নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নতুনভাবে নিজের চিন্তার শক্তি আর ভাবনার বিশ্লেষণ করার সামর্থ অর্জনের জায়গা হল ব্লগ। বিচিত্র ভাবনারাশির আলোয় নিজেকে আলোড়িত আর আলোকিত করার উদ্দেশেই আমরা ব্লগে আসি। অবসর সময়টাকে ভালোভাবে কাটানোর জন্য এর চেয়ে মোক্ষম উপায় আর নেই। তদুপরি বিনোদন এখানে উপরি পাওনা

এস এম ইসমাঈল

মুক্তমনা, সকল রকমের সংস্কার মুক্ত, আমি ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধতা আমাকে কখনো গ্রাস করে নিতে পারেনি।আমি সুস্থ্য চিন্তা আর মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। আমার শক্তি আমার আবেগ আবার সে আবেগ-ই আমার বিশেষ দুর্বলতা। নেহায়েত সখের বশে এক আধটু কাব্য চর্চা করি, এই আর কি। প্রিয় বিষয় সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম, সংগীত, দর্শন, দেশ ভ্রমন আর গোয়েন্দা সিরিজের বই পড়া।ভীষণ ভোজন রসিক আমি। জন্ম যদিও চট্টগ্রামে কিন্তু ঢাকা শহরেই লেখা পড়া আর বেড়ে উঠা। আমার জীবনের গল্প তাই আর দশ জনের মতো খুবই সাদামাটা।

এস এম ইসমাঈল › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইমাম জাফর সাদেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩৬

ইমাম জাফর আস সাদিক (রহঃ)

বর্তমান বিশ্বে যত তরীকতপন্থী লোক রয়েছেন, তাঁদের সকলেরই তরীকার প্রধানগণ হয় হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু’র দ্বারা নয়তোবা ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু’র দ্বারা খেলাফত প্রাপ্ত হয়েছেন। তরীকতসমুহের উত্সমূল অনুসরণ করলে দেখা যায় যে, পৃথিবীর সর্বপ্রথম মুসলিম হিসেবে হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু এবং ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বপ্রথম সরদারে দোজাঁহা হযরত নাবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র পবিত্র হাতে বাইয়াত গ্রহন করে তাঁর নিকট তরীকতের তালীম নেন। পরবর্তীতে দুই মহান সাহাবী’র (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) কাছ থেকে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা তরীকতের তালীম নেন। হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, এ উভয় সিলসিলার ফয়েজ ও বরকত হাসিল করেছেন।হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহিওয়াজহাহু’র পবিত্র নিসবত থেকে উত্সারিত কাদেরীয়া তরীকার নিসবত তিনি পেয়েছিলেন বংশানুক্রমে। আর চিশতিয়া তরীকার নিসবত তিনি হাসিল করেছিলেন কিবারে তাবিঈন হযরত কাসেম ইবনে হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছ থেকে। উপরন্তু হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত কাসেম’র (রহঃ)কাছ থেকে খিলাফত ও তাওয়াজ্জুহ হাসিল করেছিলেন। হযরত কাসেম (রহঃ) হযরত সুলায়মান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছ থেকে খিলাফত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। হযরত সুলায়মান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু খিলাফত প্রাপ্ত হয়েছিলেন হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছ থেকে। এভাবে ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র মাধ্যমে হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু এবং হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু’র তরীকাদ্বয়ের সংমিশ্রণ ঘটে। উল্লেখ্য যে, ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি সে যুগের সকল তরীকতপন্থী ইমামগণের কাছ থেকে তাওয়াজ্জুহ, ফুয়ুজাত ও বরকত লাভ করে ধন্য হয়েছিলেন। সে কারণে ইমাম জাফর আস সাদিক (রহঃ) কে বলা হয় সকল ইমামগণের ইমাম তথা ইমামে শরীয়ত, তরীকত, হাকিকত, মারেফত ও রুহানিয়াত। তাঁর পবিত্র সাহচার্যে ধন্য হয়ে কুফার সুবিখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ হযরত নুমান বিন সাবিত ওরফে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ইমামে আজম হিসাবে বিশ্ব মুসলিমের কাছে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েছেন।



ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র পবিত্র বংশধারা হচ্ছে নিম্নরুপ ঃ-



হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজ হাহু



হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম হুসাঈন রাদিয়াল্লাহু আনহু



হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জয়নুল আবেদীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি



হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম বাকের রহমাতুল্লাহি আলাইহি



হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি





শুধু তাই নয়, হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহির কনিষ্ট পুত্র ইমাম মুসা আল কাজিম (রহঃ) ও জেষ্ট্য পুত্র ইসমাঈল (রহঃ) শিয়া-সুন্নী নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের কাছে সমানভাবে সম্মানিত।



কাদেরিয়া তরীকার সিলসিলা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ তরীকার নিসবত পরম্পরা নিম্নরুপ –



সরদারে দোজাঁহা হযরত নাবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম



হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু



হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম হুসাঈন রাদিয়াল্লাহু আনহু



হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জয়নুল আবেদীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি



হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম বাকের রহমাতুল্লাহি আলাইহি



হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি





চিশতিয়া তরীকার সাজরায় দেখা যায়, হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু’র কাছ থেকে খিলাফত প্রাপ্ত হয়েছিলেন ইমাম হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ভারতবর্ষে ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রচারক হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন হুসায়নী সৈয়্যদ। তিনি ছিলেন হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র অধঃস্তন বংশধর।



একইভাবে নক্সবান্দীয়া/মোজাদ্দেদীয়া তরীকার সাজরা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেদুটাও হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র সাথে সম্পকিত।



হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র বাণীসমুহঃ


১। বুদ্ধিমান শত্রুও এক ধরনের সৌভাগ্যের বিষয়।

২। অহংকারী অনুগত হলেও পাপী হয়ে থাকে।

৩। তাওবা করা সহজ হলেও পাপের অভ্যাস ছাড়া কিন্তু খুবই কঠিন ব্যাপার।

৪। প্রকাশ্য শত্রু কপট বন্ধুর তুলনায় অনেক ভাল।

৫। তোষামুদি ধরণের লোককে কাছে আসতে দিও না। কারণ তোমার অজান্তেই সে তোমার মনের মধ্যে অহঙ্কারের বীজ বপণ করে দেবে।



হযরত আলীর বাণীসমুহঃ

১। সব কিছুরই স্বাভাবিক পরিবর্তন আছে। কিন্তু স্বভাবের কোন পরিবর্তন হয় না।

২। ভদ্র সন্তান এলেম শিক্ষা করে বিনয়ী হয়। ইতর এলেম শিখলে উদ্ধত হয়ে পড়ে।

৩। বৃ্দ্ধদের অভিমত যুবকের শক্তিমত্তার চাইতে অনেক বেশী মূল্যবান।

৪। সর্বোত্তম বক্তব্য তাই যা শ্রোতার মনে বিরক্তি উত্পাদন করে না।

৫। স্বল্পভাষী লোকেরাই সাধারণতঃ ঠিক কথা বলে।

৬। ধন-সম্পদ ফেরাউন-কারুনদের উত্তরাধিকার এবং এলেম হলো নবী-রাসুলদের উত্তরাধিকার।

৭। আত্মম্ভরিতা এবং অহংকার মানুষের দ্বীনদারী ধংশ করে দেয়।

৮। স্ত্রীলোকের সর্বাপেক্ষা বড় গুন হচ্ছে ‘তাকে পর পূরুষে দেখবে না এবং সেও কোন পর পুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত করবেনা। বিবি ফাতিমা (রাদিআল্লাহু আনহা)



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.