| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমরা জাতি হিসাবে কি বা কেমন সেই বিচার বিশ্লেষন করা অনেক দুরহ। আমার এক মারমুখো বন্ধু অনকেদিন আগে বাঙ্গালী জাতি সম্পর্কে একটা মন্তব্য করেছিল " আমরা হচ্ছি বেশ্যার শেষ সন্তান" সেদিন তার সাথে অনেক তর্কাতর্কি করলেও মনের ভিতরে একটা দুর্বলতা অনুভব করেছিলাম। ইতিহাস যাচাই করলে দেখা যায় পুরাতন ভারত বর্ষ ভাঙ্গতে ভাঙ্গতেই সর্বশেষে আমাদের বাংলাদেশর জন্ম হয়েছে। তার মানে হচ্ছে, আমরাই সবচেয়ে বেশী শোষীত এবং শাসিত হয়েছি। গত সহস্রাব্দে যতগুলী জাতিই আামাদের শাষন করেত এসেছে, তারা সবাই শুধু শোষনই করেছে। বিশ্বে মনে এই রকম নজীর খুব কমই আছে, একটা ছোট্ট জাতি এতবার, এতগুলি জাতি দ্বারা শাসিত হওয়ার।
সম্ভবত এই কারনেই আমরা অন্য সবার চাইতে একটু অন্য রকম। এই অন্য রকমটা আসলেই অন্য রকম। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ যখন হয় তখন সব কিছুই ঠিক ছিল। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক শুনে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘর থেকে রাস্তায় বের হয়ে এসেছিল। তারা স্বাধীনতার জন্য, স্বাধীন ভাবে বাচার জন্য জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করেছিল। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা স্বাধীনতাও পেলাম এবং তারপরই থেকে আমরা আমাদের অন্য রকম হওয়ার লক্ষণ দেখানো শুরু করলাম। এর পর শুধুই করুন ইতিহাস। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির কাছে স্বপক্ষ শক্তিগুলি ক্রমশ নরম হতে লাগল। স্বার্থপরতার ছোবলে অনেকেই পরাজিত সেই শক্তিকে বরন করল এবং অনেকে সেই শক্তিকে মেনে নিল। পরাজিত সেই শক্তি আমাদেরই কোলে বেড়ে উঠেছে, আমাদেরই আস্পর্ধায় তারা সাহসী হয়েছে, আমাদেরই ভোটে তারা নির্বাচিত হয়েছে এবং রাস্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত হয়েছে। দিনে দিনে তারা আজ এমন এক উচ্চতায় পৌছেছে যে পুরো দেশ অচল দেয়ার ক্ষমতা রাখে, আমাদের আইন শ্ংখলা রক্ষাকারী বাহীনির সাথে সম্মুখ যুদ্ধের আহ্বান জানোর সাহস দেখায়।
একজন সিঁদকাটা চোর যখন সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে আপনার চেয়ারে বসে, আপনার স্ত্রীর সাথে বিছানায় যায়, আপনার সন্তানরা তাকে ঐ বাড়ির কর্তা মনে করে এবং তার সমস্ত অপকর্মতে সঙ্গী হয়, তখন ঐ সিধেল চোরকে দোষ দেয়া যায় না, দোষ অবশ্যই এই বাড়ির কর্তা এবং সদস্যদের উপরই বর্তায়।
আজকে জামাত শিবির যে অবস্থানে আছে, সেখাদের তাদেরকে আমরাই বসিয়েছি। যে দুঃসাহস তারা দেখাচ্ছে তা ওদেরকে আমরাই দিয়েছি।
শুধু তাই নয়, যখন ট্রাইবুনাল গঠন করা হয় তখন দেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ এর গঠনতন্ত্র সম্পর্কে না জেনেই এর খারাপ দিকগুলি নিয়ে এত বেশী মাতামাতি শুরু করল, বড় রাজনৈতিক দল এর স্বচ্ছতার দোহায় দিয়ে এর বিপক্ষে অবস্থান নিল, যুদ্ধাপরাধ না মানবতাবিরোধী অপরাধ এই ধাধায় সবাইকে দিকভ্রান্ত করার চেষ্টা করল, বিএনপির মাননীয় নেত্রী তো চাপাই নবাবগঞ্জে " গোলাম আজম রাজাকার নয়" বলে মন্তব্য করলেন, স্কাইপ বিতর্ক সময় নষ্ট করল। পরিস্থিতি এমন হল যে ট্রাইবুনাল বিষয়টা বাকি সবার কাছে হালকা হয়ে গেল। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। ট্রাইবুনাল গঠন হওয়া উপলক্ষেই সবার মধ্যে আনন্দদের জোয়ার আসার উচিৎ ছিল। এরপর যখন বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় হল তখনও তেমন কোন উচ্ছাস লক্ষ করা যায়নি। এবং আরও উদ্বেগের বিষয় হল এই পুরো সময় ধরে জামাত-শিবির যুদ্বাপরাধী এবং ট্রাইবুনাল বাতিলের দাবীতে রাজপথ গরম রেখেছে এবং অন্যরকম আমরা নিরুত্তাপ এবং নিরুদ্বেগ।
কিন্তু ঘটনা ঘটল যখন আর একজন রাজাকারের ফাসি না হয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হল। যাবজ্জীবন মোটেও হালকা সাজা নয় তবুও কেন ফাসির রায় হল না তা নিয়ে আমাদের তরুণ সমাজ গর্জে উঠল। তার আগে কিন্তু তেমন কেউ এই ব্যাপারে সরকার বা ট্রাইবুনালের পক্ষে কথা বলেনি।
লক্ষ করুন যদি কাদের মোল্লা যাকে আমরা ভালভাবে চিনিও না, সে আসলে কত ভয়ংকর ছিল তার যদি ফাসির রায় হত তবে এইবারও অন্যরকম আমরা ফেইসবুকে মিষ্টি খেতাম এবং ব্লগ লিকে কি-বোর্ড ভাঙ্গতাম। গত দুইদিন থেকে শাহবাগে যুদ্ধাপরাধী বিচারেরর পক্ষে যে আন্দলনের জোয়ার শুরু হয়েছে তার শুরুই হত না। প্রহসের বিচার বলি আর আতাতের বিচার বলি, আন্দলন কিন্তু পুরো দেশ ছড়িয়ে গেছে এবং গত দুইদিনে জামাত কোন অ্যক্টিভিটি দেখায়নি। তারা ভয় পেয়েছে এবং চুপচাপ বসে বসে কোন না কোন নক্সা আকার চেষ্টা করছে।
তারা যাই করুক না কেন এইবার তাদের রক্ষা নাই, কারন দুঃখজনক হলেও সত্য এত প্রকট আকারে, প্রবল বেগে , তারুন্যের জোয়াের কিন্তু গত ৪২ বছরে রাজাকারদের বিরুদ্ধ হয়নি। এতদিন পরে হলেও শুরু হয়েছে। এই শুরুটাকে কোনভাবেই শেষ হতে দেয়া যাবে না। শেষ রাজাকারের বিচার হওয়া পর্যন্ত এই আন্দলন অব্যাহত রাখতে হবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে শুরু করুন। এই নতন তারুন্যের জোয়ারকে এমনিতেই কেউ রুখতে পারেনি পারবেও না। তবও আরও শক্তিশালী করার জন্য শাহবাগ মোড়ে সমবেত হন। অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেই গিয়ে তাদের পাশে গিয়ে দাড়িয়ে সমর্থন জানান দিন। ঐ ছেলেগুলো যেন তাদেরকে একা মনে না করে।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৪১
মো: তৌহিদ বলেছেন: ধন্যবাদ
২|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:০৬
খুব সাধারন একজন বলেছেন: কাজের কথা বলেছেন: ঘটনা সত্য। কাদেরর ফাসি হলে এই গনজোয়ার তৈরি হত না।
কিন্তু ফাঁসি ছাড়া উপায় নাই।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:১৪
মো: তৌহিদ বলেছেন: ফাঁসি ছাড়া উপায় না সহমত
৩|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:০৭
খুব সাধারন একজন বলেছেন: সবাই কান পেতে শোন!
এটা লীগ-দল-জাপা-বামের আন্দোলন না!
এটা দেশের আন্দোলন।
এখানে রাজনৈতিক দল করার জন্য আসিনি। সরকার পতনের জন্য আসিনি।
কুত্তা মারার শপথে এসেছি। কুত্তার দল বিনাশে এসেছি।
এই লক্ষ্য থেকে সরে আমি আমার টাকায় পোষা পুলিশের সাথে যুদ্ধ করব না।
কুত্তা মারার আন্দোলনে শত্রু বাড়াবো না। শত্রু মাত্র একটা। জাশি।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:১৫
মো: তৌহিদ বলেছেন: শত্রু মাত্র একটা। জায়াত-শিবির।
৪|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:৩১
মুহাই বলেছেন: : শত্রু মাত্র একটা। জায়াত-শিবির।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:১০
কাজের কথা বলেছেন: ঘটনা সত্য। কাদেরর ফাসি হলে এই গনজোয়ার তৈরি হত না।