![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইংল্যান্ডের মেরি ওলস্ট্যানক্রাফট ১৭৯২ সালে বলেছিলেন, ‘নারী কোন ভোগের সামগ্রী বা যৌন জীব নয়। তারা বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। তাই তাদের স্বাধিকার দিতে হবে’।
এছাড়া এই নারী অধিকার বা নারী মুক্তির জন্য ১৭৯৩ সালে ফাঁসির কাষ্ঠেও ঝুলতে হয়েছিল ফ্রান্সের ওলিম্পে দ্যা গগ্সকে। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া পূর্বে তিনি প্রচণ্ড সাহস নিয়েই বলেছিলেন, ‘নারীর যদি ফাঁসি কাষ্ঠে যাবার অধিকার থাকে, তবে পার্লামেন্টে যাবার অধিকার থাকবে না কেন’?
এছাড়াও তিনি সমগ্র বিশ্বের নারীদের জেগে উঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘নারী জেগে উঠো; গোটা বিশ্বে যুক্তির সঙ্কেত ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। তোমার অধিকারকে আবিষ্কার করো। প্রকৃতির শক্তিশালী সাম্রাজ্য এবং পক্ষপাত, গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও মিথ্যা দিয়ে অবরুদ্ধ নয়। সত্যের শিখা পাপ ও অন্যায় দখলের মেঘকে দূর করে দিয়েছে।'
সেদিক থেকে সৌদি নারীরা এই যুগে এসেও জাগতে পারেনি। প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি তাদের অধিকারের ছিটেফোঁটাও। বন্দী থাকতে হয়েছে ঘরের চার দেয়ালে, পুরুষের ইচ্ছেতে। এমন কি তারা এতদিন ভোটাধিকারও প্রয়োগ করতে পারেনি। কট্টর পুরুষ-তন্ত্রের বেড়াজালে থাকতে হয়েছে সেখানকার নারীদের।
এমনকি, সেখানকার কোনো নারী যদি স্বামীর কাছ থেকে তালাক-প্রাপ্ত হয় তারপরও সে নারী নিজ ইচ্ছেতে কিছুই করতে পারতেন না। যা করতে হবে তাও তা স্বামীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই করতে হবে! বিষয়টা ভাবতেই বিস্মিত হতে হয়। আর এতেই বুঝা যায় যে, সব থেকে কট্টর পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব সম্পন্ন রাষ্ট্র সৌদি।
তবে যাই হোক, একটু দেরীতে হলেও এবং অল্প-বিস্তর হলেও শেষ পর্যন্ত পুরুষ-শাসিত সৌদি আরবে ঘটতে যাচ্ছে নারী মুক্তির প্রথম ধাপ। আর এই ধাপ উতরে আসতে পারলে সেখানকার নারীরাও পুরুষ-তন্ত্রের বিরুদ্ধে নিজ অধিকার রক্ষার লড়াইতে অবতীর্ণ হতে পারবে। আর এমনটা চলতে থাকলে একটা সময় ‘কাবা’ নিয়ে বাণিজ্য বন্ধের সময়ও ঘনিয়ে আসবে।
সৌদিতে বিধবা ও বিবাহবিচ্ছেদ নারীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে পৃথক পরিচয়পত্র। এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সেখানকার নারীরা পুরুষদের থেকে আলাদা এবং স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন। নতুন নিয়মে এখানকার নারীরা শিশুদের স্কুলে ভর্তি করাতে পারবেন। চিকিৎসা-জনিত সুবিধাও ভোগ করবেন পুরুষদের সাহায্য ছাড়াই।
এর আগের নিয়ম অনুযায়ী এ কাজগুলো করতে বিবাহবিচ্ছেদ নারীদের বাধ্যতামূলক স্বামীর থেকে অনুমতি নিতে হতো। আর বিধবাদের ক্ষেত্রে দরকার পড়তো আদালতের অনুমতি।
শুধু তাই নয়, এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সে দেশটির নারীরা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর সেখানকার পৌর নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন সৌদির নারীরা।
নারীবাদ প্রতিষ্ঠার মধ্যে নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগটাও একটা অধিকার। পার্লামেন্টে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে পুরুষ-তন্ত্রের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মধ্য দিয়েই পৃথিবীতে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইটা শুরু হয়েছিলো। সেসময় নারীদের ভোট দেয়ার অধিকারও ছিল না। সে হিসেবে কট্টর পুরুষ শাসিত সৌদিতে নারীরা ভোট দিতে পারবে, এটি নারী মুক্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খুব আশাব্যঞ্জক একটি দিক।
বলা যায়, নারী যদি চার দেয়াল থেকে একবার বেরিয়ে আসতে পারে। এবং সে যদি তার মত করে বাইরের জগতটা নিজের মতো করে দেখার সুযোগ পায়, তবে নিশ্চিত সে তার অধিকার নিয়ে সচেতন হবে। সে ক্ষেত্রে সৌদি নারীরাও বাইরে বেরনোর সুযোগ পাচ্ছে। সুযোগ পাচ্ছে চাকরি-বাকরি করারও। সেদিক থেকে আশা করতে পারি, একসময় সৌদি নারীরাও পার্লামেন্টে যাবে। প্রতিনিধিত্বও করবে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় পুরুষ-তন্ত্রের শিকলও ভাঙবে। জয়তু নারী।
২| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৩১
জ্বলন্ত আলো বলেছেন: সৌদিতে ক্ষমতার পালাবদলের খুবই প্রয়োজন।
৩| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৯
রক্তিম দিগন্ত বলেছেন: সৌদিতে নারীদের এত অবহেলিত অবস্থা এটা জানতাম না। অন্তত মৌলিক অধিকারগুলো তো তাদেরকেকে দেওয়া উচিৎ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:০৭
মাকড়সাঁ বলেছেন: ইন্টারেস্টিং & ভাল লাগলো।