নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম

সাধারণ মানুষ। পড়ছি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে

সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম › বিস্তারিত পোস্টঃ

৪৪ তম বিজয় দিবসে আমি লজ্জিত, আপনিও কি?

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:২২

৪৪ তম বিজয় দিবস অসাধারণ ভাবে কাটল। ভাবলাম আজকে সারাদিন যাই ঘটুক পজেটিভলি নিব। বাইরে ঘুরাঘুরি করা হইলো না। বিকেলে একটু হাটতে বের হইছিলাম। কেমন জানি লজ্জা লজ্জা লাগতেছিল। প্রতিবছরের ন্যায় যে হারে কপোতকপোতিরা রঙিন হইয়া হাতধইরা ঘুরতেছিল। সে তারা ঘুরতেই পারে, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ নিয়ে নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নাই। তাগো কাছে তো একুশে ফেব্রুয়ারী, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারী সব একই ব্যাপার। কিন্তু আমার মতন একলা পোলাপাইনগুলার কি হপে? :( একলা বইলা কি আমরা মানুষ না? :p আমগো কি চোখ নাই? :/



যাই হোক, বাসায় ছিলাম প্রায় সারাদিনই। তো ভাবলাম শান্তিমত কোডিং করব। কিন্তু সেখানেও বাঁধা। কালকে বলছিলাম কানফাটানো শব্দে দেশাত্মবোধক গানের কথা, এও বলছিলাম যে এরা তার আগের রাতে টেস্ট পারপাজে বাজাইছিল মুন্নি শিলার গান। একটু ভুল বলছিলাম। এরা ওই কাজ টেস্ট পারপাজে করে নাই। গতকাল রাত এবং আজকের সকাল ছিল ঠিকই দেশাত্মবোধের দখলে। কিন্তু ল্যাঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড। দুপুর থেকে সুন্দর সুন্দর হিন্দী আইটেম গান। তার সাথে আগামীদিনের ভবিষ্যৎ পোলাপাইনও দেখি নাচে।



সবকিছু পজেটিভলি নেওয়ার কথা ছিল। ভাবলাম থাক, কোডিং আর কি করব হিন্দী ভাষা শিখি। একটা ভাষা পারাটা অবশ্যই দক্ষতার ব্যাপার। আমি খ্যাত মানুষ, এই যুগেও হিন্দী বুঝি না। তাই হিন্দী সিনেমা দেখি না রিকমান্ডেশন ছাড়া। দেখলেও সাবটাইটেল আর থোড়া থোড়া বুঝা আর অভিনয় দেখে বুঝি। বন্ধুদের রিকমান্ডেশনে থ্রি ইডিওটস দেইখা তো পুরা ভক্ত হইয়া গেছিলাম। মানুষও দেখলাম খুব ভালোভাবে নিছিলো ছবিটা। পরে দেখি তাহারা হাস্যরস সৃষ্টিকারী অংশটুকু একেবারে চেটেপুটে খাইলেও মুখস্থরে বাঁশ মারার শিক্ষাটা ঠিক সবাই নিতে পারেনি।



তো শেখা শুরু করলাম। একেকটা গান শুনি আর লিরিক্স সার্চ মেরে বাংলা করে দেখার চেষ্টা করলাম। সানি সানি-পানি পানি, চিকনী চামেলী, ইয়ে দুনিয়া পিত্তলদি, ফেভিকলছে। তো চিকনি চামেলী লিরিক্স সার্চ মারতেই পেলামঃ

♫♪আমি জংগলে আজ জংলী হবো

ক্ষুধার্ত বাঘের সাথে খেলা করবো

আমার মাখনের মতো হাতে কয়লা নেবো

রাজা আমি গভীর পানির মাছ

নদীর ঘাটে ঘাটে পানি খেয়েছি

শুধু তোমার নজরের ঢেউয়ে ডুবে গিয়েছি



আমার জানের মধ্যে আগুন

আমি দেখতে হালুয়ার মতো

আমি প্রেম বিলাবো, যেমন খুশী খাও

এটা ফিল্মের বিজ্ঞাপন, পুরা ফিলাম তোমকে দেখাবো

রুপের দিয়াশলাই কাঠিতে বিড়ি আর হুকার ছিলিম জালাবো



এই চিকনি চামেলী একলা এসেছি লুকিয়ে মাতলামী মাথায় চড়িয়ে

এই চিকনি চামেলী একলা এসেছি লুকিয়ে মাতলামী মাথায় চড়িয়ে

এই খালি রাস্তায় মজা নিয়ে এসেছি



তোমার নোনা চেহারা

আমার চাহিদা তোমার গভীর রং এ

রাজা আমার পাগল যেীবন

সব পর্দা কেটে ফেলবো

আমার একলা সন্ধ্যা রাত তোমার সাথে ভাগকরবো

আমার কথার মধ্যে ইংগিত আছে

যার মধ্যে খেলা করার ইশারা আছে

আমার সিন্দুক ভেংগে সব লুট করে নিয়ে যাও

চুমু দিয়ে তোমাকে জখম করে মলম লাগিয়ে দেবো



এই চিকনি চামেলী একলা এসেছি লুকিয়ে মাতলামী মাথায় চড়িয়ে

এই চিকনি চামেলী একলা এসেছি লুকিয়ে মাতলামী মাথায় চড়িয়ে।♫♪



অনুবাদ - নুসরাত আফিফা আবদুল্লাহ।



দেখুন, সমস্যাটা আমাদেরই। হিন্দীতে কি সুন্দর কোন গান নাই? আমাদের এত সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে দূরে ঠেললেন, খুব ভাল। কিন্তু এর চেয়ে ভাল কিছু দিয়ে ঠেললে ভাল হত না? সে ওরা যা কিছু করতেই পারে, এসব গানের সাথে নাচগুলোতে কাপড় রাখতেও পারে নাও রাখতে পারে। সে তাদের গনতান্রিক অধিকার। এ নিয়েও রাজনীতি করার কিছু নাই। কিন্তু আমরা কেনো বেছে বেছে সেগুলোর সাথেই প্রকাশ্যে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিচয় করাবো? তাও আবার বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারির মত দিনে? যেখানে প্রজন্ম ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বসে, শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ বলিয়া স্ট্যাটাস মারে? তবে তারা যথেষ্ট উদার, তারা খেলার সাথে রাজনীতি মেশায় না।



আর অনুসরন করতে চান? দূর্যোধন দাদার থেকে কিছু লাইন ধার নেই, "কোটি কোটি মানুষের দেশ ইন্ডিয়া আর চায়না। ইন্ডিয়া কোটি মানুষ কাজে লাগায় ওয়ার্ল্ডস বুমিং ইকোনমি বানাতে , বিশাল তাদের কনজ্যুমার আর আর্নারের সংখ্যা ...সেইদিন খোলা অনলাইনে কেনাবেচার সাইট ফ্লিপকার্টের অর্থমূল্য এখন ১ বিলিয়ন ডলার ! আরো অনেক উপরে । তারা শুধু মানব পতাকাই গড়েনি , সরকারী উদ্যোগে সবচে একদিনে সবচে বেশি বৃক্ষরোপনের রেকর্ড তাদের । বড় বড় সব কোম্পানির অফিস ভারতে করতে এখন একরকম বাধ্য , এইপচপি-সিটিব্যাংক-ম্যাককিনসে-স্ট্যানচার্ট-পেপসিকো , সব ভারতীয় ! আমেরিকার ৩৮% ডাক্তার-১২% আমেরিকার বিজ্ঞানী-৩৬% নাসার বিজ্ঞানী-৩৪% মাইক্রোসফটের কর্মী-২৮% আইবিএম কর্মী-১৭% ইন্টেল কর্মী ... সব ভারতীয় ! কিছুদিন আগে ২০ বছরের এক মেয়েও ফেসবুকে ২ কোটি টাকার চাকরি বাগিয়ে বসে আছে ...



এবং বাংলাদেশ কোটি মানুষ , কোটি মানুষের পটেনশিয়াল কাজে লাগায় সেলফি তুলতে আর ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করতে আর জনসংখ্যার ভারে পাছা ভারি করে পাহাড় ঠেলার মত করে হাজিরার ভিত্তিতে রেকর্ড করতে। "



সবাই করবে, আপনি কিছু বলবেন? তাহলেই দোষ আপনার। এসব দেখাতে গেলেন কেন? -_-

আসলেই দাদা, ইয়ে দুনিয়া পিত্তলদি...

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.