| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সামহোয়াইন
শয়তানকে ভালবাসিতে শিখ, শয়তানও তোমাকে ভালবাসিবে
সমস্যাজর্জরিত পৃথিবীতে বেকারত্ব এক কঠিন ও জটিল সমস্যা। এ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ছিনতাই, রাহাজানির মত বড় বড় সমস্যা। হতাশার গ্লানিতে কর্মোদ্দীপক মানুষের চেহারায় বিষাদ নেমে এসেছে। উন্নত, অনুন্নত কিংবা উন্নয়নশীল সবরকম দেশেই কম-বেশী এ সমস্যা বিদ্যমান। বেকারত্বের পরিচয় নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। মতভেদ থাকলেও মূল কথা প্রায় একই। যেমন অধ্যাপক এ সি পিশুর বলেন, ‘যখন কোন দেশে কর্মক্ষম লোক প্রচলিত মজুরীতে কাজ করতে রাজি থাকা সত্ত্বেও যোগ্যতা অনুসারে কাজ পায় না, তখন এ অবস্থাকে বেকারত্ব বলা হয়।
ঊাবৎু সধহং উরপঃরড়হধৎু ড়ভ ঊপড়হড়সরপং-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী বেকারত্ব হলো একজন ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃত অবসর, যিনি প্রচলিত মজুরীতে কাজ করতে চান, কিন্তু কাজ পান না।
পৃথিবীর আদি ইতিহাস থেকে এ কথা সুস্পষ্টভাবে জানা যায় যে, মানুষ তার আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও তার সমাধানকল্পে ব্যাপক চিন্তা-গবেষণা চালিয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী এবং প্রধান প্রধান ধর্মগুলোও নানারকম উপায় খুঁজে বের করেছে। মানব মস্তিষ্কপ্রসূত সেসব উপায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থতা অথৈ গহবরে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
বৈরাগ্যতা পরিহার: বিভিন্ন ধর্ম বৈরাগ্যবাদের উৎসাহ দিয়ে মানুষকে সমাজ-সংসার থেকে আলাদা করে রেখেছে। সেখানে রাসূল (স.) বলেন, ‘ইসলামে কোন বৈরাগ্য নেই (আবু দাউদ ১৪৬৯)। বৈরাগ্যবাদ বেকারত্ব সৃষ্টি করে। আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত পূর্ববর্তী ধর্মগুলোতেও বৈরাগ্যবাদের স্থান ছিল না। বরং এটা এ সময়কার ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব সৃষ্টি। যেমন তিনি কুরআনে বলেনÑ ‘এবং বৈরাগ্যকে তারা সৃষ্টি করে নিয়েছিল, যার নির্দেশ আমরা তাদের দেইনি (সুরা হাদীদ)। শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয় বরং ইসলামের গোটা জীবন প্রণালী মানুষকে সমাজ-সংসার, রাষ্ট্র, পরবর্তী প্রজšে§র লালন-পালন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের প্রতি উৎসাহিত করেছে। নির্দেশ প্রদান করেছে। যা প্রতিটি মানুষকে কর্মমুখর করে তোলে।
ভিক্ষা প্রথা রহিতকরণ: ভিক্ষা প্রথাকে ইসলামে জঘন্যতম পেশা হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসূল (স.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা ভিক্ষা করেÑ অথচ এ থেকে মুক্ত থাকার মতো সম্পদ বা শক্তি-সামর্থ্য তাদের রয়েছে, তারা যখন কিয়ামতের দিন আল্লাহর সম্মুখে হাজির হবে, তখন তাদের মুখমণ্ডল একেবারে মাংসহীন ও বীভৎস হয়ে যাবে (আবু দাউদ ১৪৬৯)। রাসূল (স.) প্রায়ই বলতেন, “যিনি আমার প্রাণের মালিক তার শপথ করে বলছি, তোমাদের একজনের রশি নিয়ে জঙ্গলে যাওয়া, কাষ্ঠ আহরণ করা, তা পিঠের উপর রেখে বহন করে আনা এবং বাজারে বিক্রি করে অর্থোপার্জন করা অপরের নিকট ভিক্ষা চাওয়া অপেক্ষা অনেক উত্তম। বিশেষত এই অবস্থায় যে, সেই অপর ব্যক্তি তাকে দিবে কি দিবে না তার নিশ্চয়তা কিছুই নাই।”
বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি: মহানবী (স.) কেবল শ্রমের উৎসাহ প্রদান করতেন এমনটা নয়, বরং তার কর্মপ্রণালীতে কর্মসংস্থান তৈরী করা ও হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ: (ক) ‘তিনি ঐ আগুন্তক আনসারকে কুঠার বানিয়ে দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন।’ (খ) এছাড়া মুহাজেরগণ প্রথম প্রথম মদীনায় আসার পর আনসারগণ রাসুলুল্লাহর খেদমতে নিবেদন করলো, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের খেজুর বাগানগুলি আমাদের মুহাজির ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দিন। কিন্তু রাসূল (স.) এতে রাজি হলেন না। অত:পর আনসারগণ নিবেদন করলেন, ‘তাহলে তারা আমাদের ক্ষেতের কাজে অংশগ্রহণ করুক, আমরা তাদেরকে ফসলের অংশীদার করে নিব। মহাজিররা আনসারদের ঐ প্রস্তাব সানন্দে নেন। এভাবে মুহাজিরদের কর্মসংস্থান তৈরী করে বেকারত্ব দূর করলেন।
কর্মসংস্থানের বৈধ উপায়: বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরীতে মহানবী (স.) অসংখ্য কর্মপন্থার প্রতি বৈধতা প্রদান করেছেন। যার থেকে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।
ব্যবসা-বাণিজ্য:
ইসলামী অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যবসায় শুধু বেকারত্ব ঘুচায়না, বরং, জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নতি সাধন করে। ব্যবসার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে আল্লাহ বলেন, “মুসলমানগণ তোমরা অন্যায়ভাবে অসদুপায়ে পরস্পর-পরস্পরের ধন-সম্পদ ভক্ষণ কর না। তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিক্রমে ব্যবসা-বাণিজ্যের মারফতেই অর্থের আদান-প্রদান কর”। নিসা-৪:২৯)
বনায়ন: বেকার সমস্যা সমাধান, অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত এবং পরিবেশ উন্নয়নে বনায়ন একটি অতীব জরুরী পদক্ষেপ। শক্ত কাঠ দিয়ে কয়লা তৈরী হয়। কয়লা ছাড়া আধুনিক সভ্যতা প্রায় অচল। এছাড়া কাঠ দিয়ে ঘর, দরজা, জানালা, নৌকা, পুল, রেল লাইন, ফার্নিচার, অসংখ্য জিনিস তৈরী করা হয়। তাছাড়া ফল-মূল, শাক-সবজি, ভক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় এর গুরুত্ব বর্ণনাতীত। পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে বক্তব্য হচ্ছে “আকাশ হতে আল্লাহ তা’আলা বৃষ্টিপাত করেন এবং এর সাহায্যে বিবিধ প্রকার উদ্ভিদ, বৃক্ষলতা ও শাক-সবজি উৎপাদন করেন। হে মানুষ, তোমরা তা নিজেরা খাও এবং তোমাদের জন্তু-জানোয়ারকে খাইতে দাও। (সূরা তাহা ২০ : ৫৩) হাদীস শরীফেও এর স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। কাজেই এ কথা সুস্পষ্ট যে, বনায়ন প্রকল্পের আওতায় প্রচুর পরিমাণ কর্মসংস্থান তেরী করা সম্ভব।
খালিদ সাইফুল্লাহ
২|
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৩
অ আ ই ঈ বলেছেন: Click This Link
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৮
ভদ্র বলেছেন: আরো সমৃদ্ধ করুন।