| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লিখতে চাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। রাজনীতি,সাংস্কৃতিক বা ধর্মের ব্যাপারে মতামতের ভিন্নতা থাকা সত্বেও মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে আক্রমনাত্বক বা উষ্কানীমূলক কিছু না লিখে সকলের সহনশীলতার পরিচয়ই লেখার উৎকর্ষ সাধনের একমাত্র হাতিয়ার।যদিও লেখার হাত পাকা না। বাংলা মাতৃভাষা হলেও বানানে হয় অনেক ভুল। তার পরেও চেষ্টা করছি কিছু লেখার। সত্য বলার মতো সাহসী লোকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখন দেখি সবাই দু\'ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ আওয়ামী লীগ কেউবা বিএনপি। সঙ্গত কারণেই লেখা হয়ে উঠে আওয়ামী পন্থী অথবা বিএনপি পন্থী।পন্থী নিয়ে লিখতে লিখতে আমরা মূল স্রোতধারা থেকে ছিটকে পড়ছি। কি লিখছি বোঝাই দায়। মনে হয় কোন দলকে গালি দিচ্ছি।
এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে তেমন একটা ধার্মিক ছিলেন না, তাই ধারণা করছি তিনি আরবি ভাষাও জানতেন না। তিনি সচরাচর ইংরেজিতেই কথা বলতেন। পাকিস্তানের কোনো প্রদেশের জনগণের মাতৃভাষাই উর্দু ছিল না। পাকিস্তানের প্রদেশগুলোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভাষা বাংলা, পাঞ্জাবের পাঞ্জাবি, বেলুচিস্তানের বেলুচি, সিন্ধের সিন্ধি এবং নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্সের ভাষা ছিল পশতু। একটি রাষ্ট্রের একতার জন্য অভিন্ন ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা’ থাকার অপরিহার্যতা অনুভব করে জিন্নাহ ভেবেছিলেন প্রদেশের ভাষা যা-ই হোক না কেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা উর্দু হওয়া বাঞ্ছনীয়। তাই তিনি প্রদেশের দাপ্তরিক ভাষা নির্ধারণের অধিকার সেই প্রদেশের জনগণের ইচ্ছার ওপর পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে কেবল কেন্দ্রের অফিসিয়াল ভাষা উর্দু নির্ধারণ করতে জোর দিয়েছিলেন। জিন্নাহ বাংলা ভাষা সম্পর্কে কোনোরকম বিরূপ মন্তব্য করেননি। ঢাকায় ইংরেজিতে দেওয়া তার সেদিনের একাধিক বক্তৃতা মনোযোগ দিয়ে শুনলেই বিষয়টি বুঝতে পারা যাবে। বহু জাতি ও ভাষার দেশ ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর সে দেশের নেতারাও অনুরূপ চিন্তা থেকে হিন্দিকে ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা’ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বাধাবিপত্তি পেরিয়ে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
পশ্চিম পাকিস্তানের সব প্রদেশ রাষ্ট্রভাষা উর্দু করতে জিন্নাহর প্রস্তাব মেনে নিলেও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মানেননি। এবং এখান থেকেই পাকিস্তানের ভাঙনেরও সূত্রপাত হয়েছিল। হিন্দি নিয়ে দক্ষিণ ভারত বিশেষ করে তামিল জনগোষ্ঠীর বিদ্রোহ শুরু হলেও সেটা পাকিস্তানের মতো বিভক্তি পর্যন্ত যায়নি। সালাম, রফিকরা বাংলা ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে জীবন দিয়েছিলেন। অপরদিকে ১৯৬৫ সালে তৎকালীন মাদ্রাজ এবং আজকের তামিলনাড়ুতে হিন্দিবিরোধী আন্দোলনে চিন্নাস্বামী নামে এক যুবক গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিলে সেখানেও ভাষা আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছিল। বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিলেন। এতদসত্ত্বেও, ভারতের অখণ্ডতা বিঘ্নিত হয়নি। একইভাবে, জাতি, ভাষা ও ধর্মগত বিভেদে শ্রীলঙ্কায় সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সিংহলি এবং সংখ্যালঘু হিন্দু তামিলদের মধ্যে কয়েক দশক ধরে গৃহযুদ্ধ চললেও রাষ্ট্র টিকে গেছে।
হিন্দিভাষা বিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে ভারতীয় পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হলেও ভারত কিন্তু বিভক্ত হয়নি পাকিস্তান ঠিকই বিভক্ত হয়েছে। চলবে .......
©somewhere in net ltd.