নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

http://ianamblog.wordpress.com

আই আনাম

বলতে চাই অনেক কিছু কিন্তু কেন যেন বলতে পারি না

আই আনাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

শহীদুল জহির: আমার প্রিয় লেখক

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৪

এবারের বইমেলায় আমি একবার অত্যন্ত অল্প সময়ের সময়ের জন্য গিয়েছিলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল প্রিয় লেখক শহীদুল জহিরের তিনটি বই কিনব। কিনে ফেললাম। আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু, মুখের দিকে দেখি এবং ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প। তিনটি বইয়ের প্রকাশকই মাওলা ব্রাদার্স। এর আগে আমি পাঠক সমাবেশ থেকে লেখকের একটি উপন্যাস সংকলন ও একটি গল্প সংকলন কিনেছিলাম। উপন্যাস সংকলনে ছিল দু'টি উপন্যাস : জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সে রাতে পূর্ণিমা ছিল। গল্প সংকলনে ছিল দু'টি গল্পগ্রন্থ: পারাপার এবং ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প। আমার জানামতে এর বাইরে লেখকের আর কোন বই নেই। যা হোক গত রাতে তার আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু উপন্যাসটি পড়লাম এবং এখনও পর্যন্ত ঘোরের মধ্যে আছি। জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা পড়ে মনে হয়েছিল সেটি আমার জীবনে পড়া শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু পড়ার পর থেকে আমি দোটানায় পড়ে গিয়েছি। এমন অসাধারণ একজন লেখক কীভাবে দৃষ্টির আড়ালে থেকে গেলেন বুঝলাম না। এখন পর্যন্ত আমি পরিচিত একজনকে পেয়েছি যে কিনা আমার বলার আগে শহীদুল জহিরের নাম শুনেছে। তাও লেখক হিসেবে নয়, তার মায়ের প্রাক্তন সহকর্মী হিসেবে। আমি নিজেও তার কথা প্রথম শুনি তার মৃত্যুর পর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে মোহাম্মদ সাদিকের লেখা একটি স্মৃতিচারণ পড়ে। পরে তার সম্পর্কে পত্রিকায় আরও কয়েকটা সংবাদ পড়ে জানতে পারি যে তার লেখা "কোথায় পাব তারে" গল্প অবলম্বনে একটি নাটক "কোথায় পাব তারে" আমি আগেই দেখেছিলাম। নাটকটি সম্ভবত ভাই-বেরাদারদের। সেখানকার কয়েকটি চরিত্র লেখক শহীদুল জহিরকে গোটা নাটকজুড়ে খুঁজে বেড়ায় কিন্তু পায় না। নাটকটি আমার কাছে খুব একটা ভাল লাগেনি। নাটকটি দেখার সময়েও জানতাম না শহীদুল জহির নামে বাস্তবে একজন অসাধারণ লেখক আমার দেশেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেঁচে আছেন। যখন তার সম্পর্কে অবগত হলাম তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, শহীদুল জহির আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন নিভৃতে, যেরকম নিভৃতে তিনি তার স্বল্পআয়ুর জীবন পার করেছেন বিভিন্ন সরকারি কোয়ার্টারে। লেখক সম্পর্কে বিস্তারিত খুব একটা আমি জানতে পারি নাই। অনেক চেষ্টা করছি। বেশিরভাগ মানুষই তাকে চেনেন না। তার সম্পর্কে মুলত জেনেছি প্রথম আলোতে প্রকাশিত সরকারি কর্মকর্তা এবং শহীদুল জহিরের সহকর্মী মোহাম্মদ সাদিকের স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখা থেকে এবং সামহোয়ারইন ব্লগে টোকন ঠাকুরের লেখা সে রাতে উৎসব ছিল, শহীদুল জহিরের সাথে শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে। কেউ আরও কিছু জানলে দয়া করে জানাবেন। সবশেষে লেখকের বিদেহী আত্মার প্রতি শান্তি কামনা করছি।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০১

ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: পাঠক সমাবেশে আমিও গত পরশু শহীদুল জহিরের সমগ্র বের হয়েছে কী না খোঁজ নিয়েছিলাম। তারা জানালো সামনের সপ্তাহে তাঁর একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করা হবে। সেখানে সবগুলো উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের লেখা থাকবে।

শহীদুল জহিরের নাম আমিও এই ব্লগে আসার আগে শুনি নাই। অথচ এমন যশস্বী লেখক নিভৃতেই আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেলেন!

২| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২১

মুছাব্বির বলেছেন: গত বই মেলাতে কিনেছিলাম "আবু ইব্রাহিমের মৃত্যু"। এইতো সেদিন আবারো পড়লাম বইটা। যখন পড়তে থাকি তখন মনে হয় আমি নিজেই মনে হয় উপন্যাসের চরিত্র গুলোর সাথে কথা বলছি। লেখনির স্টাইল্টাও সম্পূর্ণ অন্যরকম লেগেছে। একটা বই পড়েই এই লেখকের অনুরাগী হয়ে গেছি। কিন্তু তাঁর অকালে চলে যাওয়ায় আমারা অনেক ভালো লেখা থেকে বঞ্চিত হলাম।
"জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সে রাতে পূর্ণিমা ছিল" উপন্যাস দুটো খ্যব সম্ভবত তাঁর প্রথম দুইটা উপন্যাস। শুক্রবার পাঠক সমাবেশ এ দেখে আসলাম। আপনি যদি পড়ে থাকেন তাহলে একটু জানাবেন কেমন লাগলো বই দুটো। কেনার আগ্রহ আছে।

৩| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৭

হাসান মাহবুব বলেছেন: তার লেখা পড়া হয়নি। তবে এবার কিনবই।

৪| ৩০ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩০

কাউসার রুশো বলেছেন: পরিচিত একজন সাহিত্যক হওয়া সত্ত্বেও তার লেখা এখনও পড়া হয়নি। :(
তবে এবার বইমেলায় কিনবই।
নূরুল আলম আতিকের একটা নাটক আছে 'চতুর্থ মাত্রা' । নাটকটির মূল গল্প লেখক শহীদুল জহির। এ নাটকের জন্য আতিক ভাই শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য ও শ্রেষ্ঠ নির্দেশকের সমালোচক পুরস্কার পান।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.