নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এস.কে নূরমোহাম্মদ এর বাংলা ব্লগ

এস.কে নূরমোহাম্মদ

নিজেকে আবিস্কারের নেশায় মত্ত...

এস.কে নূরমোহাম্মদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

রোদনের স্বপ্ন (গল্প-১)

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৫৬

হাসান আর রুমার ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনটা একাকিত্বে ভরপুর! একজন অতিথি দরকার। অনেক নোনা জলের বিনিময়ে ছেলেটার আগমন। রুমা তাই নাম রেখেছে 'রোদন '। ওকে ঘিরেই নতুন মায়ের সব হাসি কান্না। নাম রোদন হলেও ছেলেটা খুব একটা কাঁদেনা। আর রুমাও প্রতিটা মুহূর্ত ছেলেকে আগলে রাখে গভীর মমতায়।



***



দেখতে দেখতেই পাঁচটি বছর কেটে যায়। আর দশটা ছেলের মতোই রোদনের বড় হয়ে ওঠা। সকালে মায়ের সাথে স্কুলে যাওয়া, বিকেলে কার্টুন দেখা, রাতে বাবা এলে একসঙ্গে খেতে বসা প্রতিদিনের রুটিন।



দুধ কলা ভাত দারুণ পছন্দ রোদনের। ভাত মুখে তুলে দিতে দেরী হলেই গাল ফুলিয়ে বোম হয়ে যায় ছেলেটা!

রোদনদের দোতলার বাসার জানালা থেকে ছোট্ট একফালি আকাশ দেখা যায়! চাঁদের চেয়ে তারাটাই বেশি ভালো লাগে রোদনের। তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে জানালায় চোখ রেখে 'মা'কে বলে ....



-মা! মা! আকাশে তারা নেই কেন?

-আছে আব্বু । কিন্তু ওরা আমাদের জানালায় আসেনা।

-কেন মা ?

-তুমি ঘুমাচ্ছো না তাই!

-ও! তাহলে আমি ঘুমালে ওরা আসবে?

-হুম :) ঘুমাও...

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ এবং শান্তির জায়গায় গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়ে রোদন।



***



কিছুদিন হলো হাসানের মনটা মারাত্মক খারাপ।



-হাসান ...তুমি আরেকটা বিয়ে করে নিয়ো।

চুলে চিরুনি দিতে দিতে বললো রুমা।

-কি বলছো এসব?

-রোদনের জন্য

-তুমি ভালো হয়ে যাবা

-গেলে তো ভালোই হতো

-প্লিজ তুমি কোন চিন্তা কোরোনা

-মাস দেড়েক পরই নিশ্চিন্ত হবো। এখন শুধু রোদনকে নিয়ে চিন্তা।

-বাদ দাও তো এসব!

বাবুকে নিয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়ো...

-হুম! তুমিও ঘুমাও।

স্বামী স্ত্রীর কথোপকথন শেষ হয় ছোট দুটি দীর্ঘঃশ্বাস দিয়ে।



***



ইদানিং রোদনের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া হয়না। প্রতিদিন রাতে জানালায় তারা খুঁজতে খুঁজতে ঘুমিয়ে পড়ে।

তারার চেয়ে এখন 'মা' কে দেখা দরকার খুব। জানালার আকাশে 'মা'কে দেখা যায় না। মা হাসপাতালে, খুব অসুস্থ। চাচুর

সাথে বাবাকে বলতে শুনেছে ফোনে,মায়ের

ক্যান্সার হয়েছে। কিন্তু বাবা পঁচা। নিয়ে যেতে চায় না।



সেদিন রোদনের বাবা খুব ভালো হয়ে গেলো। মায়ের কাছে নিয়ে যাচ্ছে ওকে। হাসপাতালে খুব ভিড়। নানু,মামা,চাচ্চুরা কাঁদছে! সাদা একটা শাড়ি দিয়ে ঢেকে রেখেছে আম্মুকে। খুব সুন্দর লাগছে। ক্যান্সার হলে বুঝি সাদা শাড়ি পড়তে হয়!! রঙিন শাড়ি হলে আরো সুন্দর লাগতো। আম্মুর মুখটা মিটমিট করে জ্বলছে।



রোদন কাঁদছে না। আর কখনো দুধ ভাত খেতে গিয়ে গাল ফুলাবে না ও।

হয়তোবা তারা খুঁজতে খুঁজতে প্রতিরাতে ঘুমিয়ে পড়বে বাবার কোলে।

তবে রোদন আজ ঠিকই তারা খুঁজে পাবে জানালার ছোট্ট একফোঁটা আকাশে !



***



...উচ্ছ্বসিত রোদন ...



-মা! মা! দেখো দেখো!! জানালায় একটা তারা এসেছে! কত্তো সাদা! ঠিক সেই সাদা শাড়িটার মতো!



মিটমিট করে হাসছে তারাটা! ভেজা ভেজা গালে ছোট্ট টোল পড়ছে। রোদনের স্বপ্নটা দীর্ঘ হোক।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৫৫

আরজু পনি বলেছেন:

লেখাটা পড়ে আবেগী হয়ে গেলাম ।

২| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৪০

এস.কে নূরমোহাম্মদ বলেছেন: আপুর মন্তব্য দেখে আমিও আবেগী হয়ে গেলাম। ^_^

৩| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৪৬

অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন।

অনেক শুভকামনা :)

৪| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:১১

এস.কে নূরমোহাম্মদ বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ। দোয়া রাখবেন। :)

৫| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৩৬

আহমেদ আলিফ বলেছেন:
গল্প ভালো হয়েছে! +

৬| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩৯

এস.কে নূরমোহাম্মদ বলেছেন: পছন্দ করার জন্য ধন্যবাদ। :)

৭| ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৬

কলমের কালি শেষ বলেছেন: মনটা খারাপ হয়ে গেল । :(

৮| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:১২

এস.কে নূরমোহাম্মদ বলেছেন: আমারো খারাপ হয়ে ছিলো, লেখার সময়! :D

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.