| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

আরবি ভাষার একজন অন্ধ কবি আবুল আলা আল মা আররী ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে সিরিয়ার আলেপ্পোর কাছাকাছি মা আররাতুল নুমান নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের নাম অনুসারে তার পদবি আল মা আররী। চার বছর বয়সের সময় তিনি মারাত্দক বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। ধীরে ধীরে রোগ থেকে মুক্তি পেলেও তার দুটি চোখ অন্ধ হয়ে যায়। আরবি সাহিত্যে আল মা আররী শায়েরুল আমা বা অন্ধ কবি বলে পরিচিত। অন্ধ হলেও তিনি জ্ঞান অর্জন থেকে দূরে সরে যাননি। একবার ওস্তাদের কাছে কিছু শুনলে সঙ্গে সঙ্গে তা মুখস্থ বলতে পারতেন। স্মরণশক্তি ও প্রতিভায় তিনি ছিলেন অনেকের মধ্যে একজন। তিনি আলেপ্পোতে শিক্ষা শেষ করে বিদেশ ভ্রমণ শুরু করেন। এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করতেন তার কিছু অনুরাগী বন্ধু ও শিষ্য। শিক্ষা ও ভ্রমণে তার জীবনের ২০ বছর কেটে যায়। ৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি নিজ গ্রাম মা আররাতুল নুমানে ফিরে আসেন। এখানে এসে তিনি আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরবি সাহিত্য ও দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপনা করেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, দার্শনিক, তর্কবাগীশ, সুযোগ্য বক্তা ও যুক্তিবাদী। ১৫ বছর গ্রামে কাটিয়ে ৩৫ বছর বয়সে তৎকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্র ভূমি বাগদাদ নগরীতে চলে আসেন। এখানে এসে তিনি বড় বড় কবি, দার্শনিক ও সাহিত্যিকের সাহচর্য লাভ করেন। তাই তার জ্ঞানের পরিমাণ বহু গুণে বৃদ্ধি পায়। তিনি কবিতা ও দর্শন শাস্ত্রের ওপর গ্রন্থ রচনা শুরু করলেন। হঠাৎ মায়ের অসুস্থতার কথা জানতে পেরে তিনি মায়ের কাছে চলে আসেন। হাজার চিকিৎসাতেও মায়ের রোগ মুক্ত হলো না। অবশেষে মা মারা গেলেন। মায়ের মৃত্যুতে তিনি ভীষণ মর্মাহত হলেন। এরপর জাগতিক চিন্তা বাদ দিয়ে সুফি সাধকে পরিণত হলেন। পণ করলেন জীবনে আর বিয়ে করবেন না। এই পণ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বহাল রেখেছিলেন। আবুল আলা মা আররী ১০৫৭ খ্রিস্টাব্দে নিজ গ্রাম মা আররাতুল নুমানে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। আল্লাহতায়ালা তার চোখের শক্তিকে কেরে নিয়েছিলেন বটে কিন্তু তার হৃদয় চোখের শক্তি দিয়েছিলেন অনেক। আবুল আলা আল মা আররীর আরবি রচনা বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোতে আল মা আররী একটি বহুল পরিচিত নাম। 'এ হিস্ট্রি অব দ্য অ্যারাবস' নামক গ্রন্থের প্রণেতা বিশ্বখ্যাত আরএ নিকলসন তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আরবি সাহিত্যের বিখ্যাত কবি আল মুতানাব্বী, এমন কি তার চেয়েও বিখ্যাত কবি আবুল আতাহিয়ার চেয়েও আবুল আলা আল মা আররী শ্রেষ্ঠ কবি।
(লিখাটি ইতমধ্যেই দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয়েছে। আমার ফেসবুক প্রোফাইলেও পোষ্ট দিয়েছিলাম।)
২৮ শে জুন, ২০১২ সকাল ১১:৫১
সোহাগ সকাল বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া।
২|
২৮ শে জুন, ২০১২ সকাল ১১:৫২
জামিনদার বলেছেন: কবির দুই একটা কবিতা চাই।
২৮ শে জুন, ২০১২ বিকাল ৩:৩০
সোহাগ সকাল বলেছেন: নিচে দেয়া হয়েছে। দেখে নিন।
৩|
২৮ শে জুন, ২০১২ দুপুর ১২:১৯
শেরজা তপন বলেছেন: "শিক্ষা ও ভ্রমণে তার জীবনের ২০ বছর কেটে যায়।" আমি ভেবেছিলাম দীর্ঘ বিশ বছর ধরে তিনি শিক্ষা ও ভ্রমন করেছেন।
কিন্তু পরে বুঝলাম তা নয় '২০ বছর বয়সে তিনি শিক্ষা ও ভ্রমন শেষে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।'
এই কবি সন্মন্ধে জানতাম না। ভাল লাগল জেনে। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
২৮ শে জুন, ২০১২ বিকাল ৩:২৯
সোহাগ সকাল বলেছেন: ধন্যবাদ।
৪|
২৮ শে জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৩১
ব্যতীপাত বলেছেন:
আপনি আল-মা;আরি জীবনী লিখেছেন ,কিন্ত তার কবিতার কিছু নিদর্শণ ছাড়া তা অসম্পূর্ণ লাগছে ।
আমি আমার অনূবাদিত তার দুটি রুবাই দিলাম ।
আল মা’আরি’র দু’টি রুবাই।।
১
‘মোহাম্মদ বা মেসিয়া গন,তোমরা আমায় শুনছো কি ?
পুরো সত্য এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে কি ?
চাঁদ-সুরুযের সৄষ্টিকর্তা কেন করলেন এমন কাজ-
সব আলো দিলেন একজনাকেই,কাজটা সঠিক হয়েছে কি ?’
২
ওরা সবাই ভ্রান্ত যারা মুসলিম কিবা ইহুদী
প্যাগান অথবা খৄষ্টান বা যরস্থ্রয়ানবাদী,
পুরো পৄথিবীর মানবসমাজ বিভক্ত দুই ভাগে-
এক, বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ কিন্ত ধর্মহারা,
দুই, ধর্মপ্রাণ মানুষ কিন্ত বুদ্ধিছাড়া ।
২৮ শে জুন, ২০১২ বিকাল ৩:২৬
সোহাগ সকাল বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া। আমার কাছে তাঁর কোন কবিতা ছিলনা। তাই দিতে পারিনি।
৫|
০৭ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১:৩২
শিপন মোল্লা বলেছেন: সুন্দর
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ সকাল ১১:৩০
সোহাগ সকাল বলেছেন: ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে জুন, ২০১২ সকাল ১১:৪৯
আমি লিখতে চাই না বলেছেন: এই কবি সম্পর্কে কিচ্ছু জানা ছিলো না। জেনে ভালো লাগলো।