেন, যে পড়া শেষে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ভাবতে ভাবতে লাইক করতে ভুলে গেছিলাম! অবশ্য আরেকটা কারণে ভুলে গিয়েছিলাম; ইসমাইলীয়াদের উল্লেখ দেখে মনে পড়ল, অনেক দিন ধরে ঢাকায় ঈসমাইলীয়াদের দেখিনা, প্রিন্স করিম আগা খানও আর আসেন না আগের মত। তখন এদের নিয়ে পড়া শুরু করলাম, ভুলেই গেলাম আপনার এই অসাধারণ পোস্ট লাইক করতে!

২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৬

শের শায়রী বলেছেন: প্রিয় বোন, এ আপনাদের একান্ত মহানুভবতা। অর্হনিশি আপানাদের কৃতজ্ঞতার জালে আবদ্ধ হচ্ছি। এটা অতি সত্যি যে আপনাদের যদি উৎসাহ না পেতাম তবে এভাবে লেখা সম্ভব হত না, পাশাপাশি এটাও স্বীকার করি আপনার লেখাও কোন অংশে কম না, ফিবোনাচ্চি রাশিমালা নিয়ে আপনার লেখা সেটাই প্রমান করে, হয়ত সময়ের অভাবে লিখতে পারেন না, পারলে নির্ধিদ্ধায় ব্লগ অনেক ভালো পোষ্ট পেত।

১৬| ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৫৬

সোনালী ডানার চিল বলেছেন:
অনবদ্য পোষ্ট ভাই-
এতদিন এ্যাসাসিনদের মুভির মধ্যেই চিনেছি- আজ আপনার পোষ্ট মন ভরে দিল-
আর হাসান সাবাহ’র কথায় ইতিহাসের অন্যএকজন সাবাহ যার নাম
আবদুল্লাহ ইবনে সাবাহ, শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভাবক তার বিষয় মনে পড়লো-
যাকে হযরত আলি রা: পুড়িয়ে হত্যা করেন!

আপনার পোষ্ট পড়ার জন্য লগ ইন করলাম।
খুব ভালো থাকুন সবসময়-

২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:১৪

শের শায়রী বলেছেন: এই তো দিলেন মাথায় আর এক পোকা ঢুকিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাহ নাম বলে :) এখন তাকে নিয়ে জানতে হবে। ব্যাপারটা বেশ রহস্যময় মনে হচ্ছে আমার কাছে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভাবক আবার হযরত আলি (রাঃ) তাকে পুড়িয়ে মেরেছে! একটু খোজ নিতেইও হয়। কিছুই জানি না এই ব্যাপারে, আপনি বলার পর খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে।

অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানবেন সোনালী ভাই।

১৭| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:২২

চাঁপাডাঙার চান্দু বলেছেন: হাশের বিষয়টা একটু কনফিউশন আছে, অতিরঞ্জিত হতে পারে। নথিতে পাওয়া যায় ফাতেমী খলিফা আমি আহকামিলাহ এদের গালি দিয়েই (আমাদের দেশের গাঞ্জুট্টি, হিরোঞ্চি) বলেছিল। সেই থেকে অন্যরাও বলা শুরু করে। মার্কো পোলোও দেখেছে হাশ কেউ কেউ সেবন করতো কিন্তু যেভাবে ধর্মীয় উপকরণ বলা হয়েছে সেভাবে নয়।
আবার হাসান-আস-সাবাহ নামের প্রথম অংশদ্বয় থেকেও তার অনুসারীদের নাম আসছে ধারণা করে কেউ কেউ।
এদিকে হাসান আস সাবাহ আবার তার অনুসারীদের আসাসিওন, (Asāsīyūn, أساسيون) মানে বিশ্বাসের উপর আস্থা স্থাপনকারী বলতো। এটা থেকেও নাম হতে পারে।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৩০

শের শায়রী বলেছেন: কেন তোমাকে মিস করি বুজতে পারছ? কি অসাধারন এক মন্তব্য। দারুন একটা পয়েন্ট দিয়েছ। নিজে কেন লেখ না?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.