নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শুভেন্দু সাহা শুভ

শুভেন্দু সাহা শুভ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভর্তি পরীক্ষার নতুন সিন্ধান্ত এবং কিছু বাস্তব চিত্র.........

২০ শে অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৯

আচ্ছা সব ধরনের নতুন নিয়ম কি একটা ব্যাচ দিয়েই শুরু করতে হবে। হ্যাঁ, আমি এইচ.এস.সি ১৪ ব্যাচের কথাই বলছি। হইতো অনেকের চোখে এই ব্যাচটা নিন্দিত কারণ এই ব্যাচের বেশি ভাগ স্টুডেন্টই প্রশ্ন পেয়ে A+ পেয়েছে। তবে এই দায় কি তাদের? নাকি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার? এই প্রশ্ন ফাঁসের ফলে আদৌ কি একজন মেধাবী স্টুডেন্ট উপকৃত হয়েছে? বরং তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরও বেড়ে গেছে যারা আদৌ তার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার যোগ্য না। এমন অনেক সমস্যার সন্মুক্ষীণ তাদের হতে হইছে যেগুলো অন্য কোন ব্যাচের হতে হয় নি। আমার চোখে পরা সেরকমই কিছু সমস্যা নিচে উল্লেখ করলাম......
১. যারা আদৌ পাস করার যোগ্য কিনা তারা এখন এ+ পেয়ে বসে আছে। ফলে যারা সত্যিকারের এ+ পাওয়ার যোগ্য আর যারা যোগ্য না তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকলো না। আবার কোন খারাপ স্টুডেন্ট ভর্তি পরীক্ষাই গোল্ডেন এ+ পাওয়ার ফলে বুয়েট এ পরীক্ষা দিতে পারছে। অথচ একজন সত্যিকারের মেধাবী স্টুডেন্ট যে হয়তো বাংলা তে এ+ মিসের জন্য বুয়েট এর ফরমই তুলতে পারছে না।
২. ঢা.বি. ভর্তি পরীক্ষাই দুর্নীতি হয় বলে তারা পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটার ব্যবহার করা বন্ধ করে দিল। তাই বলে কি দুর্নীতি বন্ধ করতে পেরেছে? দুর্নীতি কিন্তু ঠিকই ঘড়ি,মোবইল ফোনের মাধ্যমে হয়েছে। অথচ স্টুডেন্ট যারা এতদিন ধরে ক্যালকুলেটার ব্যবহার করে গণিত প্রাকটিস করলো তাদের পরীক্ষার আগে মুখস্থ নির্ভর পড়ার উপর নির্ভরশীল হতে হল। ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতি দূর করার দায়িত্ব ঢা.বি প্রশাসনের। সেজন্য ক্যালকুলেটার ব্যবহার না করতে দিয়ে স্টুডেন্টের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা আদৌ কি যৌক্তিক?
৩. ঢা.বি. প্রশাসন এবার নিয়ম করলো যে আগামী বছর থেকে কেউ ২য় বার ঢা.বি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এরকম একটা বড় সিন্ধান্ত কেন তারা ভর্তি পরীক্ষার আগে নিলো না। তাহলে অন্ততঃ যারা এবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে তারা বুঝতে পারতো যে এটাই তাদের শেষ সুযোগ। অনেকে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স না পায়ে আশায় ছিল হইতো আগামী বার ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পাবে,এইবার হইতো কম সময়ের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয় নি। কিন্তু দুঃখের বিষয় তাদের সুযোগ তারা জানার আগেই শেষ হয়ে গেছে।
৪. এবার ঢা.বি ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ৫০% স্টুডেন্ট চান্স পেয়েছে যারা এবার ২য় বার ভর্তি পরীক্ষা দিলো। তার মানে ক ইউনিটে প্রায় ১৬০০ সিট থাকলেও এবার যারা পরীক্ষা দিছে তাদের জন্য সিট ছিল সত্যিকার অর্থে ৮০০। আর যেহেতু তারা ২য় বার পরীক্ষা দিতে পারছে না তার মানে তাদের এখন পাবলিক বিশ্ববিদালয়ের ভর্তির স্বপ্ন বাদ দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখতে হচ্ছে। অনেকে হয়তো আর্থিক সমস্যার কারণে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়তে পারবে না। তার মানে সব দিক থেকেই এই এইচ.এস.সি ১৪ ব্যাচের এক বিরাট ক্ষতি হলো।
৫. এইবার যারা এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিসে তারাই ছিল ১ম ব্যাচ যারা সবগুলো বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা দিসে। সেজন্য গত বছরের প্রশ্ন বাদ দিয়ে পড়ার সুবিধা তারা পায়নি। সেই সাথে সৃজনশীল সিস্টেম থাকার ফলে তাদের পুরো বই পড়তে হতো। ফলে যারা সত্যিকার অর্থেই ভালো স্টুডেন্ট তাদের আসলেই অনেক পরিশ্রম করতে হয়ছে। কিন্তু সেই কষ্টের মূল্য কি তারা পেল? প্রশ্ন ফাঁসের ফলে সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে গেলো। এইবার এইচ.এস.সি পরীক্ষার কিছু প্রশ্ন দেখেছিলাম। প্রশ্ন দেখার পর আমার একটা জিনিসই মনে হয়ছিল যে এই প্রশ্ন যদি ফাঁস না হতো তাহলে ৫০% স্টুডেন্টই ফেল করতো।
আমি সবসময় এই ব্যাচ কে সাপোর্ট দিবো কারণ আমার বোনও এই ব্যাচের স্টুডেন্ট। আর এজন্যই আমি এই ব্যাচের সমস্যাগুলো অনেক কাছ থেকে দেখতে পেরেছি। পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পেয়েও আমি ওদের মাঝে যে টেনশন দেখেছি যেমন আদৌ এই প্রশ্ন কমন পরবে কিনা, প্রশ্ন যদি পরিবর্তন করে ফেলে (কিছু পরীক্ষায় প্রশ্ন পরিবর্তনও হয়েছিলো। সেসব পরীক্ষায় যথারীতি সবার ডাব্বা মারা ছাড়া কিছু করার ছিল না),পুরো বই পড়বে নাকি শুধু প্রশ্নটাই সমাধান করে যাবে ইত্যাদি নানা টেনশন। সত্যিকার অর্থে আমি নিজে প্রশ্ন না পেয়ে এইচ.এস.সি পরীক্ষা দেওয়ার সময় এতটা টেনশন করি নি যতটা না এই ব্যাচের স্টুডেন্টের প্রশ্ন পেয়ে করতে হইছে।
পরিশেষে তোমাদের জন্য একটা কথাই বলবো…”God help thoseselves who help themselves.” So don’t be tensed. Just say ALL IS WELL..

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.