নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নতুনভাবে নিজের চিন্তার শক্তি আর ভাবনার বিশ্লেষণ করার সামর্থ অর্জনের জায়গা হল ব্লগ। বিচিত্র ভাবনারাশির আলোয় নিজেকে আলোড়িত আর আলোকিত করার উদ্দেশেই আমরা ব্লগে আসি। অবসর সময়টাকে ভালোভাবে কাটানোর জন্য এর চেয়ে মোক্ষম উপায় আর নেই। তদুপরি বিনোদন এখানে উপরি পাওনা

এস এম ইসমাঈল

মুক্তমনা, সকল রকমের সংস্কার মুক্ত, আমি ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধতা আমাকে কখনো গ্রাস করে নিতে পারেনি।আমি সুস্থ্য চিন্তা আর মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। আমার শক্তি আমার আবেগ আবার সে আবেগ-ই আমার বিশেষ দুর্বলতা। নেহায়েত সখের বশে এক আধটু কাব্য চর্চা করি, এই আর কি। প্রিয় বিষয় সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম, সংগীত, দর্শন, দেশ ভ্রমন আর গোয়েন্দা সিরিজের বই পড়া।ভীষণ ভোজন রসিক আমি। জন্ম যদিও চট্টগ্রামে কিন্তু ঢাকা শহরেই লেখা পড়া আর বেড়ে উঠা। আমার জীবনের গল্প তাই আর দশ জনের মতো খুবই সাদামাটা।

এস এম ইসমাঈল › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইকবালের কাব্য প্রতিভা

১০ ই জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:১৯

আল্লামা ইকবালের কাব্যে ইশকে রাসুল

শাহজাহান মোহাম্মদ ইসমাঈল

আল্লামা ইকবাল ছিলেন বিংশ শতকের অন্যতম প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও ইসলামী চিন্তা ধারার সার্থক ভাষ্যকার।তিনি একাধারে ছিলেন কবি, দার্শনিক, চিন্তানায়ক ও ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানে সুপণ্ডিত ব্যক্তিত্ব। অধ্যাপক এ যে আরবেরি তাঁর “An Introduction to the History of Sufism” গ্রন্থের ৬৭ সংখ্যক পৃষ্ঠায় সূফীতত্বের সাধক হিসেবে ইকবালকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।কবি ইকবালের জন্ম ২২শে ফেব্রুয়ারী, ১৮৭৩ খৃষ্টাব্দে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে।তাঁর পূর্ব-পুরুষগণ ছিলেন কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ। ষোড়শ শতকে তাঁরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষীত হন।ইকবালের প্রাথমিক শিক্ষার পর্ব সমাপ্ত হয় শিয়ালকোটের সুবিখ্যাত পন্ডিত শামসুল উলামা মীর হাসান’র তত্তাবধানে।মীর হাসান ইকবালের কাব্য প্রতিভার আভাস পেয়ে তাঁকে উৎসাহিত করেন।শুরু হয় ইকবালের কাব্যচর্চা।১৮৯৫ খৃষ্টাব্দে কবি উচ্চ শিক্ষার্থে লাহোর চলে যান।সে সময়কার লাহোর জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল।ইকবালের সাথে তখন পরিচয় হয় প্রখ্যাত দার্শনিক স্যার টমাস উইলীয়াম আর্নল্ড এর সাথে।তাঁর সংস্পর্শে এসে ইকবাল পাশ্চাত্য ভাবধারা ও কালচারের প্রতি আকৃষ্ট হন।

১৯০৫ খৃষ্টাব্দে কবি ইকবাল আরো উচ্চতর জ্ঞানলাভের জন্য ইউরোপ যাত্রা করেন। কেমব্রীজ, লন্ডন ও বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারসমূহে অধ্যয়ন করে নিজ জ্ঞানভান্ডার সুসমৃদ্ধ করেন।এরপর জার্মানীর মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল - “Development of Metaphysics in Persia”. অধিকন্তু তিনি ব্যারিষ্টারীও পাশ করেন।ছয়মাসকাল ইকবাল লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী ভাষার অধ্যাপনা করেন।লন্ডনের ক্যাক্সটন হলে তিনি অনেকগুলি বক্তৃতা দেন, সেগুলি তাঁর গভীর মননশীলতার পরিচয় দেয়।



মাত্র তিন বছরের সংক্ষিপ্ত ইউরোপ জীবনে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে কবি বিশ্বভ্রাতৃ্ত্ব, কর্ম ও সংগ্রামশীল জীবনবোধের প্রতি উদ্বুদ্ধ হন।কবির ভাষায়, “গতির জন্যই সৃস্টি বেঁচে আছে, এটাই দুনিয়ার পুরাতন রীতি।”



বিলাতে থাকাকালীন তাদের বস্তুতান্ত্রিকতার দিকটি লক্ষ্য করে ইকবাল শংকিত হন এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার আয়ুষ্কাল যে আর বেশীদিন নেই সে বিষয়ে ভবিষ্যতবাণী করেন।এক কবিতায় ইকবাল বলেছেন,



“খোদ-বেখোদ গিরনেকো হ্যায় পাক্কে হুয়ে ফল কি তরাহ,

দেখে করতা হে জা কর কিসকী ঝুলিমে ফিরেংগে”।

অর্থাৎ-

“পাকা ফলের মত নিজেই কখন পড়বে ঝরে, দেখা যাক এবার কার ঝুলিতে গিয়ে পড়ে।”

ধনতন্ত্রের স্বৈরাচারে বিক্ষুদ্ধ ইকবাল এক কবিতায় লিখেছেন,

“হে খোদা!তুমি কবে,

ধনতন্ত্রের জাহাজকে

সমুদ্র গর্ভে নিমজ্জিত করবে?”



ধর্মীয় নীতিবোধের সাথে সম্পর্কহীন পাশ্চাত্য রাজনৈতিক চিন্তাধারার কুফল প্রসঙ্গে সাবধান বাণী ঊচ্চারণ করে কবি বলেন,

“যব জুদা হোতি হায় দীন সিয়াসাতসে,

তো বাকী রাহ জাতি হে চেংগিযী”,

অর্থাৎ- “ধর্ম থেকে পৃথক হলে রাজনীতি,

বাকী থাকে সেথা শুধুই চেংগিযী”।



ইকবালের মতে, “গণতন্ত্র এমন এক শাসন ব্যবস্থা, যা শুধু মানুষকে গণনা করে, ওজন করে না”। তাই তিনি বলেছেন, “একজন মানুষের মাথায় যে, বুদ্ধি থাকে, তা দু’শ গাধার মাথায় নেই”।



১৯০৮ খৃষ্টাব্দে ইকবাল বিলেত থেকে স্বদেশে ফিরে এসে লাহোর গভঃ কলেজে দর্শন ও ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপকের পদ অলংকৃ্ত করেন।এতদসংগে তিনি আইন ব্যবসায়ও শুরু করেন।১৯০৮খৃঃ-১৯৩৪খৃঃ পর্যন্ত ইকবাল আইন ব্যবসায় রত ছিলেন।অসুস্থ্যতার জন্য পরবর্তীকালে এ ব্যবসায় তাঁকে ত্যাগ করতে হয়।



১৯১৫ খৃষ্টাব্দে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘আসরারে খুদী’ প্রকাশিত হয়। এ কাব্যগ্রন্থে জীবন-বিমুখ সূফী সাধকদের প্রতি ইকবালের তীব্র প্রতিবাদ ঘোষিত হয়। এমনকি পারস্যের মরমী কবি সামসুদ্দিন হাফিযও(১৩১৫খৃঃ-১৩৮৯খৃঃ)তাঁর আক্রমণ থেকে বাদ পড়েননি।এতে সাহিত্যক ও সুধীবৃন্দের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ইকবালের খ্যাতি দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়ে।১৯১৮ খৃষ্টাব্দে তাঁর ‘রমুজে বেখুদী’ প্রকাশিত হয়।এবার ইকবাল দার্শনিক হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।১৯২২ খৃষ্টাব্দে ইকবাল ‘নাইট’ উপাধি লাভ করেন।



১৯২৭ খৃষ্টাব্দে ইকবাল পাঞ্জাব আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।১৯২৭ খৃষ্টাব্দে ইকবাল মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে সভাপতি মনোনীত হন।এলাহাবাদের এ অধিবেশনে সভাপতির অভিভাষণ প্রদানকালে উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলিম বিরোধ নিরসনকল্পে মুসলমানদের জন্য একটি নতুন রাষ্ট্র (পাকিস্তান) গঠনের প্রস্তাব দেন।



১৯৩১ ও ১৯৩২ খৃষ্টাব্দে ইকবাল বিলাতে অনুষ্ঠিত ‘রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স’ এ যোগ দেন।১৯৩২ খৃষ্টাব্দে ইকবাল আবারো মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে সারগর্ভ বক্তৃতা প্রদান করেন। ১৯৩৮ খৃষ্টাব্দের ২১শে এপ্রিল কবি আল্লামা ইকবালের কর্মচঞ্চল, ঘটনাবহুল জীবনের অবসান ঘটে।





ইকবালের কাব্য প্রতিভা ঃ

আগেই বলেছি, শিয়ালকোটের সুবিখ্যাত পন্ডিত ব্যক্তিত্ব শামসুল ওলামা ইকবালের কাব্যচর্চাকে প্রণোদিত করেন। সেকালে উর্দু কবি নবাব মীর্যা খান ওরফে ‘দাগ দেহলভী’ (১৮৩১খৃঃ-১৯০৫খৃঃ)কবি হিসেবে প্রভূত খ্যাতিমান ছিলেন।ইকবাল তাঁর কবিতাগুলো দাগের কাছে পাঠাতেন প্রয়োজনীয় সংশোধনীর জন্য।ইকবালের দু’একটি কবিতা পড়ে দাগ খুব মুগ্ধ হন এবং অভিমত প্রকাশ করেন যে, ইকবালের কবিতার কোন সংশোধনের প্রয়োজন নেই।দাগের জীবদ্দশাতেই ইকবাল কবি হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।সেকালে লাহোরে সাহিত্য সাধনার জন্য গড়ে উঠেছিল অনেকগুলো সংঘ-সমিতি।ইকবাল সে সব সমিতির মুশায়েরা’র মাহফিলে নিয়মিত অংশ নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করতেন।তাঁর কবিতাগুলো সেখানে খুবই সাড়া ফেলেছিল।লাহোরের ‘আঞ্জুমানে হিমায়েতে ইসলাম’ এর মুশায়েরায় ‘নালায়ে ইয়াতীম’ নামে একটা কবিতা ইকবাল পাঠ করেছিলেন।ভাবীকালে তিনি যে সাহিত্য-জগতে এক অত্যুজ্জল জ্যোতিস্ক হয়ে ফুটে উঠবেন এটি ছিল তারই আগমণী বার্তা। বস্তুতঃ লাহোর জীবনই ছিল ইকবালের কবি জীবনের বিকাশ ও স্ফুরণকাল।



ইউরোপে থাকালীন ইকবাল ফার্সী ভাষায় কাব্যচর্চা শুরু করেন।মাতৃভাষা উর্দু ছেড়ে ফার্সী ভাষায় সাহিত্যচর্চার কারন হিসেবে কবি ফার্সী ভাষার গতিশীলতা ও অতুল ঐশ্বর্যের কথা উল্লেখ করেছেন।



১৯২১ খৃষ্টাব্দ থেকে শুরু করে ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দের মধ্যে তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমুহের সাথে সাথে ‘খিযরে–রাহ’, ‘তুলুয়ে ইসলামী’ এবং ইংরেজী ভাষায় ‘Reconstruction of Religious Thought in Islam’ পুস্তকখানা লিখিত হয়।ইকবাল প্রধানতঃ উর্দু ও ফার্সী ভাষায় কাব্যচর্চা করে যশস্বী হয়েছেন।তাঁর উর্দু কাব্যগ্রন্থগুলো হল- শেকওয়া, জওয়াবে শেকওয়া, বাংগে দারা, বালে জিব্রীল, জরবে কলীম।আর ফার্সী ভাষায় রচিত কাব্য গ্রন্থ হলো ৭টি – ‘পয়ামে মাশরিক’, ‘আসরারে খুদী,’ ‘রমুযে বে-খুদী’, ‘যবুরে আযম’, ‘জাভীদনামাহ’, ‘পসচে বায়দ করদ আয় আকওয়ামে শরক্ক’ ও ‘মুসাফির’।একখানা গ্রন্থ ‘আরমগানে হেযায’ - উর্দু ও ফার্সী ভাষা মিশ্রিত।



তাঁর বিখ্যাত ‘তারানা’ “চীন ও আরব হামারা, হিন্দুসতা হামারা, মুসলিম হ্যায় হাম ওয়াতান হ্যায় সারা জাহা হামারা” (‘চীন আমার, আরব আমার, ভারতও আমার নয়কো পর, জগত জোড়া মুসলিম আমি, সারাটি জাহান বেঁধেছি ঘর’) সারা ভারত বর্ষে খুবই জনপ্রিয়।আরেকটি বিখ্যাত গান “সারে জাহা সে আচ্ছা হিন্দুসতা হামারা” সারা ভারত রাষ্ট্র জুড়ে আজো খুব সম্মানের সাথে গীত হয়।আল্লামা ইকবালের কাব্য প্রতিভা বাংলাভাষীদের কাছে অপরিচিত নয়।এদেশেও রয়েছে কবি ডঃ স্যার আল্লামা ইকবাল’র অনুরাগী পাঠক-ভক্তদের বেশ ক’টি সংগঠন।



হুযুর কিবলা হযরতুল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব (শাহ্ রহঃ) ও কবি ইকবাল



হুযুর কিবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহঃ)(১৯১৬খৃঃ-১৯৯৩খৃঃ)ছিলেন কবি ইকবালে’র কবিতার একনিষ্ঠ সমঝদার পাঠক ও ভক্ত।তাঁর প্রাত্যহিক প্রাতঃকালীন তাকরীর এবং পীরভাইদের কাছে লিখিত চিঠিপত্রে প্রায়শঃই ইকবালের কবিতার উদ্ধৃতি শোভা পেত।ইকবালের একটা শের তিনি সব সময় উচ্চারণ করতেন,



“কী মুহাম্মদ সে ওয়াফা তুনে, তো হাম তেরে হ্যায়,

ইয়ে জাহা চিজ হ্যায় কেয়া? লওহ কলম তেরে হ্যায়”।। ‘জওয়াবে শেকওয়া’র শেষ চরণ’।



আমাদের জাতীয় কবি, বাংলার বিদ্রোহী রবি, কাজী নজরুল ইসলাম, কবি ইকবালের এ অমর পংক্তিটির কী সুন্দর কাব্যানূবাদ করেছেন –



“আল্লাহ্‌ কে যে পাইতে চায়, হযরতকে ভালবেসে,

আরশ-কুরসী,লওহ-কলম না চাহিতে পেয়েছে সে।”



কবি ইকবাল ছিলেন প্রকৃত নবী প্রেমিক।নবী প্রেমে মাতোয়ারা কবির কন্ঠে তাই উচ্চারিত হতে দেখি,

“মগজে কুরআ, রুহে ঈমান,জানে দ্বীন,

হাসত হুব্বে রাহমাতুল্লিল আলামীন।”

অর্থাৎ -

“কুরআনের মগজ, ঈমানের আত্মা,

ধর্মের প্রাণ শক্তি হলো,

সৃষ্টির তরে অপার করুনার(নূর নবীজী)প্রতি,

অকুণ্ঠ ভালবাসা।।”



এ শেরটিও আমরা হুযুর কিবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্’র (রহঃ) কাছ থেকে বহুবার শুনেছি। কারন এ দেশের বুকে ইশকে রাসুলের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন তিনি।যার প্রমান জশনে জুলসের সুবিশাল মিছিলের প্রবর্তন(১৯৭৪ খৃঃ)।তিনি সবসময় বলতেন, “নবী প্রেম হল ইমানের পূর্বশর্ত”।ইকবালের উপরোক্ত শেরটাও একই কথার প্রতিধ্বনি।



সব সময় অযু অবস্থায় জিকিরে লিপ্ত থাকার উপদেশ দিতে গিয়েও হুযুর কিবলা (রহঃ)কবি ইকবালের একখানা শের উদ্ধৃত করেছেন, -“হাত কার ওয়াল, দীল ইয়ার ওয়াল” অর্থাৎ - ‘হাত দিয়ে কাজ কর, মন দিয়ে আল্লাহ্‌ কে স্মরণ কর’।



ফানাফিল্লাহ’র মকাম হাসিলের জন্য আমাদেরকে উৎসাহ দিতে গিয়েও তিনি আল্লামা ইকবালের একটা শের উল্লেখ করেছেন,

“মিটাদো আপনি হাস্তি কো আগর কুছ মরতবা চাহিয়ে,

কে দানা খাকপে মিল কর গুলে গুলজার বনতি হ্যায়”।

অর্থ- ‘হও যদি তুমি প্রত্যাশী ভবে মর্যাদার,

মিটিয়ে দাও তবে নিজের অস্তিত্বের পাহাড়,

বীজের চরম আত্ম বলিদান,

গড়ে তোলে সুশোভিত ফুল বাগান’।



একই কথার সুর তুলেছেন রবীন্দ্রনাথ –

“উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই, ওরে ভয় নাই,

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।”



স্রষ্টার প্রতি চরম আত্ম নিবেদনের আকুতি ফুটে উঠছে ইকবালের যে অমর পংক্তিটিতে, তা-ও আমাদের জানা হয়েছে হুযুর কিবলা’র (রহঃ) সৌজন্যে -

“জান দি তো উস কিহি থি,

পর হক ইয়ে হ্যায় কেহ হক আদা না হুয়ি”।

‘দিয়েছি জীবন, হয়েছে কী তাতে?

তাঁর দেয়া জীবন ফিরিয়েছি তাঁকে,

এতে নাই মোর কৃ্তিত্ব এক রত্তি,

বরং প্রতিষ্ঠিত হলো এক মহা সত্যি,

আদায় হলো না, তাঁর দায়-দেনা,

আসল কথাটা এবার হয়ে গেল জানা।”



ইকবালের রসুল প্রেম-

এক কবিতায় ইকবাল বলেন,

“তু গঞ্জী আয হার দু আলম মান ফকীর,

রোজে মাহশর উযর হায়ে মান পযী

গার তুমী বীনী হেসাবাম না গজীর,

আয নেগাহে মুস্তাফা পেনহা বগীর”। ফার্সী

কাব্যানূবাদ-

“হে আল্লাহ্‌!দোজাহানে কারো মুখাপেক্ষী নও তুমি,

ওগো দয়ালু!উভয় জগতের সবাই তব করুণাকামী,

হাশরের দিনে বুঝে নিবে সবে, নিজ নিজ প্রতিদান,

হিসাব আমার নাও যদি প্রভূ করোনা অপমান।।

এটুকুই শুধু করি নিবেদন, ওগো আল্লাহ্‌!মহান রাজন,

নুর নবীজী’র সামনে তুমি, করোনা মোরে অসম্মান।

তাঁর দৃষ্টির আড়ালে ডেকে, হিসাব আমার নিওগো বুঝে,

হেন পাপীরে সামনে ডেকে, লজ্জা তুমি দিও না তাঁকে”।।

রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র সম্মানের প্রতি এমনি ছিল কবির চিন্তাধারা।



কবির রাসুল প্রেমের একটা উদাহরণ দিচ্ছি ইকবালের ‘জওয়াবে শেকওয়া’র শেষ অধ্যায় থেকে।‘জওয়াবে শেকওয়া’য় মোট ৩৬ টি স্তবক রয়েছে।এর ৩৩ সংখ্যক স্তবকখানা দেখুন –

“সে নামেরি কুসুম ছাড়া বুলবুলিদের বিলাপ বৃথা,

ফুল বাগানের শোভা বৃথা, মুকুলরাজির হাসি বৃথা,

ঐ নামেরি সাকী ছাড়া পাত্র বৃথা, শরাব বৃথা,

তৌহিদ সভার শোভা বৃথা, তোমাদেরও হাস্তি বৃথা,

ঐ নামেরি কল্যাণে আজ আকাশ আছে শূণ্য পরে,

ভবের নাড়ী সবল আছে, পবিত্র সে নামের জোরে।”



আল্লামা ইকবালে’র নাত – মিলাদ মানাতে হেঁ,

কাব্যানূবাদ - শাহজাহান মোহাম্মদ ইসমাঈল।

(১)

দুই ভূবনের কান্ডারীর আজ, করছি পালন জন্মদিন;

জীবন্ত এক সত্যকে মন! আজ অনূভব করার দিন।

মেরাজ রজনীতে ছিলেন, নবীজী বিশেষ মেহমান,

আরশে খোদায় চেয়ে দেখ! সে নবীজীর কত সম্মান?

(২)

নবীজীর অসম্মান করে ওরা, শয়তানেরী ইন্ধনে,

বিদ’আতের তুফান জাগানো ধূয়া তোলে দ্যাখ শয়তান

মুখে সবাই বলছে কত, “আমার মত মানুষ নবী”

চেয়ে দেখ! সে নবীর দ্বারে, শির ঝুঁকাচ্ছে মানুষ সবি।।

(৩)

আমরা কভূ ভুলতে নারি, নবী বংশের মহান কুরবানী?

জালিম ইয়াজিদের দরবারে তাঁরা, নির্ভয়ে শোনান সত্যের বাণী।

জ্ঞান ও বিবেক খোলা তাদের, তবুও সত্য লুকিয়ে ফিরে!

রাখুক তারা লুকিয়ে যতই, জানাবো আমি স্পষ্ঠ করে।।



(৪)

দুনিয়ার যত কল্যাণ আছে, পেয়েছি সবই আহমদের উসিলাতে,

তাঁর দয়াতেই নিচ্ছি যে শ্বাস, তাঁর গুনগান করছি যে তাই।

ইকবাল! মুহাম্মদের (দঃ) তরে রয়েছে, সবকিছু এ খোদায়ীর,

সে পূতঃ নামের গুনেই আমি, বানাই বিগড়ানো তাকদীর।।



নবীজির দরবারে নিবেদন - আল্লামা ইকবাল

(‘বাংগে দারা’ থেকে) কুল্লিয়াতে ইকবাল পৃষ্ঠা নং ঃ ২৭৭-২৭৮।

কাব্যানূবাদ - শাহজাহান মোহাম্মদ ইসমাঈল।

(১)

ওগো প্রভাতের শীতল বায়ু প্রবাহ!

কামলিওয়ালার কাছে, মোর সংবাদ পৌঁছে দিও।

বলো তাঁরে, “ত্বরাও তব উম্মতেরে!

অসহায় উম্মতের দ্বীন-দুনিয়া সবই গেছে”।।

(২)

বিরূপ স্রোতের ভয়াল থাবায়, বাঁচার আশায় আকুতি জানায়,

“রক্ষাকারী কেউ আছো কী? বিপদ থেকে বাঁচাবে আমায়?

কূলের দিশা বহুদুরে, বাঁচার উপায় কী আছেরে?

মাঝ দরিয়ায় তুফান ভারী, গিয়েছি ভীষন ঘাবড়ে”।।

(৩)

ইজ্জত’ই এলো মুহব্বতের কাজে, তমসার যবনিকা ছিড়ে!

আঁধার কাটতেই ইজ্জত গেলো, শ্লাঘাও গেলো, প্রেয়সী রইলো দূরে।

হঠাৎ!দু’ফোটা কৃপার বারি, ফিরিয়ে আনলো আব্রু নতুন,

যাযাবরের স্বভাব গেলো, অনিশ্চয়তার সাগর মাঝে স্বস্তি এলো।।

ইকবালের কন্ঠ থেকে ধ্বণিত হলো,“কে জানে,কার শুনি?ঐ আহবান,

শান্তিবাণী পৌঁছে গেলো, শুনে মাহফিলের কাঁপলো পরাণ।”।।



ইকবালের কবিতার কয়েকটা পংক্তি ঃ

(১)

না ওটা ফুল নয়, বলি আমি নিশ্চয়ই,

মুহাম্মদের খুশবু যে ফুলে নাহি রয়।

নয় ওটা অন্তর, শুধুই নিরেট পাথর,

মুহাম্মদের ভালবাসায় সিক্ত নয় যে অন্তর।।

(২)

ওটা কোন ইবাদাতই না,

যেথায় নবীজীর প্রেম থাকেনা।

সুগন্ধ ছাড়া কোন ফুল হয় না,

কাগজের ফুলে সবাস থাকেনা।।

(৩)

ওগো নবীজী!আপনার ভালবাসা যদি,

নামাজে আমার না দেয় দিশা,

ব্যর্থ আমার রুকু-সিজদা,

নামাজে দাঁড়ানো সবই বৃথা।।







মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.